সস্তা মেয়ে — আত্মসম্মান নিয়ে এক শিক্ষণীয় প্রেমের গল্প

দুই বোন, দুটো আলাদা পথ। একজনকে প্রস্তাব দেওয়া হলো পরিবারের সামনে সম্মান করে, আরেকজন যাকে ভরসা করল সে তার মূল্যই বুঝল না। আত্মসম্মান আর ভুল মানুষ চেনার এক সংক্ষিপ্ত, ধারালো গল্প “সস্তা মেয়ে”।

সস্তা মেয়ে — গল্পের সারসংক্ষেপ

📖 গল্পের ঝলক

দুই বোনের একজনের বিয়ে হয় পরিবারের মাধ্যমে সম্মানের সাথে, আর অন্যজন যাঁর ওপর ভরসা করেছিল সে বিয়ের কথা শুনে তাকে অবজ্ঞা আর হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। আত্মসম্মান আর ভুল মানুষ চেনার এক সংক্ষিপ্ত প্রেমের গল্প।

শিপা আর রিপা দুই বোন।

মাঝারি এক কর্মকর্তা মজিদ সাহেব তাঁদের বাবা।

রিপা নেল পালিশ লাগাতে বড়ো বোন শিপাকে বলে, আপু, শাকিল ভাইয়ের সঙ্গে তোর কোনও চক্কর-মক্কর আছে নাকিরে?

শিপা বলে, কেনরে! এই ফাজলামো প্রশ্ন কেন?

না, বলছিলাম তোর কোনও চক্কর-মক্কর না-থাকলে আমি একটু বাজাতাম! আমার দিকে তাকায় না ব্যাটা!

শিপার বিয়ে হলো সহসা। কানাডা প্রবাসী সায়েফের সঙ্গে। প্রেম ট্রেম নয়। দুপক্ষ দেখা করিয়েছিল হোটেলে বোঝাপড়ার জন্য।

ছেলেটি ব্যক্তিত্ববান। বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চের কাজ করে। খুব সাধারণ জীবন তাঁর। শিপাকে বলেছে প্রবাসে তারও কাজের সুযোগ থাকবে। প্রস্তাবটা বিবেচনা করতে।

শিপা বলে, প্রস্তাবটা তো আমিও দিতে পারতাম, ঠিক কি না?

না, আপনি পারতেন না। প্রার্থী তো আমি।

অন্তত আমাদের সমাজব্যবস্থায় এটিই সংগত।

বিয়ে হলো তাঁদের। খুব সুখে কয়েক মাস কাটিয়ে কানাডা যাচ্ছে সহসা।

শাকিলকে রিপা প্রশ্ন করে, এই আমরা বিয়ে করি না কেন। দেখছো না ওরা কত সুখের উড়াল দিচ্ছে।

শাকিল যেন আকাশ থেকে পড়ে।

বিয়ে, তোমাকে? কেন?

কেন আবার। এভাবে আমাকে ব্যবহার করবে তুমি।

শাকিল হাসে, তোমার মতো পাঁচ ছজনের সঙ্গে আমার ডেটিং-ফেটিং হয়।

কেউ সেটিং চায়নি তুমি চেয়েছো, পেয়েছো।

আমার বাবাকে বলে তোমাকে টাইট করতে পারি জানো?

ছোটো একটা স্ট্রেপলার সাইজের জিনিস পকেট থেকে বের করল শাকিল।

টিপ দিতেই পাঁচ ছয়টি ফলা বের হলো এর থেকে।

চাকু। সামনে ধরে বলে, এটা দিয়ে তোমার নাড়িভুঁড়ি বের করে দিতে আমার কয়েক সেকেন্ড লাগবে।

“সস্তা মেয়েকে পুরুষ বিয়ে করে না, ভোগ করে। এটুকু জেনে রাখো”।

গল্প থেকে শিক্ষা

“সস্তা মেয়ে” দুই বোনের জীবনের পাশাপাশি ছবি এঁকে দেখায়, সম্পর্কের পথ কতটা ফারাক তৈরি করে। শিপার বিয়ে হলো দুই পরিবারের উপস্থিতিতে, দায়িত্ব আর সম্মানের সাথে। রিপা ভরসা করেছিল এমন একজনের ওপর, যে সম্পর্কে কোনো দায়িত্ব নিতে চায়নি।

গল্পটি আত্মসম্মানের কথা বলে। কারও মনোযোগ বা ভালোবাসা পেতে নিজের মূল্য কমিয়ে ফেলা কখনো সুফল দেয় না। শেষ সংলাপের “সস্তা মেয়ে” কথাটা আসলে মেয়েটির পরিচয় নয়, বক্তার মানসিকতার পরিচয়, যে মানুষকে ভোগের বস্তু হিসেবে দেখে। এমন মনোভাব ও ছুরির হুমকির মতো আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তৃতীয়ত, গল্পটি সতর্ক করে। যে মানুষ দায়িত্ব এড়িয়ে চলে, ভয় দেখায় বা অবজ্ঞা করে, তার কাছ থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ। এমন পরিস্থিতিতে একা না থেকে পরিবার বা বিশ্বস্ত কাউকে জানানো আর প্রয়োজনে সাহায্য নেওয়া উচিত।

সবশেষে, সম্পর্কের সূচনা পরিবার আর সামাজিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে হলে নিরাপত্তা, সম্মান আর দায়বদ্ধতা তিনটাই বাড়ে। শিপার সিদ্ধান্ত আর রিপার অভিজ্ঞতার তফাত সেটাই মনে করিয়ে দেয়।

শেষ কথা

“সস্তা মেয়ে” ছোট কলেবরে একটা বড় প্রশ্ন তোলে: আমরা কাকে ভরসা করছি, আর নিজের মর্যাদা কতটা রক্ষা করছি। এই গল্প পাঠকের মনে সতর্কতা আর আত্মসম্মানবোধ জাগাবে বলে আশা করি। কালাম আজাদের কলমে লেখা এমন আরও গল্প পড়তে উপরের নেভিগেশন থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

একটি আহ্বান

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, কবি কালাম আজাদের জীবনঘনিষ্ঠ গল্প “সস্তা মেয়ে” পড়ে ভালো লাগলে বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না। তাঁর আরও গল্প ও জীবনী পড়তে ঘুরে আসুন লেখক প্রোফাইল পেজ থেকে।__Amar Bangla Post.

For more update please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

Leave a Reply