জীবন পরিবর্তনের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা

প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত মালেক ইবনে দিনার (র.) ছিলেন শীর্ষ পর্যায়ের মহাসাধকদের একজন। তিনি ছিলেন হযরত হাসান বসরী (র.) এর সমসাময়িক ব্যক্তি। তার অভাবনীয় সুন্দর চেহারা সকলকেই আকর্ষণ করত। অঢেল ধনৈশ্বর্যের অধিকারীও ছিলেন তিনি।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলাে, তার জীবনের প্রথম অংশটি ভাল অবস্থায় কাটেনি। তিনি সারাক্ষণ মদ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। মদ ছাড়া একটি দিন অতিবাহিত করাও তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। অত্যধিক মদ পান করে ঘন্টার পর ঘন্টা কুঁদ হয়ে পড়ে থাকা ছিল তার প্রথম জীবনের নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা।

একজন এতবড় মদ্যপায়ী কিভাবে আল্লাহর অলী হলেন, কিভাবে জগদ্বিখ্যাত বুযুর্গ হলেন, তা জানতে কার না ইচ্ছে করে? কেন, কি কারণে তিনি অতীত জীবনের সমস্ত অপকর্ম থেকে তওবা করে সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন, এ কথা জানার সাধ কার না আছে? তাহলে চলুন জীবন পরিবর্তনের এই বিস্ময়কর ঘটনা‘টি তার নিজের মুখ থেকেই শুনি। হয়তাে বা তার জীবনের এ স্মরণীয় কাহিনী আমাদেরও উপকারে আসতে পারে।

হযরত মালেক ইবনে দিনার (র.) বলেন, আমি প্রথম জীবনে ট্যাক্স আদায়ের কাজ করতাম। তখন আমি মদ পানে অভ্যস্ত ছিলাম। আমার মাদকাসক্তি ছিল অত্যন্ত প্রবল। রাতদিন সব সময় মদ পান করতাম। বিবাহের পর আমার একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করল। মেয়েটিকে আমি যারপর নাই স্নেহ করতাম। তার বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমার স্নেহ মমতাও বৃদ্ধি পেল। স্নেহের আতিশয্যে সর্বদা তাকে সঙ্গে রাখতাম। খুবই আদর যত্ন করতাম। কিছুটা বড় হওয়ার পর প্রায়ই সে আমার হাত থেকে শরাবের পাত্র ছিনিয়ে নিয়ে আমার গায়ে ঢেলে দিত। কিন্তু মায়া-মমতার আধিক্যের কারণে কিছুই তাকে বলতে পারতাম না।

হঠাৎ একদিন সেই মেয়েটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। তার মৃত্যুতে আমার এ ধরায় বেঁচে থাকা বিষাদময় মনে হতে লাগল, বাধ্য হয়েই ধৈর্য ধারণ করতে থাকলাম। তবুও মদ্যপান ও অন্যান্য অশ্লীলতাকে পরিত্যাগ করতে পারলাম না।

এক রাতের ঘটনা। রাতটি ছিল একই সাথে শবে বরাত ও জুমার রাত্রি। সেই পবিত্র রজনীতে ইবাদত তাে দূরের কথা, এশার নামাজও। আদায় করিনি। রাত গভীর হলে অত্যধিক পরিমাণ মদ্যপান করে বেহুশ হয়ে নিদ্রার কোলে ঢলে পড়লাম। দ্রিাভিভূত হওয়ার পর হঠাৎ স্বপ্নে দেখি, মহা প্রতিশ্রুত কিয়ামত কায়েম হয়ে গেছে। লােকজন দলে দলে হাশরের ময়দানে উপস্থিত হচ্ছে। আমিও দৌড়ে গিয়ে তাদের সাথে শরিক হয়ে চলতে থাকলাম।

অনেকক্ষণ চলার পর হঠাৎ কিসের এক শব্দ শুনে আমি পিছনে ফিরে তাকালাম। দেখলাম, এক বিরাট অজগর সাপ তার রাক্ষুসী মুখ বিস্তার করে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আমার দিকে ছুটে আসছে। আমি ভয় পেয়ে সামনের দিকে ছুটতে লাগলাম। সাপটিও আমার পিছনে পিছনে আসতে লাগল। বারবার আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পিছনের দিকে তাকিয়ে উধশ্বাসে দৌড়াতে থাকি। এভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। পাগুলাে সামনে চলতে চাচ্ছিল না। তথাপি জীবন বাঁচানাের তাগিদে দেহের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে সামনে অগ্রসর হতে থাকি।

আমার সমস্ত শক্তি প্রায় শেষ। মনে হলাে, এখনই রাস্তায় লুটিয়ে পড়ব। ঠিক এমন সময় একজন বৃদ্ধের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হলাে । লােকটির সমস্ত দেহ সুগন্ধিযুক্ত মনােরম পােষাকে আচ্ছাদিত। আমি তাকে সালাম দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করলাম। বললাম, অনুগ্রহ পূর্বক এ বিষধর সাপ থেকে আমাকে হেফাযত করুন।

বৃদ্ধ বললেন, আমি অতিশয় দুর্বল। আমার তুলনায় সাপটি অনেক শক্তিশালী। তাকে প্রতিরােধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি সামনে এগুতে থাক। হয়ত মুক্তির কোনাে উপায় পেয়ে যাবে।

লােকটির কথায় এক বুক আশা নিয়ে আবারও চলতে লাগলাম। ভয়ে আমার চেহারা পাংশু বর্ণ ধারণ করেছে। এরূপ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। বােধ হয় জীবনে কোনদিন হয়নি। কিছুদূর চলার পর সামনে একটি টিলা দেখে তাতে আরােহণ করলাম। দেখলাম, সেখানে জাহান্নামের ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। সুবিশাল এলাকা ব্যাপী অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে। আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে উধ্বাকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এ হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে সংজ্ঞাহীন হয়ে আমার পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলাে ।

এদিকে সেই মানুষ খেকো সাপটি আরও দ্রুত আমার দিকে ধেয়ে আসছে। সকল বাধার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ক্রমেই সে আমার নিকটবর্তী হচ্ছে । সেই টিলাতে কোনাে আশ্রয় না পেয়ে নিরুপায় হয়ে আমি আবার ছুটাছুটি করতে লাগলাম। ইতিমধ্যে ঐ বৃদ্ধের সঙ্গে পুনরায় আমার সাক্ষাত ঘটল।

আমি তার কাছে আবারও বড়ই মিনতি সহকারে সাহায্যের আবেদন জানালাম। কিন্তু এবারও সে দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে আপন অপারগতা প্রকাশ করল। বলল, আমি বড় কমজোর। তােমাকে সাহায্য করার কোনাে শক্তি আমার নেই। তুমি ঐ পাহাড়ে যাও। সেখানে মুসলমানদের আমানত সংরক্ষিত আছে। যদি ভাগ্যক্রমে সেখানে তােমার কোনাে আমানত গচ্ছিত থাকে, তবে সেটা হয়ত তােমাকে সাহায্য করতে পারবে।

আমি আবার দৌড়াতে শুরু করলাম। অদূরেই সেই পাহাড়টি অবস্থিত । আমি সেই পাহাড়ের দিকে এগিয়ে গেলাম। পাহাড়ের অতি নিকটবর্তী হলে তথায় অনেকগুলাে মনােরম গৃহ দেখতে পেলাম। গৃহের প্রতিটি দরজা স্বর্ণের তৈরি। তাতে মােতি ও ইয়াকুত পাথরের বিভিন্ন মনমুগ্ধকর নকশা খচিত রয়েছে।

দরজাসমূহের সামনে এক অত্যুজ্জল রেশমী পর্দা ঝুলছে। আমাকে দেখা মাত্রই জনৈক ফেরেশতা তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বলল, পর্দা উঠিয়ে গৃহের দরজাগুলাে খুলে দাও। সম্ভবতঃ এই বিপদগ্রস্থ লােকটির কোনাে গচ্ছিত দ্রব্য এই গৃহে সংরক্ষিত আছে। এ মুহূর্তে তার এ দ্রব্যটি খুবই প্রয়ােজন।

দরজা খােলার সাথে সাথে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় চেহারা বিশিষ্ট কিছু সংখ্যক বালক-বালিকা তথা হতে বেরিয়ে আমার নিকট দৌড়ে এলাে। কিন্তু ততক্ষণে সেই অজগরটি আমার নিকটবর্তী হয়ে আমাকে দংশন করতে উদ্যত হয়েছে। এমন সময় একটি শিশু চিৎকার করে বলল, কি দুর্ভাগ্যের কথা! তােমরা সকলে এখানে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সাপ যে তাকে ধরেই ফেলল।

তার চিৎকার ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা এদিকে ছুটে এলাে। তাদের মাঝে আমার সেই মৃত কন্যাটিও ছিল। সে আমাকে দেখামাত্র কেঁদে উঠে বলল, ইনিইতাে আমার প্রাণপ্রিয় আব্বা। হায়! তিনি তাে এখন মহা বিপদের সম্মুখীন। একথা বলতে বলতে সে তার বাম হাত দ্বারা আমার ডান হাত চেপে ধরল এবং তার ডান হাত দ্বারা ঐ হিংস্র অজগরের গতিরােধ করল।

ইতিমধ্যে সেই অজগরটি অদৃশ্য হয়ে গেলে সে প্রথমে আমাকে সম্মানের সাথে হাত ধরে বসাল। তারপর আমার কোলে বসে দাঁড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে ব্যথিত মনে বড়ই করুণ কণ্ঠে সূরা হাদীদের একটি আয়াতাংশ তেলাওয়াত করল। যার অর্থ নিম্নরূপঃ

“মুমিনদের জন্য কি এখনাে সেই সময় আসেনি, যখন তাদের অন্তরসমূহ আল্লাহর স্মরণ এবং তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্যবাণীতে ভীত প্রকম্পিত হয়ে বিগলিত হবে? -(সূরা হাদীদ ১৬)”। 

কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তেলাওয়াতকৃত এই আয়াতের মর্মার্থ উপলব্ধি করে আমার চোখ দুটো অশ্রুসজল হয়ে উঠল। ভাবলাম, সত্যিই তাে! আমার জীবনের এক বিরাট অংশ মহান আল্লাহর বিরােধিতা করেই কেটে গেল। আমার সামনে যে বিরাট লম্বা সফর রয়েছে, সেই সফরের জন্য আমি কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি? এমতাবস্থায় তাে আমার ভাগ্যে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই জুটবে না। আল্লাহর দেওয়া অসংখ্য নেয়ামত পেয়ে আমি তারই নাফরমানি করছি। এর চেয়ে বড় দুঃখজনক ও অকৃতজ্ঞতার কথা আর কি হতে পারে? যদি আল্লাহ তা’আলা আমাকে সকলের সামনে জিজ্ঞেস করে বসেন, মালেক! তুমি আমার প্রদত্ত নেয়ামতের কি হক আদায় করে এসেছ? তখন তাে জবাব দেওয়ার মতাে কোনাে ভাষাই আমার থাকবে না। হায়! এখন আমার উপায় কি হবে?

এভাবে বেশ কয়েক মিনিট চিন্তা করার পর আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আমার স্নেহের কন্যা! সেই অজগরটি আসলে কি ছিল? সেটি কেনই বা আমাকে দংশন করতে এগিয়ে এসেছিল?

সে বলল, উহা আপনার বদ আমলের ভয়াবহ রূপ। আপনি দিনের পর দিন উহাকে লালন পালন করে এতটাই শক্তিশালী করে ফেলেছেন যে, সে আপনাকে দোজখের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।

অতঃপর সেই বৃদ্ধের পরিচয় জিজ্ঞেস করলে সে বলল, উহা আপনার নেক আমলের শুভরূপ। আপনি উহাকে এত কমজোর ও দুর্বল করে রেখেছেন যে, সে আপনার বদ আমলের সঙ্গে মােকাবেলা করতে পারেনি। আমি তাকে আবারাে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে তােমরা এই পাহাড়ে কি করাে? সে বলল, আমরা মুসলমানদের ছেলে-মেয়ে। কিয়ামত পর্যন্ত আমরা এই পাহাড়ে থাকব এবং আপনাদের প্রতীক্ষায় আনন্দের প্রহর গুনবাে। মৃত্যুর পর আপনারা এখানে আসলে, আপনাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বেহেশতে উচ্চ মর্যাদা প্রদানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে যথাসাধ্য সুপারিশ করব।

এর কিছুক্ষণ পর আমার চক্ষু খুলে গেল। জাগ্রত হওয়ার পর স্বপ্নে দেখা সেই সাপের ভয়ে তখনও আমি কম্পিত ছিলাম। ভাবলাম, মহান আল্লাহ তা’আলা আমার জীবনের গতি পরিবর্তনের জন্যই দয়াপরবশ হয়ে এই ভয়াবহ স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সুতরাং আর দেরী করা যায় না। তাই আমি তৎক্ষণাত অতীত জীবনের সমস্ত গােনাহের কথা স্মরণ করে খুবই অনুতপ্ত হয়ে কায়মনােবাক্যে খােদার দরবারে তওবা করলাম। মদপান থেকে শুরু করে যাবতীয় অন্যায় কর্ম-পরিত্যাগ করে দয়াময় আল্লাহর দিকে ধাবিত হলাম এবং একাগ্রচিত্তে তার ইবাদত বন্দেগীতে মনােনিবেশ করলাম। 

প্রিয় পাঠক! আমাদের সমাজে মালেক বিন দিনারের মতাে লােক অভাব আছে কি? আমাদের মাঝে কি এমন লােক নেই, যারা শুধু মদ্যপান কেন, আরও হাজারাে অশ্লীল-অপকর্মে লিপ্ত আছেন? এমন লােকের সংখ্যাও তাে বােধ হয় কম হবে না, যারা মুসলিম নামধারী হওয়া সত্ত্বেও জীবনে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েনি, যাকাত দেয়নি, হজ্জ্বের উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও হজ্জ করেনি। দুনিয়ার মােহে আচ্ছন্ন হয়ে ধন-সম্পদের বিশাল পাহাড় গড়ে তােলার জন্য এতটাই নিমগ্ন হয়ে পড়েছে যে, মৃত্যুর কথা, কবরের কথা, হাশরের কথা, জান্নাত-জাহান্নামের কথা একেবারেই ভুলে বসেছে।

খােদা না করুন, আপনারা একটু চিন্তা করে দেখেছেন কি? যদি এমতাবস্থায় তাদের মৃত্যু এসে যায়, তবে তাদের অবস্থা কত করুণ হবে? কত কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে? কত যন্ত্রণাদায়ক কষ্ট চোখ বুজে সহ্য করতে হবে? 

আমার প্রাণের ভাইগণ। এখনাে সময় আছে। সময় থাকতে সচেতন হউন। অতীতের সমস্ত অপরাধের কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হয়ে ক্রন্দন করুন। আল্লাহপাক রাহমান-গাফফার। অতি দয়ালু তিনি। আপনি সত্যিকার তওবা করতে পারলে তিনি আপনার গােটা জীবনের পাপরাশিকে মুহূর্তের মধ্যে ক্ষমা করে দিবেন। কেননা তিনি পবিত্র কুরআনে উদ্দীপ্ত কণ্ঠে ঘােষণা করেছেন-

“হে আমার ঈমানদার বান্দাগণ! তােমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়াে না। কেননা (তােমরা উত্তমরূপে ক্ষমা চাইলে তিনি তােমাদের সমস্ত গােনাহকে মাফ করে দিবেন। (মনে রেখ) তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” সুরা যুমার : ৫৩।

অন্য আয়াতে তিনি বলেন,

“হে বিশ্বাসী বান্দাগণ! তােমরা আল্লাহর নিকট খাটি দিলে তওবা কর। হয়ত আল্লাহ পাক তােমাদের যাবতীয় পাপগুলােকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তােমাদের প্রবেশ করাবেন এমন এক জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত।” সুরা তাহরীম : ৮। 

আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে উল্লেখিত ঘটনা ও আয়াতগুলাে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে আজই সঠিক পথে ফিরে আসার তাওফীক নসীব করুন।

সম্মানিত পাঠক! যদি বাস্তবিকই আমরা বিষয়টির গুরুত্ব দেই এবং ইসলামের খেলাফ যাবতীয় কর্ম যেমন- মদ পান করা, সুদ খাওয়া, ঘুষ খাওয়া, মিথ্যা কথা বলা, বেপর্দায় চলাফেরা করা, নামাজ পরিত্যাগ করা, অন্যের উপর জুলুম করা, টিভি, সিনেমা, ভি.সি.আর ইত্যাদি দেখা, জন্ম। বার্ষিকী-মৃত্যু বার্ষিকী, তিন দিনা, ত্রিশা, চল্লিশা, ইত্যাদি বেদআত রেওয়াজ পালন করা, মুসলিম মেয়েদের কপালে টিপ দেওয়া, ১২ই রবিউল আউয়ালে জশনে জুলুছ ও ঈদে মিলাদুন্নবীর নামে অনুষ্ঠান ও মিছিল করা, টাই পরা, বােরকা পরে চেহারা খােলা রাখা, রাশিফল বা গণকের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করা, বেগানা মেয়েদের দিকে দৃষ্টিপাত করা বা তাদের ফটো দেখা, কালাে কাপড় পড়ে কিংবা কালাে ব্যাজ ধারণ। চুলে কালাে কলপ ব্যবহার করা, বাম হাতে কিংবা দাঁড়িয়ে চা-পানি ইত্যাদি পান করা, যে কোনাে প্রাণীর ছবি তােলা, আঁকা বা লটকিয়ে রাখা, বিভিন্ন ডিজাইনের মূর্তি-ভাস্কর্য বানানাে, হরেক রকম প্রাণীর ছােট ছােট মূর্তি সুকেসে সাজিয়ে রাখা ইত্যাদি যাবতীয় মন্দকর্ম ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত সুন্নত তরীকায় জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত হই তবে কি আমরা বিরাট সাফল্য অর্জন করব না? অবশ্যই।-নুযহাতুল বাসাতীন। 

লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম। উৎস : যদি এমন হতাম (সিরিজ ৬) গল্পের বই থেকে সংগ্রহীত। 

প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আশা করি হযরত মালেক ইবনে দিনার (রঃ) জীবনের অবিস্মরণীয় ঘটনা টি পড়ে আপনাদের ভালো লেগেছে। এই প্রখ্যাত বুযুর্গের জীবনের ঘটনাটি আপনার বন্ধুদেরকে পড়াতে এটি শেয়ার করতে ভুলবেন না!  

For more update please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

Leave a Comment

error: Content is protected !!