কল্যাণকামী স্বামী (একজন ভালো স্বামীর গল্প)

একজন ভালো ও কল্যাণকামী স্বামীর আচরণ কেমন হয়? চলুন আজ আমরা একজন ভালো ও কল্যাণকামী স্বামীর গল্প পড়ি যিনি তার স্ত্রীর শত দুর্ব্যবহার ও কষ্টদায়ক আচরণ সহ্য করেছেন, কিন্তু স্ত্রীর অকল্যাণ চাননি। 

এক কর্কশ স্ত্রীর কল্যাণকামী স্বামী (ভালো স্বামীর গল্প)

এক আল্লাহর ওলী। আল্লাহর প্রিয়বান্দা। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ছিল খুবই খারাপ। স্বামীকে সে সীমাহীন কষ্ট দিত। উঠতে বসতে গালিগালাজ করত। আর স্বামীকে খেদমত? সে তো বহু দূরের কথা!

ভালো স্বামীর গল্প।  কল্যাণকামী স্বামী
একজন ভালো স্বামী ও স্ত্রী একে-অপরকে সম্মান করে। Photo by David Tumpal from Pexels.

দিন দিন বেড়েই চলছে স্ত্রীর দুর্ব্যবহার। পান থেকে চুন খসতেই সে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। মারমুখী হয়ে এগিয়ে আসে স্বামীর দিকে। আওয়াজ উঁচু হয়। কণ্ঠ কঠিন হয়। আর আল্লাহর ওলী? তিনি ধৈর্যের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। সবর করতে থাকেন-প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত।

গলার স্বর সুউচ্চ হওয়ার স্ত্রীর বদমেজাজ ও দুর্ব্যবহারের কথা আশে-পাশের লোকজন জেনে যায়। তারা আফসোস করে বলে-আহা! কেমন লোকের ঘরে কেমন স্ত্রী!!

কিন্তু আফসোস আর আক্ষেপ কতদিন করা যায়? কতদিন বরদাশত করা যায় একজন ভালো (ভালো স্বামীর) মানুষের সাথে এরূপ অত্যাচার-অবিচার? তাই একদিন হযরতের হিতাকাঙ্খী একত্রিত হয়ে হযরতের দরবারে এল। বলল-হুজুর! আমাদের দৃষ্টিতে এরূপ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিদায় করে দেওয়াই ভালো।

ওদের কথা শুনে হুজুর বললেন–হ্যাঁ, তালাক দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে। ইচ্ছে করলে আজই তাকে তালাক দিয়ে বিদায় করে দিতে পারি। কিন্তু তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে, তালাক দেওয়ার পর পরিনাম কী দাঁড়াবে? কি অবস্থা হবে ওর অথবা ওর নতুন স্বামীর? শোনো, তালাক দেওয়ার পর যদি অন্য কোনো লোক তাকে বিয়ে না করে তখন তো সে নিজেই কষ্ট ভোগ করবে। আর যদি কোনো লোক তাকে বিয়ে করে তাহলে তো ঐ লোককে আমার মতোই কষ্ট ভোগ করতে হবে। সুতরাং তাঁর চেয়ে এটাই কি ভালো হয় না যে, অন্য মুসলমান ভাইকে কষ্ট না দিয়ে আমি নিজেই কষ্ট স্বীকার করতে থাকি?

মনে রাখবে-আমি জীবিত থাকতে আমার কোনো মুসলিম ভাই আমারই কোনো কাজের কারণে কষ্ট পাবে–এ আমি কখনোই চাই না। কখনো এটা হতেও পারে না। তাই ও আমার কাছেই থাকুক। যত পারে আমাকেই কষ্ট দিক। আমি এর প্রতিদান আল্লাহর কাছ থেকে নিব। [পছন্দিদাহ ওয়াকিয়াত]

নোটঃ একজন ভালো স্বামীর চরিত্র গল্পের মতোই হওয়া উচিৎ। যিনি তার স্ত্রীর খারাপ আচরণকে স্বীয় ভালো আচরণের দ্বারা আকৃষ্ট করবেন, স্ত্রীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবেন।  

এরপর পড়ুনঃ কে এই দরদী বন্ধু (শিক্ষণীয় ঘটনা)

লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম (আদর্শ স্বামী স্ত্রী ১

একজন স্বামী তার স্ত্রীর খারাপ আচরণ সহ্য করে সংসার করেছেন, কিন্তু কখনো তালাক দেননি। ধৈর্য, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের মাধ্যমে তিনি সংসারকে টিকিয়ে রেখেছেন।

“সহনশীলতা আর ভালোবাসাই সংসারের আসল শক্তি।”

আরও 💞 স্বামী-স্ত্রীর গল্প!

প্রিয় রিডার্স, একজন ভালো স্বামীর গল্প টি আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা আমাদেরকে জানাতে কমেন্ট করুন। কল্যাণকামী স্বামী গল্প টি পড়ে ভালো লাগলে লেখককে ধন্যবাদ দিতে ভুল করবেন না। 

For more updates, please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

Leave a Comment

Discover more from Amar Bangla Post

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading