ফলের উপকারিতা ও বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ

ফল যা আমরা সকলেই কম বেশি খেয়ে থাকি। ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল সহ নানান পুষ্টিগুণ যা আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেয়। পৃথিবীর বহু দেশে আম কাঁঠাল সহ আরও হরেক রকমের ফল বারোমাস পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ ছয় ঋতু দেশ হবার কারণে গ্রীম্মকালীন ফল শীতকালে পাওয়া যায় না এবং শীতকালের ফল গ্রীম্মকালে পাওয়া যায় না। যার ফলে এসব মৌসুমী ফলের স্বাদ নিতে আমাদেরকে  ঐ নির্দিষ্ট ফলের মৌসুম বা ঋতুকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সম্মানিত প্রিয় ভিজিটর, আজ আমি আপনাদেরকে জানাবো মৌসুমী নানান ফলের উপকারিতা ও পুষ্টিগণ সম্পর্কে যা আপনার ও আপনার পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান পূরণ করবে। তাহলে আসুন শুরু করি…. 

গ্রীম্মকালের ফলের নাম ও উপকারিতা! 

০১. আমের উপকারিতা :

ছবি : গাছে ঝুলন্ত সবুজ রঙ্গের কাচা আম!

বিশ্বজুড়ে আমের কয়েক শতাধিক জাত রয়েছে। বাংলাদেশে “হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, চোষা হাড়িভাঙ্গা, মধুমালতী”সহ আরও নানা জাতের ও স্বাদের আম পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা দিক থেকে আমে আছে প্রচুর ভিটামিন সি বিশেষ করে কাঁচা আমে। আম খাওয়ার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো :

  • আমের মধ্যে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। স্তন ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, কোলন সহ প্রোস্টেট ক্যান্সারকেও প্রতিরোধ করে। 
  • আমে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড আছে যা আমাদের শরীরের অ্যালকালি নামক রাসায়নিকের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। 
  • কোলেস্ট্রল ঠিক সাহায্য করে আম। কারণ আমের মধ্যে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি, ফাইবার ও প্যাকটিন রক্তে থাকায় উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। 
  • আম ত্বকের জন্যও উপকারী। আম ত্বককে ভিতর থেকে পরিস্কার রাখে এবং তারই সাথে ফুসকুড়ি দূর করে ত্বকের উজ্জলতা বাড়ায়।  
  • হিটস্টোক থেকে বাচায় আম। আম শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে শীতল রাখে যার ফলে হিটস্টোক থেকে আমাদের রুক্ষা করে। 
  • আম হজমশক্তি বৃদ্ধি করার এক প্রাকৃতিক ওষুধ। আমে আছে এনজাইম যা প্রোটিন উপাদানগুলোকে সহজেই ভেঙ্গে ফেলতে পারে । যার ফলে খাবার দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং তারই সাথে আপনি বেঁচে যান পাকস্থলীর অনেক রোগ বালাই থেকে। 

সতর্কতা : ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা আম খাওয়ার পূর্বে পুষ্টিবিদের চার্ট দেখে নিন। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে দিনে একটি পাকা আমের অর্ধেক খাওয়ার পরামর্শ হয়। 

০২. কাঁঠালের উপকারিতা!

ছবি : কাঁঠালের কোয়া। ছবিঃ Pixabay

কাঁঠাল শ্রীলঙ্কাসহ বাংলাদেশের জাতীয় ফল। কাঁঠাল কাঁচা কিংবা পাক উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে নানান পদের তরকারী রান্না করে খাওয়া হয়। কাঁঠালের বীজ ভেঁজে ভর্তা ও তরকারি হিসেবেও রান্না করে খাওয়া হয়। কাঁঠাল খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি ফল যা মানবদেহের খুবই উপকারী। কাঁঠালে আছে থায়ামিন,রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক এবং নায়াসিনসহ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান। এছাড়াও কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী। কাঁঠাল খাওয়ার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো…

  • কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ খুবই কম যার ফলে কাঁঠাল ফল খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কম থাকে। 
  • কাঁঠাল উচ্চ রক্তচাপ কমায়। কাঁঠালে থাকা পটাশিয়াম উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনে। ১০০ গ্রামে কাঁঠালে ৩০৩ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম উপাদান থাকে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। 
  • কাঁঠালে থাকা প্রচুর ভিটামিন এ রাতকানা রোগ থেকে আমাদেরকে বাঁচায়। 
  • কাঁঠালের আছে ভিটামিন সি যা মানবদেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমা বৃদ্ধি করে এবং দাঁতের মাড়িকে ষ্কতিশালি করে।
  • কাঁঠালে আছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস যা আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্য প্রতিরোধ করে।
  • কাঁঠালে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা মানবদেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‍্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে এবং তারই সাথে সর্দি কাশি রোগের সংক্রমণ থেকেও বাঁচায়।
  • দুশ্চিন্তা ও স্নায়বিক চাপ কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী ফল।
  • কাঁঠাল বদহজম রোধ করে এবং তারই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে।
  • কাঁঠালে থাকা বিদ্যমান ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম উপাদান হাড়ের গঠন ও হাড় শক্তিশালীকরণে ভূমিকা পালন করে।
  • কাঁঠালের বিদ্যমান থাকা ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনের পাশাপাশি রক্ত সংকোচনের প্রক্রিয়া সমাধানেও ভূমিকা রাখে।
  • শিশুকে ছয়মাস বয়সের পর থেকে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি কাঁঠালের রস পান করালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয় এবং শিশুর প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়।
  • কাঁঠালে থাকা বিদ্যমান খনিজ উপাদান আয়রন দেহের রক্তাল্পতা দূর করে।

উৎস : কাঁঠাল (উইকিপিডিয়া) ও কাঁঠাল খেলে কত উপকার জানেন (একুশে টিভি)

০৩. তরমুজের উপকারিতা :

শরীরে পানির অভাব পূরণে ফলের মধ্যে তরমুজই হলো আদর্শ ফল। ছবি: Jill

গ্রীম্মের তীব্র তাপদাহে শরীরকে ভিতর থেকে শীতল করার আরেকটি উপকারী ফলের নাম তরমুজ। তরমুজ ভিটামিন এ জাতীয় ফল এবং এই ফলে ৯২% পানি, ৬% চিনি ও অন্যান্য ২% উপাদান থাকে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যার দ্বারা শরীরের পানির অভাব পূরণ হয়। এছাড়াও তরমুজে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ,। তাহলে আসুন এক নজরে তরমুজের উপকারিতা সমূহ জেনে নিইঃ

  • তরমুজে আছে ভিটামিন ‘বি৬ যা মস্তিষ্ক সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
  • তরমুজে ক্যারোটিনয়েড উপাদান আছে যা চোখ  ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। 
  • তরমুজে কম ক্যালরি থাকায় অধিক পরিণামে খেলেও ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে না। 
  • এই মৌসুমী ফলটি হৃদরোগীদের জন্য বেশ উপকারী। 
  • আধাপাকা তরমুজের রস টাইফয়েড রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।  
  • তরমুজে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। 
  • তরমুজ চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন সি চুল ও ত্বকে শক্তি সঞ্চার করে। 
  • তরমুজে থাকা লাইকোপেন হার্টকে সুস্থ রাখে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। 

উৎস : প্রথম আলো ও উইকিপিডিয়া। 

০৪. জাম : জামের উপকারিতা!

  • জাম- বায়ু বাড়ায় এবং কফ ও পিত্ত কমায়।
  • গোলাপ জাম- রুচি করে ঠান্ডাগুণ এবং দেরীতে হজম হয়।
  • জামরুল- দেরীতে হজম হয়। বাত ও কফ কমায়।

০৫. লিচু :

নোটঃ আর্টিকেলটি অসমাপ্ত! শীঘ্রই নবায়ন করা হবে। 

1 thought on “ফলের উপকারিতা ও বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ”

Leave a Comment

error: Content is protected !!