আপনি কাউকে সংশোধন করতে চাইলেন — সে মানলো না। বন্ধুকে ভুল ধরিয়ে দিলেন — সে রেগে গেল। এই মুহূর্তে কী করবেন? ভিন্ন মতকে সম্মান করুন — এটাই সুখী ও সফল জীবনের গোপন চাবিকাঠি। রাসূল (সাঃ)-এর অসাধারণ আখলাক থেকে জানুন কীভাবে উদারতাই পারে সম্পর্ক ও জীবন বদলে দিতে।
ভিন্ন মত মানেই শত্রু নয়
মানুষ যেমন স্বভাব-প্রকৃতি এবং আকার-অবয়বে বিভিন্ন ধরনের, তেমনি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বিভিন্ন রকমের। আপনি কাউকে কোনো অন্যায় করতে দেখে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করলেন। কিন্তু সে এর কোনো মূল্যায়নই করলো না। এ জন্য আপনি তাকে আপনার শত্রু হিসেবে গণ্য করবেন না। যথাসম্ভব উদারতা অবলম্বন করতে চেষ্টা করবেন।
আপনি কোনো বন্ধুর ভুল সংশোধন করতে চাইলেন কিন্তু সে এতে কোনো ধরনের সাড়া দিল না। এজন্য আপনি বন্ধুত্বকে শত্রুতায় পরিণত করবেন না। আপনি উদারতা অবলম্বন করুন। তাহলে সে তার এ ভুলের উপর অটল থাকলেও অন্তত নতুন কোনো ভুল করবে না।
আরও শিখুন: ভুল শােধরানাের আগে নিশ্চিত হোন
কথায় বলে, ভুলকে সহজভাবে গ্রহণ করুন। কেননা, এরচেয়ে বড় ভুলও তো হতে পারে। তাই মানুষের সাথে উদার মন নিয়ে চলাফেরা করুন। ছোট-বড় যেকোনো ভুল দেখলে রেগে যাবেন না। ধৈর্য ধরুন, দেখবেন আপনার জীবনটা কত সুখময় হয়ে ওঠে।
রাসূল (সাঃ)-এর উদার আখলাক
রাসূলের আখলাক সম্পর্কে আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বলেন-
- ব্যক্তিগত কারণে তিনি কখনও কারও থেকে প্রতিশোধ নেন নি।
- স্ত্রী, দাসী বা খাদেমকে কখনো নিজ হাতে প্রহার করেন নি৷ (তবে আল্লাহর পথে জিহাদের ক্ষেত্র এর ব্যতিক্রম)।
- কারো কাছ থেকে ব্যথা বা কষ্ট পেলে তিনি প্রতিশোধ নিতেন না। অবশ্য কেউ শরীয়ত নিষিদ্ধ কোনো কাজ করলে আল্লাহর বিধান হিসেবে তাকে শাস্তি দিতেন।
আরও পড়ুন: মন্দের বিপরীতে উত্তম ব্যবহার করুন | ইসলামের শিক্ষা
ব্যক্তিস্বার্থে রাগ বনাম আল্লাহর জন্য রাগ
আল্লাহর রাসূল ﷺ কখনও রাগ করলে আল্লাহর জন্যই করতেন। কখনোই তা ব্যক্তিস্বার্থে করতেন না। এ উভয় ধরনের রাগের পার্থক্য বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।
মনে করুন, আপনার ছোট ছেলে সকালবেলা মাদরাসায় যাওয়ার আগে আপনার কাছে এসে হাতখরচ বাবদ এক রিয়াল বা দুই রিয়াল চাইল। আপনি মানিব্যাগ খুঁজে ভাংতি টাকা পেলেন না। ৫০০ রিয়ালের নোট ছাড়া আর কোনো নোটই নেই। নোটটা তাকে দিয়ে বললেন, ‘এটা ৫০০ রিয়ালের নোট। তুমি এখান থেকে দুই রিয়াল খরচ করে বাকিটা ফেরত দেবে।’ এটা আপনি তাকে খুব গুরুত্বের সাথে বলে সতর্ক করে দিলেন।
কিন্তু বিকেলে সে যখন বাসায় ফিরল তখন তার হাতে এক রিয়ালও নেই। সব খরচ করে বাসায় এসেছে। এ মুহূর্তে আপনি কী করবেন? আপনার রাগের পরিমাণটা কেমন হবে? তাকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা যা করার তা তো করবেনই এরপর খুব মারধরও করবেন। তারপর হাত খরচ বন্ধ করে দিবেন।
মনে করুন, আপনি একদিন আসরের নামায পড়ে বাসায় ফিরলেন। দেখলেন, ছেলেটা নামায না পড়ে কম্পিউটারে গেমস খেলছে অথবা টেলিভিশন দেখছে। তখন কি আপনার রাগটা আগের বারের মতো হবে? আমার মনে হয় এবং আপনারাও আমার সাথে একমত হবেন, দ্বিতীয় রাগের চেয়ে প্রথম রাগটা হবে কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী। অথচ রাসূল ﷺ রাগ করলে তা একমাত্র আল্লাহর জন্যই রাগ করতেন। তিনি কাউকে উপদেশ দিলে কখনও তা গ্রহণ করা হতো না। এ জন্য তিনি রেগে যেতেন না। বিষয়টাকে সহজভাবে মেনে নিতেন। কেননা, হেদায়াত তো একমাত্র আল্লাহর হাতে।
হিরাক্লিয়াস ও তানূখীর ঘটনা
রাসূল ﷺ তৎকালীন শামের সীমান্তবর্তী এলাকা তাবুকে পৌঁছলেন।[১] তিনি রোম সাম্রাজ্যের কাছাকাছি পৌঁছলেন। এরপর দিহইয়া কালবী (রাঃ) কে একটি পত্র দিয়ে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে পাঠালেন। দিহইয়া (রাঃ) সেখানে পৌঁছে হিরাক্লিয়াসের কাছে রাসূল ﷺ-এর পত্র পৌছে দিলেন।

হিরাক্লিয়াস রাসূল ﷺ-এর চিঠি দেখেই খৃষ্টান পাদ্রী ও ধর্মযাজকদের তলব করে তাদেরকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হলেন। সে বললো, ‘আপনারা জানেন, যিনি আবির্ভূত হয়েছেন তিনি তিনটি অপশন দিয়ে আমার কাছে দূত প্রেরণ করেছেন-
১. আমি যেন তার ধর্মের অনুসরণ করি ।
২. অথবা জিযিয়া কর প্রদান করি। এ অবস্থায় আমাদের ভূমি আমাদের মালিকানায় থাকবে।
৩. এটাও যদি না মানি তাহলে আমাদেরকে যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে।
তারপর হিরাক্লিয়াস বললো, ‘আসমানি কিতাবে আপনারা পড়েছেন, তিনি আমাদের সাম্রাজ্য হস্তগত করবেন। অতএব আসুন, আমরা সবাই তার ধর্ম মেনে নিই অথবা জিযিয়া কর প্রদান করি।’ পাদ্রীরা সম্রাটের প্রস্তাব শুনে ক্রোধে ফেটে পড়ল। এরপর সবাই একযোগে এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলল। প্রতিবাদ ও ক্রোধের তীব্রতায় তাদের শরীর থেকে চাদর খুলে পড়ল। তারা বললো, ‘আপনি আমাদেরকে খৃষ্টধর্ম ত্যাগ করতে বলছেন? হেজাজের এক বেদুইন আরবের দাসত্ব কবুল করার কথা বলছেন ?!
ধর্মযাজকদের এ মনোভাব দেখে হিরাক্লিয়াস খুব ভয় পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব দেয়া তার জন্য ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ তৎকালিন সমাজব্যবস্থা ছিল পাপ ও পাদ্রীনির্ভর। জনসমর্থনও ছিল তাদের হাতের মুঠোয়। হিরাক্লিয়াস ভাবলেন, এ মনোভাব নিয়ে পাদ্রীরা এখান থেকে বের হয়ে গেলে দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে। তাই তিনি দ্রুত একটি কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি তাদেরকে বললেন, ‘দেখুন, খৃষ্টধর্মের ওপর আপনাদের অবিচলতা কেমন তা যাচাই করার জন্যই মূলত আমি এ প্রস্তাব দিয়েছি!
হিরাক্লিয়াসের তিন প্রশ্ন
হিরাক্লিয়াস নিশ্চিত ভাবেই জানতেন, মুহাম্মদ ﷺ সে রাসূল যার সম্পর্কে ঈসা আলাইহিস সালাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এরপরও বিষয়টাকে আরেকটু যাচাই করতে তিনি আরবের তুজীব গোত্রের খৃষ্টধর্মাবলম্বী জনৈক ব্যক্তিকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তাকে বললেন, ‘আরবি ভাষায় পারদর্শী একজন মেধাবী লোককে ডেকে আন । তাকে নবুয়তের দাবিদার ঐ আরব ব্যক্তিটির কাছে তার চিঠির জবাবসহ পাঠাও।
তুজীবী লোকটি গিয়ে তানূখ সম্প্রদায়ের এক খ্রিষ্টান লোককে নিয়ে এলো। সম্রাট তাকে উত্তর সম্বলিত চিঠিটি রাসূল ﷺ-এর কাছে পৌঁছে দিতে বললেন। এরপর বললেন, মুহাম্মদের কথাবার্তার মধ্যে তিনটি বিষয় খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করবে-
১. তিনি আমার নামে লিখিত চিঠির ব্যাপারে কোনো আলোচনা করেন কি-না?
