আপনার জীবন দক্ষতা বাড়াতে আমার বাংলা পোস্ট-এর ৪২তম সূত্রটি পড়ুন।
বছরের পর বছর শত্রুতা চলছে — অথচ একটি কথাই সব মিটিয়ে দিতে পারত। ভুল স্বীকার করে নিন — এটাই সবচেয়ে বড় সাহসের কাজ। আবু যর ও বেলালের ঘটনা থেকে রাসূল (সাঃ) ও সাফিয়ার ঘটনা পর্যন্ত জানুন ক্ষমার অসাধারণ শক্তি।
একটি কথাই সব মিটিয়ে দিতে পারে
অনেক সময় দেখা যায় দু’জনের মধ্যে বছরের পর বছর শত্রুতা চলতে থাকে। কখনো মৃত্যু পর্যন্ত তা বহাল থাকে। অথচ একটি মাত্র কথায় সব মিটমাট হয়ে যেতে পারে। একজন শুধু বললেই হয়, ‘আমি ভুল করেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন।’
কোনো ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন।
জটিল কোনো ঠাট্টা বা মশকারা করেছেন।
কাউকে অনুচিত কোনো কথা বলে ফেলেছেন।
এর প্রতিক্রিয়ার আগুন জ্বলে ওঠার আগেই তা নিভিয়ে ফেলুন। বিনয়ের সঙ্গে বলুন—
‘আমি দুঃখিত, ভুলটা আমিই করেছি। আমাকে মাফ করে দিন।’
এই ছোট্ট কথাটি বলতে পারা অনেক বড় মনের পরিচায়ক।
সাহাবিরা যেভাবে ভুল স্বীকার করতেন
রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবিরা ছিলেন সর্বোচ্চ মানের মানুষ — তবু তারাও ভুল করতেন। পার্থক্য ছিল একটাই — ভুল বুঝতে পারলে তারা মুহূর্তের মধ্যে স্বীকার করে নিতেন। শত্রুতার আগুন জ্বলে ওঠার আগেই নিভিয়ে দিতেন। তাদের হৃদয় ছিল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ — বিদ্বেষ সেখানে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেত না। কিছু ঘটনার উদাহরণ নীচে দেওয়া হলো:
আবু যর ও বেলাল (রাঃ)-এর ঘটনা

একবার আবূ যর (রাঃ) ও বেলাল (রাঃ)-এর মাঝে কোনো বিষয়ে তর্ক হলো। রাসূলের মহান সাহাবি হলেও তারাও তো রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। একপর্যায়ে আবূ যর রাগের বশে বেলালকে বলে বসলেন, ‘কালোর ঘরে কালো!’
বেলাল রাসূলের কাছে গিয়ে অভিযোগ করলেন। মহানবী (সাঃ) আবূ যরকে ডেকে পাঠালেন।
‘তুমি কি তাকে গালি দিয়েছ?’ রাসূল (সা:) তাকে জিজ্ঞেস করলেন।
‘হ্যাঁ’ । আবূ যর বললেন।
মহানবী (সাঃ) আবার জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি তার মায়ের কথা উল্লেখ করে গালি দিয়েছ?’
আবূ যর বললেন, ‘আল্লাহর রাসূল! কেউ কাউকে গালি দিলে তো মা কিংবা বাবার নাম নিয়েই দেয়!’
মহানবী (সাঃ) এবার বললেন—
‘‘আবূ যর! তোমার মধ্যে এখনো জাহেলি যুগের প্রভাব রয়ে গেছে ।’[১]‘ (সহিহ মুসলিম: ৩১৩৯)
এ কথা শুনে আবূ যর (রাঃ) এর চেহারার রং পাল্টে গেল। তিনি বললেন, ‘এই বুড়ো বয়সেও আমার মধ্যে জাহেলি যুগের প্রভাব রয়ে গেছে?!’
