ধন্য জীবন। ফুল।

হযরত হাসান বসরী (রহঃ)-এর নাম শোনে নি, এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা, অন্তরদৃষ্টি, অপূর্ব দূরদর্শিতা ও ধর্মীয় কাজে অসীম আত্মত্যাগের কথা স্মরণ হলে মন-প্রাণ আনন্দে ভরে ওঠে। চিত্ত শান্তি পায়। মাথা নত হয়ে আসে।

প্রশ্ন জাগে, এই মহামনীষী কীভাবে লাভ করলেন এই পূর্ণতা? কীভাবে হাসিল করলেন এহেন অন্তর দৃষ্টি।  কোন জিনিষ তাঁকে পৌঁছে দিল-সফলতার শীর্ষ চূড়ায়। কেন তিনি নিজেকে সঁপে দিলেন-ইসলামের প্রচার প্রসারের মহান কর্মে? হ্যাঁ, আজ আমরা এই মহাপুরুষের স্মৃতিগাঁথা সেই অপূর্ব কাহিনীই শুনব।

হযরত হাসান বসরী (রহঃ) তখন টগবগে যুবক। নিজেকে নিয়ে অনেক কিছু ভাবতে শিখেছেন। অন্য আর দশটি যুবক থেকে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন। টু-টু করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান না। অযথা এখানে সেখানে যাতায়াত করেন না। নাচ-গান, মদ-জুয়া ইত্যাদি আসরে যোগ দেন না। তিনি শুধু ভাবেন-আমার দেহে এখন যৌবনের খুন প্রবাহিত হচ্ছে। গায়ে এখন শক্তি আছে। জীবনে বড় হতে হলে এই যুবক বয়সকে কাজে লাগাতে হবে।

জীবিকা উপার্জনের এই উপযুক্ত সময়কে কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। যে কোন মূল্যে স্বাবলম্বী আমাকে হতেই হবে।

যে কথা সে কাজ। হযরত হাসান বসরী রহঃ কাজে নেমে গেলেন। পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেন মনিমুক্তা পরিস্কার করে তা বিদেশে নিয়ে বিক্রয় করার কাজকে। এ জন্যে লোকেরা তাকে হুসনুল লুলু বা মানিক্যের ভূষণ বলে ডাকত।

হযরত হাসান বসরী রহঃ একদা ব্যবসার উদ্দেশ্যে রোম দেশে গমন করলেন। সেখানকার উজীরে আযম ছিলেন তাঁর খুব বিশ্বস্ত বন্ধু। এ সুবাদে একসময় তিনি বন্ধু আযমের বাড়িতে মেহমান হলেন এবং সেখানে কয়েকদিন থাকবেন বলে মনস্থ করলেন।

হযরত হাসান বসরী রহঃ যতবারই রোমে এসেছেন, সবসময়ই উজীরের মেহমান হয়েছেন। কারণ, উজীর তাঁকে জোর দিয়ে বলে রেখেছিলেন যে, এদেশে আগমন করলে অবশ্যই তুমি আমার বাসায় মেহমান হবে।

বন্ধুর বাড়িতে মেহমান থাকা অবস্থায় হযরত হাসান বসরী রহঃ  ঘরে বসে সময় কাটাতেন না। বরং উজীর বন্ধুকে নিয়ে রোমের বহু জায়গায় ভ্রমন করে  প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। অর্জন করতেন প্রচুর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। এ পর্যন্ত উভয় বন্ধু মিলে কত জায়গায় যে সফর করেছেন তাঁর কোনো ইয়ত্তা নেই।

যাহোক, প্রতিবারের ন্যায় এবারও দু’বন্ধুর মনে ভ্রমণের খাহেশ জাগ্রত হলো। অবশ্য ভ্রমণ সম্পর্কে এবার প্রথম কথা উঠালেন হযরত হাসান বসরী রহঃ। বললেন—বন্ধু! চলো না একটু ঘুরে আসি। অবলোকন করে আসি প্রকৃতির কোনো অপরূপ দৃশ্য।

জবাবে উজীর বললেন, হ্যাঁ, আমিও তা-ই ভাবছি। তবে এবার তোমাকে নিয়ে এমন এক ভ্রমণে যাব যা হবে অতীতের যে কোনো ভ্রমণ থেকে অধিক আনন্দদায়ক ও  ভিন্ন আমেজের।

তাই নাকি?

হ্যাঁ।

তাহলে এবারের ভ্রমণটা কোথায় হবে, তা কি আমি জানার অধিকার রাখি?

অবশ্যই।

তাহলে বলে ফেলো।

এই ভ্রমণ হবে জঙ্গলে।

জঙ্গলে! সেখানে কি ভ্রমণ হবে? নাকি আমাকে সিংহের খোরাক বানাবে?

আরে বন্ধু! সিংহের খোরাক বানাতে নয়, বরং তোমাকে সেখানে নেব একটি আশ্চর্যজনক জিনিস দেখাতে। উজিরের মুখে মুচকি হাসি।

কী সেই আজীব বস্তু যা আমাকে দেখাতে চাও?

আগে বলা যাবে না।

কেন?

আগে বলে ফেললে দেখার মজাটাই শেষ হয়ে যাবে। তবে ভূমিকা স্বরূপ সামান্য বলে রাখি।

তাড়াতাড়ি বলো।

যে জঙ্গলে তোমাকে নিয়ে যাব সেখানে শাহানশাহের একমাত্র পুত্র চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

বুঝলাম সেখানে বাদশাহ পুত্রের কবর আছে। তাই বলে কবর তো এমন কোনো আজীব জিনিস নয় যে, ঘটা করে তা দেখতে যেতে হবে!

আরে ভাই! আগে যাও না। যেয়েই সব বুঝতে পারবে।

দুই বন্ধু রওয়ানা দিল। তারা যখন বাদশাহ পুত্রের সমাধির কাছে পৌঁছল, তখন হযরত হাসান বসরী রহঃ এমন এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখলেন, যা একদিকে যেমন আশ্চর্যজনক, তেমনি অন্যদিকে দারুণ শিক্ষণীয় বটে।

তিনি দেখলেন কবরের চারপাশে বেশকিছু সৈনিক নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর রোমান ভাষায় কি যেন বলে চলে গেল।

সৈনিকরা চলে যাওয়ার পর সেখানে এল দেশের বিখ্যাত চিকিৎসক এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বৃদ্ধ লোকজন। তারাও কী যেন বলে ধীরে ধীরে প্রস্থান করলেন।

সবশেষে এলেন স্বয়ং শাহানশাহ। তিনি সমাধিস্থলের একেবারে কাছে গেলেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর কবরবাসীকে লক্ষ্য করে কিছু বলে চলে এলেন।

এ দৃশ্য অবলোকন করে হযরত হাসান বসরী রহঃ বন্ধুকে বললেন, বন্ধু! এতক্ষণ আমার সামনে যা কিছু ঘটল, তা শুধু চোখেই দেখলাম, মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝলাম না।

কিছুই বুঝলেন না?

না।

তাহলে শোন, ঐ যে রঙ বেরং্যের ফুল ও ও আলো দ্বারা সজ্জিত স্থানটি, ইহাই হলো শাহজাদার  সমাধিস্থল। গত কয়েক বছর আগে আজকের এ তারিখে হঠাৎ করে শাহজাদার ইন্তেকাল হলে ওখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। সেই থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার লোক শাহজাদার ইন্তেকালের তারিখে এখানে সমবেত হয়। তারপর তারা তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করে।

আচ্ছা সেটা তো বুঝলাম। এখন বলো শাহজাদার সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে ওরা কী বলে গেলো।

হ্যাঁ, অবশ্য বলবো। সেটা না বললে তো আজকের এই ভ্রমণটাই মাটি হয়ে যাবে।

তাহলে নিশ্চয়ই কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা হবে।

নিশ্চয়ই। গুরুত্বপূর্ণ কথা না হলে কি আর তোমাকে এতদূর এনে কষ্ট দেই?

