শয়তানের পরাজয় (ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প)

শয়তানের পরাজয় এটি একটি ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প। সম্মানিত লেখক বনী ইসরাঈলের এক দরবেশের সাথে শয়তানের লড়াইয়ের ঘটনা তুলে ধরেছেন এবং কিছু নসীহত পেশ করেছেন। আমাদের ঈমান ও আমলের সংশোধনের জন্য চলুন গল্প ও নসীহতগুলি পড়ি!

গল্প : শয়তানের পরাজয় (ইসলামিক গল্প)

অনেক দিন আগের কথা। বনী ইসরাঈলে এক বিখ্যাত বুযুর্গ ছিলেন। সর্বদাই তিনি ইবাদতে মশগুল থাকতেন। জিকির তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ, ইশরাক কোন আমলই বাদ দিতেন না। দিনের বেলা রােযা রাখতেন। রাতভর বিভিন্ন আমলে লিপ্ত থাকতেন। এভাবেই চলছিল তার নিত্যদিনের আমল।

একদিন কিছুসংখ্যক লােক দরবেশের নিকট আগমন করল। উদ্দেশ্য হল, তার কাছে একটি অভিযােগ পেশ করা। তারা বলল, হুজুর! ওখানে একদল লােক আছে। তারা একটি গাছের পূজা করে।

ছবিঃ গাছের পূজার দৃশ্য! উৎস: গুগল সার্চ থেকে। গাছের পূজা সার্চ ফলাফল থেকে আরও দেখুন।

লােকদের কথা শুনে দরবেশের চোখে মুখে ফুটে উঠে ক্রুদ্ধ ভাব। দৃষ্টিতে ঝরে পড়ে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। উষ্ণ হয়ে উঠে তার ধমনীর রক্ত। তিনি গর্জন করে বলেন–

কি বললে তােমরা? আল্লাহর জমিনে মাখলুকের ইবাদত! বৃক্ষের পূজা! এ তাে হতেই পারে না। আমি কখনাে তা হতে দিব না। চল এখনই আমি নিজ হাতে গাছটি কেটে ফেলব।

একথা বলে দরবেশ বিলম্ব করলেন না। তিনি একখানা কুড়াল কাঁধে নিয়ে গাছটি কাটার জন্য রওয়ানা হলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর শয়তানের সাথে দরবেশের দেখা হল। শয়তান তখন বৃদ্ধ লােকের আকৃতি ধারণ করে এ পথ দিয়েই বিপরীত দিক থেকে আসছিল। শয়তান বলল-

: হুজুর! আপনাকে বেশ উত্তেজিত মনে হচ্ছে। কোথায় রওয়ানা দিলেন?

: ও অমুক গাছটি কাটতে যাচ্ছি। দরবেশের সহজ উত্তর।

: ও গাছের সাথে আপনার কি সম্পর্ক? আপনি আবেদ মানুষ, ইবাদত করতে থাকুন। বাজে কাজে সময় নষ্ট করে লাভ কি?

: এটাও একটি ইবাদত। আমি ইবাদত নিয়ে পড়ে থাকব, আর অন্যেরা আল্লাহর পরিবর্তে সৃষ্টির পূজা অর্চনা করবে এ কিছুতেই আমি বরদাশত করতে পারব না।

: আমি এ গাছ কাটতে দিব না। 

: তুমি দেওয়া না দেওয়ার কে? গাছ আমি কাটবই।

: ও বললাম তাে, এ গাছ আপনি কাটতে পারবেন না। আমার বুকে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আপনি তা কাটতে পারবেন না।

এভাবে আরাে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটির পর এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে গেল। কেউ কাউকে ছাড়বার পাত্র নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দরবেশই শয়তানের বুকে চেপে বসলেন।

এবার অবস্থা বেগতিক দেখে শয়তান অনুনয় বিনয় শুরু করল। এতে দরবেশের মন নরম হল। তিনি শয়তানকে ছেড়ে দিলেন। দরবেশের কাছ | শয়তান যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল । সে সােজা হয়ে দাঁড়িয়ে। দরবেশকে আবার বুঝাতে লাগল। বলল-

হুজুর! এ কাজ তাে আপনার উপর ফরজ নয়। আপনি এ গাছের পূজাও করেন না। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে কোন নবীর দ্বারাও এ কাজ করিয়ে নিতে পারতেন।

দরবেশ বললেন, তােমার ওয়াজ কালাম শুনতে আমি রাজি নই। তুমি যাই বল না কেন, গাছ কাটা থেকে কিছুতেই আমাকে বিরত রাখতে পারবে না।

আবার উভয়ের মধ্যে মােকাবেলা হল। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের গ্লানি শয়তানকেই বহন করতে হল । সে কিছুতেই দরবেশের সাথে পেরে উঠল । দরবেশ পূর্বের ন্যায় তার বুকের উপর চড়ে বসলেন।

এ পর্যায়ে শয়তান একটি নতুন কৌশলের আশ্রয় নিল। কারণ সে বুঝল, শক্তির জোরে কোন অবস্থাতেই দরবেশকে কাবু করা যাবে না। সে বলল, দরবেশ সাহেব! এবার একটি আপসের কথা শুনুন। আশা করি আপনি তা কবুল করবেন। 

সে বলতে লাগল- জনাব! আপনি একজন গরিব লােক। অভাব অনটন সবসময় লেগেই থাকে। কখনাে না খেয়ে উপােস থাকেন। ছেলে মেয়েরা কান্নাকাটি করে। তাদের কান্নাকাটি আপনাকে অস্থির করে তুলে। এমতাবস্থায় আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা অনেক প্রয়ােজন। আমি আপনার নিকট প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, প্রতিদিন তিনটি করে স্বর্ণমুদ্রা আপনার মাথার নিকট রেখে আসব। আপনি তা দ্বারা নিজের প্রয়ােজন মিটিয়ে অন্যেরও অনেক উপকার করতে পারবেন। গাছ কেটে লাভ কি? একটি কেটে ফেললে তারা অন্য একটি লাগিয়ে নেবে।

শয়তানের কথা দরবেশের নিকট বেশ যুক্তিপূর্ণ মনে হল । তিনি চক্রান্তের বেড়াজালে আবদ্ধ হলেন। অবশেষে গাছ না কেটে বাড়ীতে ফিরে গেলেন।

শয়তানের কথামত দরবেশ দুদিন স্বর্ণমুদ্রা পেলেন। কিন্তু তৃতীয় দিন আর পেলেন না। তিনি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন, অধীর আগ্রহে পথ পানে চেয়ে রইলেন, কিন্তু স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে শয়তান এল না। এমনকি কোথাও তার চিহ্ন পর্যন্ত দেখা গেল না। এতে দরবেশ সাহেব ভীষণ রাগান্বিত হলেন এবং এক পর্যায়ে কুড়াল কাঁধে নিয়ে আবার গাছ কাটতে রওয়ানা দিলেন।

পথিমধ্যে সেই বৃদ্ধবেশী শয়তানের সাথে দরবেশের দেখা হল । সে বলল, হুজুর কোথায় রওয়ানা দিলেন?

দরবেশ বললেন, সেই গাছটি কাটতে যাচ্ছি। কারণ তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছ। দু’দিন স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে তারপর তা বন্ধ করে দিয়েছ। সুতরাং যে কোন ভাবে আমি এ গাছ কেটেই ছাড়ব।

শয়তান বলল, আমি উহা কাটতে দিব না। আপনি কিভাবে গাছ কাটেন তা আমি দেখে নেব ।

অবশেষে উভয়ের মধ্যে সেদিনের মতাে আজও লড়াই বাঁধল। সেকি তুমুল লড়াই! প্রত্যেকেই আপন প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। খরচ করছে দেহের সর্বশক্তি। শেষ পর্যন্ত ফলাফল আজ উল্টো দিকে গেল । বিজয় মাল্য শয়তানই লাভ করল। সে লড়াইয়ের এক পর্যায়ে দরবেশের বুকে চেপে বসল।

দরবেশ এবার নিরুপায়। তিনি শত চেষ্টা করেও শয়তানকে সরাতে পারলেন না। এতে তিনি বেশ আশ্চর্য হলেন। মনে মনে বললেন, সে দিন দুই দুইবার তাকে পরাজিত করে বিজয়ের মালা আমিই পরিধান করেছিলাম। আর আজ? আজ তাে আমি প্রথমবারই ধরাশায়ী হলাম। আপ্রাণ চেষ্টা করেও তার সাথে কুলিয়ে উঠতে পারলাম না। কি থেকে কি হল কিছুই বুঝলাম না।

এসব চিন্তা করতে করতে দরবেশ চরম বিস্ময় নিয়ে শয়তানকে জিজ্ঞেস করলেন-
এবার তুমি কি করে বিজয়ী হলে?

শয়তান বলল, পরাজয়ের কারণ তাে সুস্পষ্ট। কারণ পূর্বে আপনার রাগ ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য আর আজ আপনার রাগ হল স্বর্ণমুদ্রা লাভের জন্য, কাজেই পরাজিত হয়েছেন।

প্রিয় পাঠক! এটা স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, যে কাজ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, নিজস্ব স্বার্থ হাসিল কিংবা মানুষকে দেখানাে উদ্দেশ্য হয় না, উহার পিছনে আল্লাহ পাকের সাহায্য থাকে। এজন্যেই প্রথম দিন দরবেশ বিজয়ী হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে দুনিয়ার কোন স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দ্বীনের কাজ আঞ্জাম দিলে তাতে আল্লাহর কোন মদদ ও সাহায্য থাকে না। তাই ঐ কাজ সফলতার মুখ না দেখাই স্বাভাবিক। তাই তাে দরবেশ সাহেব দ্বিতীয় দিনের লড়াইয়ে জয় লাভ করতে পারেন নি। পারেন নি বিতাড়িত শয়তানকে পরাজিত করতে। তাই আসুন, আজ থেকে আমরা নিয়ত করি, দ্বীনের ছােট বড় যে কোন কাজ একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করব। নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধার অথবা অপরের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়াবার জন্য করব না।

হাদিসে কুদসীতে আছে, কেয়ামতের দিন সর্ব প্রথম যেসব লােকদের বিচার করা হবে তম্মধ্যে একজন হবেন শহীদ (যিনি আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ পাক তাকে ডেকে স্বীয় প্রদত্ত যাবতীয় নেয়ামতের কথা স্মরণ করাবেন। সে উহা চিনে নিবে এবং স্বীকার করবে । অতঃপর আল্লাহ পাক তাকে বলবেন, তুমি ঐসব নিয়ামতের প্রতিদানে কি কাজ করেছ? 

সে বলবে, আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য জিহাদ করেছি এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনটা আপনার রাস্তায় উৎসর্গ করে দিয়েছি। আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি তাে এজন্য জিহাদ করেছিলে যে, লােকে তােমাকে বীর বাহাদুর বলবে, সাহসী বলে আখ্যা দিবে। আর তা তাে তােমাকে বলাই হয়েছে। তারপর তাকে আদেশ শুনানো হবে এবং টেনে হেঁচড়ে অধমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

দ্বিতীয়তঃ বিচার হবে ঐ আলেমের যিনি এলেম শিখেছিলেন, অপরকে শিখিয়েছিলেন এবং কুরআন পাক পড়েছিলেন। তাকে ডেকে তার উপর প্রদত্ত নেয়ামতসমূহ স্মরণ করানাে হবে। তিনিও উহা স্বীকার করবেন।

তারপর আল্লাহ পাক তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এসব নিয়ামতের পরিবর্তে তুমি কি আমল করেছ? তিনি উত্তরে বলবেন, আপনার রাযী খুশির জন্য আমি নিজে এলেম শিক্ষা করেছি ও অপরকে শিক্ষা দিয়েছ। তদুপরি আপনার সন্তুষ্টি লাভের আশায় কালামে পাকও হাসিল করেছি।

তখন আল্লাহ পাক বলবেন, মিথ্যা কথা। তুমি তাে এলেম এজন্যে শিখেছিলে যে, লােকে তােমাকে আলেম বলবে, আর কালামে পাক এজন্য হাসিল করেছিলে যে, লােকে তােমাকে কারী বলবে। সুতরাং সেই মাকসুদ তাে পূর্ণ হয়েছে। অতঃপর তাকে ফরমানে এলাহী শুনানাে হবে এবং তাকেও নিম্নমুখী করে টেনে দোজখের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।

তৃতীয়তঃ বিচার হবে ঐ সম্পদশালীর, যাকে আল্লাহ পাক অগাধ ধন সম্পদের মালিক বানিয়েছেন। তাকেও আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করে নেয়ামতুসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। সেও উহা স্বীকার করে নিবে।

আল্লাহ পাক পূর্বোক্ত দু’জনের ন্যায় তাকেও প্রশ্ন করবেন- ঐসব নিয়ামতের প্রতিদানে তুমি কি আমল করেছ? 

জবাবে সে বলবে, হে খােদায়ে পাক! আপনার পছন্দনীয় এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে আমি দান করি নি। এসব দানের বেলায় বিন্দুমাত্রও ত্রুটি করি নি আমি।

তার কথা শেষ হওয়ার পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলবেন, মিথ্যাবাদী! ঐসব তুমি এজন্যেই করেছিলে যে, লােকে তােমাকে দাতা বলবে, দানবীর বলে আখ্যায়িত করবে। তা তাে বলাই হয়েছে। অতঃপর তাকেও নির্দেশ মােতাবেক সজোরে টেনে জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম, নাসায়ী, আহমদ)।

মুহতারাম ভাই ও বােনেরা! ইসলামী শরীয়তে ইসলাহে নিয়ত তথা নিয়ত দুরস্ত করার গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা নিয়ত দুরস্ত না হলে কোন আমলই আল্লাহর দরবারে গ্রহণযােগ্য হবে না। জান দিয়ে, মাল খরচ করে এমনকি আলেম হওয়ার মতাে মহামর্যাদা লাভ করার পরও কেবল এখলাসের অভাবে জাহান্নামের প্রজ্জ্বলিত আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে হবে। লক্ষ রাকাত নামাজ পড়ে, হাজার হাজার রােযা রেখেও কোন সাওয়াব বা প্রতিদান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া যাবে না।

পাঠকবৃন্দ! নিয়ত দুরস্ত করার মানে হল, প্রথমত কাজের পূর্বে উদ্দেশ্য ঠিক করা অর্থাৎ এ কাজটি আমি কেন কি উদ্দেশ্যে করছি তা নির্ধারণ করে নেওয়া। গাফলত বা অবহেলার সাথে লক্ষ্যহীন অবস্থায় কোন কাজ না করা। আর দ্বিতীয়তঃ উদ্দেশ্য স্থির হওয়ার পর তাকে আল্লাহর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্ধারিত কষ্টি পাথরে ঘষে দেখা যে, এর দ্বারা তারা সন্তুষ্ট হবেন না অসন্তুষ্ট। এক কথায়, কাজটি হতে হবে আল্লাহ ও রাসূল। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দসই কাজ এবং তা করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই। অন্যথায় আমাদের যাবতীয় চেষ্টা বিফলে যেতে বাধ্য। এ প্রসঙ্গে আরেকটি জরুরি কথা হল, ইসলামী শরীয়তে যে সব কাজ মােবাহ বা জায়েজ রাখা হয়েছে, যদি সেগুলােও ভাল নিয়তে পালন করা যায় তবে তাতেও সওয়াব লাভ হবে এবং তা ইবাদত হিসেবে গন্য হবে।

যেমন মনে করুন, ঘর নির্মাণ করে তাতে জানালা রাখার ব্যাপারে শরীয়তের কোন বিধি নিষেধ নেই। এটি একটি জায়েজ কাজ। সুতরাং কেউ যদি কোন নিয়ত না করে কেবলই বাতাস ও আলাে আসার জন্য জানালা রাখে তবে উহা একটি মুবাহ ও জায়েজ কাজ হবে। এতে সওয়াব গােনাহ কিছুই হবে না।

কিন্তু এই জানালা রাখার সময় কেউ যদি এই নিয়ত করে নেয় যে, ঘরে অবস্থানকালে আমি জানালা পথ দিয়ে আযানের আওয়াজ শুনে মসজিদে যাব, এই জানালার আলােতে বসে আমি কুরআন হাদীস বা ধর্মীয় বই পুস্তক পাঠ করব তবে অবশ্যই এর দ্বারা সে বহু সওয়াব অর্জন করতে পারবে। অথচ এই নিয়ত করার কারণে তার আলাে বাতাস কোনটাই বন্ধ হবে না।

ইমাম গাজালী (রহ.) নিয়তের বিষয়টিকে আরাে পরিষ্কাররূপে বুঝানাের জন্য একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। তিনি বলেন, যদি কেউ শুধু উপভােগ ও সুন্দর পরিপাটির অংশ হিসেবে সুগন্ধি ব্যবহার করে তবে তা একটি মুবাহ কাজ হবে। এর দ্বারা না কোন গােনাহ হবে, না কোন সওয়াব পাওয়া যাবে। আর যদি কেউ নিজের বড়ত্ব ও অহংকার প্রদর্শনের জন্য কিংবা পরপুরুষ বা পরনারীকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে তবে এরূপ নিয়তের কারণে অবশ্যই সে গােনাহগার হবে। সাওয়াব পাওয়ার তাে প্রশ্নই উঠে না।

আর যদি কেউ সুন্নত পালনের উদ্দেশ্য নিজের মন মস্তিস্ককে প্রফুল্ল রাখার মানসে, ইবাদত বন্দেগীতে মনােযােগ আনয়নের নিমিত্তে সর্বোপরি আপন দেহের দুর্গন্ধ দ্বারা অপরের যাতে কষ্ট না হয় সেই নিয়তে আতর, সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করে তবে নিঃসন্দেহে উহা বিরাট সাওয়াবের কাজ হবে। এর বিনিময়ে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হবে মহা পুরস্কার। 

উপরের আলােচনা দ্বারা বুঝা গেল, শুধু নিয়তের কারণে একই কাজ কোন সময় পুণ্যহীন, কোন সময় পাপ আবার কোন সময় এর দ্বারা অপরিসীম সাওয়াব লাভ হয়। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত প্রত্যেকটি কাজ করার পূর্বে স্মরণ করে করে নিয়তকে উত্তমরূপে ঠিকঠাক করা অতঃপর সেই কাজে হাত দেওয়া। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের তাওফিক দাও। আমিন।

লেখক: মাওলানা মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম। বইঃ হৃদয়স্পর্শী শিক্ষণীয় কাহিনী (হৃদয় গলে সিরিজ ১২) থেকে। 

নোটঃ আমার মনে হয় এই গল্পে শয়তানের উদ্দেশ্যের জয় হয়েছে এবং দরবেশের পরাজয় হয়েছে। কিন্তু সম্মানিত লেখক এই গল্পের শিরোনাম কেনো “শয়তানের পরাজয়” দিলেন তা আমার বোধগম্য হয়নি। 

For more update please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

Leave a Comment

error: Content is protected !!