মেথি খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

মেথি রান্নাঘরের ছোট্ট বীজ, গুণ কিন্তু বিশাল! জানুন মেথির ৮টি অবাক করা উপকারিতা ও ঘরোয়া ব্যবহারের সহজ নিয়ম।

মেথি কি? 

মেথি খাওয়ার উপকারিতামেথি এক ধরনের গন্ধযুক্ত মসলা। যারা মসলা মেশানো খাবার খান, তাদের রান্না ঘরে মেথির খোঁজ পাওয়া যাবেই। কারণ দোকানে ‘পাঁচ ফোঁড়ন’ চাইলে মেথিও পাওয়া যায়। তাই বলা চলে, সবারই রান্নাঘরে কিছু না কিছু মেথি পাওয়া যাবে।

মেথির স্বাদ খেতে কিছুটা তেঁতো হলেও-এর গুণ অনেক। হজমে, কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে মেথি খাওয়ার উপকারিতা অনেক। এছাড়াও সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, বসন্ত রোগের উপশমে মেথির গুণ অতুলনীয়।

মেথিগাছ সাধারণত এক থেকে দেড় ফুট লম্বা হয়। পাতা হুয় ১ ইঞ্চি লম্বা। আর একই বোঁটায় তিনটি পাতা দেখা যায়।

আশ্বিন-কার্তিক মাসে মেথির বীজ লাগানো হয়। মাঘ ফাল্গুনের মধ্যে মেথি ধরতে দেখা যায়। একটি শুঁটির মধ্যে ১০-১৫টি মেথি থাকে। শুঁটি ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পেকে যায়।


মেথির পুষ্টিগুণ (প্রতি ১০০ গ্রামে)

🔥 ক্যালোরি (kcal) ৩২৩, 💪 প্রোটিন ২৩ গ্রা, 🌾 কার্বোহাইড্রেট ৪৫ গ্রা, 🫀 ফাইবার ২৫ গ্রা, 🦴 ক্যালসিয়াম ১৭৬ মি.গ্রা, 🩸 আয়রন ৩৩ মি.গ্রা। 

৮টি রোগে মেথির ঘরোয়া সমাধান!

সাধারণ রোগ ছাড়াও কিছু কঠিন রোগ সারাতে মেথি ব্যবহার করা যায়। মেথির অনেক ঔষুধি গুণ রয়েছে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক অসুখে মিথি খাওয়ার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম: 

০১. প্রসব-পরবর্তী দুর্বলতা: শিশুর জন্মের পর মা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। এ রকম ক্ষেত্রে মেথি খুব উপকারী। এজন্য প্রথমে ৫ গ্রাম মেথিকে কিছুটা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর রাতে কমপক্ষে আধা সের হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে পরের দিন সকালে ছেঁকে নিতে হবে। এরপরে সারাদিন  একটু একটু করে ওই পানিটুকু খেতে হবে। এতে শরীর হবে ঝরঝরে। আর ক্লান্তি হবে দূর।

০২. অতি কঠিন পেটের রোগঃ যদি সামান্য অনিয়মে পাতলা পায়খানা, আমাশয় ইত্যাদিতে ভুগতে হয়, তবে মেথির চিকিৎসা ভালো উপকার দেয়। এজন্য যত মেথি গুঁড়া তাঁর ৪ গুণ দুধ ও ২ গুণ পানি নিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। পানি শুকিয়ে কমে আসলে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে আবার রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ গ্রাম পরিমান নিয়ে সে সাথে কিছু চিনি মিশিয়ে সকালে ও বিকালে দু’বার খেলে কঠিন পেটের রোগ সেরে যাবে।

০৩. জলবসন্তঃ শরীরে বসন্ত দেখা দিলে কখনো জ্বর হয়। কখনো চুলকানি বা জ্বালা-পোড়া হয়। কখনো-বা বমি বা খাবারে অরুচি দেখা দেয়। এসব সারাতে মেথি ভেজানো পানি খাওয়া যেতে পারে। খেতে  হবে একটু একটু করে সারাদিন। এতে করে গায়ের জ্বালা-পোড়া দূর হবে। গা-হাত-পা ব্যথা কমে যাবে। বমি বন্ধ হবে। আর বসন্তের গুটিগুলো তাড়াতাড়ি বের হয়ে যাবে। ৫-৬ গ্রাম মেথি ১ গ্লাস পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সারাদিন কয়েকবার করে খেতে হবে। ৫-৬ গ্রাম মেথি ১ গ্লাস পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সারাদিনে কয়েকবার করে খেতে হবে।

০৪. উচ্চ রক্তচাপঃ উচ্চ রক্তচাপ হলে মাথাঘোরা, বদহজম, বুক ধড়ফড়ানি, গা টলটল করা ইত্যাদি হতে পারে। এ সময়ে ৫ গ্রাম মেথি আধা লিটার গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সেই পানিটা সারাদিনে কয়েকবার খান। দেখবেন, রোগের অসুবিধাগুলো কেটে যাবে এবং শরীরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে।

০৫. অরুচিঃ যে-কোনো ধরনের অরুচিতেই মেথি খুব উপকার দেয়। এক্ষেত্রে মেথি শাক সিদ্ধ করে পানিটা ফেলে দিয়ে সামান্য লবণ মিশিয়ে আবার চুলায় দিয়ে শাকের ঘন্ট বানাতে হবে। তারপর ঘন্টটা খেলে অরুচি সেরে যাবে। এ ছাড়াও মেথি গুঁড়া আধা গ্রাম পরিমাণ নিয়ে ঠাণ্ডা পানিসহ রোগ একবার করে খেলে অরুচি ভাব আর থাকবে না।

০৬. অনিয়মিত মাসিকঃ মাসিক নিয়মিত না হলে মেয়েরা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। এটা দূর করতে ৩ গ্রাম মেথি ও ৩-৪ গ্রাম ধনে এক সঙ্গে আগের রাতে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সকালে ওই পানিটা ছেঁকে সকালে ও বিকালে দু’বার খেতে হবে। কয়েকদিন খেলেই অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত হবে।

০৭. গেঁটে বাতঃ যাদের গেঁটে বাত আছে, তারা একটু ঠাণ্ডা জিনিস খেলেই গাঁটে গাঁটে ব্যথা হয়। তাদের সুবিধার জন্য আধা গ্রাম মেথি গুঁড়া সকালে ও বিকালে গরম পানিসহ খেলে ব্যথা কমে যাবে।

০৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ হলে মেথি গুঁড়া করে ১ থেকে ২ চামচ নিতে হবে। ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে। এভাবে ১ মাস খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

কীভাবে খাবেন মেথি?

💧 ভেজানো পানি: রাতে ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন — সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি।

🌿 মেথি শাক: শীতকালে বাজারে পাওয়া যায়। ভাজি বা ঘন্ট করে খান — পেটের জন্য উপকারী।

🧂 গুঁড়া হিসেবে:  মেথি রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে সংরক্ষণ করুন এবং পানি বা দইয়ের সঙ্গে খান।

🍛 রান্নায়:  পাঁচ ফোঁড়নের অংশ হিসেবে তরকারিতে ব্যবহার করুন — প্রতিদিনের খাবারেই গুণ পাবেন।


সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: প্রতিদিন কতটুকু মেথি খাওয়া নিরাপদ?

উত্তর: সাধারণত প্রতিদিন ৫–১০ গ্রাম (১–২ চামচ) মেথি নিরাপদ। তবে প্রথমবার শুরু করলে কম দিয়ে শুরু করুন এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখুন। 

প্রশ্ন: মেথি কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?

উত্তর: হ্যাঁ! মেথির উচ্চ ফাইবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

প্রশ্ন: মেথি ভেজানো পানির রং হলুদ হলে কি সমস্যা?

উত্তর: না, হলুদ রং স্বাভাবিক। এটি মেথির প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থের কারণে হয়, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

আরো পড়তে পারেনঃ দারুচিনি খাওয়ার উপকারিতা

Please join our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Tumblr And Youtube channel.

Leave a Comment

Discover more from Amar Bangla Post

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading