মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার ৫টি উপায়

মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করা কী ইন্টারনেট জগতে সম্ভব? এতে কোনো রকম জটিলতা আছে? চেষ্টা করলে আমিও ইনকাম করতে পারবো তো? এই সব প্রশ্নের উত্তর হলো – হ্যাঁ, সম্ভব তবে যথেষ্ঠ এবং ভালোভাবে ও সঠিক পথে চেষ্টা ও পরিশ্রম করলে অবশ্যই তা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করতে কে না চায়? বর্তমানে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবাই চায় তার হাতের স্মার্টফোন দিয়ে কিছু টাকা আয় করতে। ১৫-২০ বছর আগে প্রতিটি পাড়া কিংবা মহল্লায় একটি মোবাইলও ছিল না। তখন দেশে খুব কম মানুষই অনলাইনে ইনকাম করতো ও ইন্টারনেটে ইনকামের বিষয়টি জানতো। হাতের নিকট ছিল না কোনো রকম ইন্টারনেট পাশাপাশি ছিল না স্মার্টফোন বা কম্পিউটার। কিন্তু যুগ পাল্টে এখন তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। আর এ যুগে ব্যবসা কিংবা ক্রয়-বিক্রেয়ের জন্য কোনো রকম বাধা নেই। হোক আপনি ঘরে কিংবা বাহিরে, গ্রাম অথবা শহরে, দেশ বা বিদেশ যেখানেই থাকেন না কেন, হাতে থাকা আপনার স্মার্টফোন দিয়েই সকল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।

২০২০-২০২১ সালের গুগল সার্ভে অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাসে প্রায় ৫০০০-৮০০০ হাজার মানুষ গুগলে সার্চ করে কীভাবে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করা যায়। এই জরিপ থেকেই বুঝা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের একটা বিরাট অংশ যা শিক্ষার্থী-শিক্ষক-বেকার ইত্যাদি আছে, যারা সত্যিকার অর্থেই মোবাইল দিয়ে টাকা আয় বা ইনকাম করার একটা সঠিক গাইডলাইন চায়।

আর তাই মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার উপায় গুলো জানাবো আমার আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে। আজকের আমার এই আর্টিকেলের মাধ্যমে বর্তমান সময়ে মোবাইল দিয়ে আয় করার ৫টি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো, যেগুলোর যেকোনো একটি অনুসরণের মাধ্যমে আপনি একটি স্মার্টফোন দিয়েই আয় করতে পারবেন।

আলোচনার সুবিধার্থে প্রথমেই বলে রাখি, ইন্টারনেট জগতে কোনো কিছুই সম্ভব নয় যথেষ্ট এবং সঠিক উপায়ে পরিশ্রম ছাড়া। সুতরাং আজকের ৫টি উপায় দেখা এবং বুঝার পর এই জিনিসগুলো নিয়ে প্রথমে চিন্তা করবেন, তারপর প্রেক্টিস করবেন, এরপর বিষয়টি আমলে নিয়ে সঠিকভাবে কার্যকর করবেন। তবে প্রতিনিয়ত প্রেক্টিস করে যেতে হবে। এবার চলুন স্মার্টফোন ব্যবহার করে যে ৫ টি ‍উপায়ে টাকা ইনকাম করা সম্ভব তার একটি সিরিয়াল চার্ট দেখা যাক।

মোবাইল দিয়ে আয় করার ৫টি উপায় গুলো হচ্ছে:

  • ব্লগিং করে আয়
  • ইউটিউব অথবা ফেসবুকিং করে আয়
  • ফটো এডিট করে আয়
  • অ্যাফিলিয়েট করে আয়
  • ব্যাকলিংক করে আয়

এই ৫টি মাধ্যমে যেকেউ মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে পারবে। তবে একসাথে ৫টি বিষয় কেউ আয়ত্ত্ব করতে পারবে না। সুতরাং অনলাইনের আয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে এখান থেকে যেকোনো একটি বাছাই করতে হবে এবং সর্বোচ্চ পরিশ্রম করতে হবে।

ব্লগিং করে আয়

মোবাইল দিয়ে ব্লগিং করে আয় করা হলো সবচেয়ে সহজ এবং ভালো একটি মাধ্যম। আশা করা যায় একটু চেষ্টা আর আগ্রহ নিয়ে ব্লগিং নিয়ে কাজ করলে সফলতা খুব দ্রুত আসবে।

ব্লগিং করে আয়
অনলাইনে আয়ের অন্যতম একটি উপায় হলো ব্লগিং। ছবি : Stocksanp

ব্লগিং আপনি যেকোনো বিষয় দিয়েই শুরু করতে পারেন। অথবা যেকোনো একটি নিশ সিলেক্ট করেই ব্লগিং শুরু করতে পারেন। আপনি যদি ইংরেজিতে পারদর্শী হয়ে থাকেন, তাহলে ইংলিশে ব্লগিং করতে পারেন। অথবা যদি বাংলা লিখতে পছন্দ করেন, তাহলে বাংলায় ব্লগ করতে পারেন। এটা আপনার ভাষাগত স্কিলের উপর নির্ভর করে। তবে সবচেয়ে বেস্ট ওয়ে হলো আপনার পছন্দের যেকোনো একটি নিশ বা সাবজেক্টের উপর ভিত্তি করে এখন থেকেই ব্লগ শুরু করতে পারেন।

ব্লগ শুরু করার পর যখন নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবে, তখন এডসেন্স কিংবা স্পন্সর দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

এই ক্ষেত্রে, প্রথমে আপনি নিশ সিলেক্ট করুন। তারপর নিশ অনুযায়ী একটি ডিমেইন সিলেক্ট করুন। তারপর কিওয়ার্ড রিসার্চ করে ব্লগিং লেখা শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে সাইটে পোস্ট করে যান, ইনশাআল্লাহ কয়েক মাসের ভিতর সফলতা পাবেন। তবে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এই ক্রম ঠিক রেখে আপনিও শুরু করতে পারেন মোবাইল দিয়ে ব্লগিং করা। এটি আয় করার একটি সহজ ও ভালো একটি মাধ্যম।

ইউটিউব ও ফেসবুকিং করে আয়

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত এবং পরিচিত প্লাটফর্ম হলো ইউটিউব ও ফেইসবুক। এই দুই মাধ্যমেই মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করা সম্ভব। তবে এই ক্ষেত্রেও সেইম পূর্বের বিষয়ের কন্ডিসান জড়িত। অর্থাৎ ধৈর্য ও চেষ্টা উভয়টাই করে যেতে হবে।

যৌথভাবে একই কন্টেট দুইটি প্লাটফর্ম চালানো যায়। এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার বিষয় বা নিশ দুইটি খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমানে অনেক বিভিন্ন ধরনের কনেটেন্ট ক্রিয়েট করে থাকে। কেউ প্রেঙ্ক, শিক্ষামূলক ভিডিও, কেউ বাংলা সকল ধরনের টিপস – Bangla Tips , কারিগরি ভিডিও অথবা বাস্তবিক জীবনের দক্ষতাকে ফেইসবুক কিংবা ইউটিউবের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলে।

বিষয় সিলেক্ট করার পর আপনাকে সেই নিশের উপর কনটেন্ট ক্রিয়েট করতে হবে ভিডিও আকারে। ভিডিও যাতে কোনো ভাবেই কপিরাইট না হয় অর্থাৎ অন্যের ভিডিও কোনো ভাবেই আপলোড করা যাবে না। আপনার তৈরিকৃত ভিডিও নিয়মিত আপলোড করে গেলে ইনশাআল্লাহ কয়েকদিন বা কয়েকমাসের মধ্যেই ভিডিওর ভিউ এর মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব।

প্রথমে নিশ বা বিষয় সিলেক্ট করুণ। সে বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে ভিডিও তৈরি করুণ এবং তা ফেইসবুক ও ইউটিউবে আপলোড করে যান। ফেইসবুক ও ইউটিউবের মনিটাইজের শর্ত পূরণ হলে মনিটাইজের জন্য আবেদন করুণ। আবেদনের পর আপনার মনিটাইজ অন হয়ে যাওয়ার পর থেকে যত ভিউ আসবে ততো আপনার ইনকাম বাড়বে। আর ইউটিউবিং কিংবা ফেইসবুকের পেইজের মাধ্যমে এইভাবেই টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

ফটো এডিটিং করে আয়!

ইন্টারনেট জগতে দিন-দিন ফটো বা ছবি এডিটিং এর চাহিদা বাড়ছে। এবং এই ট্রেন্ডটা দিন দিন বাড়তেই থাকবে। তাই এই ফিল্ডে ফটো এডিট করে আয় করার একটা বড় সুযোগ থেকেই যায়। আর এটা মোবাইল এবং পিসি উভয় যন্ত্রাংশেই সম্ভব।

আলোচনা যেহেতু মোবাইল নিয়ে, তাই মোবাইলের বিভিন্ন রকম ফটো এডিট করা সফটওয়্যার নিয়ে আলোচনা করা যাক। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবি এডিট করা সফটওয়্যারগুলো হলো Picsart, Pixalab, Snapseed, Lightroom, Prisma ইত্যাদি। এই অ্যাপসগুলোর মাধ্যমে ভালো কনফিগারের যেকোনো একটা মোবাইল দিয়ে ফটো এডিট করা যাবে। ইন্টারনেটে অনেকগুলো মার্কেট আছে। যেমন, ফাইবার, ফটোস্টক ইত্যাদি । এসব সাইটে কন্টাকে কাজ নিয়ে ফটো এডিটের কাজ করতে পারা যায় এবং আপনার সময় মতো ফটো এডিট করে ফটোস্টক এ রেখে দিলে কোনো বায়ারের পছন্দ হলে সেটা আপনার থেকে ক্রয় করে নিবে।

উক্ত উপায়ে মোবাইল দিয়ে সম্পূর্ণ কাজ সম্পাদন করা সম্ভব। প্রথমেই আপনাকে ইউটিউবে কয়েকটা ফটো এডিটের কাজ দেখতে হবে। এরপর মার্কেটপ্লেসের অন্যদের কাজ দেখে আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে। এই ভাবে উৎসাহের সাথে কিছুদিন কাজ করলে অল্প কয়েকদিন পর ভালো এবং সফল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক।

অ্যাফিলিয়েট করে আয়

অ্যাফিলিয়েট হচ্ছে অন্যের পণ্য বিক্রয় করে লভ্যাংশ লাভ করা। আর এখন মোবাইল দিয়েও অ্যাফিলিয়েট করা সম্ভব। আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে, ইনস্ট্রাগ্রাম দিয়ে, ইউটিউবের মাধ্যমে, বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট করে টাকা আয় করতে পারবেন। আর এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনকে ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট করতে পারেন।

এই ফিল্ডে কাজ করার জন্য আপনার নিশ অনুযায়ী যেকোনো একটি প্লাটফর্ম বেছে নিবেন এবং ঐ নিশের উপর ভিত্তি করে একটি একাউন্ট তৈরি করবেন। এরপর থেকে টার্গেট অডিয়ান্সকে আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট বা পণ্য সম্পর্কে জানাতে পারেন। ফলাফলসরূপ, টার্গেট অডিয়ান্স যখন প্রোডাক্ট পছন্দ করবে, তখন ঐ প্রোডাক্ট ক্রয় করলে এখান থেকে নির্দিষ্ট একটা লভ্যাংশ আপনি পেয়ে যাবেন। আর অ্যাফিলিয়েট স্মার্টফোনে সম্পূর্ণ রূপে সম্ভব। সুতরাং আপনার হাতের স্মার্ট মোবাইল দিয়েও আপনি অ্যাফিলিয়েট শুরু করতে পারেন।

ব্যাকলিংক করে আয়

এটি প্রথম ব্যাখ্যাকৃত ৪ টি থেকে সামান্য আলাদা। এখানে আপনাকে একজন বায়ার কাজ দিবে, আর আপনি তার নির্দিষ্ট  একটি কাজ করবেন।

আপনাকে এইক্ষেত্রে কয়েকটা সাইটে অ্যাক্টিভ থাকতে হবে। যেমন ফাইবার, ফ্রিল্যান্সার, আপওয়ার্ক ইত্যাদি। এছাড়াও লোকালি কাজ পাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো প্লাটফর্ম হলো সোশ্যাল মিডিয়াগুলো। আমরা ফেসবুকের অনেক গ্রুপ থেকে এই সব অর্ডার নিতে পারি।

কাজটি মূলত একটি সাইটকে প্রোমোট করার মতো। ধরুণ কারো একটি সাইট আছে, এবং সেই সাইটের লিংকটাকে আপনি বিভিন্ন বড় বড় সাইট কিংবা রিলেবেন্ট সাইটে কমেন্ট বা পোস্ট অথবা প্রোফাইল ক্রিয়েট করতে হয়। সে প্রোফাইলে আপনার সাইটের নামটা উল্লেখ করে পোস্ট করতে হবে।

আর এই শুধু মাত্র ব্যাকলিংক ‍গুলোকে একজন বায়ার কিনে ফলে। রিলেভেন্ট সাইট থেকে আপনার সাইটে ব্যাকলিংক করলে সাইটের গ্রোথ ভালো হয়। আর জাস্ট এই কাজগুলোই আমাদের ক্লাইন্টের সাইটের জন্য বেশ ভালো। এই কাজটটি ক্লায়ানন্টের সাইটের অথরিটি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আর এই ব্যাংকলিঙ্কের কাজটি খুব সহজেই মোবাইলের সাহায্যে করতে পারেন।

শেষ কথা, তথ্য নির্ভর এই যুগে উপরোক্ত ৫টি পদ্ধতির যেকোনো একটি দ্ধারা আপনি আপনার মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারেন। তবে সবার আগে অবশ্যই আপনাকে আপনার ইচ্ছা শক্তি জাগ্রত করতে হবে। উক্ত কাজগুলো ছাড়াও আরো অনেক কাজ আছে যেগুলো মোবাইল দিয়ে করা সম্ভব এবং হিউজ পরিমাণ টাকা আয় করাও সম্ভব। আলোচনার সুবিধার্থে আজকে শুধু ৫টি পদ্ধতি নিয়ে কথা বলা হলো। আশা করি এই ৫টি টিপস কাজে লাগিয়ে আপনিও পারবেন মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে।

আরও পড়তে পারেন : হ্যান্ড পেইন্ট : অনলাইনে আয় শখ কিংবা ব্যবসা

For more update please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

1 thought on “মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার ৫টি উপায়”

  1. ধন্যবাদ এমন উপকারী পোস্ট দেওয়ার জন্য। আশা করি, সকল আশাবাদী সকলেই উপকৃত হবে উক্ত আর্টিকেলটি দ্ধারা।

    Reply

Leave a Comment

error: Content is protected !!