শহীদের মায়ের গল্প – আদর্শ যুবক আদর্শ মা

শহীদের মায়ের গল্প শুনলে হৃদয় কেঁপে ওঠে, চোখে আসে অশ্রু। এমনই এক অবিস্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী বিখ্যাত মুজাহিদ আবু কুদামা শামী রহ.। এক বিধবা মা, যিনি স্বামী ও পরিবারের সবাইকে জিহাদে হারিয়েছেন, তবুও নিজের চুল দিয়ে রশি বানিয়ে এবং একমাত্র ছেলেকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে দেখিয়েছেন প্রকৃত ঈমান ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আসুন জেনে নিই এই হৃদয়স্পর্শী সত্য ঘটনাটি।

আবু কুদামা শামী কে ছিলেন?

আবু কুদামা শামী । প্রসিদ্ধ ব্যক্তি। মদীনা মুনাওরায় বসবাস করেন । সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। ছোট-বড় সবাইকে ভালোবাসেন । সততা আর সত্যবাদিতা তার চরিত্রের অন্যতম ভূষণ।

সত্যনিষ্ঠ এ মানুষটির হৃদয়ে সর্বদা জাগরিত থাকে জেহাদের প্রচণ্ড স্পৃহা। আল্লাহর জমীনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার এক দুর্বার আকাঙ্ক্ষা সারাক্ষণ বিরাজ করে তার হৃদয়-মনে। তাইতো তাকে বছরের অধিকাংশ সময় কাফের-গোষ্ঠির বিরুদ্ধে যুদ্ধ-জিহাদে লিপ্ত থাকতে দেখা যায়।

একদিনের ঘটনা। মসজিদে নববীতে বসে কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলছিলেন তিনি। কথা হচ্ছিল জেহাদ নিয়ে। জেহাদের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য নিয়ে। বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলার পর এক পর্যায়ে একজন বলল, হযরত! জিহাদের ময়দানে আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো বিস্ময়কর ঘটনা শোনাবেন কি ?

শোনো তাহলে, বলে তিনি বলতে লাগলেন-

রাক্কায় এক বিধবা মায়ের সাথে সাক্ষাৎ!

একদা আমি যুদ্ধের প্রয়োজনে একটি উট ক্রয় করার জন্য রাক্কা নামক স্থানে যাই । সেখানে অবস্থানকালে হঠাৎ এক মহিলা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে, হে আবু কুদামা ! আমি শুনতে পেয়েছি, আপনি নাকি জিহাদের বক্তৃতা করেন এবং লোকদেরকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন । শুনুন! আমি একজন বিধবা মহিলা । আমার পুরো খান্দান জিহাদে শহীদ হয়েছে । শহীদ হয়েছেন আমার প্রাণপ্রিয় স্বামীও । বর্তমানে আমার দু’টি ছেলে-মেয়ে ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউ নেই। ছেলেটি এখন যুবক বয়সে উপনীত হয়েছে। মেয়েটির বয়স দশ বছর।

ভাইজান! আমার উপর জিহাদ ফরয হলে আমি নিজেই ছেলেসহ জিহাদে চলে যেতাম। কিন্তু আমার উপর জিহাদ ফরয নয় বিধায় যেতে পারছি না। তবে আল্লাহ পাক আমাকে অনেক লম্বা চুল দিয়েছেন। আমি এ চুলগুলো দিয়ে একটি রশি পাকিয়ে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। চুলগুলোর সাথে মাটি মিশিয়ে নিয়েছি, যাতে পর্দার খেলাফ না হয়। আপনি রশিটি জিহাদের যে কোনো কাজে ব্যবহার করবেন। যদি আপনার প্রয়োজন না হয়, তাহলে এমন কোনো মুজাহিদের হাতে উহা পৌঁছে দিবেন, যার রশির প্রয়োজন রয়েছে। এই আমল দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো, আমি চাই, যুদ্ধের ময়দানের ধূলোবালি আমার চুলগুলোতে লাগুক। যেন হাশরের ময়দানে আল্লাহর দরবারে বলতে পারি, হে আল্লাহ! আমি তোমার দীনের জন্য আমার প্রিয় কেশগুচ্ছ উৎসর্গ করেছি!

চুলের রশি: এক মায়ের অনন্য কুরবানী

হে আবু কুদামা! আমার ছেলেটি সুন্দর-সুদর্শন। সেই সাথে পবিত্র কুরআনের হাফেজ। ঘোরসওয়ারীতে খুবই দক্ষ। তীরন্দাজীতে পারদর্শী দিনে রোজা রাখে। রাতভর তাহাজ্জুদ পড়ে। তার বয়স এখন পনের। সে এখন বাইরে গেছে। তাকেও আমি জিহাদের উদ্দেশে আপনার সাথে দিয়ে দিতে চাই। আমি দীন ইসলামের ইজ্জত ও গৌরবের দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে এ সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না!

আবু কুদামা বলেন, কথা শেষ করে মহিলা চলে গেল। আমি দীর্ঘসময় যাবত তার ছেলের অপেক্ষায় সেখানে অবস্থান করলাম। কিন্তু সে ফিরে এল না। তাই অবশেষে মহিলার দেওয়া চুলের রশিটি নিয়েই আমাকে ফিরতে হলো সেখান থেকে। চলে যাওয়ার সময় মহিলা বলেছিল, আপনি আমার সামনেই এই রশিটিকে আপনার মালামালের সাথে হিফাযত করে রেখে দিন, যাতে আমার আত্মা শান্তি পায়! আমি তার অনুরোধ রক্ষা করলাম। তারপর নিজ সাথীদের নিয়ে রাক্কা থেকে বের হয়ে এলাম।

যুদ্ধের ময়দানে নওজোয়ানের আগমন!

অনেকক্ষণ চলার পর হঠাৎ পেছন দিক থেকে এক অশ্বারোহীর বিকট চিৎকার শুনতে পেলাম। সে বলছিল, হে আবু কুদামা! আল্লাহর দোহাই একটু থামুন।

"শহীদের মায়ের গল্প - ঐতিহাসিক ঘোড়সওয়ার যোদ্ধার প্রতীকী ছবি"
জিহাদের পথে যোদ্ধা – প্রতীকী ছবি। উৎসঃ Pexels (Necati Ömer Karpuzoğlu)

অশ্বারোহীর আহবানে আমি থেমে গেলাম। সেই সাথে থেমে গেল আমার সাথী-সঙ্গীরাও। অল্প সময়ের মধ্যে অশ্বারোহী আমাদের নিকটে চলে এল। এসেই আমার সাথে মুয়ানাকা করে বলল, আল্লাহ পাকের হাজারো শোকর, তিনি আমাকে আপনার সাক্ষাৎ লাভে ধন্য করেছেন। আমার বিনীত আরজ, আপনি আমাকে আপনার সঙ্গে জিহাদ করার সুযোগ দিবেন।

অশ্বারোহীর চেহারা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। আমি বললাম, বৎস! তুমি তোমার চেহারা খোল। যদি তুমি জিহাদের বয়সে উপনীত হয়ে থাকো তবে তোমাকে অনুমতি দেব। অন্যথায় ফেরত পাঠাব সে চেহারা খুলল। দেখা গেল, পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় সুন্দর সুদর্শন এক তরুণ নওজোয়ান৷

: আমি বললাম- তোমার পিতা কি জীবিত আছেন ?
: না। তিনি জিহাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। হয়তো আল্লাহ পাক আমাকেও শাহাদতের মউত নসীব করবেন।
: তোমার মা বেঁচে আছেন ?
: হ্যাঁ। তিনি জীবিত আছেন।

আমি বললাম, তুমি তোমার মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। তিনি অনুমতি দিলে আমাদের সাথে যেতে পারবে। অন্যথায় তাঁর নিকটই থেকে যাবে। তাঁর খেদমত করবে। কেননা মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশ্ত।

: নওজোয়ান বলল, জনাব! আপনি কি আমাকে চিনতে পারেননি ?
: না, চিনতে পারিনি।

নওজোয়ান বলল, আমি ঐ মায়ের সন্তান যিনি আপনার নিকট চুলের রশি অর্পণ করেছেন। আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে জিহাদে নিতে অস্বীকৃতি জানাবেন না। আমি কুরআনের হাফেজ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত সম্পর্কে সম্যক অবহিত। আমি তীরন্দাজী ও ঘোরসওয়ারীতে এত পটু যে, আমার এলাকায় আমার কোনো জুড়ি নেই। আপনি আমাকে ছোট মনে করে অবহেলা করবেন না। আমার মা আমাকে শপথ করিয়েছেন- আমি যেন জীবন্ত ফিরে না আসি।

বিদায়ের সময় তিনি আমাকে বলেছেন— বেটা! যখন খোদাদ্রোহী কাফিরদের সাথে তুমুল লড়াই শুরু হবে, তখন কিছুতেই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। আল্লাহর দুশমনদের টুকরো টুকরো করে প্রয়োজনে নিজের জীবনটা তাঁর পথে হাসিমুখে বিলিয়ে দিবে। সেই সাথে দোয়া করবে, বেহেশতে যেন তাঁর সান্নিধ্য লাভ ও স্বীয় পিতার পড়শী হতে পারো। বৎস! তুমি যদি শহীদের মর্যাদা লাভ করতে পারো, তবে কিয়ামতের দিন আমার জন্যও সুপারিশ করবে। কেননা আমি শুনেছি, একজন শহীদ নিজ পরিবারের সত্তর ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারবে।

এসব কথা বলে মা আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছেন এবং আকাশের দিকে মুখ তুলে বলেছেন- হে আমার মাওলা! হে আমার মুনীব! এ আমার ছেলে। আমার হৃদয়ের ফুল। কলিজার টুকরা। আমি এই ছেলেকে তোমার খেদমতে পেশ করছি। তুমি তাকে কবুল করে নাও হে মাবুদ!

ছেলেটির কথা শেষ হওয়া মাত্র আমি খুব কাঁদলাম। কাঁদলাম এ কথা ভেবে যে, তার মা কতবড় মহিয়সী মহিলা, কত বড় ধৈর্যশীলা নারী- যিনি জিহাদের ময়দানে প্রিয়তম স্বামীসহ সবাইকে হারানোর পরও একমাত্র ছেলেকে আবারো খোদার রাহে কুরবান হওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সেই সাথে উৎসর্গ করেছেন স্বীয় মাথার চুলগুলিও। ওহ! দীনের জন্য, আল্লাহর জন্য এ নারীর ভালোবাসা কত অসীম!

আমার চোখে পানি দেখে যুবক বলল, চাচাজান! আপনি কাঁদছেন কেন? যদি ছোট হওয়ার কারণে আমাকে জিহাদে নিতে না পেরে অপারগ হয়ে কেঁদে থাকেন, তবে মনে রাখবেন, আমার চেয়ে ছোটদেরকেও আল্লাহ তাআলা নাফরমানীর কারণে শাস্তি দিয়ে থাকেন।

আমি বললাম, না বাবা আমি এজন্যে কাঁদছি না। আমি কাঁদছি তোমার মায়ের কারণে। ভাবছি, তোমার খান্দানের সবাই তো শহীদ হয়ে গেল। এবার তুমিও শহীদ হয়ে গেলে তোমার অসহায় মা কীভাবে জীবন কাটাবেন!

সে বলল, চাচাজান! আম্মার জন্য আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আল্লাহ পাক তাঁকে অবশ্যই দেখবেন। তার হিফাযত ও উত্তম জীবন যাপনের ব্যবস্থা তিনিই করবেন।

এরপর আমরা সামনে অগ্রসর হলাম। গোটা রাত এবং পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সফর হলো । এই দীর্ঘ সফরে আমি খেয়াল করে দেখলাম, ছেলেটি সত্যি একজন দক্ষ ঘোরসওয়ার। খেদমতেও সে সকলের অগ্রগামী। বেশ সতর্ক ও সচেতন মনে হলো তাকে। আমরা সবাই রোযাদার ছিলাম। ইফতারের সময় হলে সে-ই আমাদের ইফতারের বন্দোবস্ত করল । অতঃপর দু’চোখে ঘুম চেপে বসলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল সে।

যুবকের বিস্ময়কর স্বপ্ন!

সময় বয়ে চলল। এক সময় আমি ঘুমন্ত যুবকের চেহারাপানে তাকালাম । আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, সে মুচকি হাসছে । আমি নিজ সাথীদের ডেকে আনলাম । বললাম, দেখো, এ যুবক কীভাবে ঘুমের মধ্যে হাসছে!

ঘুম থেকে জাগার পর যুবককে বললাম, আমরা তোমাকে ঘুমের মধ্যে হাসতে দেখেছি। বলতো, কেন হেসেছিলে তুমি?
যুবক বলল, আমি একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখে হাসছিলাম।

: আমি বললাম, তোমার স্বপ্নটি আমাদের শোনাও তো!
: সে বলতে লাগল—
আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি বাগানে বিচরণ করছি। বাগানের প্রতিটি অংশ বেশ সুন্দর ও মনোহর। এর যে কোনো অংশে দৃষ্টি পড়তেই চোখ জুড়িয়ে যায়। হঠাৎ বাগানের এক পাশে একটি বিশাল অট্টালিকার উপর আমার দৃষ্টি পড়ল। যা মূল্যবান হীরা ও মনিমুক্তা দ্বারা নির্মিত। প্রাসাদসম এই বিল্ডিংটির উপর দৃষ্টি পড়তেই উহার একটি দরজা দিয়ে কয়েকটি মেয়ে বেরিয়ে এল। মেয়েগুলো এতই সুন্দর ছিল যে, তাদের চেহারাগুলো চাদের ন্যায় ঝলমল করছিল । তারা আমাকে দেখে মুবারকবাদ দিল। আমি স্বপ্নের মধ্যেই একটি মেয়ের দিকে হাত বাড়ালাম। মেয়েটি বলল, জনাব! এত জলদি করবেন না। এখনো আপনার সময় হয়নি। আরেকজন বলল- আরে, এ যে আমাদের মারজিয়ার স্বামী!

অতঃপর তারা আমাকে বলল- জনাব! আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন। নিজ অনুগ্রহে আরেকটু সামনে বাড়ুন। বিল্ডিং-এর দিকে আরেকটু অগ্রসর হোন।

তাদের কথামত আমি সামনে এগুতে লাগলাম। যেতে যেতে প্রাসাদের একেবারে কাছাকাছি চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম- প্রাসাদে এমন একটি কামরা রয়েছে যা অন্যগুলোর তুলনায় বেশ উঁচু। কামরার পুরোটাই স্বর্ণের তৈরী । ভেতরে একটি জামরদ পাথরের খাটিয়া বিছানো। ঝলমলে সবুজ ফরাশে বেশ অপূর্ব দেখাচ্ছিল খাটিয়াটিকে। এর পায়াগুলো শুভ্র পাথরে তৈরি। যার আলো ঠিকড়ে পড়ে ঘরময় জ্বলজ্বল করছে।

কক্ষের ঠিক মাঝখানে খাটিয়াটির অবস্থান। তাতে উপবিষ্ট রয়েছে পরমা সুন্দরী একটি মেয়ে। ওর চেহারা যেন সূর্যের কিরণ বিকিরণ করছে। আলোর আভা মুখ থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তার চেহারাটা এমনই জ্যোতির্ময় ছিল যে, সাধারণ চর্মচক্ষু তা সহ্য করতে পারবে না। অবশ্য আল্লাহর কৃপায় আমার চোখগুলো অক্ষত থেকে যায়। মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে মুক্তাঝরা হাসি হাসছে। আর বলছে- প্রিয় আমার! স্বাগতম। খোশ আমদেদ। এসো, আমার কাছে এসো । এখন থেকে তুমি হলে আমার। আর আমি হলাম তোমার। এসো, সু স্বাগতম প্রিয়ে, সু স্বাগতম!!

আমি মেয়েটির হৃদয়কাড়া রূপ দেখে দারুণ বিস্মিত হই। ভুলে যাই দুনিয়ার সবকিছু। তদুপরি তার আহ্বানে হৃদয়ে ঝড় ওঠে আমার। ফলে সঙ্গে সঙ্গে পাগলপারা হয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকি। ক্ষণিকের মধ্যেই আমি তার অতি কাছে চলে যাই। কিন্তু এ সময় হঠাৎ সে বলে উঠে- ওহে আল্লাহর বান্দা! আমাকে একান্ত করে কাছে পাওয়ার সময় এখনো তোমার হয়নি। আরেকটু অপেক্ষা করো। আগামীকাল দুপুর বেলা ইনশাআল্লাহ্ আবার দেখা হবে। তোমাকে কথা দিলাম, আগামীকাল এসো। আজকের মত সাক্ষাৎপর্ব এখানেই শেষ। ধন্যবাদ। এ বলে মেয়েটি অদৃশ্য হয়ে গেল । অদৃশ্য হয়ে গেল অন্য সবকিছু। আমিও জেগে গেলাম ঘুম থেকে। স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটল এখানেই ।

যুবকের এ সুন্দর স্বপ্ন বৃত্তান্ত শ্রবণ করে আমি যারপর নাই বিস্মিত হলাম। বললাম- তুমি বেশ মূল্যবান স্বপ্ন দেখেছ ।

যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব ও শাহাদাত!

পরদিন সকাল বেলা। যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত। প্রত্যেক মুজাহিদ স্ব স্ব ঘোড়ায় উপবিষ্ট। দলপতির নির্দেশের অপেক্ষায় সবাই প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে।

প্রতীক্ষার অবসান ঘটে অল্প সময়ের মধ্যেই। মুজাহিদ কমাণ্ডার উচ্চস্বরে আওয়াজ দিলেন । বললেন- ‘ওহে মুজাহিদ ভাইগণ! আল্লাহর নাম নিয়ে সামনে চলো। জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও। আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য অগ্রসর হও। অল্প হোক আর বেশি হোক, যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে আল্লাহ রাহে জিহাদের জন্য বেরিয়ে পড়ো।’

নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা দুর্বার গতিতে ছুটে চললাম । অদূরেই দেখা গেল খোদাদ্রোহী কাফের বাহিনী। যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান।

পাপিষ্ঠ কাফেরদের দেখে আমাদের গতিবেগ বেড়ে গেল। সবাই শহীদ হওয়ার তামান্নায় পাগলপারা। আমরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছি । ঠিক এমন সময় ঐ যুবক বীরবিক্রমে কাফেরদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। একের পর এক প্রচণ্ড আঘাত হানতে লাগল ইবলিস বাহিনীর উপর। লড়াই করতে করতে ঢুকে পড়ল শত্রু-বেষ্টনির ভেতর। তারপর তছনছ করে দিল ওদের ভেতরকার অবস্থা। সেই সাথে বেশ কয়েকজন নেতাগোছের লোককে পাঠিয়ে দিল মৃত্যুর দুয়ারে।

যুবকের এ অবস্থা দেখে আমি দ্রুত তার কাছে গেলাম । বললাম, হে যুবক! ফিরে এসো। তোমার বয়স একেবারেই কম। তুমি যুদ্ধের কৌশল সম্পর্কে অতটা পারদর্শী নও। এখন এসো। পরে না হয় আবার যাবে। 

উত্তরে সে আমাকে বলে, চাচাজান! আমাকে এখনই ফিরে আসতে আহ্বান জানাচ্ছেন কেন? আপনি কি কুরআনের এই আয়াতটি শুনেন নি?

সুরা আনফাল — আয়াত ১৫
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কাফিরদের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হবে, তখন ওদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না।

চাচাজান! আপনি কি এটা কামনা করেন যে, আমি জিহাদ থেকে পলায়ন করে জাহান্নামের উপযুক্ত হই?

আমাদের আলোচনা শেষ হয়নি। এরই মধ্যে কাফেররা হঠাৎ প্রচণ্ড আক্রমণ করে বসে। ওদের আক্রমণ এতটাই তীব্র ও প্রকট ছিল যে, প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রাণ বাঁচানোর চিন্তায় বিভোর হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে যুবক আর আমার মাঝে কাফিররা আড়াল হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আমরা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি।

কাফেরদের এ আকস্মিক আক্রমণে মুসলমানদের সীমাহীন ক্ষতি হয়। অনেক মুজাহিদ শাহাদতের অমীয় সুধা পান করে জান্নাতবাসী হন। আবার অনেকে আহত হন মারাত্মকভাবে।

এ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর- না আহতদের হিসাব কষা সম্ভব হচ্ছিল, না শহীদদের গণনা করা যাচ্ছিল। আমি এ সময় আমার ঘোড়াটি নিয়ে গোটা ময়দান চষে বেড়াচ্ছিলাম । চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ! রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল স্রোতের ন্যায়। মাটি ও খুন দ্বারা শহীদদের চেহারা ঢেকে থাকার কারণে তাদেরকে ঠিকমত চিনাও যাচ্ছিল না।

অনেকক্ষণ যাবত আমি ময়দানে ঘোরাফেরা করছি। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত অবসন্ন প্রায় । এমন সময় হঠাৎ ঐ নওজোয়ানকে ঘোড়ার পদতলে পিষ্ট হয়ে জমীনে পতিত অবস্থায় দেখতে পেলাম।

নওজোয়ানকে দেখামাত্রই আমি তার কাছে গেলাম। দেখলাম, এখনো সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেনি। তবে বেশিক্ষণ সে বাঁচবে বলেও মনে হলো না । নওজোয়ান তখন বলছিল- হে মুসলমান ভাইয়েরা! আপনাদের কাছে আমার বিনীত আরজ, আপনারা আমাকে আমার চাচা আবু কুদামার নিকট নিয়ে চলুন।

নওজোয়ানকে পেয়ে একদিকে যেমন মনটা খুশিতে ভরে উঠল, তেমনি তার অবস্থা দেখে হৃদয়-কোণে একটা ব্যথা চিনচিন করতে লাগল। তার পরিচয় পেয়ে তাকে আমি বুকে টেনে নিলাম। তারপর বললাম, বৎস! আমিই তোমার চাচা আবু কুদামা । বলো, এ মুহূর্তে তোমার জন্য কী করতে পারি।

চাচার পরিচয় পাওয়া মাত্র যুবকের মনও আনন্দে নেচে উঠল। সে উঁচু আওয়াজে বলতে লাগল, চাচাজান! আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আমি আজ গর্বিত। আপনার ভাতিজা আজ ধন্য।

ওর কথা শুনে আমার দু’চোখে আনন্দাশ্রু খেলা করতে লাগল । আমি ওর চেহারার দিকে ঝুঁকে কপালে চুমু খেলাম। গায়ের চাদর দিয়ে চেহারার মাটি ও শহীদি খুন পরিষ্কার করলাম। তারপর বললাম, আদরের ছেলে আমার! তোমার সাথে কেয়ামতের দিবসে সাক্ষাৎ হবে, ইনশাআল্লাহ । সেদিন কিন্তু তোমার চাচাকে ভুলে যেও না!

যুবক বলল, না চাচাজান, আপনার মত এমন মহৎ লোককে কখনো ভুলা যায় না । অবশ্যই আপনার কথা আমার সর্বদা মনে থাকবে। আর হ্যাঁ, আপনিও কিন্তু আমাকে ভুলে যাবেন না।

চাচাজান! আমার সময় বোধ হয় আর বেশি বাকি নেই। অল্প সময়ের মধ্যেই আমি বিদায় নেব। তবে বিদায়ের আগে আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে, আমার মৃত্যুর পর আমার গায়ের রক্তগুলো মুছবেন না। বরং এগুলোকে আপন অবস্থায় রেখে দিবেন। কারণ আমি আমার পালনকর্তার সঙ্গে এগুলো নিয়েই সাক্ষাৎ করতে চাই । ঐ তো দেখুন, আমার স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটি সামনে দাঁড়িয়ে। সে আমাকে স্বাগত জানাবার জন্য অপেক্ষা করছে। বলছে, হে প্রিয়! আমি তোমার সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি আর দেরী নয়, তাড়াতাড়ি এসো।

হে চাচা! আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, যদি আল্লাহ তাআলা আপনাকে সুস্থ ও নিরাপদে ফিরিয়ে নেন, তবে আপনি আমার এ রক্তমাখা কাপড়গুলো আমার মমতাময়ী মায়ের কাছে পৌঁছে দেবেন। যেন তার বিশ্বাস হয় যে, আমি তার মনের আশা ও অসীয়ত পূর্ণ করেছি; শত্রুদের মোকাবেলায় কাপুরুষতার পরিচয় দেইনি। আপনি আমার সালাম তার কাছে পৌঁছে দিবেন এবং বলবেন, আল্লাহ তাআলা তার উপহার কবুল করে নিয়েছেন।

হে আমার চাচাজান! আরেকটি কথা আপনাকে না বলে পারছি না। আমার দশ বছরের একটি ছোট বোন আছে। আমি যখনই বাড়ি থেকে বের হতাম, তখন সে আমাকে বিদায় জানাত। আবার যখনই ঘরে ফিরে আসতাম, তখন সকলের আগে সে-ই দৌড়ে এসে আমার সাথে সাক্ষাৎ করত। সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করত। চাচাজান! এবার যখন আসছিলাম, তখন সে আমাকে বিদায় জানানোর সময় বলেছিল-
“ভাইজান! খুব তাড়াতাড়ি ফিরবেন। মোটেও দেরী করবেন না। আপনি না থাকলে আমার কিছুই ভালো লাগে না।” আমার এ দুঃখীনি বোনটির সাথে যখন আপনার সাক্ষাৎ হবে, তখন তাকে আমার সালাম দিবেন । আর বলবেন, তোমার ভাই তোমাকে বলেছে—

খোদা হাফেজ! কিয়ামতের দিন সাক্ষাৎ হবে।

এতটুকু বলে যুবক আর কোনো কথা বলতে পারল না। শুধু কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে অত্যন্ত ক্ষীণ আওয়াজে কালিমায়ে শাহাদাত পড়ে নিল এবং বিশ্ব জাহানের প্রভু মহান আল্লাহর নিকট নিজকে সোপর্দ করে দিল। লাভ করল শাহাদতের সুমহান মর্যাদা৷  এরপর যুবককে আমরা দাফন করলাম। আল্লাহ তাআলা তার উপর সন্তুষ্ট হোন। আমীন।

মায়ের কাছে শাহাদাতের সংবাদ!

যুদ্ধ থেকে ফিরে আমরা কয়েকজন যুবকের বাড়িতে গেলাম । দেখলাম, সুন্দরী একটি ছোট মেয়ে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে যুদ্ধ ফেরত লোকদেরকে জিজ্ঞেস করছে, আপনারা কি আমার ভাইয়াকে দেখেননি?

লোকেরা উত্তরে বলছে, আমরা তাকে চিনি না।

এক পর্যায়ে আমি তার সামনে উপস্থিত হলে সে আমাকে বলল- চাচাজান! আপনি কোত্থেকে এসেছেন?

আমি বললাম- জেহাদ থেকে এসেছি।

আমার ভাইয়া কি ফিরে আসেননি?

আমি তার কথার কোনো জবাব না দিয়ে বললাম, তোমার মাকে গিয়ে আমার আগমনের সংবাদ দাও।

মহিলাকে আর সংবাদ দিতে হলো না। তিনি আমাদের কথাবার্তা শুনে নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। বললেন, হে আবু কুদামা! সর্বাগ্রে আপনি আমাকে বলুন যে, আপনি আমাদের জন্য সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন নাকি দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছেন?

আমি বললাম, আপনি আগে সুসংবাদ ও দুঃসংবাদের ব্যাখ্যা দিন।

তিনি বললেন, সুস্থ এবং নিরাপদ অবস্থায় আমার নওজোয়ান ছেলের প্রত্যাবর্তনের সংবাদ হলো আমার নিকট সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ। আর তার শাহাদতের সংবাদই হলো আমার নিকট সবচেয়ে বড় সুসংবাদ।

আমি বললাম, আল্লাহ তাআলা আপনার হাদিয়া ও কুরবানী কবুল করেছেন। আপনার ছেলে লাভ করেছে শাহাদাতের সুমহান মর্যাদা।

তিনি বললেন, সত্যিই কি আল্লাহ তাআলা তাকে কবুল করেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি তাকে উত্তমরূপেই কবুল করেছেন।

ছেলের শাহাদতের সংবাদে তিনি এতবেশি আনন্দিত হলেন যে, জীবনে বোধ হয় অন্য কোনো কারণে এত বেশি আনন্দিত হননি। সুবহানাল্লাহ! মা হলে এমনই হওয়া চাই।

অতঃপর আমি ঐ নওজোয়ানের বার্তা তার বোনের কাছে পৌঁছে দিলাম। মেয়েটি যখন এ সংবাদ শুনল তখন সে একটি চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। সেই সাথে সেও এ নশ্বর পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিল।

ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হলো না। কিন্তু তার মা আগের মতোই অটল অবিচল। সবশেষে আমি নওজোয়ানের রক্তমাখা কাপড়টি তার মায়ের হাতে অর্পণ করলাম এবং ব্যথিত হৃদয় নিয়ে ফিরে এলাম।

সত্যি বলতে কি! ঐ মহিলার ধৈর্য ও কুরবানীর কথা চিন্তা করলে আজও আমার বিস্ময় বোধ হয়। 

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা

প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আবু কুদামা শামীর বর্ণিত এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা থেকে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করতে পারি —

১. আল্লাহর পথে ত্যাগের কোনো সীমা নেই
মা তাঁর নিজের চুল দিয়ে রশি বানিয়ে দিয়েছেন, আবার নিজের একমাত্র ছেলেকেও উৎসর্গ করেছেন। এটি প্রমাণ করে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রকৃত মুমিন কোনো কিছুকেই বড় মনে করেন না।

২. মায়ের ধৈর্য ও ঈমানের দৃঢ়তা
স্বামী ও পরিবারের সবাইকে হারানোর পরও এই মা ভেঙে পড়েননি। বরং তিনি সন্তানের শাহাদাতের সংবাদকে সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন — যা প্রকৃত তাওয়াক্কুল ও সবরের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

৩. যুবকদের প্রতি বার্তা
নওজোয়ানের বয়স কম হলেও তার ঈমান, সাহস ও প্রতিশ্রুতি ছিল দৃঢ়। বয়স কোনো বাধা নয় — নিয়ত ও ঈমানের দৃঢ়তাই মূল বিষয়।

৪. পিছপা না হওয়ার শিক্ষা
যুবকের কুরআনের আয়াত স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে, প্রকৃত ঈমানদার কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থানে অটল থাকেন।

৫. পরিবারের প্রতি শেষ মুহূর্তের ভালোবাসা
মৃত্যুশয্যায়ও যুবক তার মা ও ছোট বোনের কথা ভুলে যাননি। এটি দেখায়, আল্লাহর পথে চলার পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

শহীদের মায়ের গল্প আমাদের শিখিয়ে দেয়, আল্লাহর পথে ত্যাগের প্রকৃত অর্থ কী। এই মা শুধু নিজের চুলই নয়, বরং নিজের কলিজার টুকরো সন্তানকেও বিলিয়ে দিয়েছেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আর সেই যুবক, মৃত্যুর কঠিন মুহূর্তেও যে বিশ্বাস, সাহস ও ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রতিটি মুমিনের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মা ও ছেলের মতো ঈমানের দৃঢ়তা এবং তাঁর পথে ত্যাগের তাওফীক দান করুন। আমীন।

সূত্র : দাওয়াতে জিহাদ- মাওলানা ফযল মুহাম্মদ, পাকিস্তান, পৃষ্ঠা : ১৮৪।

এরপর পড়ুন: মেম সাহেব (ইসলাম গ্রহণের সত্য ঘটনা)

লেখক: মাওলানা মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম, লেখকের আদর্শ যুবক যুবতি ২ বই থেকে সংগ্রহীত ও সংযোজিত।

প্রায়জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি

প্রশ্ন ১: আবু কুদামা শামী কে ছিলেন?
আবু কুদামা শামী ছিলেন মদীনা মুনাওরায় বসবাসরত একজন প্রসিদ্ধ ও সত্যনিষ্ঠ মুজাহিদ, যিনি সারা জীবন জিহাদের ময়দানে কাফের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁর বর্ণিত এই ঘটনাটি মাওলানা ফযল মুহাম্মদের “দাওয়াতে জিহাদ” গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৮৪) লিপিবদ্ধ আছে।

প্রশ্ন ২: মহিলা কেন তাঁর চুল দিয়ে রশি বানিয়েছিলেন?
মহিলা চেয়েছিলেন, জিহাদের ময়দানের ধুলোবালি তাঁর চুলে লাগুক, যাতে তিনি কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে প্রমাণ দিতে পারেন যে তিনি তাঁর দীনের জন্য নিজের প্রিয় কেশগুচ্ছ উৎসর্গ করেছেন। ঘটনাটি “দাওয়াতে জিহাদ” গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

প্রশ্ন ৩: যুবকের স্বপ্নে কী দেখা গিয়েছিল?
যুবক স্বপ্নে একটি সুরম্য বাগান ও প্রাসাদ দেখেছিলেন, যেখানে জান্নাতী হুর তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন পরদিন দুপুরে তাদের সাক্ষাৎ হবে, যা পরবর্তীতে তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এই বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় মাওলানা মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলামের “আদর্শ যুবক যুবতি ২” গ্রন্থে।

প্রশ্ন ৪: এই ঘটনাটি কোন বই থেকে নেওয়া হয়েছে?
এই ঘটনাটি মাওলানা ফযল মুহাম্মদের “দাওয়াতে জিহাদ” গ্রন্থ (পৃষ্ঠা ১৮৪) থেকে সংকলিত এবং মাওলানা মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলামের “আদর্শ যুবক যুবতি ২” বই থেকে গৃহীত হয়েছে।

Leave a Comment

Discover more from Amar Bangla Post

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading