সঠিক ডিজিটাল থার্মোমিটার চেনার গাইড

হঠাৎ মাঝরাতে বাচ্চার গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে, হাতের কাছে থার্মোমিটার নেই এমন দুশ্চিন্তায় পড়েননি এমন পরিবার কমই আছে। সেই মুহূর্তে সঠিক থার্মোমিটার না থাকায় পুরো পরিবারকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। বর্তমান বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল থার্মোমিটার থাকায় সঠিক থার্মোমিটার বেছে নেওয়া কিছুটা কঠিন।

আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে সঠিক ডিজিটাল থার্মোমিটার বেছে নিতে সাহায্য করবে, তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

থার্মোমিটার এর ধরণ!

আমাদের দেশে এখনো অনেকে সেই পুরোনো কাঁচের বা পারদ থার্মোমিটার খোঁজেন। কিন্তু সত্যি বলতে, ডিজিটাল থার্মোমিটার এখন অনেক বেশি নিরাপদ। পারদের থার্মোমিটার হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেলে বিষাক্ত পারদ ছড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে, যা বাচ্চার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিরাপত্তার খাতিরে এখন ডিজিটাল থার্মোমিটারই সেরা পছন্দ। বাংলাদেশের বাজারে চার ধরনের থার্মোমিটার পাওয়া যায়:

ডিজিটাল কন্টাক্ট থার্মোমিটার: এটি সবচেয়ে সস্তা এবং সহজলভ্য। বগলে, মুখে বা মলদ্বারে রেখে জ্বর মাপা হয়। তবে রিডিং আসতে ৩০-৬০ সেকেন্ড লাগে। দাম ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। বাসায় জ্বর মাপার জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত।

ইনফ্রারেড ফোরহেড বা ইয়ার থার্মোমিটার: কপালে বা কানে ধরলেই এক সেকেন্ডে রিডিং দেয়। স্পর্শ ছাড়াই মাপা যায় বলে ছোট বাচ্চাদের জন্য খুব সুবিধাজনক। দাম ৫০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে।
ফ্লেক্সিবল টিপ থার্মোমিটার: ডিজিটাল কন্টাক্ট থার্মোমিটারের মতোই, কিন্তু ডগাটা নরম। তাই বাচ্চাদের জন্য ব্যবহারে বেশি নিরাপদ। অনেক বাবা-মা এটা পছন্দ করেন।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেম্পারেচার মিটার: এটা বাসা-বাড়িতে জ্বর মাপার কাজে লাগে না। ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ান বা কারখানার কর্মীরা মেশিন বা পাইপলাইনের তাপমাত্রা মাপতে ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশে থার্মোমিটার কেনার আগে যা দেখবেন!

ডিজিটাল থার্মোমিটার চেনার গাইড
বিভিন্ন ডিজিটাল থার্মোমিটার

ব্যবহারকারীঃ ছোট বাচ্চার জন্য ইনফ্রারেড বা ফ্লেক্সিবল টিপ থার্মোমিটার ভালো। বড়দের জন্য সাধারণ ডিজিটাল থার্মোমিটারই যথেষ্ট। বয়স্কদের ক্ষেত্রে যেটা ব্যবহার করা সহজ সেটাই বেছে নিন।

রিডিংঃ যদি প্রতিদিন অনেকজনের তাপমাত্রা মাপতে হয় যেমন অফিসে বা স্কুলে ঢোকার সময়, তাহলে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার নিন। বাসায় মাঝেমাঝে জ্বর মাপার জন্য সাধারণ ডিজিটাল থার্মোমিটারই যথেষ্ট।

বাজেটঃ থার্মোমিটারে বেশি খরচ করার দরকার নেই। ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার একটা ভালো ডিজিটাল থার্মোমিটার বছরের পর বছর চলে। তবে বাচ্চাদের জন্য বা ঘন ঘন ব্যবহারের জন্য একটু বেশি খরচ করে ভালো মডেল নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ওয়ারেন্টি ও ব্র্যান্ডঃ Omron, Microlife, Beurer – এই ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশে বেশ পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য। নন-ব্র্যান্ডের থার্মোমিটার সস্তা হলেও রিডিং সবসময় নির্ভরযোগ্য না।

থার্মোমিটার ব্যবহারে যে ভুলগুলো সবাই করেন!

ভুল জায়গায় মাপাঃ কপালে ঘাম থাকলে বা কানে ময়লা থাকলে রিডিং ভুল আসে। মাপার আগে জায়গাটি পরিষ্কার কর নিন।

পরিবেশ বিবেচনা না করাঃ বাইরে থেকে এসে বা ব্যায়ামের পরপর মাপলে রিডিং বেশি দেখাবে। অন্তত ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন।

থার্মোমিটার পরিষ্কার না করাঃ একাধিক মানুষ একই থার্মোমিটার ব্যবহার করলে প্রতিবার অ্যালকোহল বা স্যাভলন দিয়ে মুছে নিন।

ব্যাটারি চেক না করাঃ কম ব্যাটারিতে রিডিং ভুল আসে। ডিজিটাল থার্মোমিটারে লো ব্যাটারি সিম্বল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বদলান।

কোথায় কিনবেন?

বাংলাদেশে ফার্মেসি ও অনলাইন শপ – দুই জায়গাতেই থার্মোমিটার পাওয়া যায়। তবে অনলাইনে কেনার সুবিধা হলো ঘরে বসেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের থার্মোমিটার কেনা যায়। আপনার বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী কোনটা কিনবেন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ ডিজিটাল থার্মোমিটারের দাম, মডেল ও ফিচার সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন BDStall Thermometer Price পেইজ থেকে।

শেষ কথা!

সঠিক থার্মোমিটার চেনা কঠিন কিছু না, শুধু কার জন্য কিনছেন এবং কী কাজে লাগবে সেটা মাথায় রাখলেই হয়। পারদের থার্মোমিটার এখন আর ব্যবহার করবেন না, ডিজিটাল থার্মোমিটার সস্তা, নিরাপদ এবং ব্যবহারে অনেক সহজ। সঠিক থার্মোমিটার বেছে নিলে আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে। 

আপনি কি ডেঙ্গু জ্বর কতদিন থাকে এবং ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয় কি? জানেন? আপনার ও আপনার পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই আর্টিকেলটি অবশ্যই পড়ুন।

Leave a Comment

Discover more from Amar Bangla Post

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading