ফ্যাশন প্রিয় যুবক-যুবতি (শিক্ষণীয় গল্প)

ফ্যাশনআমাদের দেশে কিছু যুবক-যুবতি ও ফ্যাশন পূজারী লোক এমন আছেন, যারা মনে মনে ভাবেন; এমনকি কোনো কোনো সময় সাহস করে বলেও ফেলেন যে, ইসলাম কি শুধুই দাড়ি ও পর্দার নাম? শুধুই পাঞ্জাবী আর টুপির নাম? কী আশ্চর্যের কথা! মৌলভী-মাওলানারা ঐ দাড়ি, পোষাক আর পর্দাকেই ইসলাম মনে করে বসেছে। ইত্যাদি…..। 

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! যেহেতু আপনারা গল্প শুনতে ভালোবাসেন এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তাই আমার মনে হয়, উপরের প্রশ্নটির জবাব একটি গল্প দ্বারা দিলেই আপনারা বেশি খুশি হবেন। কী বলেন, ঠিক বলি নি? হ্যাঁ, একদম ঠিক বলেছি। তাহলে গল্পই শুনুন। তারপর শিক্ষা নিন ও আমল করুন।

বহুদিন আগের কথা। তখন পৃথিবীর কোনো এক এলাকায় হাতে খোদাই করে “বাঘ” অঙ্কন করার রেওয়াজ ছিল। ঐএলাকার লোকেরা সখের বশেই এ কাজটি করত। করতও ধুমধাম করে, সাধারণভাবে নয়। এই ধুমে পড়েই এক যুবক হাজির হলো এক অঙ্কন শিল্পীর কাছে। বলল, আমার হাতে খুব সুন্দর করে একটি বাঘ এঁকে দাও। পারিশ্রমিক ছাড়াও মোটা অঙ্কের বখশিস পাবে।

শিল্পী যুবককে নিয়ে ছবি আঁকতে বসল। প্রথমে সুঁই গরম করল। তারপর যখনই গরম সুঁই দিয়ে হাতে ছবি আঁকতে শুরু করল, তখনই হাত জ্বলে ওঠল। যুবক তা সহ্য করতে না পেরে হাত টেনে নিল। সেই সাথে বলল, আরে বাবা! কী আঁকছ?

বাঘের লেজ আঁকছি। শিল্পী বলল।

আচ্ছা লেজ ছাড়া কি বাঘ হয় না?

হয়।

তাহলে লেজ ছাড়াই বাঘ আঁকো।

ঠিক আছে।

শিল্পী আবার সুই গরম করল। তারপর তা যুবকের হাতে রাখতেই সে চিৎকার করে বলে উঠলো, বাবারে এখন কী আঁকছো?

শিল্পী জবাবে বলল, এবার আঁকছি বাঘের কান।

আরে জালেম! আমি তো যন্ত্রণায় মরে গেলাম। আচ্ছা বলতো কান ছাড়া কি বাঘ হয় না?

শিল্পী ক্ষীণ আওয়াজে বলল—হয়।

তবে তা—ই করো। কান ছাড়াই বাঘ এঁকে দাও।

ঠিক আছে। তাই দিচ্ছি।

পূর্বের ন্যায় সুঁই গরম করে এবারও যখন শিল্পী তা যুবকের হাতে রাখল, তখন সে ‘ও বাপরে! কী আঁকছোরে’ বলে চিৎকার করে উঠল।

শিল্পী বলল, বাঘের পেট আঁকছি।

রাখো, রাখো। পেট ছাড়া কি বাঘ আঁকা যায় না?

শিল্পী বেচারা কোনো জবাব না দিয়ে বলল, এবার তাহলে তোমার হাতে বাঘের মাথা এঁকে দেই। এ বলে সে গরম সুঁই তাঁর হাতে বসিয়ে দিল।

যুবকের এহেন আচরণে শিল্পী দারুণ বিরক্ত হলো। তাই সে হাতের সুঁইটি দূরে নিক্ষেপ করে বলল, আরে বোকা! মাথা, পেট, কান ও লেজ ছাড়া বাঘ হয় কী করে! আল্লাহ পাক তো এমন করে বাঘ সৃষ্টি করেন নি। যাও এখান থেকে। যে ব্যক্তি সামান্য সুঁইয়ের আঘাত সহ্য করতে পারে না, সখ পূর্ণ করার কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই।

প্রিয় পাঠক! আধুনিক ফ্যাশনপূজারীদের অবস্থাও তাই। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতের কথা বলতেই তারা নানা রঙের কথা বলা শুরু করে দেয়। তারা বলে, দাড়ি কি ইসলাম? পর্দা কি ইসলাম? এটাই কি ইসলাম? ওটাই কি ইসলাম? বলুন এ প্রশ্নের শেষ কোথায়? যদি এগুলো ইসলাম না হয়, যদি নানারকম খোঁড়া যুক্তি দিয়ে একের পর এক ইসলামের সুন্নত, আদর্শ ও মৌলিক বিষয়াবলীকে প্রত্যাখ্যান করা হয়, তাহলে সবশেষে ইসলাম বলব কাকে? কারণ মাথা, পেট, কান ও লেজ ছাড়া যেমন বাঘ হয় না, তেমনি সুন্নত, ওয়াজিব ও রুকন বাদ দিয়ে তো ইসলাম হবে না।

এ প্রসঙ্গে আরো জরুরি কথা হলো, তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সুন্নতকে প্রত্যাখ্যান  করাও কুফুরী। যেমন, অনেক লোক এমন আছে যাদেরকে সুন্নতের প্রতি দাওয়াত দেওয়া হলে তারা নীরব সুরে এ বলে পাশ কাটাবার চেষ্টা করে যে, এটা তো সুন্নতই। অর্থাৎ এটা কোনো জরুরি বিষয় নয়।

হ্যাঁ, এটা সুন্নত ঠিক আছে। কিন্তু বলার এই ভঙ্গিটা কুফুরী।

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি সুন্নতের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন। [সূত্রঃ সোহবতে বা আহলে দিল, পৃষ্ঠাঃ ২১৫]

দ্বিতীয় অধ্যায়

প্রসঙ্গ কথাঃ  কোনো ছেলের যখন এহতেলাম হয়, তখন সে বালেগ অর্থাৎ শরীয়তের দৃষতিতে প্রাপ্তবয়স্ক বলে বিবেচিত হয়। আর কোনো মেয়ের যখন মাসিক হয়, তখন সে বালেগা হয়। আর এর মাধ্যমেই তাদের যৌবন কালের সূচনা হয়। তখন ছেলেদেরকে বলা হয় যুবক। আর মেয়েদেরকে বলা হয় যুবতি। উল্লেখ্য যে, ১৫ বছর পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কোনো মেয়ের যদি মাসিক না আসে বা কোনো ছেলের যদি এহতেলাম (তথা স্বপ্নদোষ) না হয়, তাহলে চাঁদের হিসেবে জন্মতারিখ থেকে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পরদিন থেকেই তারা বালেগ/বালেগা হয়, সেদিন থেকেই তাদের উপর নামায, রোযা ও পর্দাসহ শরীয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান মেনে চলা অপরিহার্য হয়ে যায়। তখন যদি অবহেলা করে তারা এসব বিধি-বিধান পালন না করে, তবে ফেরেশতারা তাদের আমলনামায় গোনাহ লিখতে থাকেন। তাই কিশর বয়স থেকেই নামাজ, রোজা ইত্যাদির অভ্যাস করা দরকার। যাতে মহান আল্লাহ  পাকের নাফরমানির মধ্যে একটি দিনও না কাটে। লঙ্ঘিত না হয়—শরীয়তের ছোট—বড় কোনো বিধি-নিষেধ।

নিম্ন যুবক-যুবতী ভাই বোনদের জন্য উপকারী কয়েকটি জরুরি উপদেশ দেওয়া হলো। এসব উপদেশ তাদের উদ্দেশ্যে লিখা হলেও মূলত এগুলো সবারই জানা ও মানা দরকার। আমার বিশ্বাস, যুবক-যুবতী ভাই-বোনসহ সবাই যদি এ উপদেশ গুলো মেনে চলি, তাহলে আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে প্রভূত কল্যাণ লাভ করতে পারব। লাভ করতে পারব সুখময় জীবন—যা প্রতিটি মানুষেরই একান্ত কাম্য। তাই আসুন, আমল করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এসব উপদেশ আমরা মনোযোগ সহকারে পাঠ করি। সেই সাথে অন্যদের কাছে তা পৌঁছানোরও ফিকির করি। আল্লাহ পাক আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।

উৎসঃ লেখকঃ মাওলানা মফীজুল ইসলাম। বইঃ আদর্শ যুবক যুবতি ১। 

লেখকের অন্যান্য গল্প সমূহ…

০১. যে ফুল ঝরে গেল অবেলায় (কিশোর গল্প)

০২. যুবতীর কবলে যুবক (প্রেমের গল্প)

০৩. সর্বনাশা প্রেম (প্রেমের গল্প-কাহিনী)

০৪. স্নিগ্ধ কোমল হাসি! (এক এতিম শিশুর গল্প)

০৫. ন্যায়পরায়ণতার অনুপম দৃষ্টান্ত। (কিশোর গল্প)

For more update please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

Leave a Comment

error: Content is protected !!