মাতাব্বর! (সমাজতন্ত্রের অণুগল্প)

জমিদারের পুত রতইন্যে কইরে? ঐ. . . রতইন্যে ।

বরাক বাঁশের ফাঁটাছেড়া গলায় ডাকতে ডাকতে জব্বর মাতাব্বর যখন উঠোনে এসে দাড়ায়, তখন কমলা-রতন দু-মুখো চুলার পাড়ে বসে সকিনার সাথে গপ করছিলো।
মাতাব্বর, রতন-কামলাকে এ বাড়িতে পাঠাইছিলো দেড়ঘন্টা আগে, বলে দিয়েছিলো “সকিনা গোসল করে ফয়ফরিষ্কার অইছে কিনা দেইক্যে আ”।
আর রতন এখানে এসে গপ শুরু করে দেয়৷
জব্বর মাতাব্বরের লাল টকটকে বাদুরে চোঁখ দেখে, মাতাব্বর বাড়ির গোমস্তা রতনের শরিরে কাপুনি উঠে যায়।
কাজকামে একটু অনিয়ম হলেই, হাত পায়ে খন্তি পোড়া দাগা দেয় মাতাব্বর।
এ ভুলের মাশুলেও খন্তি পোড়া দাগা খেতে হবে ভেবে, কামলা-রতনের শরীরের লোমগুলো কাঁটা দিয়ে উঠে। সকিনা, মাথায় আঁচল টেনে ভাতের পাতিল নিয়ে ছনঘরের ভেতর চলে যায়। মাতাব্বরের আদেশ পালনে ঘাটতি থাকায়, নিজ মস্তক নিচু করে রতন তখনো ঠাই দাঁড়িয়ে আছে ।
মাতাব্বর, রতনের মাথার সামনের কয়কটা চুলধরে মুখ উঠায়ে বললো,
“কামলার বাইচ্চে কামলা, খড়ায়া রইসচ ক্যারে? যা.. গরুডিরে গোসল করায়া ছানা খাওয়াইস।” কামলা-রতন মাতাব্বর বাড়ির পথ ধরে বাড়িতে চলে আসে।
মাতাব্বর, ছোট ছনঘরের ঝাপ ঠেলে সকিনার ঘরে ঢুকে বলতে থাকে,
“ত্রানের চাউলের লাইগ্যে, আমি তোমার নামডাও লিস্টে দিসি। তোমারে না . . মেম্বারে ৫ কেজি চাউল দিবো!

আরও পড়তে পারেনছেঁড়া ব্লাউজ (নারী নিগ্রহের গল্প)

সকিনা অযত্নেভরা খুশির একটা হাঁসি হেঁসে বললো,
সত্যিনি? মাদবর সাব!
– “হ, সত্যি । ১ কেজি ডাউল ও দিবো।”
দরদি কথার ভেতরে মাতাব্বার এও বললো,
“নীল কাফরটা তোমারে খুব মানাইসে।”
মাতাব্বরের কথা শুনে সকিনা খানিকটা লজ্জা পেয়ে যায়।
জব্বর মাতাব্বরের এ বাড়িতে রেগুলার আশা-যাওয়া, সকিনার জামাই মরার পর থেকেই। সকিনার সরলতা সুযোগ মাতাব্বরের যেহেনের বাইরে না।
যৌন উত্তেজনায় নিস্তেজ শরীরটা টেনেটেনে, প্রথম গিয়ে সকিনার কোমড়ে হাত দেয়। তারপর বিছানায় নিতে বেশি সময় লাগেনি।
মাতাব্বর ত্রান-তাহবিলের ইস্যু নিয়ে, প্রায় সময়-ই-এই বাড়িতে আসে। ছলিয়ে বলিয়ে সকিনার পঞ্চবিশ শরীরে ভাঁজে ভাঁজে সুখও খুঁজে নেয়। সকিনা মাতাব্বরের বড় দেহের ভারটা এক-আধ ঘন্টা সহ্য করে। সেও সুখ খুঁজে পায়, ৫ কেজি চাউল কখনো বা ১ কেজি ডালে।

আরও পড়তে পারেনঃ পরকীয়া – তুমিতো বেজায় দুষ্টু! (অণুগল্প )

প্রিয় পাঠক পাঠিকা, মাতাব্বর গল্প টি বাস্তবতার নিরিখে একটি ছোট গল্প। গল্পটি পড়ে ভালো লাগলে গল্পটি আপনার বন্ধুদেরকে পড়াতে এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে শেয়ার করুন। আপনার মতামত জানাতে কমেন্ট করুন। আপনার উৎসাহ ও সমর্থন লেখক লেখিকাদের আরও সুন্দর ও ভালো লেখনিতে উদ্দীপনা যোগায়। 

For more update please follow our Facebook, Twitter, Instagram , Linkedin , Pinterest , Tumblr And Youtube channel.

Ayesha Tashfi

আসসালামু আলাইকুম। আমি 'তাসফী'। কওমি মাদরাসায় কুদুরিতে পড়াশোনা করছি। লেখালেখি আমার ভাত-কাপড়। না লিখলে যেন পেট'ই ভরে না। সময় পেলেই কাগজ ভরে আজেবাজে লিখি। আমি যা জানি, জানছি তা অন্যদের জানাতে চাই। আপনি যদি আমার লেখা পড়ে আনন্দ পেয়ে থাকেন, তাহলে আমার লিখিত গল্প, আর্টিকেল আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে ফলো করেও রাখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!