স্বামীকে বশ করার ইসলামিক আমল ও দোয়া

স্বামীকে বশিকরণ আমল ও দোয়া
প্রত্যেক নারীর ভিতরেই কামনা-বাসনা থাকে যে তাঁর স্বামীর সাথে একান্ত কোয়ালিটি সময় কাটাতে।

স্বামীদের মধ্যে অনেক স্বামী আছে যারা স্ত্রীকে সময় ও সান্নিধ্য দেয় না অথবা দিতে চায় না। নিজের প্রয়োজন হলে কেবল শুধু স্ত্রীর কাছে যায় এবং প্রয়োজনীয়তা শেষ করে চুপসে যায়। প্রেম-ভাব প্রকাশ ত দূরের বিষয়, অনেক স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে দ্বায় ছাড়ার মতো কথা বলে। স্ত্রীর সঙ্গে মন খুলে কথা বলে না, গল্প করে না এমন কি নিজের সুখ দুঃখ ভাগ করে না।

স্ত্রীর কথা শুনতে আগ্রহী নয়, স্ত্রী স্বামীর কাছে থেকে কি চায় সেদিকে আহমক স্বামীদের লক্ষ্য থাকে না। প্রেম-ভালোবাসাহীন স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া এই অসদ আচরণ স্ত্রীর কাছে কেবল নিজেকে স্বামীর যৌন উপভোগের বস্তু  মনে হয়। যা একজন স্ত্রীকে ভীষম কষ্ট ও পীড়া দেয়।  স্বামীর এই অসদ আচরণ একজন স্ত্রী কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেনা।

তাই প্রেম-ভালোবাসাহীন স্বামীর কাছ থেকে নিজের  ভালোবাসার অধিকার আদায় করতে, স্বামীকে নিজের সান্নিধ্যে আনতে, বহু নারী পীর ফকিরদের কাছে ধরণা দেয়, তাবিজ-কবজ ও তদবিরের পিছনে টাকা পয়সা ব্যয় করে। তাদের সেই প্রচেষ্টা কতটুকু কাজে দেয় সেটা সেসব নারীরাই সঠিক বলতে পারবে। কিন্তু আপনি পীর ফকিরদের পিছনে না দৌঁড়িয়ে স্বামীর প্রেম ভালোবাসা আদায় করতে  কিছু আমলের দ্বারা স্বামীকে বশ করার চেষ্টা করতে পারেন। তাহলে চলুন এবার স্বামীকে বশে আনার প্রয়োজনীয় দোয়া জেনে নেওয়া যাক:

স্বামীকে বশে আনার দোয়া ও আমল!

২ রাকাত নফল নামায বা সালাতুল হাজত পড়িবেন। (উদ্দেশ্য পূরনের নামাজ)

সালাতুল হাজতের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা কাফিরুন ১১ বার পড়িবেন। দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা ইখলাছ ১১ বার পড়িবেন। সালাম ফিরানোর পর দুরুদ শরীফ ৭ বার পড়িবেন। এরপর ইয়া ওয়াদুদু ৩১৩ বার পড়িবেন। তারপর আবারও দুরুদ শরীফ ৭ বার পড়িবেন। পরে মুনাজাত করিবেন। এই মুনাজাতে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে আপনার চাওয়া পাওয়ার বাসনা গুলো তুলে ধরবেন।

দোয়া কবুল হওয়ার ভাল সময়

হাদীস শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে যে, “শেষ রাতে, সুবহে সাদিক, সূর্যোদয়ের সময় ও বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়।”

স্বামীকে বশ করার আমল-তাবিজ সব কিছু নয়!

স্বামীর প্রেম ভালোবাসার পাওয়ার জন্য তাবিজ-কবজ ও আমল সব কিছু নয়। স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা পেতে হলে স্বামীকেও নিজের ভালোবাসা উজার করে দিতে হবে। খোলা মনে নিজের ভাব প্রকাশ করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর কাছে কি আশা করে স্ত্রী হিসেবে জানার চেষ্টা করতে হবে এবং বুঝতে হবে। নিজেকে স্বামীর কাছে সেরা বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। এসব করা ব্যতীত স্বামীর প্রেম ভালোবাসা পাওয়ার জন্য হাতে তসবি নিয়ে জপতে থাকলে কোন কাজ হবে না।

পরামর্শঃ প্রিয় বোন, আপনার স্বামীকে বশে আনার জন্য বা নিজের সান্নিধ্যে রাখার জন্য স্বামী খুশি হয় এমন সব কাজ করুণ। স্বামীকে রাগানো, স্বামীর অগোচরে নয়-ছয় বা মানসিকভাবে আঘাত দিয়ে তাঁর মন জয় করা যাবে না। স্বামীর মন জয় করতে সবচেয়ে ভালো অস্ত্র বা আমল হচ্ছে, ভালোবাসা, যা একজন স্বামীকে মানসিকভাবে শান্তি ও স্বস্তি দেয়। তাই নিজেকে একজন আদর্শ স্ত্রী হিসেবে গড়ে তুলুন। আর তাই এসব জানতে ও শিখতে নিচের একটি আর্টিকেল ও দুইটি বই পড়ুন।

আর্টিকেল ঃ স্বামীকে খুশী করার কাজ ও করনীয়। 

বই ঃ আদর্শ স্বামী স্ত্রী ২ – স্বামী স্ত্রীর শিক্ষনীয় গল্পের বই । 

বইটি একজন আদর্শবান স্ত্রী হওয়ার দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য নারীরা তাদের স্বামীকে কিভাবে বশ করেছেন তাঁর গল্প লেখক তুলে ধরেছেন। তাই আপনি আদর্শ স্বামী স্ত্রী ২ বই টি পড়ুন। 

বইঃ আদর্শ রমণী।

নিজেকে আদর্শ নারী হিসেবে গড়ে  তুলতে এই বইটি পড়ুন। বইটি একজন আদর্শ নারী হওয়ার উপায় ও গুণাবলি তুলে ধরা হয়েছে। বইটি আপনাকে নিজের ঘর ও পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে আপনাকে  ব্যক্তিত্ববান হওয়ার কলা-কৌশল ও উপায় তুলে ধরা হয়েছে। তাই আপনি  আদর্শ রমণী বইটি পড়ুন।

3 thoughts on “স্বামীকে বশ করার ইসলামিক আমল ও দোয়া”

  1. ভালবাসাই পুরুষকে বশ করার প্রকৃতি শক্তি। আপনি যদি আপনার স্বামীকে সত্যিকার্থেই ভালোবেসে থাকেন তবে তিনিও আপনাকে ভালোবাসবেন। তবে দুশ্চরিত্র পুরুষের ক্ষেত্রে সেটি ভিন্ন হতে পারে। আর প্রকৃতার্থে কোনো পুরুষই এক নারীতে আসক্ত নয়, তবে বহু পুরুষ এক নারীতেই থাকে।

    Reply
  2. আমার স্বামী এর মায়ের কথা শুনে আমার সাথে খুব অশান্তি করে😭আমাকে খুবই অশান্তির মধ্যে রেখেছে,,, ওর মায়ের কথায় উঠে আর বসে,, ওর মা যা বলে তাই শুনে,,, আর আমার সাথে অশান্তি করে,,আমাকে আমার বাবার বাড়ি আসতে দেয় না,,,,এখানে আসার কথা শুনলে আরো বেশি অশান্তি করে।

    Reply
    • প্রিয় Boishakhi, আপনার কষ্টের কথা পড়ে সত্যিই মন খারাপ হলো। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া ও সম্মান সবচেয়ে জরুরি। আপনি ধৈর্য ধরে শান্তভাবে স্বামীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করুন, যেন তিনি আপনার অনুভূতিগুলো বুঝতে পারেন। একইসাথে, নিজের আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত কারো সাথে বিষয়টি শেয়ার করুন যাতে আপনি একা না থাকেন। আল্লাহ আপনাকে সহজ পথ দেখান।

      Reply

Leave a Comment

Discover more from Amar Bangla Post

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading