জীবনকে উপভোগ করুন (Enjoy your life in bangla)

“দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিন, জীবন বদলে যাবে।”

জীবনকে উপভোগ করুন গ্রন্থটি মানুষের উত্তম জীবনাদর্শ ও সুন্দর আচরণ রপ্ত করার রসদপূর্ণ এক পরামর্শমূলক তথ্য জ্ঞানের বই। বইটি পড়ে আপনার জীবনে প্রয়োগ ও অনুসরণ করলে আপনার জীবন ধারার পটভূমি পরিবর্তন হয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ। আপনার জীবনকে কিভাবে উপভোগ করবেন এবং এবং কিভাবে আপনার আচরণগত দক্ষতা দিয়ে মানুষের হৃদয়-মন ও মেজাজ জয় করে বন্ধুত্ব লাভ করবেন তা শিখতে জীবনকে উপভোগ করুন বইটি আপনাকে দারুন কাজে দিবে। বইটি সম্পুর্ণ বিনামূল্যে পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারবেন আমার বাংলা পোস্ট.কম এ।

জীবনকে উপভোগ করুন : সূচীপত্র ও আর্টিকেল লিঙ্ক

01.

02.

03. কেন আচরণগত দক্ষতা অর্জন করবেন?

04. আপনার ব্যক্তিত্ব বিকশিত করুন।

05. পড়ে যাওয়া দুধের জন্য কাঁদা অনর্থক

06. আপনি হবেন অন্য (Life hack Tips)

07. আপনার প্রিয়তম ব্যক্তি কে?

08. উপভোগ করুণ আচরণগত দক্ষতা (Life hack Tips)

09. গরীব দুঃখীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন?

10. নারীর সঙ্গে আপনার আচরণ যেমন হবে!

11. অধীনস্থদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন?

12.অধীনস্থদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন?

13. সন্তুষ্টি অর্জনে বিশুদ্ধ নিয়তে কাজ করুন

14.পশু পাখির প্রতিও সদয় হোন!

15. মানুষের মন জয় করার শত পদ্ধতি

16. সন্তুষ্টি অর্জনে বিশুদ্ধ নিয়তে কাজ করুন

17. রুচি দেখে লুচি দিন (Lifestyle Tips)

18. স্থান-কাল-পাত্রভেদে কথা বলুন

19. সাক্ষাতেই কোমল হোন (লাইফস্টাইল টিপস)

20. মানব প্রকৃতি মাটির প্রকৃতির ন্যায়

21.

22. হৃদয় জয়ের চাবি (Life hacking Tips 22)

23.

24.

25. আপনার ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করুণ

26. অন্যের নাম মনে রাখুন (Life hacking Tips)

27. অন্যের প্রশংসা করুণ (লাইফস্টাইল টিপস)

28. কেবল সুন্দরের প্রশংসা করুণ

29. অনর্থক বিষয়ে নাক গলাবেন না

30. অনাধিকার চর্চাকারীর সাথে আচরণগত কৌশল

31. সমালোচনা করবেন না

32. শাসনের মেজাজ পোষণ করবেন না!!

33. 

34.

35.

Direct Download from google drive and also view on google drive and Box.net

অনুবাদকের কথা

দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে।

কয়েক বছর আগে মুফতি তকি উসমান সাহেব বাংলাদেশে এসে এক বক্তৃতায় বলেছিল :

“দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিন, জীবন বদলে যাবে।”

বস্তুত : জীবনকে বদলে দিতে হলে তথা জীবনে সুখ, শান্তি, ও কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি লাভ করতে হলে আমাদেরকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনের পথ পরিক্রমা কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এতে রয়েছে চড়াই-উৎরাই ও বাঁধা-বিপত্তি। জীবনের এ দুর্গম পথে চলতে গিয়ে বাধা-বিপত্তির মুখমুখি হলে আমরা সেই অবস্থাকে কিভাবে গ্রহণ করব তা নির্ভর করে আমাদের মানসিকতার উপর। যারা সব বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করেন তারা বাধা-বিপত্তিকে সাফল্যের সোপান হিসেবে গ্রহণ করেন। পক্ষান্তরে যারা নেতিবাচক চিন্তা করেন, তাদের যে কোন বাধা-ই বিরাট প্রতিবন্ধক। তাই ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ কখনো আটকে থাকে না। তারা স্থিরভাবে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যায়। ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা আত্মবিশ্বাসী, ধৈর্যশীল, নিরহঙ্কার ও দয়াপ্রবণ। তারা নিজেদের সম্পর্কে যেমন ইতিবাচক ধারণা রাখেন তেমনি অন্যদের সম্পর্কেও তাদের ধারণা ইতিবাচক। তদুপরি সব কাজেই তারা ইতিবাচক ফল প্রত্যাশা করেন। তবে এ ইতিবাচক মনোভাব কারো কারো মধ্যে সহজাত স্বভাব ও প্রবৃত্তির মতো থাকে। তবে বেশিরভাব মানুষকে তা অনুশীলন করে অর্জন করতে হয়। কেননা মানুষের স্বভাব পরিবর্তনের পরিপন্থী। পরিবর্তন অস্বস্তিকর।

কিন্তু এ পরিবর্তন কষ্টকর ও বিরক্তিকর হলেও এর ফলাফল খুবই মিষ্ট। দার্শনিক এরিস্টটল বলেছিলেন : “শিক্ষার শেকড় তিতা হলেও এর ফল খুবই মিষ্টি।” তাই মনোভাবকে ইতিবাচক ধারায় পরিবর্তন করে কিভাবে জীবনে সুখি হওয়া যায় এ প্রশ্নের উত্তর যুগে যুগে অনেক গবেষক খুঁজে ফিরেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রচুর বই পত্রও লিখিত হয়েছে। এ বিষয়ে ডেল কার্নেগির লেখা বইগুলো ব্যাপকভাবে পঠিত ও সমাদৃত। কিন্তু তাঁর লেখাগুলো ওহির (ঐশি জ্ঞান) আলোকে আলোকিত ছিল না বিধায় তা কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এমনকি ডেল কার্নেগি নিজেও তা থেকে চূড়ান্ত উপকৃত হতে পারেননি। কারণ, তিনি নিজেই আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবনাবসান করেছেন।

এ প্রসঙ্গে সমকালিন আরেকজন লেখকের নাম উল্লেখযোগ্য। তিনি হলেন শিবখেরা। তাঁর লেখা “You can win” আন্তর্জাতিক বেস্ট সেলারের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে আছে। কিন্তু তাদের লেখা বইগুলোতে কেবল সফলতা অর্জন, প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ, ইহলৌকিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু পারলৌকিক মুক্তিলাভ এবং সদাচরণকে এবাদত হিসেবে গ্রহণ করার চেতনা তাদের বইগুলোতে নেই। থাকারও কথা নয়। কারণ তাদের বইগুলো বৈষয়িক শিক্ষা ও বস্তুগত অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত। সেগুলোতে ওহীলব্ধ জ্ঞানের আলোকছটা নেই। বুদ্ধিগত বৈষয়িক শিক্ষা আমাদের জানার পরিধিকে বিস্তৃত করে, কিন্তু ওহীলব্ধ মূল্যবোধের শিখা আমাদের হৃদয়-জগত ও মনোবৃত্তিকে সমৃদ্ধ করে। যে শিক্ষা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে ও তাতে সুকুমারবৃত্তি জাগ্রত করে সে শিক্ষারই আজ বড় প্রয়োজন। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শাস্তি ও কল্যাণের আকর সে শিক্ষাই রয়েছে ওহীলব্ধ শিক্ষা তথা কোরআন ও সুন্নাহতে। এটা শুধু আমার কিংবা মুসলমানদের কথা নয়। ন্যায়পরায়ণ অমুসলিম গবেষকরাও অকুণ্ঠচিত্তে এর স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিখ্যাত অমুসলিম সাহিত্যিক ও দার্শনিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেন :

I believe that if a man like Muhammad were to assume the dictatorship of the modern world he would succeed in solving its much needed peace and happiness…

If any religion has the chance to ruling over England nay Europe within next hundred years it can only be islam. It is only religion which appears to me posses the assimilating capacity to the changing phase of existence which can make its appeal to every age.

“আমার বিশ্বাস, মোহাম্মদ (সাঃ) এর মতো একজন মানুষকে যদি বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতা দেওয়া হয় তাহলে তিনি সমস্ত সমস্যার সমাধান করে বিশ্ববাসীর কাঙ্খিত সুখ ও শান্তি ফিরিয়ে দিতে পারবেন।।..”

“আমি মুহাম্মদের (সাঃ) ধর্মবিশ্বাস নিয়ে এ মর্মে ভবিষ্যদ্বানী করছি যে, এটা আগামী দিনের ইউরোপেও সেভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, যেভাবে বর্তমান ইউরোপে তা গৃহীত হচ্ছে। কোনো ধর্ম বিশ্বাসের যদি শুধু ইংল্যান্ড নয় সারা ইউরোপকে শাসন করার সুযোগ থাকে তাহলে একমাত্র ইসলামেরই সেই ক্ষমতা আছে।।…”

ইসলামের রীতিনীতি ও আচার আচরণ কৌশল সম্পর্কে সম্যক অবগতি লাভ করে ও ইসলাম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনেই তারা এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।

কিন্তু আমরা নিজেরা এ সম্পর্কে অজ্ঞ। নিজের সম্পদ আজ পরের ঘরে। এ সম্পর্কে নওমুসলিম জনৈক মার্কিন মহিলার বক্তব্য দেখুন। তিনি বলেন :

The muslim of today do not know the real meaning of islam and the work life example and precepts of their prophet. Most of the today muslims are living in gross ignorance of the true teachings of islam.

“বর্তমান যুগের মুসলমানরা ইসলামের সঠিক অর্থ এবং তাদের নবী (সাঃ)-এর কাজকর্ম ও জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানে না। তাদের অধিকাংশই ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে পরিপূর্ণ অজ্ঞতায় নিমজ্জিত। ”

আমরা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতায় নিমজ্জিত থাকলেও কিন্তু পাশ্চাত্যের বহু গবেষক ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করে যাচ্ছেন। তারা দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাই এখনি সময় ইসলামের দিকে পরিপূর্ণরূপে ফিরে আসার। হৃদয় ও মন দিয়ে ইসলামকে অনুধাবন করার। ইসলামের শিক্ষাসমূহ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে আদর্শ মুসলিম হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার। তাহলে আমাদের এ আদর্শ জীবন অনেক বড় দাওয়াত হয়ে উঠবে। অমুসলিমরা আমাদের চরিত্র ও আচরণ দেখে ইসলাম গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য আমাদের আচরণ কৌশলকে ইতিবাচক ধারায় পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের মনোভাবকে করতে হবে পরিশীলিত। কিন্তু এটা কিভাবে করব? এ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কেউ পড়েন ডেল কার্নেগির রচনাবলি, কেউ পড়েন শিবখেরার বইপত্র আবার কেউ পড়েন লুৎফর রহমানের প্রবন্ধমালা। কিন্তু সৌদি আরবের বিশিষ্ট গবেষক ডক্টর আব্দুর রহমান আল  আরিফির লেখা জীবনকে উপভোগ করুন (মূল আরবি গ্রন্থ) গ্রন্থটি এ বিষয়ে অনন্য ও অপ্রতিদ্ধন্দ্বী। কেননা এ গ্রন্থটির মূল উপজীব্য হলো শ্রেষ্ঠ মানব রাসূল (সাঃ)-এর সীরাত ও উম্মাহর শ্রেষ্ঠ মনীষীদের জীবনাচার। এর প্রতিটি পরতে পরতে মিশে আছে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শ জীবনের উত্তম নমুনা। এর ছাচে যদি আমরা আমাদের জীবনকে গড়তে পারি তাহলে আমাদের জীবনও হবে উত্তম আদর্শ। বাস্তব জীবনে আমরা হব সুখি ও সমৃদ্ধশালী।

সুখ কী? অনেকেই মনে করেন টাকা হলেই বুঝি সুখি হওয়া যায়। তাই তারা অর্থের পেছনে ছুটে বেড়ান। কিন্তু টাকার মধ্যে যে সুখ নেই তা স্বীকার করেছেন অনেক কোটিপতি। তেমনি একজন জ্যাক মা। এই চাইনিজ ধনকুবেরের বর্তমান (অক্টোবর ২০১৪) সম্পদের আর্থিক মূল্য প্রায় দুই হাজার ৩৯০ কোটি মার্কিন ডলার। তিনি বলেছেন : “বড় লোক হওয়া মানেই সুখি হওয়া নয়। (দি ইন্ডিপেনডেন্ট নিউজ)

তাহলে সুখ কোথায় পাব? এর জবাবই দিয়েছেন রাসূলে আরাবি মুহাম্মদ (সাঃ) তিনি বলেছেন : “মনের সুখই আসল সুখ।”   আর এ সুখ লাভ করতে হলে আপনার মনকে ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। কেননা মেঘ ও রোদ এ দুয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয় রংধনু। আমাদের জীবনও আবর্তিত হয় সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও আশা-নিরাশার দোলাচলে। আমরা আমাদের নিয়তি বদলাতে পারবো না তা ঠিক, কিন্তু নিয়তিকে মেনে সুখি হওয়ার প্রক্রিয়া তো অনুশীলন করতে পারব।

জীবনকে উপভোগ করুন বক্ষমান এ গ্রন্থটি আপনাকে এ পথে চলার শক্তি জোগাবে। স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপনের পথে আপনি এ গ্রন্থ থেকে অনেক রসদ পাবেন। এ বইয়ের বিষয়বস্তুগুলো আত্মস্থ করে অনুশীলন করতে পারলে আপনার জীবন বদলে যাবে। জীবনকে উপভোগ করুন এ বই পড়ে ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনে আমি নিজে যারপর নাই উপকৃত হয়েছি। যারা এর প্রুফ দেখেছেন তারাও সীমাহীন মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। যদি বইটি ভালো লাগে, এর অনুবাদ ও মর্ম আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যায় তাহলে আপনার ভালো লাগার অনুভূতি ০১৯১৪২৮৪৭৩০ নম্বরে এসএমএস বা ভয়েসকলের মাধ্যমে জানাতে পারেন।-কাজী মুহাম্মদ হানিফ।

For more update please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

Leave a Comment

error: Content is protected !!