আমার আর দেরী সহ্য হচ্ছে না। তাড়াতাড়ি বলো।

হ্যাঁ বলছি বলে উজীর বলতে লাগল—মৃত শাহজাদাকে উদ্দেশ্য করে সৈনিকরা বলল, হে আমাদের প্রিয় শাহজাদা! তোমার জন্য আমাদের বুকে কী পরিমান ভালোবাদা আছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তোমার মহব্বত ও ভালোবাসা মিশে আছে আমাদের প্রতিটি রক্তকণিকার সাথে। তোমার অকাল মৃত্যুতে আমরা আজ শোকাহত, ব্যথিত। তোমার জন্য আমাদের মন কাঁদে, প্রাণ কাঁদে। তোমার কথা স্মরণ হলে আমরা নিজেদের অস্তিত্বের ভুলে যাই। হে আমাদের প্রাণপ্রিয় শাহজাদা! যদি তোমাকে যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হতো, তাহলে একে একে এ দেশের বীর সৈনিকগণ তোমার জন্য নির্দ্বিধায় প্রাণ উৎসর্গ করত। কিন্তু আল্লাহর সঙ্গে যে যুদ্ধ করা সম্ভব নয়! আর মৃত্যু তো তারই নির্দেশে আসে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে যারা এসেছিলেন তারা কারা? তাদের বক্তব্যই বা কি ছিল? হযরত হাসান বসরী রহঃ জিজ্ঞেস করলেন।

জবাবে উজীর বললেন—তারা ছিলেন, দেশের জ্ঞানী-গুণী ও অভিজ্ঞ ডাক্তার। তারা বললেন-হে বাদশাহ পুত্র। তোমার মতো যুবকের খুব প্রয়োজন ছিল আমাদের। তোমাকে হারিয়ে আমরা দারুণ শূন্যতা অনুভব করছি। শোন! অভিজ্ঞতা, বিদ্যা-বুদ্ধি ও ঔষুধ-পত্রের মাধ্যমে যদি মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতো, তাহলে আমরা অবশ্যই তা করতাম। আমরা আমাদের চেষ্টায় মোটেও ক্রটি করতাম না। কিন্তু জীবন-মরণ সবই তো আল্লাহ পাকের হাতে। এখানে মানুষের কোনো হাত  নেই। তাই তোমাকে ধরে রাখার শত ইচ্ছা থাকলেও আমরা তা পারি নি।

সবশেষে যিনি এসেছিলেন তিনি তো নিশ্চয় বাদশাহ হবেন? কী বলো বন্ধু! আমার অনুমানটা কি ঠিক?

হ্যাঁ তুমি ঠিক ধরেছ।

তিনি কি বলে গেলেন?

তিনি বলে গেলেন—হে আমার প্রিয় বৎস! তোমার জন্য আমার নিখাদ ভালোবাসা ছিল। তোমাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমি কম চেষ্টা করি নি। যদি আমার প্রাণের বিনিময়েও তোমাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতো, তবে তা-ই করতাম। কিন্তু একথা ধ্রুব সত্য যে, মৃত্যুর সময় হলে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় সবাইকে চলে যেতে হয়। দুনিয়ার কোনো শক্তি তাকে আটকে রাখতে পারে না। পারে না তাঁর পিতা-মাতাও। মৃত্যুর ডাক এসে গেলে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে তাকে চলেই যেতে হয়। শত চেষ্টা করেও মৃত্যুর সময় এক সেকেণ্ড এদিক-ওদিক করা যায় না। শোন বৎস! মৃত্যু এমন এক নিষ্ঠুর বস্তুর নাম যা সাদা-কালো, ধনী-গরীব, রাজা-প্রজা, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, চিকন-মোটার ভেদাভেদ মানে না। নির্দিষ্ট সময়ে সবার  জীবন খেলা শেষ করেই ক্ষ্যান্ত হয়। বাদশাহ আরো বললেন-হে আমার কলিজার টুকরো! হৃদয়ের মনি! আগামী বৎসরের আজকের এই দিন পর্যন্ত তোমার প্রতি আমার সালাম। তখন তোমার সাথে আবার দেখা হবে।

কথা শেষ করে হযরত হাসান বসরী রহঃ কে লক্ষ্য করে উজীর বললেন-বন্ধু! এবার সবকিছু বুঝলে তো?

হ্যাঁ, সবকিছু সুন্দর করে বুঝেছি। কিন্তু……।

কিন্তু আবার কি? কোথাও বুঝে না থাকলে বলো, আবার তোমাকে বুঝিয়ে দেব।

না ভাই সবকিছুই ঠিকমত বুঝেছি। আর বুঝেছি বলেই আমার এখন চিন্তার সময় এসেছে। বন্ধু! আমার ভিতরটা জানি এখন কেমন করছে। আমাকে একটু ভাবতে দাও। একটু একাকী থাকতে দাও।

ঠিক আছে ভাই। আমি এক্ষুণি তোমার থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি। তুমি একা থাকো আর চিন্তা করো। এ বলে তিনি বেশ দূরে গিয়ে বসে রইলেন।

হযরত হাসান বসরী রহঃ এখন সম্পূর্ণ একা। তাঁর সাথে কেউ নেই। গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য এমন একটি পরিবেশই খুঁজছিলেন তিনি।

তিনি ভাবতে লাগলেন-সত্যিই তো! মৃত্যু এমন এক ভয়ানক জিনিস যা কাউকে রেহাই দেয় না। সে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে প্রত্যেকের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেয়। প্রবল প্রতাপশালী ব্যক্তিকেও সে মুহূর্তের মধ্যে নিস্তেজ করে ফেলে। কেড়ে নিয়ে যায় আপনজনের কাছ থেকে। কোনো শক্তি তাকে বাধা দিয়ে রাখতে পারে না। তাই তো রোমের শাহানশাহের মতো প্রচন্ড দাপটওয়ালা বাদশাহের ছেলেকেও মরণের ডাকে সাড়া দিতে হয়েছে। তাকে কোনো ক্ষমতা বা শক্তির বলে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে তো আমাকেও একদিন চলে যেতে হবে। সাড়া দিতে হবে মৃত্যুর ডাকে।

তারপর তিনি নিজেকে সম্বোধন করে বলেন-হে হাসান! তুমি নিজেকে নিয়ে একটু ভাবো। চিন্তা করো। তুমি তো এক সময় কিছুই ছিলে না। ছিল না তোমার কোনো অস্তিত্ব। তারপর আল্লাহ পাক তোমাকে অস্তিত্ব দিলেন একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মায়ের পেটে রেখে দুনিয়ায় পাঠালেন। হে হাসান দুনিয়াতে এসে দুনিয়ার আলো-বাতাস আর সুস্বাদু খানা-পিনা খেয়ে তুমি বড় হলে। এখন তুমি পূর্ণ যুবক। তোমার গায়ে এখন প্রচুর শক্তি আছে। তুমি এখন যা ইচ্ছে তা-ই করতে পারো। ইচ্ছে করলে  এতদিনে তুমি  পরমপ্রিয় মাওলাকে রাযী-খুশী করতে পারো। পারতে তাকে একান্ত আপন করে নিতে। কিন্তু দুনিয়ার পিছনে পড়ে তুমি তা কর নি। তাকে বন্ধু বানানোর জন্য কোনো ফিকির কর নি। তাঁর প্রিয়পাত্র হওয়ার জন্য কোনো চেষ্টা চালাওনি। হে হাসান! তবে কি তোমাকে মরতে হবে না। তুমি কি মৃত্যুর কথা একদম ভুলে গেছো? তুমি কি ভুলে গেছ যে, তোমাকে একদিন হাশরের ময়দানে কোটি কোটি মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে গোটা জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে? হে হাসান! তুমি যদি তোমার জীবনকে এখনই সুন্দর করে গড়ে না তোল, আল্লাহর বিধি-বিধান মোতাবেক যদি জীবনকে পরিচালিত না করো, রাসূলের তরীকা অনুযায়ী না চলো, তাহলে কেয়ামতের দিন খোদার সামনে দণ্ডায়মান হয়ে কী জবাব দিবে তুমি? তখন তো তোমার আফসোস করা ছাড়া আর কোনো কাজে  আসবে না। সুতরাং যা করার এখনি করে নাও। এখনই  তুমি  প্রতিজ্ঞা করে নাও যে, আমি আর আমার জীবনকে নিজের মর্জি মত পরিচালিত করব না। বরং  আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরীকা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করব। তাদের ইচ্ছার বাইরে একটি কাজও করব না। তারা যা করতে বলেছেন, কেবল তা-ই  করব।  আর তারা যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকবো। হে হাসান! পরকালের সম্বল তৈরি করার এখনই উপযুক্ত সময়। তুমি সাবধান হয়ে যাও। হুঁশিয়ার হয়ে যাও। এখনো সময় আছে। অতীতের সকল  গোনাহের জন্য খাঁটি দিলে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো।

সেদিনের পর সত্যি সত্যি হযরত হাসান বসরী (রহঃ) খালেছ তাওবা করে নিজেকে সঁপে দিলেন আল্লাহর পথে। বদলে ফেললেন-তার জীবনের গতিধারা। সুতরাং সেদিন থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন জীবন। শুরু  হয় জীবনের সফল অগ্রযাত্রা। অবশেষে তিনি যে একজন  জগদ্বিখ্যাত অলী হয়েছেন তা সকলেরই জানা।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা! হযরত হাসান বসরী রহঃ মৃত্যুর কথা চিন্তা করে যেমনিভাবে স্বীয় জীবনধারা পরিবর্তন করে ফেলেছিলেন, চলে এসেছিলেন-সত্য-সুন্দরের পথে, নিজকে সঁপে দিয়েছিলেন আল্লাহর পথে, আমরাও কি তা  পারি না? পারি না অতীতের সমস্ত ভুলের কথা স্মরণ করে কেদে কেদে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ভবিষ্যত জীবনকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে? পারি না আজই এবং এ মুহূর্তেই এ প্রতিজ্ঞা করতে-হে আল্লাহ! আমি আর মনমত আমার জীবন চালাব না। মনে যা চায় তাই করব না। বরং তোমার ইচ্ছা ও বিধান অনুযায়ীই আমার জীবন পরিচালনা করব। তোমার প্রিয় রাসূল আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি সুন্নতকে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করব।

হ্যাঁ আমরা পারি। কারণ এটা কোনোই কঠিন কাজ নয়। বিশ্বাস করুণ, আপনারা যদি হিম্মত করে নিজের জীবনকে বদলে ফেলার জন্য  চেষ্টা করেন, সেই সাথে আল্লাহর কাছে দোয়াও করেন, তাহলে দেখবেন, আপনারা এরূপভাবে বদলে যাবেন, মনের মধ্যে এমন এক প্রশান্তি অনুভব করবেন, যা দেখে সত্যিই বিস্মিত হবেন। আপনারা তখন আশ্চর্য হয়ে বলবেন, আমি আগে কী ছিলাম, কত নোংরা ছিল আমার জীবন, কত পেরেশানী আর অস্থিরতায় কাটত আমার সময়, আর এখন? এখন তো আমি নব জীবন লাভ করেছি। সফলতার সুউচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছি। শান্তির সুবাতাস বইছে আমার হৃদয়-কোণে। আহ এত মজা আর শান্তি এতদিন ছিল কোথায়?

আপনি পড়ছেনঃ আদর্শ যুবক যুবতি ১ থেকে। 

By Rubel

Creative writer, editor & founder at Amar Bangla Post. if you do like my write article, than share my post, and follow me at Facebook, Twitter, Youtube and another social profile.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!