মেথি খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

মেথি কি? 

মেথি খাওয়ার উপকারিতা
ছবিঃ মেথি।

মেথি এক ধরনের গন্ধযুক্ত মসলা। যারা মসলা মেশানো খাবার খান, তাদের রান্না ঘরে মেথির খোঁজ পাওয়া যাবেই। কারণ দোকানে ‘পাঁচ ফোঁড়ন’ চাইলে মেথিও পাওয়া যায়। তাই বলা চলে, সবারই রান্নাঘরে কিছু না কিছু মেথি পাওয়া যাবে।

মেথির স্বাদ খেতে কিছুটা তেঁতো হলেও-এর গুণ অনেক। হজমে, কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে মেথি খাওয়ার উপকারিতা অনেক। এছাড়াও সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, বসন্ত রোগের উপশমে মেথির গুণ অতুলনীয়।

মেথিগাছ সাধারণত এক থেকে দেড় ফুট লম্বা হয়। পাতা হুয় ১ ইঞ্চি লম্বা। আর একই বোঁটায় তিনটি পাতা দেখা যায়।

আশ্বিন-কার্তিক মাসে মেথির বীজ লাগানো হয়। মাঘ ফাল্গুনের মধ্যে মেথি ধরতে দেখা যায়। একটি শুঁটির মধ্যে ১০-১৫টি মেথি থাকে। শুঁটি ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পেকে যায়।

টোটকা চিকিৎসায় মেথি খাওয়ার উপকারিতা!

সাধারণ রোগ ছাড়াও কিছু কঠিন রোগ সারাতে মেথি ব্যবহার করা যায়। মেথির অনেক ঔষুধি গুণ রয়েছে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক অসুখে মিথি খাওয়ার নিয়মঃ

০১. শিশুর জন্মের পরে মায়ের দুর্বলতাঃ শিশুর জন্মের পর মা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। এ রকম ক্ষেত্রে মেথি খুব উপকারী। এজন্য প্রথমে ৫ গ্রাম মেথিকে কিছুটা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর রাতে কমপক্ষে আধা সের হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে পরের দিন সকালে ছেঁকে নিতে হবে। এরপরে সারাদিন  একটু একটু করে ওই পানিটুকু খেতে হবে। এতে শরীর হবে ঝরঝরে। আর ক্লান্তি হবে দূর।

০২. অতি কঠিন পেটের রোগঃ যদি সামান্য অনিয়মে পাতলা পায়খানা, আমাশয় ইত্যাদিতে ভুগতে হয়, তবে মেথির চিকিৎসা ভালো উপকার দেয়। এজন্য যত মেথি গুঁড়া তাঁর ৪ গুণ দুধ ও ২ গুণ পানি নিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। পানি শুকিয়ে কমে আসলে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে আবার রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ গ্রাম পরিমান নিয়ে সে সাথে কিছু চিনি মিশিয়ে সকালে ও বিকালে দু’বার খেলে কঠিন পেটের রোগ সেরে যাবে।

০৩. জলবসন্তঃ শরীরে বসন্ত দেখা দিলে কখনো জ্বর হয়। কখনো চুলকানি বা জ্বালা-পোড়া হয়। কখনো-বা বমি বা খাবারে অরুচি দেখা দেয়। এসব সারাতে মেথি ভেজানো পানি খাওয়া যেতে পারে। খেতে  হবে একটু একটু করে সারাদিন। এতে করে গায়ের জ্বালা-পোড়া দূর হবে। গা-হাত-পা ব্যথা কমে যাবে। বমি বন্ধ হবে। আর বসন্তের গুটিগুলো তাড়াতাড়ি বের হয়ে যাবে। ৫-৬ গ্রাম মেথি ১ গ্লাস পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সারাদিন কয়েকবার করে খেতে হবে। ৫-৬ গ্রাম মেথি ১ গ্লাস পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সারাদিনে কয়েকবার করে খেতে হবে।

০৪. উচ্চ রক্তচাপঃ উচ্চ রক্তচাপ হলে মাথাঘোরা, বদহজম, বুক ধড়ফড়ানি, গা টলটল করা ইত্যাদি হতে পারে। এ সময়ে ৫ গ্রাম মেথি আধা লিটার গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সেই পানিটা সারাদিনে কয়েকবার খান। দেখবেন, রোগের অসুবিধাগুলো কেটে যাবে এবং শরীরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে।

০৫. অরুচিঃ যে-কোনো ধরনের অরুচিতেই মেথি খুব উপকার দেয়। এক্ষেত্রে মেথি শাক সিদ্ধ করে পানিটা ফেলে দিয়ে সামান্য লবণ মিশিয়ে আবার চুলায় দিয়ে শাকের ঘন্ট বানাতে হবে। তারপর ঘন্টটা খেলে অরুচি সেরে যাবে। এ ছাড়াও মেথি গুঁড়া আধা গ্রাম পরিমাণ নিয়ে ঠাণ্ডা পানিসহ রোগ একবার করে খেলে অরুচি ভাব আর থাকবে না।

০৬. অনিয়মিত মাসিকঃ মাসিক নিয়মিত না হলে মেয়েরা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। এটা দূর করতে ৩ গ্রাম মেথি ও ৩-৪ গ্রাম ধনে এক সঙ্গে আগের রাতে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সকালে ওই পানিটা ছেঁকে সকালে ও বিকালে দু’বার খেতে হবে। কয়েকদিন খেলেই অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত হবে।

০৭. গেঁটে বাতঃ যাদের গেঁটে বাত আছে, তারা একটু ঠাণ্ডা জিনিস খেলেই গাঁটে গাঁটে ব্যথা হয়। তাদের সুবিধার জন্য আধা গ্রাম মেথি গুঁড়া সকালে ও বিকালে গরম পানিসহ খেলে ব্যথা কমে যাবে।

০৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ হলে মেথি গুঁড়া করে ১ থেকে ২ চামচ নিতে হবে। ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে। এভাবে ১ মাস খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

Photo by : Ajale from pixabay

আরো পড়তে পারেনঃ দারুচিনির উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

Please join our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Tumblr And Youtube channel.

Rubel

Creative writer, editor & founder at Amar Bangla Post. if you do like my write article, than share my post, and follow me at Facebook, Twitter, Youtube and another social profile.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!