বলৎকার ও সমকামিতা: মৌলিক পার্থক্য, শিশু নির্যাতন ও আইনের বিচার

বলৎকার ও সমকামিতার পার্থক্য কি আমরা বুঝি? প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিপূর্ণ সমলিঙ্গের সম্পর্ক আর শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন কি এক বিষয়? অথচ শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেই অনেক সময় অপরাধের বিচারের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষাই বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা কি শিশুর নিরাপত্তার চেয়ে বড় হতে পারে?

টঙ্গীর মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ: যে ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে

ছয়-সাত বছর বয়সী একটি শিশুকন্যাকে চুমু দেওয়া ও যৌন হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের মুখে থাকা শিক্ষককে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমির সজোরে চড় মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে তাঁর প্রতিক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান। তবে ঘটনার পর আলোচনাটি শুধু শিশুটির নিরাপত্তা ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরি, মারধর ও অন্যান্য অভিযোগে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। রুমি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। ২৬ অক্টোবর তিনি সংবাদমাধ্যমকে বার্তা দিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা জানান বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে পরদিন তাঁর অবস্থান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য আসে। ফলে তাঁর দেশত্যাগ এবং এ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সূত্র: Dhaka Tribune, ২৪ ও ২৭ অক্টোবর ২০২৬। আরও পড়ুন

বাবা মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তার আশায় দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বলৎকার ও শিশু নির্যাতনের প্রতিকী কার্টুন
শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে বাবার দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত—একটি প্রতীকী কার্টুন চিত্র। উৎস ফেসবুক থেকে সংগ্রহিত।

এদিকে শিশুটির সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচারিক নিষ্পত্তির আগেই কেউ কেউ ঘটনাটিকে স্বাভাবিক আদর-স্নেহ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। আবার কিছু বক্তব্যে এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে—শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের শাসন করতে পারবেন না, আদরও করতে পারবেন না, তাহলে তাঁরা করবেন কী? অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়নকে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিপূর্ণ যৌনসম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করছেন। কেউ কেউ মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগকে বিদেশে সমকামিতার বৈধতার সঙ্গে মিলিয়ে এমন যুক্তি দিচ্ছেন, যেন একটি বিষয় অন্যটির ব্যাখ্যা বা ন্যায্যতা হতে পারে।

এখানেই মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আসে: একটি শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিপূর্ণ সমলিঙ্গের সম্পর্কের তুলনা কতটা যৌক্তিক? ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা কি কোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের ঊর্ধ্বে? আর কোনো প্রতিষ্ঠানের কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলেই কি পুরো প্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায়?

এসব প্রশ্নের উত্তর আবেগ, বিদ্বেষ কিংবা অনুমান দিয়ে নয়—যুক্তি, প্রমাণ, আইন ও ন্যায়বিচারের নীতির ভিত্তিতে খুঁজতে হবে। এই লেখায় আমরা বলৎকার ও সমকামিতার মৌলিক পার্থক্য, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দেশ-বিদেশের প্রাসঙ্গিক আইন ও মামলার আলোকে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করব।

বলৎকার ও সমকামিতার পার্থক্য কী?

সমকামিতা ও বলৎকার—শব্দ দুটি অনেক সময় একই আলোচনায় ব্যবহৃত হলেও এদের অর্থ ও প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা। একটি মানুষের যৌন অভিমুখিতার সঙ্গে সম্পর্কিত, অন্যটি জবরদস্তিমূলক যৌন আচরণ বা নির্যাতন বোঝাতে প্রচলিত। বিষয় দুটি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে প্রথমে এদের অর্থ ও মৌলিক পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন।

সমকামিতা কী এবং এর প্রকৃতি কেমন?

সমকামিতা বলতে একই লিঙ্গের মানুষের প্রতি আবেগিক, রোমান্টিক বা যৌন আকর্ষণকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ, একজন পুরুষের প্রতি অন্য পুরুষের কিংবা একজন নারীর প্রতি অন্য নারীর আকর্ষণ। এটি মূলত মানুষের যৌন অভিমুখিতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়।

প্রাপ্তবয়স্ক দুজন মানুষের সম্মতিপূর্ণ সমলিঙ্গের সম্পর্ক আর কোনো ব্যক্তির ওপর জোরপূর্বক যৌন আচরণ এক নয়। সমকামী হওয়া মানেই কেউ শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করেন বা যৌন অপরাধে জড়িত—এমন ধারণারও কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। যৌন অপরাধের বিচার করতে হয় ব্যক্তির আচরণ, সম্মতি, বয়স, পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে; যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে নয়।

ইসলামে সমকামিতা সম্পর্কে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি জানতে ABP-তে প্রকাশিত কবিরা গুনাহবিষয়ক এই নিবন্ধটি পড়তে পারেন।

বলৎকার কী এবং এটি কেন অপরাধ?

বাংলা ভাষায় বলৎকার শব্দটি সাধারণত জোরপূর্বক যৌনকর্ম বা যৌন নির্যাতন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে পুরুষ বা বালকের ওপর সংঘটিত যৌন নির্যাতনের বর্ণনায় শব্দটি প্রচলিত। তবে শব্দটির প্রচলিত ব্যবহার এবং আইনে সংজ্ঞায়িত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

যখন কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জবরদস্তি, ভয়ভীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌন আচরণ করা হয়, তখন ঘটনাটির প্রকৃতি অনুযায়ী তা যৌন নিপীড়ন, যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের মতো অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে তার বয়স, ঘটনার ধরন এবং প্রযোজ্য আইনের বিধান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর নীরবতা বা প্রতিবাদ করতে না পারাকে সম্মতি ধরে নেওয়া যায় না।

বলৎকারের শিকার শিশুর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন শুধু শরীরের ক্ষতি করে না; এটি তাদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস, স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। নির্যাতনের ধরন, মাত্রা, সময়কাল, শিশুর বয়স এবং ঘটনার পর সে কতটা সহায়তা পেয়েছে—এসব বিষয়ের ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে। কোনো কোনো শিশু তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক আঘাতের শিকার হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে মানসিক ক্ষত দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়।

শারীরিক ক্ষতি: পায়ুপথ বা যৌনাঙ্গে আঘাত, ব্যথা, রক্তপাত, ক্ষত এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নির্যাতনের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তবে সব নির্যাতনের ঘটনায় দৃশ্যমান আঘাত থাকে না। তাই শরীরে কোনো ক্ষতচিহ্ন না পাওয়া গেলেই নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। [৮]

মানসিক ও আবেগগত ক্ষতি: নির্যাতনের শিকার শিশু ভয়, আতঙ্ক, লজ্জা, অপরাধবোধ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। কারও মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) দেখা দিতে পারে। অনেক শিশু নিজেকে দোষী মনে করে, মানুষের ওপর বিশ্বাস হারায় কিংবা পরিচিত পরিবেশেও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।[৯]

আচরণ ও পড়াশোনায় পরিবর্তন: নির্যাতনের পর কোনো শিশু হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যেতে পারে, পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে, ঘুমের সমস্যা বা দুঃস্বপ্নে ভুগতে পারে। আবার কারও মধ্যে অস্বাভাবিক রাগ, ভয়, মনোযোগের অভাব কিংবা পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা যায়। তবে এসব লক্ষণের অন্য কারণও থাকতে পারে; এগুলো একা যৌন নির্যাতনের প্রমাণ নয়।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: যথাযথ সহায়তা ও চিকিৎসা না পেলে শৈশবের এই অভিজ্ঞতা বড় হওয়ার পরও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। আত্মবিশ্বাসের অভাব, সম্পর্ক তৈরিতে সমস্যা, বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অন্যান্য মানসিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনেও শিশুদের যৌন নির্যাতনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

তবে মনে রাখতে হবে, নির্যাতনের শিকার প্রতিটি শিশুর প্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না। কেউ দ্রুত নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে, আবার কেউ ভয়, লজ্জা কিংবা নির্যাতনকারীর হুমকির কারণে দীর্ঘদিন মুখ বন্ধ রাখে। তাই শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাকে দোষারোপ না করা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। WHO-ও যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব দিয়েছে।

বলৎকার ও ধর্ষণের মধ্যে পার্থক্য কী?

বাংলা ভাষার প্রচলিত ব্যবহারে ধর্ষণ শব্দটি নারীর ওপর জোরপূর্বক যৌনসঙ্গমের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, বলৎকার শব্দটি পুরুষ বা ছেলেশিশুর ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন—বিশেষত পায়ুপথে সংঘটিত নির্যাতন—বোঝাতে অনেক সময় ব্যবহৃত হয়।

তবে এই প্রচলিত ব্যবহারকে কঠোর সংজ্ঞা হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। ধর্ষণ মানেই শুধু যোনিপথে যৌন নির্যাতন আর বলৎকার মানেই শুধু পায়ুপথে যৌন নির্যাতন—এমন সর্বজনীন নিয়ম নেই। পুরুষ ও নারী উভয়েই যৌন সহিংসতার শিকার হতে পারেন। কোনো ঘটনাকে আইনের দৃষ্টিতে ধর্ষণ বা অন্য কোনো যৌন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও ঘটনার প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে।

অতএব, বলৎকার ও ধর্ষণের প্রচলিত শব্দগত পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করা গেলেও, এ দুটিকে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির লিঙ্গ বা যৌন নির্যাতনের ধরন দিয়ে চূড়ান্তভাবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত নয়। আর বলৎকার বা ধর্ষণ—কোনোটিই প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিপূর্ণ সমলিঙ্গের সম্পর্কের সমার্থক নয়। 

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা কেন গ্রহণযোগ্য নয়?

মাদ্রাসা একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের সেখানে পাঠান শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সৎ চরিত্র গঠনের আশায়। তাঁদের বিশ্বাস, ধর্মীয় শিক্ষা সন্তানকে দুনিয়ার পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের পথও দেখাবে। ফলে একটি মাদ্রাসার শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তাঁর ওপর শুধু পাঠদানের দায়িত্বই থাকে না; শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও বিশ্বাস রক্ষার দায়িত্বও বর্তায়।

কিন্তু বাস্তবে কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ড যেন সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। বাড়িতে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তারা মাদ্রাসায় রাতযাপন করে ছোট ছোট ছেলেশিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে—যা ধর্মীয় বর্ণনায় লুত (আ.)-এর কওমের পুরুষদের কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাদের নির্যাতনের থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না মেয়েশিশুরাও। স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এমন বিকৃত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে তারা একদিকে যেমন দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব ও স্ত্রীর অধিকারকে উপেক্ষা করছে, অন্যদিকে শিশুদের জীবন ও শৈশব ধ্বংস করছে। যার কারণে এই ধরনের ব্যক্তিরা সমাজে ‘পায়ুযোদ্ধা’ খ্যাতি অর্জন করেছে এবং এই  শব্দটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গার্থে ব্যবহার হতে দেখা যাচ্ছে। 

সচেতন ব্যক্তিরা ঠিক এই কারণেই মাদ্রাসায় কোনো শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে সেটিকে নিছক একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার প্রশ্ন হিসেবে দেখে না। বরং অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা, শিশুকে নিরাপদ রাখা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে জোড়ালো প্রতিবাদ করে। কারণ উপায় নিয়ে, এতো শত ঘটনার কোনো বিচার মাদ্রাসার কৃর্তপক্ষ করেনি। 

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, কোনো কোনো মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলেই কেউ কেউ একে মাদ্রাসার ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করেন। অথচ সাধারণ স্কুল-কলেজে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলে সেটিকে সচরাচর পুরো শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানো হয় না। তাহলে মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করলেই কেন ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রশ্ন তোলা হবে? কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দাবি থাকলে তারও প্রমাণ দিতে হবে; সেই দাবি দিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

কেউ বলতে পারেন, সাধারণ স্কুল-কলেজেও তো শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। কথাটি সত্য, কিন্তু তা মাদ্রাসার কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগকে খারিজ করে না। একটি প্রতিষ্ঠানে অপরাধ ঘটেছে কি না, তা বিচার করতে হবে সেই ঘটনার প্রমাণের ভিত্তিতে—অন্য কোথাও অপরাধ ঘটেছে কি না, তার ভিত্তিতে নয়। একইভাবে, কোনো মাদ্রাসার একজন শিক্ষক অভিযুক্ত হলেই সব মাদ্রাসা বা সব ধর্মীয় শিক্ষককে অপরাধী বলা অন্যায়। ন্যায়বিচারের নীতি উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

শিশুদের যৌন নির্যাতন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির জন্য নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন।

শিশুদের নির্যাতন ও বিচার: দেশ-বিদেশের কয়েকটি ঘটনা

শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের একক সমস্যা নয়; এটি একটি গুরুতর অপরাধ, যার বিচার হওয়া উচিত আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মতো দেশেও শিশুদের যৌন শোষণ প্রতিরোধে আইন রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের অপরাধে আদালত বিভিন্ন সময়ে কঠোর সাজা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র: শিক্ষকের পদমর্যাদা অপরাধের দায় থেকে রক্ষা করে না

২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাবেক এক হাইস্কুল শিক্ষককে দুই অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌন ছবি ও ভিডিও আদায় করার অপরাধে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।[১] এ ঘটনা দেখায়, শিক্ষকের মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধেও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

মালয়েশিয়া: শিশুদের সুরক্ষায় আইন ও বিচার

মালয়েশিয়ায় শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষার জন্য Sexual Offences Against Children Act 2017 (Act 792) রয়েছে। এ আইনের পাশাপাশি দেশটির প্রচলিত ফৌজদারি আইনেও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের বিচার করা হয়।[২]

২০২৫ সালের আগস্টে মুয়ারের একটি আদালত ছয় ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের দায়ে সাবেক এক মাদ্রাসাপ্রধানকে মোট ১১২ বছরের কারাদণ্ড ও ৩২ বেত্রাঘাতের সাজা দেন। কারাদণ্ডগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার নির্দেশ থাকায় তাঁকে কার্যত সাত বছর কারাভোগ করতে হবে বলে সংবাদমাধ্যম জানায়।[৩] এ ঘটনা দেখায়, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিও অপরাধের দায় প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় আসেন।

বাংলাদেশ: অপরাধ প্রমাণিত হলে আদালতের সাজা

বাংলাদেশেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনায় আদালত কঠোর সাজা দিয়েছেন। ২০২৫ সালের জুনে চট্টগ্রামের একটি আদালত ছয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক নাজিম উদ্দিনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।[৪]

একই বছরের অক্টোবরে চট্টগ্রামে ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে আরেক মাদ্রাসাশিক্ষককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।[৫] ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নড়াইলের একটি আদালত ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক মেরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।[৬]

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সাভারের একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এটি অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন; তাই বিচারিক নিষ্পত্তির আগে অভিযুক্তদের দোষী বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।[৭]

এই ঘটনাগুলো থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, শিশু নির্যাতনের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার অজুহাতে উপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী ঘোষণা করাও ন্যায়বিচার নয়। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ বিচার এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি—সবকিছুই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আইন থাকলেই কি দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়?

আইন থাকলেই যে শিশু নির্যাতনের শিকার প্রতিটি শিশু দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে, এমন নয়। তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জটিলতা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিলম্ব ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন নয়, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং সময়মতো বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।

“হুজুর না থাকলে কী হবে?”—এই যুক্তির জবাব

হুজুর না থাকলে কি হবে? বলৎকার ও সমকামিতার পার্থক্য
শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন ও বলৎকারের ঘটনায় হুজুর না থাকিলে কি হবে তার জবাব এই স্ক্রীনসর্টে আছে।

ধর্মীয় শিক্ষক ও আলেমরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু তাঁদের প্রয়োজনীয়তা কোনো ব্যক্তির অপরাধের অভিযোগকে উপেক্ষা করার যুক্তি হতে পারে না। একইভাবে, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সব আলেম বা মাদ্রাসাশিক্ষককে দায়ী করাও অন্যায়। প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নয়, প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতেই অপরাধের বিচার হওয়া উচিত। এতে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা রক্ষা পাবে, ক্ষুণ্ন হবে না।

শেষ কথা

শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন একটি গুরুতর অপরাধ—তা মাদ্রাসা, স্কুল, পরিবার কিংবা অন্য যেকোনো পরিবেশেই ঘটুক না কেন। কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অপরাধের তদন্ত ও বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না; আবার একজনের অপরাধ দিয়ে পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দোষী করাও ন্যায়সংগত নয়। আমিও তা করতে চাই না। 

একইভাবে, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিপূর্ণ সমলিঙ্গের সম্পর্কের সঙ্গে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনকে এক করে দেখা যুক্তিসংগত নয়। এখানে মূল বিবেচ্য হলো শিশুর নিরাপত্তা, সম্মতি, ঘটনার প্রকৃতি এবং প্রযোজ্য আইন।

শিশুর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তি—কোনো অন্ধ সমর্থন, বিদ্বেষ কিংবা জনতার বিচার নয়। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবার ওপরই সমানভাবে বর্তায়। কোনো প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় পরিচয় বহন করে বলে তাকে জবাবদিহির বাইরে রাখার সুযোগ নেই; সেটি যে ধর্মেরই প্রতিষ্ঠান হোক না কেন। শিশুদের নিরাপত্তা ও তাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।

আরেকটি কথা উল্লেখ না করলেই নয়, অনেক মা-বাবাই সন্তানের অভিভাবক হওয়ার ন্যূনতম দায়িত্বটুকুও যথাযথভাবে পালন করেন না। সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়তে দিলেই যে মা-বাবা নিজেদের ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। শিশুদের ওপর ভর করে জান্নাত লাভের আশা করাও যথার্থ নয়। কারণ, প্রত্যেক ব্যক্তির জান্নাত লাভের পথ নির্ভর করে তার নিজের ঈমান ও আমলের ওপর। সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়তে দিয়ে নিজে পাপাচার, ব্যভিচার কিংবা অন্যের প্রাপ্য অধিকার নষ্ট করে জান্নাতে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তাপত্র ইসলাম দেয়নি। সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের আমল, চরিত্র ও দায়িত্বের প্রতিও মা-বাবাকে যত্নবান হতে হবে।


তথ্যসূত্র ও ফুটনোট

[১] যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ১৮ মার্চ ২০২৬: সাবেক শিক্ষক Kostas Fekkas-কে দুই অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌন ছবি ও ভিডিও আদায় করার অপরাধে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার সংবাদ। মূল সূত্র পড়ুন। ↑ মূল লেখায় ফিরে যান

[২] মালয়েশিয়ার শিশুদের যৌন অপরাধ আইন: Sexual Offences Against Children Act 2017 (Act 792)। আইনটির জন্য মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের চেম্বারের আইনভান্ডার দেখুন। আইনভান্ডার। ↑ মূল লেখায় ফিরে যান

[৩] New Straits Times, ১৮ আগস্ট ২০২৫: ছয় শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে সাবেক মাদ্রাসাপ্রধানের সাজা সম্পর্কে প্রতিবেদন। মূল প্রতিবেদন পড়ুন। ↑ মূল লেখায় ফিরে যান

[৪] বাসস, ৪ জুন ২০২৫: চট্টগ্রামে ছয় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষক নাজিম উদ্দিনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের খবর। প্রতিবেদন পড়ুন। ↑ মূল লেখায় ফিরে যান

[৫] প্রথম আলো, অক্টোবর ২০২৫: চট্টগ্রামে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ডের খবর। প্রতিবেদন পড়ুন। ↑ মূল লেখায় ফিরে যান

[৬] bdnews24.com, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: নড়াইলে ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় শিক্ষক মেরাজ আলীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের খবর। প্রতিবেদন পড়ুন। ↑ মূল লেখায় ফিরে যান

[৭ ] bdnews24.com, সেপ্টেম্বর ২০২৬: সাভারে সাত বছর বয়সী শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ার প্রতিবেদন। এটি অভিযোগসংক্রান্ত খবর, আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। প্রতিবেদন পড়ুন। ↑ মূল লেখায় ফিরে যান

[৮] American Academy of Pediatrics (AAP), The Evaluation of Children in the Primary Care Setting When Sexual Abuse Is Suspected । ↑

[৯] World Health Organization (WHO), Responding to Children and Adolescents Who Have Been Sexually Abused: WHO Clinical Guidelines । ↑

💬 আপনার মতামত জানাবেন?

শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং অপরাধীর বিচার নিয়ে আপনার ভাবনা কমেন্টে জানান।

লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সঙ্গেও শেয়ার করুন। শিশুর নিরাপত্তায় সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে।

2 thoughts on “বলৎকার ও সমকামিতা: মৌলিক পার্থক্য, শিশু নির্যাতন ও আইনের বিচার”

  1. ধন্যবাদ একটি সময়োপযোগি ব্লগ পোস্টের জন্য, লেখাটি বেশ তথ্যবহুল ছিলো। আর সত্যি কথা বলতে কি এরা অভিশপ্ত কওমের পাপাচারকে ছাড়য়ে যাচ্ছে। ওরা তো ঘরে স্ত্রী রেখে পুরুষে পুরুষে যৌনসুখ নিতো আর এই পার্ভেটরা বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েদের সাথে এই পাপাচার শুরু করেছে। আবার ফতোয়া দিচ্ছে কি “বাচ্চা মেয়েদের চুমু দেয়া” ইসলামে হারাম নাকি, বরং জায়েজ। আসলে ঘটনা যা ঘটে তা খুব সামান্যই প্রকাশ্যে আসে। কারণ ধর্মের দোহায় দিয়ে তারা পার পেয়ে যায়। পোস্টের ভিতরে “পায়ুযোদ্ধা” শব্দটি উল্লেখ আছে। তারা ভালোই খ্যাতি অর্জন করেছে বটে। ফেসবুকে ভালোই আলোচিত হচ্ছে শব্দটি। দেশের মানুষ এখন পার্থক্য করতে শিখেছে যে, ধর্ম আর ধর্ম ব্যবসা দুইটা এক নয়।

    Reply
    • আপনার মূল্যবান মতামত ও লেখাটির প্রশংসার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ, সাদিয়া। আসলে আমাদের সমাজে ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা যেমন জরুরি, তেমনি সেই বিশ্বাসের অপব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। ধর্মের পরিচয় কখনো অপরাধের ঢাল হতে পারে না। আবার কয়েকজনের অপরাধের দায়ও পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়। আমাদের মূল দাবি একটাই—শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং অপরাধী যে-ই হোক, তার যথাযথ বিচার হোক।

      Reply

Leave a Reply