অবৈধ প্রেমের করুণ পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ মাহবুব ও তামান্নার এই গল্প। মোবাইল ফোনে ভুয়া পরিচয়ে শুরু হওয়া একটি সম্পর্ক কীভাবে শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডে রূপ নিল— এই কাহিনীতে তারই বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আসুন, জেনে নিই অবৈধ প্রেমের করুণ পরিণতির এই মর্মান্তিক ঘটনা।
বিউটি ও তার রহস্যময় মোবাইল কল
সুন্দরী মেয়ে বিউটি। কিন্তু তার সুন্দরের স্নিগ্ধতার চাইতে চটক অনেক বেশি! আর এজন্য তাকে খাটা-খাটুনিটা একটু বেশিই করতে হয়। হাল- ফ্যাশনের পোষাক, রকমারী প্রসাধনী আর মাসে একবার বিউটি পার্লারে গমন তার সৌন্দর্যের মূল কারিগরি। স্বীয় সৌন্দর্য রক্ষা ও তা অপরের সামনে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরতে বেতনের অর্ধেকটাই তার ব্যয় হয়ে যায়!
আরও পড়ুন: আকর্ষণীয় হওয়ার উপায় ও কৌশল
বিউটির রুমমেট শারমিন। সে একটি সাদাসিধে মেয়ে। পড়াশুনা, খাওয়া- দাওয়া, নামাজ আর ঘুম- এই হলো শারমিনের রুটিন মাফিক কাজ। বাইরে বেরোয় আবার বোরকা পড়ে! এরকম একটি রস-কষহীন মেয়ে রুমমেট হওয়াটা বিউটি তার নিজের জন্য দুর্ভাগ্যই মনে করে।
মিসকল দিয়ে নতুন বন্ধু খোঁজার চেষ্টা

একদিন বিউটি বিছানায় বসে ভাবে, কিভাবে সময়টাকে আচ্ছামত উপভোগ করা যায়। মোবাইলে পুরোনো ফ্রেণ্ডদের সাথে অবশ্য কথা বলা যায়। কিন্তু ওরা কেমন জানি ম্যারম্যারে! বিউটির আচ্ছামত উস্কে দেওয়ার মত কথা একটাও বলে না! তাই ওদের বাদ দিয়ে নতুন কোনো বন্ধুর সন্ধান করা যায়!
যেই ভাবা সেই কাজ। নতুন একটি নাম্বার বানিয়ে কল দেয় বিউটি। রিং টোনের শব্দ পেয়েই কেটে দেয়। বিউটি জানে এক মিসকলে রাজপুত্রের নিদ্রা ভাঙ্গবে না। বারবার দিতে হবে। এক মিনিট পর পর এভাবে সাত বার মিসকল দেওয়ার পর ঐ নাম্বার থেকে কল ব্যাক হয়।
বিউটি বেশ খুশি হয় । কিন্তু কল রিসিভ করে মোবাইল কানে নিতেই এমন একটি কথা শুনতে পায়, যা শুনার জন্য মোটেই সে প্রস্তুত ছিল না।
অপর প্রান্তের কথাটি ছিল হুবহু এরকম— ‘এই বজ্জাতের বাচ্চা! মিসকল দ্যাছ ক্যান? জুতা পিটিয়ে দাঁত ভাইঙ্গা দিব’! গলার আওয়াজে বিউটি বুঝে নেয়— কথাটি বলেছে, একজন মাঝ বয়েসী মহিলা!
বিউটি তাড়াতাড়ি মোবাইল বন্ধ করে দেয়। মনে মনে মহিলার প্রতি খুব বিরক্ত হয় । বিড়বিড় করে বলে- ভদ্রতাও জানে না মাতারি! ছোটলোক কোথাকার!
মাহবুবের সাথে প্রথম কথোপকথন
বিউটি এবার আরেকটি নতুন নাম্বারে মিসডকল দেয়। কয়েকবার দেওয়ার পর ঐ নাম্বার থেকে কল ব্যাক হয় । বিউটি মোবাইল রিসিভ করে কানে লাগায় । শুনতে পায় এক তরুণ-কণ্ঠ- হ্যালো! কে বলছেন? বিউটি উত্তর দেয়— আমি বিউটি । আপনি ভাল আছেন? আপনার সাথে আমার জানা-শুনা আছে? হ্যাঁ। আছে তো!
কিন্তু আমি তো মনে করতে পারছি না! যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে আপনার সাথে আমার পরিচয় হওয়ার সময় ও স্থানের নামটা যদি একটু স্মরণ করিয়ে দিতেন!
এ সবের কী প্রয়োজন? বললাম, আপনার সাথে আমার জানাশুনা আছে। একদিন কথাও হয়েছে!
কোথায়? আমার তো কিছু মনে পড়ছে না ।। প্লিজ! একটু খুলে বলবেন কি? আপনার সাথে আমার কথা হয়েছে ময়মনসিংহ শহরের কলেজ রোডে! কি আশ্চর্য! আমি একদম মনে করতে পারছি না।
আপনার কি ধারণা আমি মিথ্যে বলছি?
না না তা কেন হবে? আপনার সাথে আমার কথা হতেই পারে । আমার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায়। এখন অবশ্য ঢাকায় চাকুরি করি। কিন্তু আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়? বলল তরুণ কণ্ঠ । কার কাছ থেকে পেতে পারি একটু অনুমান করুন তো।
একটি হাসির শব্দ ভেসে আসে।
অনুমান একটি আছে। তবে তা বলা বোধ হয় ঠিক হবে না।
না আমি কিছু মনে করব না । আপনি দিল খুলে বলুন, আপনি নিশ্চয়ই নাম্বারটি ঘটকের কাছ থেকে নিয়েছেন।
আপনার কি তাই ধারণা?
জ্বি । আমার তাই ধারণা।
আপনার ধারণা ঠিক নয় । আমি অন্যখান থেকে নাম্বারটি পেয়েছি। সে যাই হোক । আমার নাম বিউটি। স্কুল টিচার। বর্তমানে ট্রেনিং-এ আছি। উহ! আপনার নামটি কিন্তু এখনো জানা হলো না।
ও তাই তো! আমার নাম মাহবুব। আমি ……
আর কিছু শুনতে পায় না বিউটি। লাইন কেটে যায় ৷
মাহবুব ও বিউটির সম্পর্ক গভীর হওয়া
বিউটি বুঝতে পারে, ছেলেটির মোবাইলে ব্যালেন্স নেই। তাই লাইন কেটে গেছে। একবার সে কল ব্যাক করার কথা ভাবে। কিন্তু পরক্ষণেই তা বাতিল করে দেয়। মনে মনে বলে- একদিনে সব জানার দরকার কি? তাছাড়া তার তো কোনো তাড়া নেই । নিছক টাইম পাস করার জন্য কথা বলা! বিউটি ঘুমাতে যায় । এবার ঘুমটা বেশ জমবে!
পরের দিন সকালে মাহবুব অফিসে যায়। ভাবে- পাশের টেবিলের বরকত সাহেব অভিজ্ঞ লোক । পাচ বছর আগে বিয়ে করেছেন। তার সাথে পরামর্শ করলে মন্দ হয় না।
মাহবুব বলল, বরকত ভাই! আপনার সাথে একটা বিষয়ে কথা বলতে চাই।
বলুন ।
গতরাতে একটা মেয়ে ফোন করেছিল।
এ আর নতুন কি ভাই! আমি আধবুড়ো মানুষ! আমার মোবাইলেই মাঝেমাঝে মেয়েদের ফোন এসে পড়ে। আর আপনি হলেন ইয়াং ম্যান।
আপনার মোবাইলে মেয়েদের ফোন আসা তো খুবই স্বাভাবিক!
না ভাই, এ মেয়ে সে রকম না। মনে হয় পাত্রী। ময়মনসিংহ বাড়ি প্রাইমারী স্কুলের টিচার । এখন ট্রেনিং করছে ।
পাত্রী! বুঝলেন কি করে? ও কি আপনাকে বলেছে?
না, সরাসরি বলেনি। তবে আকার ইঙ্গিতে বুঝতে পেরেছি।
আমার পরামর্শ হলো- না জেনে, না বুঝে কোনো অপরিচিত মেয়ের সাথে মোবাইলে সম্পর্ক পাততে যাবেন না।
মাহবুব পরিস্কার বুঝতে পারে, বরকত সাহেবের পরামর্শ একশ ভাগ ঠিক । অজানা, অচেনা কোনো মেয়ের সাথে মোবাইলে সম্পর্ক গড়ে তোলা মোটেও উচিত নয়। কিন্তু মেয়েটির সুমধুর কণ্ঠ ও ভুবনমোহিনী হাসি সে ভুলবে কী করে! তাই পরিণাম চিন্তা না করে মেয়েটির সাথে আবারো কথা বলার সিদ্ধান্ত নেয় মাহবুব।
ঠিক এই মুহূর্তে বিউটির নাম্বার থেকে মিসডকল আসে। মাহবুব কল ব্যাক না করে মোবাইল পকেটে রেখে দেয় । কারণ অফিসে বসে মন খুলে কথা বলা যাবে না!
রাত এখন এগারটা। মাহবুব বিকেলেই এফ এন এফ করে নিয়েছে বিউটির নাম্বারের সাথে। এখন কথা বলা যাবে প্রাণভরে! কারণ খরচের ব্যাপারে কোনো ভাবনা নেই। ২০ টাকায় এক ঘণ্টা কথা বলা যাবে। প্রেম এখন দারুণ সস্তা! ১ হালি ডিমের চেয়েও সস্তা!! কারণ ২০ টাকায় এক হালি ডিম পাওয়া যায় না!
মাহবুব বিউটির নাম্বারে ফোন দেয়। হ্যালো, কেমন আছেন? জ্বি ভাল! আপনার পুরো পরিচয়টা কিন্তু এখনো আমার জানা হলো না।
বলল বিউটি।
আমি মাহবুব আহমেদ। অর্থনীতিতে এম, এ। রেজাল্ট মাঝারি মানের। একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে অফিসিয়াল জবে আছি। বেতন ২০ হাজার টাকা।
: আপনার এস.এস.সি কত সালে?
: আপনি কি আমার বয়স জানতে চাইছেন?
: হ্যাঁ বিয়ের ব্যাপারে বয়সটা তো একটা বড় ফ্যাক্ট!
: আমি বিয়ের পাত্রী আপনাকে কে বলেছে? যাক পাত্রী না হই বন্ধু তো হওয়া যাবে!!
: না, লক্ষ্যহীন বন্ধুত্বের কোনো মূল্য নেই। তাছাড়া মেয়েদের সাথে আমার বন্ধুত্ব করার ইচ্ছেও নেই ।
: ইচ্ছে না থাক। তাই বলে কি আমার মতো একটি মেয়ের সাথেও বন্ধুত্ব করতে চাওনা তুমি?
এই ‘তুমি’ শব্দটি মাহবুবের কান দিয়ে ঢুকে হৃদয়ের গভীরে গিয়ে প্রচণ্ড আঘাত হানে। আর এই আঘাতের চোটে সে কতক্ষণ বোবা হয়ে থাকে।
হ্যালো মাহবুব! কথা বলছ না কেন?
কী বলব ভেবে পাচ্ছি না। আপনি তো দেখছি শুরুতেই আমাকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করছেন। অথচ…।
‘তুমি’ বলব না তো কী বলব! যাকে যার ভালো লাগে, যার সাথে বন্ধুত্ব করার পূর্ণ ইচ্ছে থাকে তাকে কি ‘তুমি’ না বলে পারা যায়!!
মাহবুব ভাবল, মেয়েটি আমাকে অল্পতেই কত আপন করে নিয়েছে! এখন যদি আমি ওকে ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করি, তাহলে আমাকে সে আনস্মার্ট ভাবতে পারে। তাই সেও ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’ তে গিয়ে জিজ্ঞেস করল-
তুমি ও তোমার ফ্যামেলী সম্পর্কে বিস্তারিত বলো।
বিউটি সবকিছু বলল । কিন্তু সে যে বিবাহিতা সেকথা সে গোপন রাখল। সব শুনে মাহবুব বলল, দু’তিন দিনের মধ্যে তোমার ছবি পাঠাবে। কেমন?
ঠিক আছে পাঠাব’ বলে বিউটি মোবাইল রেখে দেয়।
বিউটির শ্বশুর বাড়ী নান্দাইল থানায়। স্বামী একজন সাধারণ চাকুরে। নাম মামুন। বিয়ে হওয়ার পর পরই বিউটি তার স্বামীর সাথে শ্বশুর বাড়ী গিয়েছিল। কিন্তু শ্বশুর-শাশুড়ীর খবরদারি স্বাধীনচেতা মেয়ে বিউটির মোটেও ভাল লাগেনি। তাই সে বিয়ের তিন মাসের মাথায় বাপের বাড়ী চলে আসে। অগত্যা স্ত্রীর সঙ্গ পেতে মামুনকেই প্রতি সপ্তাহে শ্বশুরালয়ে যেতে হয়।
এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর মামুন বলল, এভাবে আর কতদিন চলা যায়। আমারও তো একটা আত্মসম্মানবোধ আছে। চলো, আমরা ঢাকা চলে যাই । সেখানে গিয়ে তোমাকে নিয়ে একটি ছোট্ট সুখের সংসার রচনা করব । কিন্তু বিউটি তাতে রাজী না হওয়ায় তা আর হয়ে ওঠেনি।
ছবি আদান-প্রদান ও বিশ্বাস বৃদ্ধি
এদিকে বিউটি প্রতিদিনই মাহবুবের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে । তার বক্তব্য হলো, কোনো ছেলেকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে যদি ট্রেনিং-এর সময়টা একটা প্রেম আবহে কাটিয়ে দেওয়া যায়, তাতে মন্দ কি? সে জানে-মাহবুবের সাথে তার জীবনকে জড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। কেননা তার স্বামী আছে । সন্তানও আছে। ওর মেয়ের নাম আদ্রিতা।
বিউটি মাহবুবকে তার ছবি দেয়। এমনকি ট্রেনিং সেন্টারের ঠিকানা ও দেয়। তার ধারণা, ট্রেনিং সেন্টারে মাহবুব এলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ এখানে মাত্র তিনমাস থাকবে সে!
এরপর মাহবুব বিউটির সাথে অসংখ্য বার কথা বলে। এমনকি একবার ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে ওকে দেখেও আসে!
বারবার কথাবার্তা বলার দ্বারাই মাহবুব বিউটির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এবার দেখার পর তার ভালোবাসার মাত্রা আরো শতগুণে বৃদ্ধি পেল।
এদিকে বিউটি মনে মনে বলে- ওহ! কী মজা! আমি তো মাহবুবের সাথে নিখুঁত ছলনা করতে পারছি। আহা! বেচারা মাহবুব! তুমি তো জানো না, তোমার সাথে ভালোবাসা কিংবা বিয়ে কোনোটাই আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি তো তোমাকে বেছে নিয়েছি শুধু আনন্দ করে সময় কাটানোর জন্য। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়!
রহস্যের জট খোলা — বিউটি আসলে তামান্না!
আরেকদিন মাহবুব বরকত সাহেবকে বিউটি সম্পর্কে সবকিছু বলে এবং বিউটির ছবি দেখায়। বরকত সাহেব বললেন- গতকাল শুনলাম, আমার বন্ধু মামুনের বৌ নাকি সেখানে ট্রেনিং দিচ্ছে।
ভালোই হলো। তার কাছ থেকে বিউটির খোঁজ-খবর নেওয়া যাবে। তাহলে আজ সন্ধ্যায় আমার বাসায় আসুন। বন্ধু মামুনকেও আসতে বলি। মাহবুব বলল- ঠিক আছে।
মাহবুব ভাবে— মেয়েটি যেমন সুন্দর, কণ্ঠও তেমন চমৎকার। এখন বাকি কেবল স্বভাবটা। স্বভাবটা ভালো হলেই সে আমার স্বপ্নের রাণী হয়ে যাবে। যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে হলেও ওকেই আমি বিয়ে করব ।
সন্ধ্যায় বরকত সাহেবের বাসায় তিনজন একত্রিত হয়। বরকত সাহেব মামুনকে বলেন- আপনার বৌয়ের সাথে বিউটি নামের একটি মেয়ে ট্রেনিং দিচ্ছে। আপনি ভাবীকে ফোন করে বলুন, তিনি যেন বিউটি সম্পর্কে আমাদেরকে কিছু জানান ।
মামুন তার স্ত্রীর কাছে ফোন করে। রিসিভ করতেই মামুন বলে— তামান্না ! কেমন আছো?
: হ্যা! ভালো ।
: তুমি কেমন আছ?
: আমিও ভালো । শোন! তোমার সাথে নাকি বিউটি নামের একটি মেয়ে ট্রেনিং দিচ্ছে । তুমি কি তাকে চেনো?
: তামান্না চমকে উঠে বলে, হ্যাঁ চিনি। ভালো মেয়ে সে ৷ দেখতে যেমন
স্বভাবেও তেমন !
: তোমাদের ট্রেনিং কেমন চলছে?
: খুব ভালো।
: আচ্ছা রাখি বলে মামুন লাইন কেটে দেয় ।
আসলে ট্রেনিং সেন্টারে বিউটি নামের কোনো মেয়ে নেই। মামুনের তামান্নাই আমোদ-প্রমোদের সাথে সময় কাটানোর জন্য এমনিতেই একটি নাম্বারে ফোন দেয়। এবং ফোন রিসিভকারী মাহবুবের কাছে স্বীয় নাম গোপন করে বিউটি বলে নিজের পরিচয় দেয়!
তামান্না এখন খুব ভয় পাচ্ছে । সে মনে মনে ভাবছে- যেহেতু তার স্বামী বিউটি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে— অথচ বিউটি বলতে আসলে এখানে কোনো মেয়ে নেই— সেহেতু বুঝাই যাচ্ছে, তার স্বামীর সাথে কোনো না কোনো ভাবে মাহবুবের একটা যোগসূত্র রয়েছে। তাই সে ভয় পাচ্ছে, না জানি মাহবুব তার ছবি মামুনকে দেখায়! যদি দেখায় তবে তো তার বারটা বাজবে! সে মনে মনে বলে- হায়! কেন আমি মাহবুবের কাছে ছবি পাঠিয়েছি? কেন আমি এই বোকামী করেছি? না জানি এই বোকামীর মাশুল কিভাবে আমাকে পরিশোধ করতে হয় !
স্বামীর সাথে ফোনে কথা হওয়ার পর পরই তামান্না বাইরে গিয়ে একটি নতুন সিম ক্রয় করে এবং মাহবুবকে নতুন নাম্বার দিয়ে বলে- আমার আগের সিমটি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন থেকে এ নাম্বারে ফোন করবে, ঠিক আছে? আর শোন মাহবুব! তুমি যদি আমাকে সত্যিই ভালবাসো তাহলে আমার ছবি কাউকে দেখাবে না ।
মাহবুব বলে— তোমার চেহারা সুন্দর । কণ্ঠটাও সুন্দর । ব্যবহারও মোমের মতো। ঠিক আছে ওয়াদা দিলাম, তোমার ছবি কাউকে দেখাবো না । ধন্যবাদ মাহবুব । তুমি খুব ভালো।
বিউটি! তোমাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করি। তুমি কি তামান্না আপাকে চিনো?
বিউটি আবার চমকে উঠে। তবে সঙ্গে সঙ্গে নিজকে সামলে নিয়ে বলে- হ্যাঁ, চিনি। সে আমাদের পাশের রুমেই থাকে ।
তোমার রুমমেট শারমিন কেমন আছে?
ও ভালো আছে আগামী মাসে তার বিয়ে ।
আমাদের বিয়েটা কবে হবে?
তুমি এতো বিয়ে পাগল কেন? তিনমাস পর ট্রেনিং শেষ করেই তো আমাদের বিয়ে হবে !
শোন বিউটি! আমাদের এক বন্ধু আছে। আমরা তাকে মামুন সাহেব বলে ডাকি। তামান্না তারই স্ত্রী। আজ সকালে তিনি তার মেয়ে আদ্রিতার জন্য একটি পুতুল কিনেছে। সেটা আমার কাছে দিয়েছে তামান্না আপাকে দেওয়ার জন্য । আজ আমি তোমাদের ট্রেনিং সেন্টারে আসব। আসার সময় পুতুলটাও সাথে নিয়ে আসব । তাই আমার সাথে দেখা করার সময় তামান্না আপাকে সাথে নিয়ে এসো। কেমন?
না মাহবুব! তুমি তামান্নার সাথে দেখা করবে না। তুমি যদি আমাকে পেতে চাও তাহলে তামান্নার সাথে কোনো অবস্থাতেই দেখা করতে পারবে না। আর পুতুলটা তুমি মামুন সাহেবকে ফেরত দিবে।
এসব তুমি কী বলছ বিউটি? কীভাবে আমি পুতুলটা ফেরত দিব। পুতুল ফেরত দিলে তিনি আমাকে কী মনে করবেন?
তা আমি জানি না । তুমি তামান্নার সাথে দেখা করবে না এটাই আমার শেষ কথা । ফোন রেখে দেয় বিউটি।
খানিক পর তামান্না ভাবে- এই নিস্ফল সম্পর্কটি আর বাড়তে দেওয়া যায় না। সে মাহবুবকে নিয়ে খেলেছে, মজাও পেয়েছে। মামুনের সাথে মাহবুবের জানা শোনা আছে। তামান্নার ছবিও আছে মাহবুবের কাছে। অতএব যে কোনো মুহূর্তে একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে। না আর না ৷
কিন্তু সমস্যা হলো, সেও যে খেলার মাঠ ছাড়তে পারছে না । মাহবুবের সাথে কথা না বললে তার যে ঘুম হয় না !
এদিকে মাহবুব ভাবছে, কিভাবে পুতুলটা তামান্না ভাবীর কাছে পৌঁছানো যায়। অবশেষে মাহবুব তার বন্ধু সবুজকে বলে রাজি করেছে। সবুজের কাছে পুতুল দিয়ে সে বলেছে— তুই ঐ হোস্টেলের দারোয়ানকে বলবি তামান্নাকে ডেকে দিতে। তারপর তামান্নার কাছে পুতুল দিয়ে বলবি, আপনার হাজব্যাণ্ড মামুন সাহেব মাহবুব ভাইয়ের কাছে এই পুতুলটা আপনার কাছে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু তিনি একটি জরুরি কাজে ময়মনসিংহ চলে গেছেন বিধায় আমাকে দিয়ে পুতুলটা পাঠিয়েছেন।
সবুজ বলল, আচ্ছা ঠিক আছে।
মাহবুব দূর থেকে হোস্টেলের গেটের দিকে তাকিয়ে আছে । সে দেখতে চায় সবুজ তার দায়িত্বটা ঠিকমত পালন করতে পারে কিনা ।
সবুজ দারোয়ানের সাথে কথা বলে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে। কিন্তু কই! কেউ তো আসছে না! হঠাৎ গেটের দরজা দিয়ে একটি
মেয়েকে আসতে দেখে মাহবুব।
একি! এ যে বিউটি ! বিউটি সবুজের সাথে কথা বলে প্যাকেটটা নিয়ে চলে যায়। একটু পরেই সবুজ চলে আসে।
মাহবুব বলে- কিরে! যার জিনিস তাকে না দিয়ে দিয়েছিস অন্যজনকে?
ব্যাপার কি?
মানে! অবাক হয়ে সবুজ বলে-আমি তো পুতুলটা তামান্না ভাবীকেই দিয়েছি।
না, তুই তামান্না ভাবীকে দেনি। দিয়েছিস তার রুমমেট বিউটিকে! বন্ধুর সাথে তর্ক না করে প্রমাণ করার জন্য সবুজ দারোয়ানের সাথে আবার কথা বলে । দারোয়ান ভিতরে চলে যায় একটু পরেই আসে বিউটি সবুজের সাথে কথা বলেই একটা প্যাডের মধ্যে কি যেন লিখে দেয় বিউটি। সবুজ চলে আসে। মাহবুবকে বলে- দেখো কী লিখেছে-
প্রেরিত ব্যক্তির কাছ থেকে আমি একটি পুতুল গ্রহণ করেছি । – তামান্না সুলাতানা ।
তারপরেও মাহবুবের বিশ্বাস হয় না। সে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে বিউটি নামে কাউকে আপনি চিনেন? ও শারমিনের রুমমেট।
দারোয়ান বলে— শারমিন আপার রুমমেট তো তামান্না আপা । ওখানে তো বিউটি নামের কেউ নেই!
এরপর মাহবুব বিউটির দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী তাদের গ্রামের বাড়িতে যায়। কিন্তু না, সেখানেও এই নামের কেউ নেই । মাহবুব এবার সবকিছু বুঝে যায়। এতদিন আসলে বিউটি নামের আড়ালে তামান্নাই মাহবুবের সাথে খেলেছে!
এবার তার পালা!
তামান্নার প্রতারণা ও মাহবুবের বিয়ের প্রস্তাব
মাহবুব ফোন দেয় । হ্যালো বিউটি! কাল আমরা ব্রহ্মপুত্র ব্রীজের পাড়ে যাব। তুমি তৈরী থেকো। তোমাকে আমি নিয়ে যাব। সেখানে নতুন একটা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। দেখতে নাকি বেশ চমৎকার!
বিউটি বলল- ঠিক আছে ।
জায়গাটা আসলেই নিরিবিলি। এমন একটি নিরিবিলি স্থানই চেয়েছিল মাহবুব । যে খেলা বিউটি শুরু করেছে তা শেষ করতে হবে মাহবুবকে । বিউটি বলে তোমাকে আজ অন্য রকম লাগছে কেন মাহবুব?
: মাহবুব বলে আজ আমাদের বিয়ে!
: বিয়ে তো আমাদের হবেই। তবে আজ নয়। পরে। এই বলে বিউটি উঠে যেতে চায় ।
: মাহবুব শক্ত করে তার হাত ধরে কঠিন কণ্ঠে বলে- আমার কথা শেষ না হওয়ার আগে যাওয়ার চিন্তা করলে গলা টিপে ধরব!
শোন বিউটি! যদিও আমি তোমাকে বিউটি নামে ডাকছি। কিন্তু আসলে তোমার নাম বিউটি নয়। তোমর নাম তামান্না সুলতানা। তোমার স্বামীর নাম মামুন । তোমার মেয়ের নাম আদ্রিতা। কী! ঠিক বললাম না?
তামান্না এই আশংকাটিই করে আসছিল । কিন্তু অতো তাড়াতাড়ি আশা করেনি । মাহবুব বলে— সব কিছু জেনেশুনেও কেন তুমি আমার জীবনটা নিয়ে খেললে? আমি তো তোমার কোনো ক্ষতি করিনি। তবে কেন আমার জীবনটা তুমি প্রতারণার আগুনে ঝলসে দিলে? উত্তর দাও তামান্না ?
তামান্না খুব চালাক মেয়ে । তাই সে নিজকে বাঁচানোর জন্য একটু চুপ থেকে ইনিয়ে বিনিয়ে বলে- আমি স্বীকার করি যে, আমি তোমার সাথে মিথ্যা বলেছি । তোমাকে ধোঁকা দিয়েছি। কিন্তু মাহবুব বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে ভালোবাসি। প্রথম দিকে তোমাকে আমি ফোন দিয়েছি, সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু পরে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আমার স্বামী মামুনকে তুমি চেনো। স্বার্থপর লোভী একটা মানুষ । টাকা ছাড়া লোকটা আর কিছু বোঝে না । পনের দিনেও আমাকে একটি ফোন দেয় না। আমিও তো একটা নারী । আমার তো ভালোবাসা পাওয়ার লোভ আছে । তাই আমি তোমাকে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছি।
মাহবুব তামান্নাকে বিশ্বাস করে। তাই এ যাত্রায় তামান্নাকে সে ক্ষমা করে ।
বাসায় এসে মাহবুব ভাবে- তামান্নাকে আমার ভুলতে হবে, ভুলতে হবে তামান্নার ভালোর জন্যই । কেননা তার স্বামী আছে । সন্তান আছে। সে তার স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকলেই আমি সুখি!
প্রত্যাখ্যান ও মাহবুবের প্রতিশোধের সিদ্ধান্ত
কিন্তু শত চেষ্টা করে মাহবুব তামান্নাকে ভুলতে পারে না। তাই তিনদিন পর নিরুপায় হয়ে মাহবুব তামান্নাকে ফোন করে। বলে- তামান্না! তোমাকে আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না। তোমার সুমিষ্ঠ কণ্ঠ আমাকে এই তিনদিন ঘুমুতে দেয়নি। আমি তোমাকে সুখী দেখতে চাই তামান্না। তোমাকেই আমি বিয়ে করব। আদ্রিতাকেও আমি মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করব। তুমি মামুন সাহেবকে ডিভোর্স দাও!
পাগলের মতো এসব কী বলছো তুমি! আমার স্বামী আছে। সন্তান আছে। তোমাকে আমি ভালোবাসতে যাবো কোন্ দুঃখে। তোমাকে আমি বিয়েই বা করব কেমন করে?
: তুমি না সেদিন আমাকে বললে- তুমি আমাকে ভালোবাসো!
: তুমি একটা আস্ত গাধা! গাধাও তোমার চেয়ে ভালো বুদ্ধি রাখে!! আমি আবার গাধা হলাম কী করে?
গাধা নয় তো কী? সেদিন তো আমি তোমাকে ভালোবাসার কথা বলেছিলাম, তোমার কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য । সত্যিকার অর্থে তো তোমাকে আমি কোনোদিন ভালোবাসিনি। বাসবও না!
: তামান্না আমি তোমাকে ভুলতে পারছি না কেন? কেন আমি ঠিকমত ঘুমাতে পারছিনা?
: তার আমি কী বলব? তুমি ঘুমাতে না পারলে আমার কী আসে যায় !
তামান্নার মুখ থেকে এতদিন পর এমন কথা শুনে মাহবুবের মাথায় রক্ত উঠে যায় । তাই সে তখনকার মতো সাথে সাথে লাইন কেটে দেয়।
এরপর মাহবুব তামান্নার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বহু চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে মানসিক যন্ত্রণা ভুলে থাকার জন্য অন্ধকার জগতে পা দিয়েছে। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে মেয়ের কারণে আমার এই অধঃপতন তাকে আমি যে কোনো মূল্যে এ পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিবই।
অবৈধ প্রেমের করুণ পরিণতি — মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড
গত একমাস হলো মাহবুবের সাথে তামান্নার কোনো যোগাযোগ নেই। ফোন বন্ধ । মাহবুব হোস্টেলে গিয়েছে অন্তত দশবার। তামান্না আসেনি। দারোয়ানকে বলে পাঠিয়েছে- দেখা হবে না। সে যেন তাকে আর বিরক্ত না করে ।
দশমবার হোস্টেল থেকে ব্যর্থ হয়ে মাহবুব চিন্তা করে- আমি তো তামান্নার জন্য কম করিনি। বিবাহিতা হওয়া সত্ত্বেও আমি তাকে মেনে নিতে রাজী হয়েছি। এমনকি তার মেয়ে আদ্রিতাকে পর্যন্ত গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছি। একজন মানুষ কি কারো জন্য এর চেয়ে বেশি করতে পারে? কিন্তু তামান্না তো আমার এই অশেষ দানকে পায়ে মাড়িয়ে চুর্ণ বিচূর্ণ করেছে । কিন্তু কেন? কি আমার অপরাধ? আমি তো তামান্নার কাছে যায়নি। তামান্নাই আমার কাছে এসেছে! তামান্নাই আমার ফুলের মতো জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে!!
তামান্নার জন্য মাহবুবের এখন আর সেই আকুল করা টান নেই। আছে বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা। আছে প্রতিশোধ নেওয়ার দুর্দমনীয় ইচ্ছা। মাহবুব ভাবে- তামান্না তাকে ঠকিয়েছে। এই ঠকানো কোটি টাকার চাইতেও বড় ঠকানো। টাকা খোয়া গেলেও মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। কিন্তু সে আসতে পারছে না।
কলেজ হোস্টেলের বিপরীত দিকের চা স্টলটিতে দুপুর থেকেই বসে আছে মাহবুব । সে খবর পেয়েছে, আজ তামান্না ক্লাস শেষে এই রোড ধরে তার মেয়েকে দেখতে যাবে।
দুটোয় ক্লাস সমাপ্ত হবে। মাহবুব কঠিন সিন্ধান্ত নেয়- তামান্নার সাথে তার বোঝা-পড়া আজই শেষ হবে।
মাহবুব বাউণ্ডারী রোডের মাঝখানটিতে এসে দাঁড়ায়। এ জায়গাটা একদম ফাঁকা । দু’টো বাজার এখনো দশ মিনিট বাকি । পকেটে ডান হাতটা ধরে রেখেই মাহবুব মোড়ের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। প্রায় বিশ মিনিট পর তামান্নার রিক্সাটা মাহবুবের নযরে পড়ে।
মাহবুব হাসিহাসি মুখ করে তামান্নার মুখের দিকে তাকায় । আহা! কি সুন্দর মুখটি! তামান্না তোমার সাথে একটি কথা ছিল। প্লিজ! একটু নামবে? মাহবুবের স্বাভাবিক আচরণে তামান্না আশ্বস্ত হয় । সে নেমে মাহবুবের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে- যাক, তুমি তাহলে সব ভুলতে পেরেছ!
মাহবুব একটি মুচকি হাসি দেয়। তামান্নার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, তুমি খুব সুন্দর তামান্না। গোখরো সাপের মতো সুন্দর। আর গোখরো সাপকে বাঁচিয়ে রাখায় কোনো কল্যাণ নেই !
মাহবুবের ডান হাতটা প্যান্টের পকেট থেকে বেরিয়ে আসে। একটা কিরিচ ঝিলিক দিয়ে ওঠে। তামান্না কিছু বুঝে উঠার আগেই তামান্নার পেটে বসে যায় । একবার, দুইবার, অনেকবার… … ।
মাহবুবের ভেতরটা কেমন একটা প্রশান্তিতে ভরে যায়। তার হাতে রক্তাক্ত কিরিচ। সারা শরীরে তামান্নার ফিনকি দেয়া রক্ত। সে তামান্নার রিক্সাতে চড়ে বসে ভীতু রিকশা চালককে বলে— চল্ কোতুয়ালী থানায়। অতঃপর মাহবুব নিজেই ময়মনসিংহের কোতুয়ালী থানায় রক্তাক্ত ছুরিসহ আত্মসম্পূর্ণ করে এবং হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিসহ খুনের মোটিভ সম্পর্কে আদ্যোপান্ত সবকিছু অকপটে স্বীকার করে।
গল্প থেকে আমাদের শিক্ষা
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! আলোচ্য ঘটনায় দেখা যায়, মোবাইল ফোনের কল্যাণে (?) তামান্না শুধু আনন্দ করে সময় কাটানোর জন্য মাহবুবের সাথে ভালোবাসার অভিনয় করে। আর এই অভিনয়ের ফলে (ক) তামান্না জীবন হারায়। (খ) আদ্রিতা মা হারায় (গ) মামুন স্ত্রী হারায় (ঘ) আর মাহবুব হারায় তার সুস্থ-সুন্দর জীবন! এই হলো- অবৈধ প্রেমের করুণ পরিণতি এই হলো মোবাইল ফোনের কল্যাণ! আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে বৈধভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার তাওফীক দান করুন। আমীন
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: মোবাইল প্রেমের করুণ পরিণতি গল্পটি কী নিয়ে?
এই গল্পে দেখানো হয়েছে কীভাবে একজন বিবাহিতা নারী ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদ পেতে একজন যুবকের জীবন ধ্বংস করে দেয়, এবং শেষে তা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
প্রশ্ন: গল্পে বিউটি আসলে কে ছিল?
বিউটি নামে পরিচয় দেওয়া মেয়েটি আসলে ছিলেন বিবাহিতা তামান্না, যিনি স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও ভুয়া নাম ব্যবহার করে মাহবুবের সাথে প্রেমের অভিনয় করেছিলেন।
প্রশ্ন: মাহবুব কেন তামান্নার ক্ষতি করেছিল?
তামান্নার প্রতারণা ও নির্দয় প্রত্যাখ্যানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মাহবুব প্রতিশোধের নেশায় চরম সিদ্ধান্ত নেয়, যার পরিণতি হয় ভয়াবহ।
প্রশ্ন: এই গল্প থেকে আমাদের কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
অবৈধ প্রেম ও মোবাইল ফোনে অপরিচিত কারো সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা যে কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা এই গল্প থেকে স্পষ্ট হয়। ইসলামে অবৈধ সম্পর্ক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর পরিণতি সবসময় ক্ষতিকর।
প্রশ্ন: এই ধরনের প্রতারণা থেকে কীভাবে সতর্ক থাকা সম্ভব?
অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা কল বা মেসেজে সাড়া না দেওয়া, ভুয়া পরিচয় সন্দেহ হলে সতর্ক হওয়া এবং অবৈধ সম্পর্কের পথ এড়িয়ে চলাই এই ধরনের প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকার মূল উপায়।
[গল্পের সহায়তায় : সাদিয়া য়ামিন, কালিগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা]
এরপর পড়ুন: মোবাইল প্রেম! অবশেষে…
লেখক: মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম, তার আদর্শ যুবক যুবতি ২ বই থেকে।
সম্পর্কিত গল্প সমুহ!
০১. অবৈধ প্রেম : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি (ভালোবাসার বেদনার গল্প)
০২. অবৈধ প্রেমের পরিণতি (প্রেমের গল্প)
০৩. প্রেমের করুণ পরিণতি: রাসেল ও মুনীরার শিক্ষণীয় গল্প
০৪. পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয় (শিক্ষণীয় গল্প)
০৫. যুবতীর কবলে যুবক (রাহাত লাভলি’র প্রেমের গল্প)
প্রিয় পাঠক পাঠিকা, অবৈধ প্রেমের করুণ পরিণতি গল্পটি পড়ে আপনার ভালো লাগলে এটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।