হৃদয় জয়ের চাবি (Life hacking Tips 22)

কিভাবে মানুষের হৃদয় জয় করবেন তা জানতে ও শিখতে সম্মানিত লেখকের এই আর্টিকেলটি পড়ুন। লেখক মানুষের হৃদয় জয়ের চাবি বা হৃদয় জয় কৌশলী আচরণটি এখানে তুলে ধরেছেন। 

২২. হৃদয় জয়ের চাবি (The key to winning hearts)

প্রত্যেক তালাবদ্ধ দরজা খোলার যেমন আলাদা আলাদা চাবি থাকে তেমনই প্রত্যেক মানুষের হৃদয় জয়ের জন্যও স্বতন্ত্র চাবি আছে। আর সে চাবি হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বভাব ও প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত হওয়া। যদি আপনি মানুষের রুচি ও প্রকৃত স্বভাব সম্পর্কে অবগত হন তাহলে যেকোনো সমস্যার সমাধান, দ্বন্দ্ব নিরসন, নিজের স্বার্থ উদ্ধার এবং অন্যের ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচানোর সকল পথ আপনার সামনে একদম আয়নার ন্যায় পরিষ্কার হয়ে যাবে।

মনে করুণ, কোনো যুবক ছেলের সঙ্গে তার পিতার কথা কাটাকাটি হলো। এক পর্যায়ে তা এমন রূপ ধারণ করলো যে, বাবা ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দিল। ছেলে কয়েকবার বাড়ি ফিরতে চাইলেও বাবা নাছোড়বান্দা। ছেলেকে ঘরে তুলতে রাজি নয়।

এ অবস্থায় সমঝোতার উদ্দেশ্যে আপনি ছেলের বাবার কাছে গেলেন। প্রথমে তাঁকে শরীয়তের কিছু বিধি-বিধান শোনালেন। আত্মীয়তা ছিন্ন করার পাপ সম্পর্কেও তাঁকে সতর্ক করলেন। কিন্তু আপনার একথা লোকটার মধ্যে কোনো ভাবান্তর সৃষ্টি করলো না। সে নিজের অবস্থানে অনড়।

এদিকে আপনি কথাবার্তা বলে বুঝতে পেরেছেন যে, যুবকটির পিতা আবেগপ্রবণ মানুষ। তাই আপনি আপনার কথার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। আপনি তাঁকে বললেন, ‘জনাব! সন্তানের প্রতি কি আপনার কোনো মায়া মমতা নেই। খোলা আকাশের নিচে, মাটির মেঝেতে কাটছে তার দিন-রাত।

আপনি তো নিশ্চিন্তে খাওয়া-দাওয়া করছেন আর আপনার ছেলে সকাল-সন্ধ্যা ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির হয়ে ঘুরছে। যখন আপনি রুটির টুকরা মুখে দেন তখন কি তাঁকে একটুও মনে পড়ে না? রোদের তাপে শুকিয়ে যাওয়া এ ভবঘুরে ছেলেটার প্রতি আপনার কি একটু দয়া হয় না? শৈশবে যখন সে ছোট্ট ছিল, আপনি তাঁকে কোলে তুলে নিতেন, আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরতেন, তার ঘ্রাণ নিতেন, চুমু খেতেন সেসব কথা কি আপনার মনে পড়ে না? আপনি বেঁচে থাকতে আপনার সন্তান এক টুকরা রুটির জন্য পথে পথে মানুষের কাছে হাত পাতছে, এটা আপনার কাছে কেমন লাগে?’

দেখবেন, আপনার এ কথাগুলো বাবার স্নেহের সাগরে ঢেউ তুলবে। সন্তানের জন্য তার দরদ উথলে উঠবে।

যদি তার বাবা কৃপণ স্বভাবের হয় তাহলে তাঁকে বলুন, ‘আপনি ভদ্রলোক মানুষ। সমস্যায় পড়ার আগেই সতর্ক হোন। ছেলেকে তাড়াতাড়ি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন। সময় ভাল না। আমার আশঙ্কা হচ্ছে খারাপ সঙ্গীদের তালে পড়ে সে চুরিতে জড়িতে পড়তে পারে। কিংবা এর চেয়েও বড় কিছু করে ফেলতে পারে। তখন পিতা হিসেবে এর দায়ভার আপনাকেই বহন করতে হবে। শেষ কথা হলো আপনি তার বাবা, তার অভিভাবক। কোনো কিছুর দায় এড়ানো আপনার পক্ষে সম্ভব নয়।’ আপনার এ কথা শুনে কৃপণ বাবা ছেলেকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করবে।

আপনি যখন ছেলেকে লক্ষ্য করে বলবেন তখন প্রথমে তার প্রকৃতি সম্পর্কে খোঁজ নিবেন। যদি দেখেন যে, ধন-সম্পদের প্রতি তার ঝোঁক আছে তাহলে তার সাথে কথা এভাবে বলুন, ‘ভাই! বাবা ছাড়া তোমার কোনো উপায় নেই। দু’দিন পর যখন তুমি বিয়ে করবে তখন তোমার বিয়ের খরচ কে দেবে? যদি তোমার গাড়ি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেটা মেরামত করার টাকা পাবে কোথায়? হঠাৎ তুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালের পাওনা কে মিটাবে? তোমার ভাইয়েরা তো তোমার বাবার কাছ থেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে। টাকা-পয়সা, জমি-জমা  সব তাঁরা হাতিয়ে নেবে। আর তুমি বঞ্চিত হয়ে যাবে। ভেবে দেখ, বাবার কপালে একটি চুমু দিয়ে কিংবা অতীত ভুলের ক্ষমা চেয়ে বাবার কানে দু’ একটি কথা বলে তুমি সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পার।’

স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ মেটানোর জন্যও আপনি এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। মোটকথা, প্রত্যেকের হৃদয়ের দরজা খুলতে হবে তাহার জন্য নিদৃষ্ট চাবি দিয়ে।

মনে করুণ, আপনি যে অফিসে চাকরি করেন সে অফিসের পরিচালক সহজে কাউকে ছুটি দিতে চায় না। তার কাছে মানবিক আবেগ ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের কোনো মূল্য নেই। সে বোঝে শুধু কাজ আর কাজ। তার কাছে থেকে যদি আপনার ছুটি নিতে হয় তাহলে তাঁকে বলুন, ‘স্যার! আমার একটু রিলাক্স দরকার। আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। তাই কর্মোদ্যম ফিরিয়ে আনতে তিনদিনের ছুটি দরকার। তিনদিন পর আমি নব উদ্যমে কাজ করতে সক্ষম হব। তীব্র কাজের চাপে দিনদিন আমার উদ্যম কমে যাচ্ছে। মাথাটাকে সতেজ করার একটু সুযোগ আমাকে দিন। বেশি নয়, মাত্র তিনদিন। তিনদিন পর আমি নব উদ্যমে কাজে ফিরব।’

আর যদি বসের আচরণে আপনি বুঝতে পারেন যে, তিনি সামাজিক বোধসম্পন্ন মানুষ। সামাজিক আচার-আচরণের সংবেদনশীল। বাবা মা ও সন্তানদের খুব খোঁজ-খবর রাখেন, তাহলে আপনি তাঁকে এভাবে বলুন, ‘স্যার! বাবা-মা ও সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমার কয়েকদিনের ছুটি দরকার। অনেক দিন যাবত আমি তাদেরকে খুব মিস করছি। তাঁদের কথা খুব মনে পড়ছে।।……..

আপনি যদি মানুষের হৃদয় জয়ের এসব কৌশল ভালভাবে আয়ত্ব করতে পারেন তাহলে দেখবেন মানুষ বলা-বলি করবে, ‘অমুকের আচরণ এতো অমায়িক যে এর জুড়ি মেলা ভার।’

ফলাফল…….

প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ের একটি বিশেষ চাবি আছে। তার স্বভাব ও প্রকৃতি বুঝতে পারলেই আপনি সে চাবিটির সন্ধান পাবেন।

উৎস: আপনার জীবনকে উপভোগ করুন

এরপর পড়ুন : coming soon…

For more update please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

Rubel

Creative writer, editor & founder at Amar Bangla Post. if you do like my write article, than share my post, and follow me at Facebook, Twitter, Youtube and another social profile.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!