মহানবী (সাঃ) বললেন, ‘হ্যাঁ’ ।
এরপর মহানবী (সাঃ) আবূ যরকে তুলনামূলক ছোট ও অধীনস্থদের সঙ্গে আচার আচরণের পদ্ধতি শেখালেন। মহানবী (সাঃ) বললেন, ‘কোনো, তারা তোমাদের ভাই, মহান আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করেছেন । অতএব অধীনস্থ ভাইটির সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে। তুমি যা খাবে, তাকেও তা খাওয়াবে। তুমি যে ধরনের কাপড় পরবে তাকেও সে ধরনের কাপড় পরাবে। সাধ্যাতীত কাজের বোঝা তার ওপর চাপিয়ে দেবে না। কাজ করতে যদি তার কষ্ট হয় তাহলে তুমি নিজে তাকে সাহায্য করবে।’
এরপর আবূ যর কী করলেন? সঙ্গে সঙ্গে বেলালের কাছে ছুটে গেলেন। তার সামনে মাটিতে বসে সবিনয়ে ক্ষমা চাইলেন। তিনি নত হতে নিজের গাল মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন। যেন মাটির সঙ্গে মিশে যাবেন! এরপর বললেন, ‘আপনার পা দিয়ে আমার মুখটা মাড়িয়ে দিন!’
আল্লাহু আকবার ! শত্রুতা ও বিদ্বেষের আগুন প্রজ্জ্বলিত হওয়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলতে সাহাবিদের হৃদয় ও মন কেমন ব্যাকুল ছিল! কখনো কারো সঙ্গে মনোমালিন্য হলে কিছুতেই তাঁরা তা বাড়তে দিতেন না।
আরও পড়ুন: দুশ্চিন্তা ও ঝামেলা এড়িয়ে চলুন — সুখী জীবনের ৪১তম সূত্র
আবু বকর ও ওমর (রাঃ)-এর ঘটনা
আবূ বকর (রাঃ) ওমর (রাঃ) এর সঙ্গে কোনো বিষয়ে কথা বলছিলেন। আবূ বকর (রাঃ)-এর কোনো এক কথায় ওমর অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে মজলিস ছেড়ে চলে গেলেন। এতে আবূ বকর যারপরনাই লজ্জিত হলেন। এ মনোমালিন্য দীর্ঘায়িত হয়ে যায় কিনা এ আশঙ্কায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটলেন ওমরের পেছনে। বললেন, ‘ভাই! ওমর আমার জন্য এস্তেগফার করুন।
ওমর তাঁর দিকে ফিরেও তাকালেন না। তিনি ছুটলেন নিজের বাড়ির দিকে।
আবূ বকর ক্ষমা প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। কিন্তু ওমর বাড়ি ছুটে চলছেন। আবূ বকরও চলতে চলতে ওমরের দুয়ারে হাজির হলেন। কিন্তু ওমর তাঁর মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে ভেতরে চলে গেলেন।
উদ্বিগ্ন হয়ে আবূ বকর ছুটে গেলেন রাসূলের কাছে। দূর থেকেই মহানবী (সাঃ) তাকে দেখলেন। দেখলেন, আবূ বকরের চেহারায় বিষণ্নতার ছাপ। এটা দেখে রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘তোমাদের ভাই আবূ বকরকে বিষণ্ণ লাগছে।’
তিনি এসে নীরবে মহানবী (সা:)-এর কাছে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণ না যেতেই ওমরও সেখানে এসে হাজির হলেন। তিনিও অনুতপ্ত ও লজ্জিত। আসলে তাদের হৃদয় ছিল পরিষ্কার। স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন।
ওমর এসে সালাম দিয়ে রাসূলের মজলিসে বসলেন। তিনি রাসূলকে পুরো ঘটনা বললেন। কীভাবে তিনি আবূ বকর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ও মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। সব তিনি বলে গেলেন।
সব শুনে মহানবী (সা:) ওমরের প্রতি খুব অসন্তুষ্ট হলেন। মহানবী (সাঃ) এর অবস্থা দেখে আবূ বকর বসে থাকতে পারলেন না। তিনি বললেন, ‘হুজুর! ভুল আমিই করেছি। আমিই অন্যায় করেছি। ওমরের কোনো দোষ নেই। তিনি ওমরকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য বারবার তার পক্ষ হতে ওজর পেশ করতে লাগলেন।
রাসূল (সাঃ) এবার মুখ খুললেন। তিনি বললেন—
‘তোমরা কি আমার বন্ধুকে একা ছেড়ে দেবে? তোমরা কি আমার বন্ধুকে একা ছেড়ে দেবে? হে লোকসকল! আমি তোমাদেরকে দ্বীনের পথে আহ্বান করেছিলাম। তোমরা সকলে সেদিন আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিলে। কেবল এ আবূ বকর আমাকে সত্যায়ন করেছিল।’ (সহিহ বুখারী:৪২৭৪)[২]
আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করুন। আপনি তাদের মতো হবেন না, যারা অন্যের সংশোধন করতে গিয়ে নিজেই ভুল করে সংশোধনের উপযুক্ত হয়ে যায়। তারা কলুর বলদের মতো চারপাশে শুধু ঘুরতে থাকে, কিন্তু কোনো সমাধান খুঁজে পায় না।
নেতা হলে আরো সতর্ক থাকুন
আপনি যদি দায়িত্বশীল অবস্থানে কিংবা অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হন, শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের, স্বামী হিসেবে স্ত্রীর কিংবা সন্তানের পিতা বা মাতা হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনার প্রতিটি আচরণ ও নড়াচড়ার প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। সবাই আপনার প্রতিটি কাজ খেয়াল করে দেখছে। তাই সবসময় মার্জিত চলাফেলা করবেন।
খলিফা ওমরের সহনশীলতার দৃষ্টান্ত

খলিফা ওমর (রা:) একবার ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কাপড় বিতরণ করলেন। প্রত্যেকে এক টুকরো করে কাপড় পেল। যাকে শুধু লুঙ্গি কিংবা শুধু চাদর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। জুমার দিন ওমর মিম্বরে উঠে খুতবার শুরুতে বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর (খলিফার) আনুগত্য আবশ্যক করেছেন।’
এ কথা বলতেই শ্রোতাদের একজন দাঁড়িয়ে গেল। সে বললো, “আমরা আপনার কথা শুনব না, আপনার আনুগত্যও করব না!’
খলিফা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন!?
লোকটি বললো, ‘আপনি আমাদেরকে একটি করে কাপড় দিয়েছেন অথচ নিজে নিয়েছেন দুটি। দেখা যাচ্ছে, আপনার চাদর লুঙ্গি দু’টিই নতুন।’
এ কথা শুনে ওমর উপস্থিত মুসল্লিদের দিকে নজর ফেরাতে লাগলেন। মনে হলো, তিনি কাউকে খুঁজছেন। পুত্র আবদুল্লাহর প্রতি নজর পড়তেই বললেন, আবদুল্লাহ! দাঁড়াও। বল, তুমি কি আমাকে জুমার নামায পড়ানোর জন্য তোমার কাপড়টি দাও নি? আবদুল্লাহ বিন ওমর বললেন, ‘হ্যাঁ, দিয়েছি।’
এ কথা শুনে লোকটি শান্ত হয়ে বসে বললো, ‘হ্যাঁ, এখন আমরা আপনার কথা শুনব ও আপনার আনুগত্য করব।’ বিষয়টি এভাবেই সমাধান হয়ে গেল।
প্রিয় পাঠক! খলিফাতুল মুসলিমীনের সামনে লোকটির অভিযোগ করার ধরনটি মোটেও সুন্দর হয়নি এ ব্যাপারে আমিও আপনার সঙ্গে একমত। কিন্তু ওমরের আচরণ লক্ষ্য করুন। সহনশীলতা ও পরম সহিষ্ণুতার কী চমৎকার উদাহরণ তিনি রেখে গেলেন। কত সহজে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেন এবং সকল উত্তেজনা ও সন্দেহের অবসান ঘটালেন।
স্বামীর দ্বৈত আচরণের উদাহরণ
অতএব, আপনি যদি চান যে, আপনার স্ত্রী, আপনার ছেলে-মেয়ে ও আপনার ভাই-বোন সবাই আপনার পরামর্শ মেনে চলুক, তাহলে আপনাকেও কিছু উপদেশ মেনে চলতে হবে।
এক ভদ্রলোক প্রায়ই তার স্ত্রীকে বলত, ‘সন্তানদের প্রতি আরো যত্নবান হও। রান্নাবান্না আরো খেয়াল করে কর।’
কখনো বলত: ‘বেডরুমটা গুছিয়ে রাখার কথা আর কত বার বলব?’ একটা কথা কয়বার বলা যায়?
স্ত্রী খুব কোমলস্বরে উত্তর দিত, চিন্তা করবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনি যেভাবে বলবেন সেভাবেই হবে।’
একদিন স্ত্রী তাকে বললো, ‘কয়দিন পরেই ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষা। আপনি তাদের সাথে থাকলে ভালো হয়। বাইরে বন্ধুদের কাছে দেরি না করে বাসায় একটু তাড়াতাড়ি আসবেন।’
এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে লোকটা রেগে গিয়ে বলতে লাগল, ‘আমি পারব না, আমার সময় নেই। আমি দেরি করে আসব না তাড়াতাড়ি আসব- এটা বলার তুমি কে? আমার ব্যাপারে কখনো নাক গলাবে না!’
একটু চিন্তা করে বলুন, এরপর মহিলাটি কি আর কোনো দিন তার স্বামীর কথা শুনবে? আর কোনো দিন মন থেকে তার কথা মেনে নেবে? সে ব্যক্তিই বুদ্ধিমান, যে মানুষের চোখ বন্ধ করার চেষ্টা না করে নিজের দেয়ালের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। যেন কেউ চোখ গলানোর সুযোগই না পায়।
সন্দেহ আগেই দূর করুন — রাসূল (সাঃ)-এর আদর্শ
কোনো কাজ করলে সেখানে কারো সন্দেহ করার কোনো সুযোগ রাখবেন না। সন্দেহজনক কিছু থাকলে নিজেই তা খোলাসা করে দিন। কারণ একজন মানুষের আচরণ বা কোনো ঘটনার বাহ্যিক দিক দেখে অন্যের মনে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। আর সেই ভুল ধারণা থেকেই কখনো কখনো অযথা সন্দেহ, অপবাদ বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তাই নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখা এবং অন্যের মনে সন্দেহের অবকাশ না রাখাও উত্তম চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাসূল (সাঃ)-এর জীবনেও এর সুন্দর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। দুইটি উদাহরণ নীচে দেওয়া হলো:
সাফিয়া (রাঃ)-এর সাথে রাসূলের ঘটনা

এ ক্ষেত্রে মহানবী (সাঃ) কী করেছেন? চলুন, একটু দেখে আসি। হাদিসের পাতা উল্টিয়ে চলে যাই আজ থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বের মদিনায়। রমজান মাস। অন্ধকার রাত। মসজিদে নববীতে মহানবী (সাঃ) ইতিকাফ করছেন।
উম্মুল মু’মিনীন সাফিয়া (রাঃ) এলেন মহানবী (সাঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করতে। মসজিদে নববীতে তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন । রাসূল (সাঃ)-এর সাথে কথা বললেন। এরপর ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। মহানবী (সাঃ) তাকে এগিয়ে দেয়ার জন্য মসজিদের দরজা পর্যন্ত এলেন। ইতোমধ্যে দুজন আনসারী সাহাবি তাদের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করলেন। মহানবী (সাঃ) এবং উম্মুল মু’মিনীনকে দেখে তারা দ্রুত চলে যেতে লাগলেন।
মহানবী (সাঃ) তাদের ডেকে থামালেন। এরপর বললেন, এ যে আমার সঙ্গে যে মহিলা দেখছ সে আমার স্ত্রী সাফিয়া।’ তারা বললো, ‘সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সঙ্গে বেগানা নারী থাকবে- এমন সন্দেহ তো আমরা কখনো করতে পারি না।
মহানবী (সাঃ) বললেন—
‘কোনো, শয়তান রক্তের প্রবাহের ন্যায় মানুষের শিরা উপশিরায় চলাচল করে। আমার মনে হয়েছে, সে হয়তো তোমাদের অন্তরে কোনো কুধারণা সৃষ্টি করবে। এ জন্য এটা তোমাদেরকে জানিয়ে দিলাম।’ (সহিহ বুখারী:৩০৩৯, সহিহ মুসলিম: 8080) [৩]
আরও পড়ুন: ভুল সম্পর্কে নিশ্চিত হলে উপদেশগ্রহণ সহজ — সুখী জীবনের ৩৭তম সূত্র
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সন্দেহের কোনো সুযোগ তৈরি হওয়ার আগেই বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এবার এর একটি বাস্তব জীবনের উদাহরণ দেখা যাক।
আলবেনিয়ার দাওয়াতি সেন্টারের ঘটনা
একবার আলবেনিয়ায় একটি দাওয়াতি সেন্টারের পক্ষ থেকে বিশেষ এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অনেক দাঈ আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সেন্টারের সভাপতি যথাসময়ে সেমিনারে উপস্থিত হলেন। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, তার মুখে কোনো দাড়ি নেই। আমরা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলাম। এ কী! একজন দাঈ, একটি দাওয়াতি সেন্টারের সভাপতি, অথচ তার নিজের মুখে রাসূলের সুন্নত নেই!
সেমিনারের শুরুতে একটু মুচকি হেসে তিনি বললেন, “প্রিয় উপস্থিতি! আপনারা হয়তো আমার দাড়িহীন চেহারা দেখে অবাক হচ্ছেন। আসলে আমার দাড়ি উঠে না। সেমিনার শেষে আবার আমাকে নিয়ে বক্তব্য দিতে শুরু করবেন না। এ কথা শোনামাত্র আমরা সবাই হেসে উঠলাম। আমাদের সব জল্পনা-কল্পনা দূর হয়ে গেল। এ কথা বলে দেয়ার জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানালাম।
উপসংহার: প্রকৃত সাহসী সে-ই যে ভুল স্বীকার করে
ভুলের উপর অটল থাকা সাহসিকতা নয়। প্রকৃত সাহসী তো সে-ই, যে ভুল স্বীকার করে নেয়। বারবার ভুল করে না।
অতএব, জীবনকে উপভোগ করার ৪২তম সূত্র হলো — ভুল স্বীকার করে নিন। 😊
আপনার কাছের মানুষটিও কি ভুল স্বীকার করতে পারছে না? এই লেখাটি তার সাথে শেয়ার করুন — হয়তো একটি লাইনই তার জীবন বদলে দিতে পারে।
আপনি কি কখনো ভুল স্বীকার করে সম্পর্ক বাঁচিয়েছেন? আপনার অভিজ্ঞতা নিচে কমেন্টে শেয়ার করুন।
এরপর পড়ুন: ভুল সংশোধন করার সঠিক পদ্ধতি_সুখী জীবনের ৪৩তম সুত্র (coming soon)
আপনি পড়ছেন: জীবনকে উপভোগ করুন বই থেকে।
সম্পাদনা ও সংযোজন: সৈয়দ রুবেল উদ্দিন — আমার বাংলা পোস্ট.কম।
তথ্যসূত্র ও যাচাইযোগ্য বহিঃগমণ সংযোগ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৬১a। Sunnah.com-এ হাদিসটি দেখুন ↑
[২] সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৬১। Sunnah.com-এ হাদিসটি দেখুন ↑
[৩] সহিহ বুখারি, হাদিস ২০৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৭৫a। বুখারি ২০৩৫ দেখুন | মুসলিম ২১৭৫a দেখুন ↑