দশটি শিক্ষামূলক ইসলামিক হাসির গল্প যা আপনি পড়তে পারেন। এটি মুচকি হাসি গল্পের দ্বিতীয় পর্ব। এই গল্পগুলো শুধু হাসির নয় একইসাথে শিক্ষণীয় বটে। গল্পগুলো সময়িক সময়ের জন্য হলেও আপনার মুখে হাসি ফুটাবে ও বিনোদনিত করবে। তাহলে চলুন এই শিক্ষামূলক হাসির গল্প সমূহ পড়া শুরু করি….
০১. হাতুড়ে ডাক্তারের কান্ড।
একজন পীরের উদাহরণ হলো ঠিক যেন একজন ডাক্তার। ডাক্তার যদি হাতুড়ে হয় তাহলে রুগীর জান বাঁচানোর কষ্টকর। যেমন একটা প্রবাদ আছেঃ
অনেক মূর্খ পীর আছে তারা সব অনুসারীকে একই পাল্লায় ওজন করে। এ কারণে। এ মুরীদানদের সংশোধন এবং রূহানী উন্নতি হয় না। যেমন এক মূর্খ ডাক্তারের ঘটনা বর্ণিত আছেঃ
ডাক্তারের রুগী দেখার জন্যে ডাকা হলো। সে রুগীর বাড়ি গিয়ে দেখে রুগীর শরীরে ভীষণ জ্বর। রুগীর হাত নিয়ে নাড়ী পরীক্ষা করতে লাগলো। নাড়ীতে হাত রেখেই সে বললো, “মনে হয় তুমি বেশি পরিমাণে তেঁতুল খেয়েছো।
রুগীটি সত্যিই তেঁতুল খেয়েছিল। তাই রুগ্ন ব্যক্তি অবাক হয়ে গেল যে শুধু নাড়ীতে হাত রেখে যা খেয়েছিলাম তা কি করে বললো। নিশ্চয় সে একজন খাঁটি ডাক্তার। সুতরাং তাকে যথারীতি ফি দিয়ে বিদায় করে দিল।
ডাক্তারের সাথে তার একটি ছেলে থাকতো। সে তার পিতাকে জিজ্ঞেস করলো, “আপনি কিভাবে জানতে পারলেন যে, রুগীটি তেঁতুল খেয়েছিল?” পিতা বললো, “রুগীর চৌকীর নীচে তেঁতুলের খোসা দেখছিলা। তাই আমি অনুমান করলাম যে সে তেঁতুল খেয়েছে।”
ছেলে ভাবলো ডাক্তারী করা তো সহজ কাজ! তাই সেও ডাক্তারী করতে শুরু করলো। একদিন এক হাঁপানি রুগীর বাড়ীতে গিয়ে দেখে তার চৌকীর নীচে ছিড়া জুতা। তখন পিতার চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী সে রুগীর নাড়ীতে হাত রেখে বলতে লাগলো, “মনে হয় আপনি ছিড়া জুতা খেয়েছেন তাই আপনার রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।” একথা শুনে সবাই তো অবাক। দূর-দূর বলে সবাই তাকে তাড়িয়ে দিল।
আজকাল পীরদের অবস্থাও এরকম হয়ে গেছে। সবাইকে একই অজিফা, একই ব্যবস্থা দিয়ে বিদায় করে দেয়। তাসাউফ সম্পর্কে অজ্ঞতাই এসবের কারণ। এ ধরনের পীর সাহেবগণ তাসাউফকে ভুল বুঝিয়ে তাসাউফের বদনাম করেছে। তাসাউফের যে-খাকীকত নবী করীম (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবাগণের জামানায় ছিল তা আজকাল লোকেরা ভুলে গিয়েছে। উৎসঃ (আল-এফাযাতুল ইয়াউমিয়্যাহ)
শিক্ষা: এই ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, না জেনে-শুনে অন্যের অনুকরণ করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া বিপজ্জনক, বিশেষত যখন বিষয়টি মানুষের জান বা ঈমানের সাথে সম্পর্কিত। ছেলেটি যেমন না বুঝেই বাবার পদ্ধতি অনুকরণ করতে গিয়ে বিদ্রুপের শিকার হয়েছে, তেমনি দ্বীনের ক্ষেত্রেও প্রকৃত ইলম ও তাসাউফের গভীরতা অর্জন না করে কেউ পীর বনে গেলে তিনি নিজেও বিভ্রান্ত হন, অনুসারীদেরও বিভ্রান্ত করেন।
০২. ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) – এর ফতোয়া।
হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মেধা ছিল প্রখর। ফতোয়ার ব্যাপারে তার সতর্কতা ছিল তুলনাহীন। একবার ইমাম সাহেবের মজলিসে এক ব্যক্তি এসে বললো, এক লোক বলেছে যে, কোন কাফের জাহান্নামে যাবে না’ এ ব্যক্তির ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী?
ইমাম সাহেব তার ছাত্রদেরকে বললেন, “তোমরা এ লোকটির কথার জবাব দাও।” ছাত্ররা বললো, লোকটি কাফের। কারণ সে ‘নফছ’ কে অস্বীকার করছে (অর্থাৎ কোরআনের সেসব আয়াতকে অস্বীকার করছে যার অর্থ স্বতঃ প্রকাশমান)
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বললেন, তাবীল কর। (অর্থাৎ কোন ওজর পেশ করে লোকটিকে কুফুরী থেকে বাচাঁও।) ছাত্ররা বললো, এখানে তাবীল করার সুযোগ নেই। তাবীল করা অসম্ভব।
ইমাম সাহেব বললেন, “তাবীল আছে। আর তাহলো জাহান্নামে যাওয়ার সময় কেউ কাফের থাকবে না, সবাই মুমিন হয়ে পড়বে। কারণ তখন দোযখ দেখবে তা অস্বীকার করার কোন উপায় থাকবে না। আর তখন দোযখীরা সবাই শরীয় অর্থে কাফের থাকলেও আভিধানিক অর্থে মুমিন হয়ে যাবে। আর সে মুমিন অবস্থায় দোযখে যাবে। কাফের অবস্থায় দোযখে যাবে না। তাই লোকটিকে কাফের হিসেবে ফতোয়া দেয়া যায় না।”
সুতরাং ইমাম সাহেবের মেধা এবং সতর্কতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।কেউ কি তার সীমা খুঁজে পাবে? উৎসঃ (আল-এফাযাতুল য়্যাওমিয়্যাহ, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯৬)
শিক্ষা: ফতোয়া দেওয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যেখানে গভীর জ্ঞান ও সতর্কতা অপরিহার্য। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) দেখিয়ে দিয়েছেন, কাউকে তাড়াহুড়ো করে কাফের ঘোষণা না করে তার কথার মধ্যে ন্যায্য ব্যাখ্যা (তাবীল) খুঁজে বের করার চেষ্টা করাই প্রকৃত আলেমের পরিচয়। কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে গভীরভাবে চিন্তা করা এ থেকেই শেখার বিষয়।
আরও পড়ুন: রাগের মাথায় কসম খাওয়ার বিভ্রাট (তালাকের ছোট গল্প)
০৩. টাকা নদীতে ফেলে দেয়ার আদেশ।
পীর সাহেবকে এমন এক ডাক্তার হওয়া উচিৎ যেরূপ বুজুর্গের কাছে এক ব্যক্তি মুরীদ হতে গেল। বুজুর্গ জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কাছে কোন টাকা পয়সা আছে কি? কারণ সম্পদের প্রতি মহব্বত থাকলে তাসাউফ গ্রহন করা সম্ভব হয় না। লোকটি বললো, “আমার কাছে একশত টাকা আছে।”
বুজুর্গ বললেন, “এগুলো থেকে মুক্ত হয়ে তবে এস।” লোকটি বললো, “আচ্ছা ঠিক আছে।”
বুজুর্গ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “কিভাবে ঐগুলো বর্জন করবে?” লোকটি বললো, “কোন গরীব মিসকীন কে দিয়ে দিব।”
বুজুর্গ ব্যক্তি বললেন, “এর দ্বারা তো মনের গোপনে অহংকারের স্বাদ পাওয়া যাবে যে, আমি বড় দানশীল। বরং তুমি ঐগুলো নদীতে ফেলে দাও।” লোকটি বললো, “আচ্ছা তাই করবো।”
বুজুর্গ লোক জিজ্ঞেস করলেন, “কিভাবে নদীতে ফেলবে?”
লোকটি বললো, “ সব টাকা এক সাথে নদীতে ফেলে দিয়ে আসবো।”
বুজুর্গ লোক বললেন, “এভাবে নয়। প্রতিদিন এক টাকা করে ফেলে আসবে।”
যাতে প্রতিদিন মনের উপর করাতের আঁচড় লাগে। প্রতিদিন অনুশীলন ও ত্যাগের ঘা খেয়ে দুনিয়া দূর হয়ে যায়। মনটা হবে স্বাভাবিক, পরিচ্ছন্ন।
একেই বলে খাটি পীর। এরা একজন দক্ষ ডাক্তারের মত রূহানী রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। এ ধরনের পীর সাহেবগণ রূহানী রোগের উপসর্গ দেখে কাউকে সম্পদ সঞ্চয় করতে বলেন আবার কাউকে সম্পদ ত্যাগ করতে বলেন। কাউকে রাজত্ব পর্যন্ত ত্যাগ করিয়ে দিয়েছেন।
অথচ আজকাল এ রাজত্ব লাভকেই চরম পর্যায়ে উন্নতি বলে মনে করা হয়। তারা বুঝে না যে আম্বিয়া (আঃ)-গণকে প্রেরণের উদ্দেশ্যই ছিল যে, দুনিয়াকে মানুষের অন্তর থেকে বের করে দিবেন। যদিও প্রয়োজন অনুপাতে কিছু থাকবে। অন্তরে থাকবে শুধু আল্লাহ। তাই বলছি, অন্তরকে পরিস্কার রাখ। বলা যায় না কখন সেখানে নূরে হক স্থান পাবে। বলা যায় না কখন সেখানে নূরে রহমত প্রবাহিত হয়। উৎসঃ (আল-এফাযাতুল য়্যাওমিয়্যাহ, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৭৫)
শিক্ষা: প্রকৃত আত্মশুদ্ধি কেবল সম্পদ ত্যাগ করাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অন্তর থেকে অহংকার ও দুনিয়ার মহব্বত দূর করাই এর আসল উদ্দেশ্য। বুজুর্গ একসাথে নয়, প্রতিদিন একটি টাকা ফেলতে বলেছিলেন, যাতে ধীরে ধীরে অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। প্রকৃত পরিবর্তন রাতারাতি আসে না, ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলনেই আসে।
০৪. রুটি চোরের পরিনতি।
এক ব্যক্তি হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে সফরে রওয়ানা হলো। হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে তিনটি রুটি ছিল। একটা নদীর তীরে পৌছে তিনি আহার করলেন এবং পানি পান করার জন্যে নদীতে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন অবশিষ্ট রুটিটি নেই। তিনি সে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, “রুটি কে নিয়েছে?” লোকটি বললো, “আমি জানিনা।”

হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। রাস্তা চলতে চলতে যখন ক্ষুধার উদ্যেক হলো তখন তিনি দূরে একটি হরিণী দেখলেন। হরিণীর সঙ্গে দুটি বাচ্ছা ছিল। তিনি একটি বাচ্ছাকে ডাকলেন। বাচ্ছাটি কাছে আসলো। তিনি বাচ্ছাটিকে জবাই করলেন এবং গোশত ভূনা করে সে লোকটিকে নিয়ে আহার করলেন। অতঃপর বললেন, “আল্লাহর হুকুমে জীবিত হয়ে যাও।” সঙ্গে সঙ্গে হরিণের বাচ্ছা জীবিত হয়ে চলে গেল।
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে বললেন, “এ হরিণের বাচ্ছা জীবিত হয়ে যাওয়ার মোজেযা যিনি দেখালেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি, তুমি বল রুটিটি কে নিয়েছে?। লোকটি বললো, “আমি জানি না।”
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। পাহাড় থেকে ঝর্না হয়ে নেমে আসা একটি নদী সামনে পড়লো। তিনি লোকটির হাত ধরে পানির উপর হেঁটে নদী পার হলেন।
অতঃপর তিনি বললেন, “যিনি বিনা নৌকায় নদী পার হওয়ার এ মোজেযা দেখালেন তার কসম দিয়ে বলছি, তুমি বল রুটি কে নিয়েছে?” লোকটি আগের এ জবাব দিল, “আমি জানিনা।”
হযরত ঈসা (আঃ) এক জঙ্গলের কাছে পৌঁছে বালি জমা করলেন। যখন এক বিরাট বালির স্তূপ হয়ে গেল তখন সে স্তূপ কে লক্ষ্য করে বললেন, “আল্লাহর হুকুমে সোনা হয়ে যাও।” তখনই বালির স্তূপ টি সোনায় পরিণত হয়ে গেল।
হযরত ঈসা (আঃ) সে সোনাকে তিন ভাগ করলেন এবং লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন, “এ তিন ভাগ সোনার মধ্যে এক অংশ আমার, আর এক অংশ তোমার এবং অপর অংশটি যে রুটি নিয়েছে তার।” একথা শুনে লোকটি বলে উঠলো, “রুটি তো আমিই নিয়েছিলাম।” হযরত ঈসা (আঃ) বললেন, তাহলে সব সোনাই তোমাকে দিলাম; এ বলে লোকটা থেকে পৃথক হয়ে চলে গেলেন।
লোকটি তিন ভাগ সোনার সবগুলোর মালিক হয়ে মনের আনন্দে জঙ্গলের ধারেই অবস্থান করতে লাগলো। এমন সময় দুই ব্যক্তি এসে তার সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলো। লোকটি বললো, “লড়াই করলে হেরে যাওয়ার ভয় সবারই আছে। তাই লড়াই না করে এসো আমরা এ সোনা সমান তিন ভাগ করে নেই।
তোমরা একজন বাজারে গিয়ে কিছু খাবার নিয়ে এসো। ক্ষুধা নিবৃত্তি করে সোনা ভাগ করব ।” সুতরাং লোকটির প্রস্তাবে তারা রাজি হলো এবং সে দুজনের মধ্যে একজন খাবার আনতে বাজারে গেল এবং মনে মনে ভাবলো, খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে দিলে এ দুজন মারা যাবে সমস্ত সোনা আমার হয়ে যাবে। এ ভেবে সে খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে দিল।
এদিক এরা দুজনে পরামর্শ করলো, এ তৃতীয় ব্যক্তিটিকে যদি মেরে ফেলা হয় তবে সমস্ত সোনা তাদের দুই জনের ভাগে বেশী করে পড়বে। তাই লোকটি বাজার থেকে ফিরে আসতেই তাকে মেরে ফেলতে হবে। সুতরাং লোকটি যখন খাবার নিয়ে ফিরে আসলো তখন দুজন মিলে তাকে হত্যা করলো এবং মনের আনন্দে খাবার খেতে লাগলো। খাবার খাওয়া শেষ হতে না হতেই বিষের প্রতিক্রিয়ায় দুজন সেখানে মৃত্যুবরণ করলো।
সোনার তিনটি স্তূপই সেখানে পড়ে রইল। কেউ পেল না। তিন জনের লাশই সোনার স্তূপের পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রইলো। ঘটনা ক্রমে হযরত ঈসা (আঃ) আবার সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এ দৃশ্য দেখে সবাইকে ডেকে বললেন, “দেখ সম্পদের হাকীকত এই। এর লোভ থেকে নিজেকে বাঁচাও। উৎসঃ (কাসাসুল আউলিয়া, খন্ড-৭,পৃষ্ঠা-১০০১)
শিক্ষা: এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে, সম্পদের লোভ মানুষকে এতটাই অন্ধ করে দিতে পারে যে সে নিজের জীবন বিপন্ন করতেও দ্বিধা করে না। মিথ্যা বলে সত্য আড়াল করার চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, কারণ আল্লাহ সবকিছু জানেন। লোভ ও সম্পদের মহব্বত থেকে নিজেকে হেফাজত করাই আমাদের কর্তব্য।
আরও পড়ুন: কৃতজ্ঞতার উত্তম প্রতিদান (তিন ব্যক্তির ঘটনা)
০৫. সৈয়দ বড় না আলেম বড়?
আদব –আখলাকের ব্যাপারে আল্লাহওয়ালাগণ হলেন সুন্দর আদর্শ। সব কিছুকেই যথা নিয়মে মর্যাদা দিয়ে থাকেন। আমাদের হাজী সাহেব (রহঃ) আলেম, সৈয়দ এবং বৃদ্ধদের খেদমত গ্রহন করতেন না। তাদের এ গুণের প্রতি বিষেশ ভাবে আদব দেখাতেন, করতেন।
হযরত মাওলানা শাহ আযীয (রহ) কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, “হুজুর! আলেম উত্তম না সৈয়দ উত্তম?”
মাওলানা আব্দুল আযীয বললেন, “এ কথা আমরা বলতে পারি যে তুমি একজন অশিক্ষিত সৈয়দ আমাদের কাছে এনে দাও, আমরা তাকে দশ বছরে আলেম বানিয়ে দিব। আর আমরা তোমাকে একজন অ- সৈয়দ দিব, তুমি বিশ বছরে সৈয়দ বানিয়ে দিও দেখি।”
কত অদ্ভুত জবাব! তুলনা করে বুঝিয়ে দিলেন, অথচ সৈয়দ বংশেরও বেয়াদবী হলো না আবার আলেমকেও ছোট করা হলো না। উৎসঃ (আল- এফাযাতুল য়্যাওমিয়্যাহ, খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৭৫)
শিক্ষা: মাওলানা আব্দুল আযীয (রহঃ)-এর জবাব শেখায়, কীভাবে প্রজ্ঞা ও ভারসাম্য বজায় রেখে কাউকে ছোট না করেই সত্য তুলে ধরা যায়। বংশীয় মর্যাদা ও ইলমি মর্যাদা—দুটোই সম্মানের বিষয়, এবং কথা বলার সময় আদব-আখলাক বজায় রাখাই একজন আল্লাহওয়ালার পরিচয়।
০৬. আল্লাহর নামের আদব।
বর্তমান যুগের দুনিয়া থেকে আদব-কায়দা প্রায় নেই বললে চলে; তাই মানুষের মধ্যে এত পেরেশানী, বে-বরকতী এবং হতাশা। সুতরাং পরস্পর আদব ও সম্মান খুবই জরুরী। আল্লাহর নামেরও আদব করা উচিৎ। যেমন ‘আল্লাহ’ নামের আদব করেছিলেন টোকের নওয়াব।
টোকের নওয়াব সাহেব তাঁর আরামের জন্যে একটি সুন্দর বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দিলেন। নির্মাণকারী নওয়াব সাহেবের দীনদারীর প্রতি খেয়াল রেখে তাকে খুশি করার জন্য বাড়ির শীর্ষে ‘আল্লাহ’ শব্দটি লিখে দিল। বাড়ি বানানো শেষ হলে নওয়াব সাহেব বাড়িটি দেখতে আসলেন।
নওয়াব সাহেব দেখলেন আল্লাহর পবিত্র নামটি বাড়ির শীর্ষেদেশে অবস্থান করছে। তিনি বললেন, “এ বাড়িতে বসবাস করা যাবে না। এ বাড়িতে বসবাস করলে আল্লাহর নামের বেয়াদবী হবে। এ বাড়িতে এখন আদব করার স্থান হয়েছে। এখানে সে এ বাড়ি থাকতে পারে যে সব সময় ‘আল্লাহ-আল্লাহ’ করতে পারবে। এটা এখন থেকে ইবাদতের ঘর হবে। বসবাসের জন্য আরেকটি বাড়ি নির্মাণ করা হউক।”
অতঃপর নওয়াব সাহেব এ বাড়িতে এসে শুধুমাত্র নামায পড়তেন এবং ইবাদত বন্দেগী করতেন। একেই বলে আদব। আদব যার অন্তরে স্থান করে নিয়েছে সে আল্লাহ নামের যেমন আদব করে তেমনি তাঁর মাখলুকের আদব করতেও ভুলে যায় না। দুনিয়ার সুখ ও শান্তি তারাই ভোগ করে। পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে অনাবিল সুখ-শান্তি। উৎসঃ (আল-এফাযাতুল য়্যাওমিয়্যাহ, খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-১৭৯)
শিক্ষা: আল্লাহর নাম ও পবিত্র বিষয়ের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। নওয়াব সাহেব শুধু আল্লাহর নামের আদব রক্ষার জন্য নিজের আরামের বাড়িটি ইবাদতখানা বানিয়ে দিয়েছিলেন। যার অন্তরে প্রকৃত আদব থাকে, সে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিও আদব করতে ভোলে না, আর সে-ই দুনিয়া-আখিরাতের শান্তি লাভ করে।
০৭. বেদআতী মোল্লার বর্ণনা!
যারা বেদআত পন্থী তাদের মধ্যে দীনী শিক্ষাও থাকে না, দীনও থাকে না। ভিক্তিহীন মনগড়া অনেক কথা আবিস্কার করে সেগুলো হেকে বেড়ায়।
যাতে অজ্ঞ লোকদের মধ্যে সহজে প্রভাব বিস্তার করা যায়। তাদের উদ্দেশ্য হলো হালুয়া-রুটি। রসনার তৃপ্তির জন্যেই এ সকল ভন্ডামি চলছে। এরা নিজের দীনকে খাবার করেছে এবং মানুষকে গোমরাহ করেছে। এরূপ এক বেদাআত পন্থীর ঘটনা শোনা গেছে এক গ্রামে।
সে গ্রামে একটি মসজিদ ছিল। সে মসজিদে এক মোল্লা থাকতো। এক বুড়ি সওয়াবের আশা করে কিছু খাবার রান্না করে নিয়ে গেল মসজিদের মোল্লাকে খাওয়াবে বলে। মসজিদে গিয়ে দেখেন মোল্লা নেই। সেখানে একজন মুসাফির অবস্থান করছিল।বুড়ি প্রথমে মোল্লা মোল্লা বলে আওয়াজ দিল। কিন্তু মোল্লার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বুড়ি ভাবলো-খাবার খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে হলো সওয়াব লাভ করা। এ মুসাফিরকে দিলেও তো সওয়াব লাভ হবে। তাহলে এ মুসাফিরকেই খাবার দিয়ে দিই। একথা ভেবে খাবার গুলো মুসাফিরকে দিয়ে ফিরে চললো।
মসজিদ থেকে বের হতেই দেখলো মোল্লা এসে গেছে। বুড়িকে জিজ্ঞেস করলো, ‘কি জন্যে এসেছিলে?’ বুড়ি বললো, কিছু খাবার এনেছিলাম তোমাকে না পেয়ে মুসাফিরকে দিয়ে গেলাম। একথা শোনা মাত্রই মোল্লা সাহেবের গায়ে যেন আগুন জ্বলে উঠলো। ভাবলো, এ দেখি এক নতুন রাস্তা তৈরী হচ্ছে। এখানেই এটা বন্ধ করে দিতে হবে। না হলে আমার অস্তিত্ব থাকবে না।
সুতরাং সে মসজিদে এসে হাতে একটি লাঠি নিয়ে মেঝেতে সজোরে আঘাত করতে লাগলো। সারা মসজিদে পাগলের মত ছোটাছুটি করে লাঠির আঘাত করতে করতে অবশেষে ধরাস করে পড়ে গেল এবং মেঝেতে হাত-পা শটান করে শুয়ে পড়লো।
আরও পড়তে পারেন : ব্যথিত হৃদয় (ইসলামিক উপন্যাস ১)
‘কি হলো, কি হলো’ বলে সারা গ্রামের লোক মসজিদে গিয়ে হাজির। মোল্লাকে ধরাধরি করে টেনে তুললো। এরপর জিজ্ঞেস করলো, ‘কী হয়েছে মোল্লাজী, তোমার কী হয়েছে?’ মোল্লা বললো, ‘এই গ্রামে আর আমার থাকা হবে না।’ গ্রামের লোকেরা কারণ জিজ্ঞেস করলো। মোল্লা সাহেব বললো, ‘আমি এখানকার সব মৃতকে চিনি। মুসাফির সবাইকে চেনে না। তাই খাবার বিতরণ করার সময় অন্য গ্রামের মৃতদেরকে দিয়েছি, প্রকৃত হকদার কিছুই পায়নি। মুসাফির বুঝতে পারেনি বলে তাকে কিছু বলেনি। কিন্তু যখন আমি আসলাম তখন সকল মৃত ব্যক্তি আমাকে ঘিরে ধরলো। আমি এতে ভয় পেলাম, এ লাঠি মারলাম আর বললাম, যখন আমার হাতে খাবার দেয়নি তখন তোমাদের হাতে খাবার দেব কিভাবে? কিন্তু আমার একটি কথাও শুনলো না, সবাই আমাকে চিৎ করে ফেলে দিয়ে বুকের উপর চড়ে বসলো। তোমরা যদি এসে না ধরতে তবে আমার প্রাণ বধ করে ছাড়তো। কিন্তু তোমরা এভাবে আমাকে কতদিন রক্ষা করবে। তাই আমার এখান থেকে চলে যাওয়াই ভাল।’
একথা শুনে গ্রাম বাসী একেবারে অসহায় হয়ে পড়লো। তারপর সবাই একমত হয়ে বললো, ‘কোথায় যেয়ো না, এখন থেকে তোমার হাতেই সব খাবার দেওয়া হবে।’ এসব ভিক্তিহীন কথায় লোকগুলকে বশ করে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করে নিল বটে, কিন্তু একটুও ভাবলো না যে, লোকগুলো এরূপ বিশ্বাসের মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে না-কি গোমরাহীর গভীর অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।
শিক্ষা: ভিত্তিহীন কথা ও মনগড়া কাহিনী রচনা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং দ্বীনকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম বানানো একটি গুরুতর প্রতারণা। কোনো কথা বা ঘটনা শোনার সাথে সাথে বিশ্বাস না করে দ্বীনের সঠিক জ্ঞানের আলোকে তা যাচাই করাই এ থেকে শেখার বিষয়।
এ সকল জাহেল বেদআতী মোল্লাদের কারণেই এরা অনেকের দৃষ্টিতে তুচ্ছ এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ নীচের ক্ষীর খাওয়ার ঘটনাটি পড়ুন।
০৮. ক্ষীর খাওয়ার ঘটনা।
একজন স্ত্রী লোক কিছু ক্ষীর রান্না করেছিল। সবাই খাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া ক্ষীরগুলো উঠানের এক কোনায় একটি পাত্রে রেখে দিল। অতঃপর তার ছোট ছেলেটিকে বললো, ‘যা এগুলো মসজিদের মোল্লাকে দিয়ে আয়।’
ছেলেটিকে যখন ক্ষীর নিয়ে গেল তখন, কতকাল পরে না-জানি মোল্লা ক্ষীর দেখতে পেয়েছিল; তাড়াতাড়ি এর হাত থেকে নিয়েই সে ক্ষীর খেতে শুরু করে দিল। ছেলে বললো, ‘মোল্লাজী ওপাশ থেকে খাবেন না, ওপাশে থেকে কুকুর খেয়েছে।
একথা শুনে মোল্লাজী ঘৃণা এবং রাগে হাত থেকে পাত্রটি ছুঁড়ে ফেলে দিল। মাটির পাত্রটি ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে গেল। ছেলেটি ভয়ে কাদতে লাগলো। মোল্লা জিজ্ঞেস করলো, তুই কাঁদছিস কেন? ছেলেটি বললো, ‘বাসনটি ভেঙ্গে ফেললেন, মা আমাকে মারবে। মোল্লা বললো, কুকুর খাওয়া বাসন ভেঙ্গে গেছে তো তাতে মা মারবে কেন? ছেলেটি তখন বললো, ওটা আমার ছোট ভাইয়ের গু ফেলার পাত্র। উৎসঃ ( আল-এফাযাতুল ইয়াউমিল্যাহ, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১২১)
শিক্ষা: এই মজার ঘটনা হাস্যরসের মধ্য দিয়ে এক গভীর সত্য তুলে ধরে—লোভ ও তাড়াহুড়ো শেষ পর্যন্ত মানুষের আসল রূপ প্রকাশ করে দেয়। ভেবেচিন্তে কাজ না করার পরিণতি কতটা লজ্জাজনক হতে পারে, তা এই গল্প হাস্যরসের আড়ালে বুঝিয়ে দেয়।
০৯. শিয়া ও সুন্নীর পার্থক্য।
জালালাবাদ একবার নবী করীম (সাঃ)-এর কথিত জুব্বা মোবারক এর প্রদর্শনী হচ্ছিল। সেখানে কোরআন শরীফের এমন একটি কপিও প্রদর্শিত হচ্ছিল যা হযরত আলী (রাঃ)-এর স্বহস্তে লিখা বলে বর্ণিত ছিল।দর্শনার্থীদের অনেক ভিড় ছিল। সবাই বড় আগ্রহ এবং মহব্বতের সাথে নবী করীম (সাঃ)-এর জুব্বা মোবারক দেখছিল। কারণ সেটা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
কিন্তু একজন শিয়া ভদ্রলোককে দেখা গেল ব্যতিক্রম। তিনি রাসূল (সাঃ)-এর জুব্বা মোবারকের প্রতি আগ্রহী না হয়ে সে কোরআন শরীফের দিকে এত আগ্রহী হয়ে উঠলেন যে চুমা-চাটা শুরু করে দিলেন। জুব্বার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করলেন না। এক সুন্নী ভদ্রলোক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি এ কোরআন শরীফের দিকে খুব মনোযোগী হয়ে পড়েছেন দেখছি!’
শিয়া ভদ্রলোক বললেন, ‘এ কোরআন শরীফ আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রাঃ) পবিত্র হাতে লিখা যে তাই। সুন্নী সাহেব বললেন, আপনি কি বিশ্বাস করেন যে এটা হযরত আলী (রাঃ)-এর নিজ হাতের লিখা?’ শিয়া সাহেব বললেন, ‘এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই।’ সেখানে তখন অনেক লোকের সমাবেশ ঘটেছিল। শিয়া সাহেব সবার সামনে কয়েকবার একথা স্বীকার করলেন যে দর্শনীয় কোরআন শরীফটা হযরত আলী (রাঃ)-এর নিজের হাতের লিখা।
সুন্নী সাহেব সমাবেশকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘তাহলে আজ শিয়া এবং সুন্নী মতবাদের ফয়সালা হয়ে যাক, হকের উপর কে আছে। এ কোরআন যখন হযরত আলী (রাঃ)-এর নিজ হাতে লিখা তখন দেখে নিন এটা সুন্নীদের কোরআনের মত, না শিয়াদের কোরআনের মত। কারণ তোমরা বলছো-কোরআন ৪০ পারা অবতীর্ণ হয়েছিল, সুন্নীরা ১০ পারা গোপন করে ফেলেছে। সে ১০ পারা হযরত (রাঃ) আমাদেরকে দিয়েছেন আমাদের কাছে তা’ আছে। তাহলে তোমাদের কাছে যে কোরআন আছে তা এ স্বহস্তে লিখিত হযরত আলী (রাঃ)-এর কোরআনের সাথে অবশ্যই মিলে যাবে!’
কিন্তু এ কথা শুনে দু কোরআনকে মিলিয়ে দেখার পূর্বেই শিয়া ভদ্র লোকের মুখ শুকিয়ে গেল, তার খাচার পাখী উড়ে গেল, বুক দুরু দুরু করে কাঁপতে লাগলো। কারণ হযরত আলী (রাঃ)-এর নিজ হাতে লিখা কোরআনেও তারা ৪০ পারা দেখাতে পারবে না। অতিরিক্ত অংশ নিজেরাই রচনা করেছে। পবিত্র কোরআন কে না মানার এটা একটা বাহানা মাত্র। উৎসঃ (আল-এফাযাতুল ইয়াউমিয়্যাহ, খন্দ-৪, পৃষ্ঠা-৩৪)
শিক্ষা: ভিত্তিহীন দাবির উপর ভিত্তি করে বিশ্বাস স্থাপন করা শেষ পর্যন্ত নিজের জন্যই বিপদ ডেকে আনে। পবিত্র কুরআনের পরিপূর্ণতা ও হেফাজত নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই—এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। ভিত্তিহীন বিশ্বাসের পরিবর্তে সত্য যাচাই করে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
১০. সাপের তওবা।
একটি সাপের ঘটনা বর্ণনা করছি। আমার কাছে যারা তালীম গ্রহন করতে আসে প্রথমেই আমি কাউকে তিরস্কার করি না। মানুষ যখন আমাকে সুই ফোটায় তখন আমি “উহ!’ করে উঠি মাত্র। সে শব্দটি শোনা যায়। আর যে-লোকটি আমাকে সুই ফোটালো তার শব্দটি শোনা যায় না। ফলে লোক ভাবে আমি জালেম আর লোকটি মজ;লুম। এভাবে লোক মজলুমকে জালেম আর জালেম কে মজলুম মনে করে। তিরস্কার না করার যে-অবস্থা হয় তা নীচের ঘটনাটির দ্বারা বুঝা যাবে।
এক সাপ তার জীবনে কতবার মানুষকে দংশন করেছে আর আল্লাহ কত সৃষ্টিকে কষ্ট দিয়েছে সে চিন্তা করে বিচলিত হয়ে পড়লো। এখন তওবা করে ভাল হয়ে যাবে এ চিন্তা করে সে এক পীর সাহেবের কাছে গিয়ে মুরীদ হলো এবং তওবা করলো যে আর কখনও কাউকে দংশন করবে না।
একথা সমস্ত বন-জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়লো যে সাপটা পীরের কাছে মুরীদ হয়েছে এবং আর কাউকে দংশন করবে না বলে তওবা করেছে। সব জন্তু নিরাপদ হলো। ব্যঙ্গ সে সাপের পীঠে বসে থাকে, ইঁদুর এসে লেজ কামড়িয়ে টানাটানি করে। আর সাপ সবর করে। ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি এসে তার মাংসের কণা ছিড়ে নিয়ে উড়ে যায়। তাতেও সে ছবর করে। পিঁপড়ার দল মনের আনন্দে তার দেহ ফুটা করে রক্ত চুষে নেয়। সে ছবর করে। একদিন পীর সাহেব সে রাস্তা দিয়ে কোথাও যাচ্চছিলেন। দেখলেন সাপটির দেহ ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়েছে। পীর সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, “এ কী অবস্থা তোর?”
সাপ বললো, “হুজুর! এসব আপনার মুরীদ হওয়ার বরকত। জঙ্গলের জন্তুরা আমার তওবা করার কথা শুনে নিশ্চিন্ত মনে আমাকে জুলুম করে চলেছে।’ কিন্তু আমি যে তওবা ভঙ্গ করতে পারি না, তাই ছবর করে চলেছি।
পীর সাহেব বললেন, “আরে নাদান! তোকে আমি ছোবল মারা থেকে তওবা করিয়েছিলাম; ফোস করা থেকে তো তওবা করাইনি? প্রয়োজন বোধে ফোস করে উঠিস। নিজের হেফাজতের জন্যে মাঝে মাঝে ফোঁস করে উঠার প্রয়োজন আছে। আমিও সেরূপ মানুষের বিশৃঙ্খলা আচরণ থেকে বাচার জন্য ফোস করি। যদি এরূপ না করি তবে চারিদিক থেকে লোক আমাকে এভাবে ঘিরে ধরবে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ পড়ে থাকবে। উৎসঃ (আল-এফাযাতুল ইয়াউমিয়্যাহ, খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৫৫)
শিক্ষা: তওবা করার অর্থ নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় বা দুর্বল বানিয়ে ফেলা নয়। ক্ষতিকর কাজ থেকে তওবা করার পরও নিজেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দৃঢ়তা প্রদর্শন করা জায়েজ, এমনকি জরুরি। জুলুম নিঃশব্দে সহ্য করা আর প্রয়োজনে নিজের অধিকার রক্ষা করা—এই দুটোর পার্থক্য বোঝাই এখানকার আসল শিক্ষা।
এরপর পড়ুন: ১০ শিক্ষামূলক টি ইসলামিক হাসির গল্প – পর্ব ৩।
আরও পড়তে পারেন:
০১. দশটি হাসির ও মজাদার খুদে গল্প – পর্ব ১
০২. তিন যুবকের নিয়ত (শিক্ষামূলক ইসলামিক গল্প)
০৩. ফাউ খাওয়ার গল্প-তিন ফাউখোর (হাসির গল্প☺)
০৪. ১০ টি মজাদার ছোট গল্প (ফানি ফেসবুক স্ট্যাটাস)
০৫. উপদেশ মূলক হাসির গল্প – গল্প থেকে শিক্ষণীয় বার্তা
গল্প পড়ুয়া প্রিয় পাঠিক পাঠিকা, আমি আশা করি এই দশটি শিক্ষামূলক ইসলামিক হাসির গল্প গুলো পড়ে আপনার ভালো লেগেছে এবং সাময়িক সময়ের জন্য হলেও আপনি হেসেছেন। আমরা পরবর্তীতে মুচকি হাসির গল্প তৃতীয় পর্ব নিয়ে আসবো। ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকুন এবং এটি আপনার বন্ধুদেরকে পড়াতে শেয়ার করুন।
For more updates, please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.