২. আমার চিঠি পড়ার সময় তিনি রাগ নিয়ে কোনো কথা বলেন কি-না?
৩. তার পিঠে কৌতূহলোদ্দীপক কোনো কিছু আছে কি-না?
রাসূল (সাঃ)-এর সাথে তানূখীর সাক্ষাৎ
তানূখ গোত্রের লোকটি শাম থেকে তাবুকে পৌঁছল। সে দেখলো, রাসূল ﷺ তাঁর সঙ্গীদের মাঝে বসে আছেন। লোকটি প্রশ্ন করলো, “তোমাদের নেতা কোথায়?’ বলা হল, ‘এই যে তিনি।’ লোকটি এগিয়ে এসে রাসূলের সামনে বসল। এরপর হিরাক্লিয়াসের চিঠি হস্তান্তর করলো। রাসূল ﷺ চিঠি গ্রহণ করে নিজের কোলে রাখলেন। এরপর তাকে বললেন, ‘তোমার গোত্র পরিচয় কী?’
সে বললো, ‘আমি তানূখ গোত্রের লোক।’
রাসূল ﷺ বললেন, ‘তোমার পূর্বপুরুষ ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর একনিষ্ঠ‘ও সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণের প্রতি তোমার কোনো আগ্রহ আছে কি?’ এ প্রশ্নের মাধ্যমে রাসূল ﷺ তাকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করতে চাইলেন।
গোত্রীয় ধর্মবিশ্বাসের প্রতি অন্ধভক্তি ছাড়া ইসলাম গ্রহণের পথে লোকটির কোনো বাধা ছিল না। সে স্পষ্টভাষায় বললো, “দেখুন, আমি একটি জাতির প্রতিনিধি এবং আমি আমার গোত্রের ধর্মমতের অনুসারী। সুতরাং আমি তাদের কাছে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত নতুন ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না!’
রাসূল ﷺ তার উত্তরে রাগ করলেন না। বিষয়টিকে তিনি সহজভাবে গ্রহণ করলেন। তিনি মুচকি হেসে কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
এরপর রাসূল ﷺ খুব কোমলভাবে বললেন, ‘হে তানূখী! আমি পারস্যের কিসরার কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছিলাম কিন্তু সে আমার পত্রটি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। আল্লাহ তাকে এবং তার রাজত্বকে টুকরো টুকরো করে ফেলবেন।’ আমি নাজ্জাশির কাছেও একটি পত্র পাঠিয়েছিলাম। সেও তা ছিড়ে ফেলেছিল। আল্লাহ তার রাজত্বকেও ছিড়ে ফেলবেন। তুমি যার কাছ থেকে এসেছ তার কাছেও একটি পত্র পাঠিয়েছিলাম। সে সম্মানের সাথে তা গ্রহণ করেছে। ফলে যতদিন তার জীবনে কল্যাণ থাকবে, ততদিন প্রজাদের মধ্যে তার প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় থাকবে।’
এ সময় তানূখী হিরাক্লিয়াসের উপদেশটির কথা স্মরণ করলো। সে মনে মনে ভাবল, ‘সম্রাট আমাকে যে তিনটি বিষয় লক্ষ্য করতে বলেছেন, এ তো আমার সেই কাঙ্ক্ষিত তিন বিষয়ের একটি। বিষয়টি ভুলে যেতে পারে এ আশঙ্কায় সে তুণীর থেকে একটি তীর বের করে তরবারীর পাতে কথাটা লিখে রাখলো।
রাসূল আলাইহি ওয়া সাল্লাম পত্রটি তার বামে বসা এক ব্যক্তিকে দিয়ে দিলেন। তানূখী জিজ্ঞেস করলো, “তোমাদেরকে চিঠিটা কে পড়ে শোনাবে?’ তারা বললো, ‘মুআবিয়া (রাঃ)!
মুআবিয়া (রাঃ) চিঠি পড়তে শুরু করলেন। হিরাক্লিয়াস রাসূল ﷺ কে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘আপনি আমাকে আল্লাহভীরু লোকদের জন্য প্রস্তুতকৃত জান্নাতের দিকে আহ্বান করছেন, যার পরিধি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীজুড়ে। তাহলে জাহান্নাম কোথায়?”
রাসূল ﷺ বললেন, “সুবহানাল্লাহ! দিন যখন আসে তখন রাত কোথায় থাকে?’
রাতের কথা শুনেই তানূখীর টনক নড়ল। সে ভাবল এটা তো হিরাক্লিয়াসের বলে দেয়া দ্বিতীয় বিষয়। এবারও সে তুণীর থেকে তীর নিয়ে তরবারীর খাপে কথাটা লিখে নিলো। মুআবিয়া (রাঃ) চিঠি পড়া শেষ করলে রাসূল ﷺ তানূখীর দিকে ঘুরে বসলেন। এরপর তাকে বিনয় ভরে বললেন, ‘আমাদের কাছে তোমার তো কিছু অধিকার আছে। কেননা, তুমি একজন রাজকীয় দূত!। তোমাকে পুরস্কৃত করার মতো কিছু আমার কাছে থাকলে অবশ্যই তোমাকে দিতাম। কিন্তু আমরা যে এখন নিঃস্ব মুসাফির। বালির ওপর বসে আছি।’
ওসমান (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তাকে একটা উপহার দেব।’ এরপর ওসমান রাদিয়াল্লাহ তার থলে থেকে এক জোড়া দামী কাপড় এনে তানূখী ব্যক্তিটিকে প্রদান করলেন।
এরপর রাসূল ﷺ বললেন, ‘আচ্ছা, এখন তার আপ্যায়নের জন্য কে প্রস্তুত আছ?’
জনৈক আনসারী যুবক দাঁড়িয়ে বললো, ‘আল্লাহর রাসূল! আমি প্রস্তুত।’
আনসারী যুবকটি মেহমানকে সঙ্গে নিয়ে চলতে লাগল। কিন্তু তানূখীর মন তখন তার কাঙ্ক্ষিত সেই তৃতীয় বিষয়টি জানার জন্য ছটফট করছিল। রাসূলের পিঠে দর্শনীয় কোনো কিছু আছে কি-না ওটা সে কিভাবে দেখবে। এ চিন্তায় সে বিভোর।
তানূখী আনসারী যুবকের সাথে পথ চলছিল। হঠাৎ রাসূল আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চস্বরে বলে উঠলেন, “হে তানূখী! এদিকে এসো।’
তানূখী দ্রুতপায়ে রাসূলের সামনে এসে দাঁড়াল। রাসূল ﷺ চাদরটি একটু সরিয়ে তার শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করলেন। এরপর তাকে বললেন, ‘এ তো এখানে দেখ, আর তোমাকে যে আদেশ করা হয়েছে তা পূরণ কর।’
ঘটনা বলতে গিয়ে তানূখী একদিন বলেছিল, ‘আমি তার পিঠের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তার কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে বড় আকারের কবুতরের ডিমের মতো একটি মোহর স্ফীত হয়ে আছে।’
একটি চিন্তা…
মানুষ নিজের ভুলকে ভুল হিসেবে অনুভব করুক এতটুকুই যথেষ্ট। সব ভুল সাথে সাথে সংশোধন করবে এমনটা আশা করবেন না। আপনার কামনা বাস্তবায়িত না হলেও রাগ করবেন না।
আরও পড়ুন: মানসিক অবস্থা বিবেচনায় রাখুন | সুন্দর জীবনের গোপন রহস্য
উপসংহার: উদার মনেই সুখী জীবন
মানুষ নিজের ভুলকে ভুল হিসেবে অনুভব করুক — এটুকুই যথেষ্ট। সব ভুল সাথে সাথে সংশোধন হবে এমন আশা রাখবেন না। আপনার কামনা পূরণ না হলেও রাগ করবেন না। ধৈর্য ধরুন — উদার মন নিয়ে চলুন। এটাই ভিন্ন মতকে সম্মান করার আসল অর্থ, এটাই সুখী জীবনের গোপন চাবিকাঠি।
অতএব, জীবনকে উপভোগ করার ৩৫তম সূত্র হলো — ভিন্ন মতকে সম্মান করুন।
রেফারেন্স।
[১] তানূখী কর্তৃক বর্ণিত হিরাক্লিয়াসের দূত হিসেবে তাবুকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনাটি মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং ১৫৬৫৫-এ বর্ণিত হয়েছে। এতে হিরাক্লিয়াসের নির্দেশ, তানূখীর সঙ্গে রাসূল ﷺ-এর কথোপকথন, সূরা আল-কাসাসের ৫৬ নম্বর আয়াত পাঠ, হিরাক্লিয়াসের পত্র, উসমান (রাঃ)-এর উপহার এবং নবুয়তের মোহর দেখার ঘটনা রয়েছে। বর্ণনাটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; শু‘আইব আল-আরনাউত সনদে দুর্বলতা উল্লেখ করেছেন, আর আল-আলবানি সহায়ক বর্ণনার ভিত্তিতে এটিকে হাসান বলেছেন।
উৎস: জীবনকে উপভোগ করুন (Enjoy your life in bangla) এরপর পড়ুন: মন্দের বিপরীতে উত্তম ব্যবহার করুন | ইসলামের শিক্ষা