মহিলা সাহাবীদের নাম বাংলা অর্থসহ

মহিলা সাহাবীদের নাম ও নামের অর্থ খুবই ভালো এবং আধ্যাতিক। মহিলা সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। যেমন মহান ব্যক্তিত্ব অধিকারী হযরত খাদিজা (রাযিঃ), হযরত আয়েশা (রাযিঃ) যিনি জ্ঞান ও হাদীস বর্ণনায় অগ্রগণ্য ছিলেন। এই সকল নারী সাহাবীদের মতো আরও অসংখ্য নারী সাহাবীগণ রয়েছেন যাদের নামের অর্থ খুবই ভালো এবং ইতিবাচক পরিচয় বহন করে। চলুন আজকে আমরা সেইসকল মুসলিম নারী সাহাবীদের নাম জেনে রাখি। 

৭৯ জন মহিলা সাহাবীদের নাম ও নামের তালিকা!

মহিলা সাহাবীদের নাম ও নামের অর্থ।
ছবি : হাস্যোউজ্জ্বল মা ও মেয়ে। মহিলা সাহাবীদের নাম, অর্থ ও পরিচিতি পাতার জন্য প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত। উৎস pixabay.com থেকে।

মহিলা সাহাবীর নাম ও তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।  

হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবদ্দশায় যে সকল মহিলা ইসলাম গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে স্ব-চোখে দেখেছেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করেছেন তারাই হলেন মহিলা সাহাবী। তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সৌভাগ্যবান নারী।

পূর্বেই বলা হয়েছে, মহিলারা তাঁদের নামের শেষে পিতার নাম যোগ করে পরিচয় দিত, পিতার নামের পরিবর্তে স্বামীর নাম যোগ করা কোরআন ও হাদীসের প্রত্যক্ষ নাফরমানী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা ন্যায় সঙ্গত মনে করেন তা না গ্রহণ করে পশ্চিমা বিজাতীয় অনুকরণে বিবাহিতা নারীর নামের শেষে স্বামীর নাম যুক্ত করা ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী।

আরও পড়ুন : ৩১৩ বদরী পুরুষ সাহাবীদের নাম

পরুষ সাহাবীদের মতো মহিলা সাহাবীরাও তাঁদের নামের শেষে নীসব অর্থাৎ পিতার নাম যুক্ত করে পরিচয় দিতেন। যেমন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ, আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক ইত্যাদি। মুহাম্মদ (সা) এর মতো জগত বরণ্য স্বামীর নামও তাদের নামের পরে যুক্ত করেননি। কিন্তু এযুগের মুসলিম নারীগণ তাঁদের বিবাহোত্তর জীবনে নিজেদের নামের পরে স্বামীর নাম যোগ করেন অবলীলাক্রমে এ প্রথা বা স্টাইল কুরআন ও সুন্নার বিপরীত। আল্লাহ তা’আলা চিরন্তন বাণীকে অস্বীকার করে যারা অন্যের অনুসরণ করে কিয়ামতের দিনে তাঁদের দলেই তাঁরা ঠাই পাবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাদিস রয়েছে। ইবনে উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করে সে তাদেরই দলভুক্ত হবে।’ আবু দাউদ। (কিতাবিল লিবছ)

সুতরাং যারা খাদীজাতুল কুবরা, আয়েশা সিদ্দীকা, ফাতেমাতুজ যোহরা এদের দলে শামীল হতে চায় তাঁরা এদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। মুসলিম মা-বোন ও ভাইদের কাছে ইসলামের চির সুন্দর ও সত্য এবং কল্যাণের বাণী পৌঁছে দিয়ে সে অনুযায়ী আমল করার আহ্বান জানাই নিম্নে কয়েকজন সৌভাগ্যবান মহিলা সাহাবীর নাম উল্লেখ করা হলো, আমাদের মুসলিম কন্যাদের নাম মহিলা সাহাবীদের নামে নামকরণের তৌফিক আল্লাহ সবাইকে দান করুন। আমীন!

ক্রঃপূর্ণ নামসংক্ষিপ্ত নামঅর্থ / পরিচিতি
০১আরওয়া বিনতে আব্দুল মুত্তালাব (রাঃ)আরওয়ানবীজির ফুফু (আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা)। অর্থ নিয়ে সোর্সে মতভেদ থাকায় পরিচিতিই দেওয়া হলো।
০২আসমা বিনতে আবী বকর সিদ্দীকা (রাঃ)আসমাঅর্থ: সম্মানিতা, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্না। “যাতুন নিতাকাইন” উপাধিপ্রাপ্ত, হিজরতে সাহায্যকারী।
০৩উমাইয়া বিনতে আন-নাজ্জার আনসারী (রাঃ)উমাইয়াআনসারী মহিলা সাহাবী। নামটি ঐতিহাসিক বংশনাম হওয়ায় নির্দিষ্ট অর্থ নেই।
০৪উনাইসাহ বিনতে আদী (রাঃ)উনাইসাহঅর্থ অনিশ্চিত — আনসারী সাহাবিয়া।
০৫উম্মে আইমন (রাঃ)উম্মে আইমনকুনিয়া (“আইমনের মা”) । প্রকৃত নাম বারাকা বিনতে ছালাবা — নবীজির শৈশবের সেবিকা ও পালনকারী।
০৬উম্মে ফজল (রাঃ)উম্মে ফজলকুনিয়া। প্রকৃত নাম লুবাবা বিনতে হারিছ (#৭২ দ্রষ্টব্য, একই ব্যক্তি), হযরত আব্বাস (রাঃ)-এর স্ত্রী, খাদিজা (রাঃ)-এর পর দ্বিতীয় নারী মুসলিম।
০৭উম্মে রুমান (রাঃ)উম্মে রুমানকুনিয়া। হযরত আয়েশা ও আসমা (রাঃ)-এর মা, আবু বকর (রাঃ)-এর স্ত্রী।
০৮উম্মে সুলাইম (রাঃ)উম্মে সুলাইমকুনিয়া। হযরত আনাস (রাঃ)-এর মা, বুদ্ধিমতী ও সাহসী সাহাবিয়া হিসেবে প্রসিদ্ধ।
০৯উম্মে উমারা (রাঃ)উম্মে উমারাকুনিয়া। প্রকৃত নাম নুসাইবা বিনতে কা’ব — উহুদ যুদ্ধে নবীজিকে রক্ষায় লড়েছিলেন।
১০উম্মে আতিয়া (রাঃ)উম্মে আতিয়াকুনিয়া। হাদিস বর্ণনাকারী, সেবামূলক কাজে পারদর্শী সাহাবিয়া।
১১উম্মে হানী (রাঃ)উম্মে হানীকুনিয়া, প্রকৃত নাম ফাখেতা বিনতে আবী তালেব (#৬৪ দ্রষ্টব্য, একই ব্যক্তি) — হযরত আলী (রাঃ)-এর বোন।
১২বারীরাহ (মাওলাতে আয়েশা) (রাঃ)বারীরাহঅর্থ: নেককার, পুণ্যবতী। আয়েশা (রাঃ)-এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাসী।
১৩বুসরা বিনতে সাফওয়ান কুরাইশী (রাঃ)বুসরাঅর্থ: সুসংবাদ।
১৪তামাযুর বিনতে ‘আমের (রাঃ)তামাযুরঅর্থ অনিশ্চিত — আনসারী সাহাবিয়া।
১৫তামীমা বিনতে ওহহাব (রাঃ)তামীমাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
১৬সুবাইতা বিনতে যাহাক (রাঃ)সুবাইতাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
১৭জামীলা বিনতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)জামীলাঅর্থ: সুন্দরী। হযরত উমর (রাঃ)-এর কন্যা।
১৮জুমানা বিনতে আবী তালেব (রাঃ)জুমানাঅর্থ: মুক্তা। হযরত আলী (রাঃ)-এর বোন।
১৯জুওয়াইরিয়া (উম্মুল মু’মেনীন) (রাঃ)জুওয়াইরিয়াঅর্থ: ছোট, কমনীয় নারী। বনু মুস্তালিকের বন্দী ছিলেন, বিয়ের পর গোত্র মুক্ত হয়।
২০হাবীবা বিনতে আবী সুফিয়ান (রাঃ)হাবীবাঅর্থ: প্রিয়তমা (উম্মে হাবিবা নামেও পরিচিত, #৩৯ দ্রষ্টব্য)।
২১হাফসা (উম্মুল মু’মেনীন) (রাঃ)হাফসাঅর্থ: তরুণী সিংহী। উমর (রাঃ)-এর কন্যা, কুরআনের প্রথম সংকলন সংরক্ষণকারী।
২২হাকীমা বিনতে গাইলান (রাঃ)হাকীমাঅর্থ: জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবতী।
২৩হালিমাতুস সা’দিয়া (রাঃ)হালীমাঅর্থ: ধৈর্যশীলা, সহনশীলা। নবীজির দুধ-মা।
২৪হামামা (মাওলাতে আবী বকর) (রাঃ)হামামাঅর্থ: ঘুঘু পাখি।
২৫হামনা বিনতে জাহাশ (রাঃ)হামনাঅর্থ অনিশ্চিত — জয়নব বিনতে জাহশ (রাঃ)-এর বোন।
২৬হাওয়া বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ)হাওয়াঅর্থ: জীবন্ত, প্রাণবন্ত।
২৭খালেদা বিনতে আসওয়াদ (রাঃ)খালেদাঅর্থ: চিরস্থায়ী, অমর।
২৮খাদিজাতুল কোবরা (উম্মুল মু’মেনীন) (রাঃ)খাদীজাঅর্থ: সম্মানিতা, মহীয়সী নারী। প্রথম মুসলিম নারী, নবীজির প্রথম স্ত্রী।
২৯খুযায়মা বিনতে জাহাম (রাঃ)খুযায়মাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৩০খালীদাহ বিনতে কা’নাব (রাঃ)খালীদাহঅর্থ: চিরস্থায়ী।
৩১খানসায়া বিনতে খাদ্দাম আনসারী (রাঃ)খানসায়াঅর্থ অনিশ্চিত — আনসারী সাহাবিয়া।
৩২খাওলা বিনতে আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)খাওলাঅর্থ: হরিণশাবক।
৩৩দুজাজা বিনতে আসমা বিন সালত (রাঃ)দুজাজাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৩৪দুররা বিনতে আবী লাহাব (রাঃ)দুররাঅর্থ: মুক্তা।
৩৫রবীআ’হ বিনতে নযর আনসারিয়াহ (রাঃ)রবীআহঅর্থ: বসন্তকাল।
৩৬রযীনা (রাসূলুল্লাহর খাদেমা) (রাঃ)রযীনাঅর্থ অনিশ্চিত — নবীজির সেবিকা।
৩৭রূফাইদা আনসারিয়া আসলামীয়া (রাঃ)রূফাইদাইসলামের ইতিহাসে প্রথম নার্স/সেবিকা হিসেবে পরিচিত, যুদ্ধাহতদের সেবা করতেন।
৩৮রুকাইয়া বিনতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)রুকাইয়াঅর্থ: উন্নতিশীলা। নবীজির কন্যা, উসমান (রাঃ)-এর স্ত্রী।
৩৯রমলা বিনতে আবী সুফিয়ান (রাঃ)রমলাউম্মে হাবিবা নামে পরিচিত (#২০ দ্রষ্টব্য)। হাবশায় হিজরতকারী, পরে নবীজির স্ত্রী।
৪০রুমাইছা বিনতে উমর (রাঃ)রূমাইছাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৪১রায়হানা (রাসূলুল্লাহর স্ত্রী) (রাঃ)রায়হানাঅর্থ: সুগন্ধি ফুল/তুলসী।
৪২রায়তা বিনতে হারেছ (রাঃ)রায়তাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৪৩সাবীয়া বিনতে হারেছ (রাঃ)সাবীয়াঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৪৪সাখবারা বিনতে তামীম (রাঃ)সাখবারাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৪৫সুখাইলা বিনতে উবাইদা (রাঃ)সুখাইলাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৪৬সায়ীদা বিনতে হারিছ (রাঃ)সায়ীদাঅর্থ: সৌভাগ্যবতী।
৪৭সালামা বিনতে মা’কাল আনসারীয় (রাঃ)সালামাঅর্থ: শান্তি, নিরাপত্তা।
৪৮সামুরা বিনতে কাইস আনসারীয়া (রাঃ)সামরাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৪৯সালমা (রাসূলুল্লাহর খাদেমা) (রাঃ)সালমাঅর্থ: নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ।
৫০সুমাইয়া (আম্মার বিন ইয়াসিরের মা) (রাঃ)সুমাইয়াইসলামের প্রথম শহীদ (নারী)। অত্যাচার সহ্য করে ইমানে অবিচল ছিলেন।
৫১সানা বিনতে আসমা বিনতে সালত (রাঃ)সানাঅর্থ: প্রশংসা, স্তুতি।
৫২সাহলা বিনতে সাহল (রাঃ)সাহলাঅর্থ: সহজ, কোমল।
৫৩সীরীন (মারিয়া কিবতীয়ার বোন) (রাঃ)সীরীননবীজির স্ত্রী মারিয়া কিবতীয়া (রাঃ)-এর বোন।
৫৪শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রাঃ)শিফাঅর্থ: আরোগ্য, সুস্থতা। শিক্ষিতা সাহাবিয়া, উমর (রাঃ) সম্মান করতেন।
৫৫শাফা বিনতে আওফ (রাঃ)শাফাঅর্থ: আরোগ্য।
৫৬শারমায়া সা’দিয়া (নবীজির দুধ বোন) (রাঃ)শায়মারাহালিমা সা’দিয়ার কন্যা, নবীজির দুধ বোন।
৫৭সাফীয়া (উম্মুল মু’মেনীন) (রাঃ)সাফীয়াঅর্থ: বিশুদ্ধ, মনোনীত। বনু নাদির থেকে আগত, নবীজির স্ত্রী।
৫৮সুমাইতা লাইছা (রাঃ)সুমাইতাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৫৯যুবায়া’ বিনতে হারেছা (রাঃ)যুবায়াঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৬০আতেকা বিনতে আব্দুল মুত্তালেব (রাঃ)আতেকাঅর্থ: নিষ্কলুষা, বিশুদ্ধা। নবীজির ফুফু।
৬১আলীয়াহ বিনতে খবইয়ান (রাঃ)আলীয়াহঅর্থ: উচ্চ মর্যাদাসম্পন্না।
৬২ইযযা বিনতে আবী সুফিয়ান (রাঃ)ইযযাঅর্থ: সম্মান, মর্যাদা।
৬৩উমায়রা বিনতে সাহল আনসারীয়া (রাঃ)উমায়রাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৬৪ফাখেতা (উম্মেহানী) বিনতে আবী তালেব (রাঃ)ফাখেতাহযরত আলী (রাঃ)-এর বোন, উম্মে হানী নামে অধিক পরিচিত (#১১ দ্রষ্টব্য, একই ব্যক্তি)।
৬৫ফাযেলা আনসারীয়া (রাঃ)ফাযেলাঅর্থ: গুণবতী, শ্রেষ্ঠা।
৬৬ফারেয়া বিনতে আব্দুর রহমান (রাঃ)ফারেয়াঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৬৭ফাতেমা বিনতে মালেক (রাঃ)ফাতেমাঅর্থ: উজ্জ্বলা, পবিত্রা।
৬৮ফাতেমা বিনতে খাত্তাব (রাঃ)ফাতেমাঅর্থ: উজ্জ্বলা। উমর (রাঃ)-এর বোন, তাঁর ইসলাম গ্রহণের উপলক্ষ।
৬৯ফাতিমা বিনতে উমাইস (রাঃ)ফাতিমাঅর্থ: উজ্জ্বলা। একাধিক সাহাবীর স্ত্রী ছিলেন।
৭০আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ)আসমাঅর্থ: সম্মানিতা। হাবশায় হিজরতকারী।
৭১কাবীরা বিনতে সুফিয়ান (রাঃ)কাবীরাঅর্থ: মহীয়সী, শ্রেষ্ঠা।
৭২লুবাবা বিনতে হারেছ (রাঃ)লুবাবাঅর্থ: শ্রেষ্ঠাংশ, নির্যাস। উম্মে ফজল নামে পরিচিত (#৬ দ্রষ্টব্য, একই ব্যক্তি)।
৭৩লায়লা বিনতে হাকীম (রাঃ)লায়লাঅর্থ: রাত্রি।
৭৪মরিয়ম বিনতে আইয়াস আনসারী (রাঃ)মরিয়মঅর্থ: উচ্চ মর্যাদাসম্পন্না, আরাধ্য।
৭৫মালীকা বিনতে উয়াইমার (রাঃ)মালিকাঅর্থ: রানী, अधिकारিণী।
৭৬নাফীসা বিনতে উমাইয়া (রাঃ)নাফীসাঅর্থ: মূল্যবান, বহুমূল্য।
৭৭নাওলা বিনতে আসলাম (রাঃ)নাওলাঅর্থ: উপহার, দান।
৭৮হুযাইলা বিনতে হারেছ (রাঃ)হুযাইলাঅর্থ অনিশ্চিত — পরিচিতি সংরক্ষিত।
৭৯হিন্দ/হিন্দা বিনতেউৎবা (রাঃ)হিন্দাউহুদ যুদ্ধে প্রথমে বিরোধিতা করলেও পরে ইসলাম গ্রহণ করে অনুতপ্ত হন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আপনারা যেসকল সাধারণ প্রশ্ন আমাদেরকে করে থাকেন, সেসকল সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নীচে উল্লেখ করা হলো:

মহিলা সাহাবী কাকে বলা হয়?

যেসব নারী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে ঈমান অবস্থায় প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদেরকে মহিলা সাহাবী বা সাহাবিয়া বলা হয়। ইতিহাসে হাজারেরও বেশি নারী সাহাবীর নাম পাওয়া যায়। সেসকল নারী সাহাবীদের মধ্যে থেকে এখানে ৭৯ জনের নামের অর্থ ও পরিচয় উল্লেখ করেছি। পরবর্তীতে আরও নারী সাহাবীদের নাম ও নামের অর্থসহ তাদের পরিচয় যুক্ত করবো ইনশা আল্লাহ।

প্রথম মহিলা সাহাবী কে ছিলেন?

ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম নারী ছিলেন হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ), যিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রথম স্ত্রী ছিলেন। নবুওয়াত লাভের সাথে সাথেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

সাহাবীদের নামের আগে-পরে “বিনতে” শব্দ কেন ব্যবহার করা হয়?

আরবি রীতিতে “বিনতে” শব্দের অর্থ “কন্যা”। কারো নামের সাথে “বিনতে (পিতার নাম)” যোগ করে তাঁর পরিচয় স্পষ্ট করা হতো, যেমন “ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ” অর্থ “মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা”। এটি ছিল সে যুগের প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়দানের রীতি।

সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী মহিলা সাহাবী কে?

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চায় তাঁর অবদান অপরিসীম।

আরও দেখুন: নবীজির স্ত্রীদের নাম অর্থসহ তালিকা

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নারী শহীদ কে ছিলেন?

হযরত সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রাঃ) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃত। তিনি অত্যাচারের মুখেও ঈমান থেকে বিচ্যুত হননি।

মহানবী (সাঃ)-এর কন্যাদের নাম কী কী ছিল?

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর চার কন্যা ছিলেন — হযরত জয়নব, হযরত রুকাইয়া, হযরত উম্মে কুলসুম ও হযরত ফাতিমা (রাঃ)। এদের মধ্যে হযরত ফাতিমা (রাঃ) সবচেয়ে ছোট এবং জান্নাতি নারীদের নেত্রী হিসেবে পরিচিত।

আরও জানুন: নবীজির ছেলেদের নাম ও মেয়েদের নাম অর্থসহ

শেষ কথা!

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, আমাদের প্রকাশিত মহিলা সাহাবীদের নাম ও নামের অর্থ গুলো পড়ে ভালো লাগলে তা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, আপনার কোনো প্রশ্ন কিংবা মতামত জানাতে কমেন্ট করুন। আমি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করিবো ইনশা আল্লাহ! 

উৎস: সোনামণিদের নামের বই, ইসলামিক গ্রন্থ ও বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইট।

Please join our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin, Tumblr And Youtube channel. last update 7th July 2026.

35 thoughts on “মহিলা সাহাবীদের নাম বাংলা অর্থসহ”

    • দুঃখিত, এই নামের উত্তর পাওয়া যায়নি। এবং দয়া করে নিশ্চিত হোন যে নামের বানান সঠিক আছে কি না। পাঠকদের মধ্যে যদি কেউ মিযাজুহুম নামের অর্থ জানা থাকে তাহলে অনুগ্রহ করে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। আমরা কৃতজ্ঞ থাকিবো।

      Reply
      • সুবাইতা বিনতে
        এ নামের কোন মহিলা সাহাবী আছে কিনা বলতে পারবেন।
        আর এ নামটা আমার মেয়ের নাম রাখবো।

        Reply
      • মিযাজুহুম, এই শব্দটি কোন একক শব্দ নয়, আরবী ভাষায় এটি একটি যৌগিক শব্দ (মিযাজু-হুম), কিন্তু এটি কোন নাম নয়। (مزاجهم) “মিযুজুহুম” এর অথ হলো ِ”তাদের মিশ্রণ”। এই শব্দদ্বয় দ্বারা কারো নাম রেখে থাকলে পরিবর্তন করাই যথার্থ হবে।

        Reply
        • অসংখ্য ধন্যবাদ সাইফুল্লাহ নোমান ভাইকে, বিষয়টি সুন্দর ও সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য। আশা করি পাঠকেরা উপকৃত হবে।

          Reply
    • প্রিয় তানিয়া, আমরা মৌমি নামের অর্থ সম্পর্কে একটি আর্টিকেল ইতিমধ্যে আমার বাংলা পোস্ট এ প্রকাশ করেছি। মৌমি নামের অর্থ, উৎপত্তি ও ব্যক্তিত্বের সম্পর্কে জানতে এটি পড়ুন।

      Reply
    • প্রিয় ভিজিটর, আমরা মোনফেকা নামের অর্থ, উৎপত্তি ও আচর-প্রকৃতি সম্পর্কে এখনো কিছু জানতে পারেনি। আমরা এটি সম্পর্কে কিছু জানতে পারলে অবশ্যই আপনাকে মেইল করে জানিয়ে দিবো। এজন্য আমরা দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

      Reply
  1. “হুযায়ফা” নামের অর্থ কি ? কারো জানা থাকলে অবশ্যই বলবেন, এতে আমি খুবই উপকৃত হবো

    Reply
  2. লাবিবাহ বিনতে নুরুল ইসলাম
    এ নামের অর্থ কি যানতে চাই
    আমার মেয়ের নাম লাবিবাহ ও আমার নাম নুরুল ইসলাম

    একসাথে মিলিয়ে রাখতে পারবো কি
    লাবিবাহ বিনতে নুরুল ইসলাম

    Reply
  3. তাওরাত শব্দের অর্থ কী? এটা কি নাম হিসেবে রাখা যায়?

    Reply
  4. পারিজা নামের অর্থ জানাবেন।আর এটা নাম হিসেবে কেমন হবে?

    Reply
  5. ‘আসিফা খানম’ নামের সঠিক অর্থ কেউ জেনে থাকলে দয়া করে জানাবেন।ইতোমধ্যে একজন হুজুরের বক্তব্যে ‘আসিফা’ নামটি খুব বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।খুবই চিন্তায় পড়ে গেলাম।

    Reply
  6. সম্মানিত দ্বীনি ভাই আপনাদের কাছে জানতে চাইতেছি রাইসা জান্নাত রেফা নামটা কি টা কি রাখা যাবে কোন মেয়ের দয়া করে জানাবেন।।।।

    Reply
  7. নুসাইবা আয়াত মাহা নামের অর্থ কি? এ নাম টা কি রাখা যায়?

    Reply
    • এখানে তিনটি নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রতিটি নামের অর্থ আলাদা। এখানের নুসাইবা নামের অর্থ হচ্ছে “উপযুক্ত”, “যথাযথ”, “উচ্চ”, “মহিলা”। আরও দেখুন ন দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নামের তালিকা থেকে।
      মাহা নামের অর্থ “অর্ধ চন্দ্র” বা “সুন্দর চোখ”। আয়াত নামের অর্থ “লক্ষণ”, “সংকেত”, “প্রমাণ”, “ধর্মগ্রন্থের আয়াত”। আরও দেখুন আ দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম থেকে। এই তিন শব্দের নামটি রাখা যেতে পারে, কারণ নামগুলির অর্থ খুবই ভালো এবং মেয়েদের জন্য উপযোগী।

      Reply
  8. ধন্যবাদ মহিলা সাহাবীদের নামগুলো জানানোর জন্য। এটি এমনকটি বিষয় ছিল যা আমার হৃদয়ের কাছে।

    Reply
  9. ন স আ দিয়ে মেয়ে বাবুর একটি সুন্দর নাম বলুন

    Reply

Leave a Reply