উম্মুল মু’মিনীন জুয়াইরিয়া (রা)–এর জীবনচরিত শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং তা ইসলামের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নারীর মর্যাদা, এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য দলিল। নবীজির (সাঃ) সঙ্গে তাঁর বিবাহ যেমন গোত্রীয় শত্রুতার অবসান ঘটায়, তেমনি তাঁর ইবাদত, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব মুসলিম নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। এই নিবন্ধে আমরা তাঁর পরিচয়, বন্দিত্ব, বিবাহ, এবং ইসলাম গ্রহণের পেছনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করেছি।
📝 আলোচনার সারাংশ
- জুয়াইরিয়া (রা)–এর নাম, বংশ, এবং পূর্ব পরিচয়
- বনু মুস্তালিক যুদ্ধ ও বন্দিত্বের ঘটনা
- রাসূল (সাঃ)–এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব
- তাঁর পিতার ইসলাম গ্রহণের পটভূমি
- তাঁর ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য, এবং ইবাদতের প্রতি নিষ্ঠা
এই জীবনী শুধু একটি ঐতিহাসিক বিবরণ নয়, বরং তা ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা ও প্রজ্ঞার প্রতিচ্ছবি।- Amar Bangla Post
📌 সংক্ষিপ্ত তথ্য
- নাম: জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস
- পূর্ব নাম: বাররা
- বিবাহ: হিজরী ৫ সনে
- পিতা: হারেস ইবনে আবু দিদার
- গোত্র: বনু মুস্তালিক
📖 হাদীস সূত্র
আয়েশা (রাঃ) বলেন: “আমি জুয়াইরিয়ার চেয়ে নিজের গোত্রের জন্য কল্যাণকর কোনো নারীকে দেখিনি।” – সহীহ মুসলিম

উম্মুল মু’মিনীন জুয়াইরিয়া (রা)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী!
নাম ও পরিচয় : নাম জুয়াইরিয়া। পূর্ব নাম ছিল বাররা। রাসূল (সাঃ) তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখেন জুয়াইরিয়া। পিতার নাম হারেস। তিনি বনু মুস্তালিক গোত্রের সর্দার ছিলেন। তাঁর বংশ তালিকা হল, জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস ইবনে আবু দিদার ইবনে হাবীব ইবনে আয়েয ইবনে মালেক ইবনে জুয়াইমা ইবনে আসাদ ইবনে আমর ইবনে রাবীয়া ইবনে হারিসা ইবনে আমর মুযিকিয়া।
প্রথম বিবাহ : জুয়াইরিয়া (রা)-এর প্রথম বিয়ে হয়েছিল তাঁর নিজের গোত্রের মুসাফা ইবনে সাফওয়ান মুসতালেফীর সাথে। মুসাফা সম্পর্কে জুয়াইরিয়া (রা)-এর চাচাত ভাই ছিলেন। তিনি ইবনে যিয়ার নামেও পরিচিত ছিলেন।
প্রথম দিকে ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু:
জুয়াইরিয়া (রা)-এর পিতা এবং স্বামী দু’জনই ইসলামের ঘোর শত্রু ছিলেন। কুরাইশদের প্ররোচনায় অথবা নিজেদের ইচ্ছায় তারা মদীনার ওপর আক্রমণ করার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। সংবাদটি রাসূল (সাঃ)-এর কানে পৌঁছলে তিনি এর সত্যতা যাচাই-এর জন্য বুরাইদা ইবনে হাবীব আসলামীকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেন সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য। বুরাইদা ফিরে এসে সংবাদটি সত্য বলে জানালে রাসূল (সাঃ) তাঁর বাহিনী নিয়ে রওয়ানা হন এবং মুরাইসী নামক স্থানে অবস্থান নেন। এ মুরাইসী নামক স্থানটি মদীনা থেকে নয় মাইল দূরে। আর সময়টি ছিল হিজরী ৫ম সনের শাবান মাস।
বনী মুস্তালিক যুদ্ধ :
ওদিকে মুসলমান বাহিনীর আগমন, অবস্থান গ্রহণ ও রণসজ্জার খবর শুনে মুস্তালিক গোত্র প্রধান জুয়াইরিয়া (রা)-এর পিতা হারেস তাঁর সংগঠিত বাহিনী থেকে সটকে পড়েন। কিন্তু তাঁর বাহিনীর মনোবল ছিল অটুট। হারেসের অধীনস্থ বাহিনী কিছুমাত্র পিছু না হটে মুসলিম বাহিনীর সাথে মরণপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। প্রচণ্ড যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দেখা গেল মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করেছে। এ যুদ্ধে বনী মুস্তালিক গোত্রের এগার জন নিহত হয় ও ছয়শত সেনা মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হয়। আর দুই হাজার উট ও পাঁচ হাজার ছাগলও মুসলমানদের দখলে আসে। এ যুদ্ধে জুয়াইরিয়ার স্বামী নিহত হন।
উক্ত যুদ্ধবন্দীদের সাথে বন্দী অবস্থায় গোত্র প্রধান হারেসের কন্যা জুয়াইরিয়াও ছিলেন। তৎকালীন আরবের নিয়ম অনুযায়ী যুদ্ধবন্দীদেরকে গোলাম হিসেবে বিলি বণ্টন করা হতো। সে মুতাবেক জুয়াইরিয়া সাবিত ইবনে কায়েসের ভাগে পড়েন। পূর্বেই বলেছি জুয়াইরিয়া ছিলেন গোত্র প্রধানের কন্যা। যে কারণে তিনি দাসীর জীবন মেনে নিতে পারছিলেন না। সে জন্য তিনি সাবিত (রা)-এর কাছে অর্থের বিনিময়ে মুক্তির আবেদন জানান। সাবিত (রা) ১৯ উকিয়াহ স্বর্ণের বিনিময়ে এ আবেদন মঞ্জুর করেন।
রাসূল (সাঃ) জুয়াইরিয়ার পক্ষ থেকে মুক্তিপণ আদায় ও তাকে বিবাহ করা :
কিন্তু জুয়াইরিয়ার কাছে এত বিপুল স্বর্ণ বা সম্পদ না থাকার কারণে তিনি এ ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য স্বয়ং রাসূল (সা:) এর নিকট আবেদন করেন। এ ঘটনাটি আয়েশা (রা) এভাবে বর্ণনা করেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ বনু মুস্তালিকের যুদ্ধ বন্দীদেরকে বণ্টন করলে জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস সাবিত ইবনে কায়েসের ভাগে পড়েন। জুয়াইরিয়া তৎক্ষণাৎ মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি লাভের উদ্যোগ নেন তিনি ছিলেন খুবই লাবণ্যময়ী মিষ্টি মেয়ে। তাঁকে যে-ই দেখতো সে মুগ্ধ হয়ে যেত । জুয়াইরিয়া মুক্তিলাভের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে সাহায্য কামনা করেন। তিনি রাসূলুল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাঃ)! আমি হারেস ইবনে আবূ দিদারের কন্যা।
আমার পিতা গোত্রের সরদার, আমি কি বিপদে পড়েছি তা আপনার অজানা নয়। আমি সাবিত ইবনে কায়েসের ভাগে পড়েছি। আমার মুক্তিপণ আদায়ে আপনার সাহায্য কামনা করছি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, আমি যদি তোমার জন্য আরো ভালো কিছুর ব্যবস্থা করি? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেটা কি? তিনি বললেন, আমি তোমার পক্ষ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে দিয়ে তোমাকে বিয়ে করব। জুয়াইরিয়া বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এতে রাজি আছি। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, আমি তাই করলাম।
মুসলমানগণ যখন জানতে পারলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জুয়াইরিয়াকে বিয়ে করেছেন তখন তারা তাদের হাতে বন্দী বনু মুস্তালিকের সব লোককে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর আত্মীয় বিবেচনা করে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। এভাবে বনু মুস্তালিকর ছয়’শ বন্দী শুধু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে জুয়াইরিয়ার বিয়ে হওয়ার কারণে মুক্তি লাভ করল। সত্যি বলতে কি নিজ গোত্রের জন্য জুয়াইরিয়ার চেয়ে কল্যাণকর প্রমাণিত হয়েছে এমন কোন মহিলার কথা আমার জানা নেই।
জুয়াইরিয়ার পিতার ইসলাম গ্রহণ :
অন্য একটি বর্ণনা এরূপ- ইবনে আসীর (রা) বলেন, ‘জুয়াইরিয়ার বাবা যখন জানতে পারলেন যে, তার কন্যা বন্দী হয়ে আছে, তখন তিনি অনেক সম্পদ ও আসবাবপত্র কয়েকটি উটের ওপর বোঝাই করে কন্যার মুক্তির জন্য মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে পছন্দনীয় দু’টি উট ‘মাফিক’ নামক স্থানে লুকিয়ে রেখে অবশিষ্ট উট ও আসবাব নিয়ে রাসূল (সাঃ)- এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ‘আপনি আমার কন্যাকে বন্দী করে এনেছেন। এসব মাল ও আসবাবপত্র নিন, বিনিময়ে আমার কন্যাকে ফিরিয়ে দিন।
রাসূল (সা:) বললেন, ‘যে দু’টি উট তুমি লুকিয়ে রেখে এসেছ তা কোথায়?’ রাসূল (সাঃ)-এর কথা শুনে হারেস আশ্চর্য হয়ে গেলেন এবং তখনই ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর যখন জানতে পারলেন যে, তাঁর কন্যা রাসূল (সাঃ) এর স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন, তখন তিনি সীমাহীন খুশি হন এবং কন্যার সাথে সাক্ষাৎ করে গৃহে ফিরে যান।
রাজনৈতিক কারণে বিয়ে :
মূলত রাসূল এ বিয়েটা করেছিলেন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে। একটু চোখ-কান খুলে বিয়ের বিষয়টা দেখলেই পরিষ্কার হয় যে, বিয়েটা ছিল রাজনৈতিক দূরদর্শীতার এক মাইলফলক। এ বিয়ের ফলে রাসূল (সা:) ও মুসলমানগণ কূটনৈতিকভাবে বিজয় লাভ করেন। কারণ বনু মুস্তালিক গোত্রের সকল মানুষ ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের চরম শত্রু। তারা কোনো প্রকারেই রাসূল (সাঃ) ও মুসলমানদের মেনে নিতে রাজি ছিল না। এমতাবস্থায় রাসূল (সাঃ) জুয়াইরিয়াকে বিয়ে করার ফলে বনু মুস্তালিকের সকল যুদ্ধ বন্দী বেকসুর মুক্তি লাভ করে। ফলে হঠাৎ করেই প্রাণের দুশমন বন্ধুতে পরিণত হয়। বনু মুস্তালিক গোত্রের কেউ আর কোনোদিন রাসূল (সাঃ) মুসলমানদের বিরোধিতা করেনি। এমন কি তারা ধীরে ধীরে সকলেই ইসলামের পতাকার তলে আশ্রয় গ্রহণ করে।
জুয়াইরিয়া (রা) ব্যক্তি সত্ত্বা :
জুয়াইরিয়া (রা) ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্না ও স্বাধীনচেতা মহিলা। যে কারণে তিনি বন্দী জীবন সহ্য করতে পারেননি। তিনি দেখতে ছিলেন সুন্দরী এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারিণী। তাঁর সম্বন্ধে বলতে গিয়ে আয়েশা (রা) বলেন, ‘জুয়াইরিয়া দেখতেই শুধু সুন্দরী ছিলেন না, বরং তাঁর অনুপম চেহারায়, চিত্তাকর্ষক এবং মধুর আচরণে এমন এক মাধুর্য নিহিত ছিল, যাতে করে যে কোনো লোক তাঁর সান্নিধ্যে আসত, সে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিমুগ্ধ ও আকৃষ্ট হয়ে যেত। তাঁকে দেখলেই দর্শকের মনে একটা স্থায়ী মমতা চিহ্ন ফুটে উঠতো।’
জুয়াইরিয়া (রা) একজন ইবাদত গুজার মহিলা ছিলেন। জানা যায়, তিনি প্রায় সার্বক্ষণিকভাবেই ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। একদিন রাসূল (সাঃ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন জুয়াইরিয়া তাসবীহ পাঠ করছেন। রাসূল (সাঃ) বললেন, তুমি কি সব সময় এ আমল কর?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘জি হ্যাঁ।’
একদিন ভোরে জুয়াইরিয়া (রা) মসজিদে বসে দোয়া করছিলেন। এ অবস্থায় রাসূল তাঁকে দেখলেন এবং চলে গেলেন। দুপুরে ফিরে এসে রাসূল (সাঃ) তাঁকে সেই অবস্থায় দেখতে পেলেন।
ইবনে সা’আদ বর্ণনা করেন যে, জুমু’আর দিন নবীজী জুয়াইরিয়ার কাছে যান। সেদিন তিনি সিয়াম পালনরত ছিলেন। নবীজী যেহেতু একটা রোযা রাখাকে মাকরূহ মনে করতেন, তাই জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি গতকাল সিয়াম রেখেছিলে?’ বললেন, ‘না। নবীজী পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, আগামীকাল রাখবে? বললেন, না। নবীজী বললেন, তাহলে সিয়াম ভেঙ্গে ফেল। [৩]
রাসূল (সাঃ) জুয়াইরিয়াকে খুব ভালোবাসতেন। একবার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঘরে খাবার কিছু আছে কি? জুয়াইরিয়া বললেন, আমার এক দাসী ছদকার কিছু গোশত দিয়েছে, তাই আছে। এ ছাড়া আপাতত অন্য কিছু নেই। রাসূল (সাঃ) বললেন, তাই নিয়ে এসো। কারণ, যাকে ছদকা দেয়া হয়েছে, তার কাছে তা পৌঁছেছে।’
হাদীস বর্ণনায় উম্মুল মু’মিনীন জুয়াইরিয়া (রা) অবদান!
এ পুণ্যবতী মহিলা রাসূল (সা:) থেকে অল্প কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর, জাবের, আবূ আইয়ুব মারাসী, তোফায়েল, মুজাহিদ, কুলছুম ইবনে মুসতালিক, কুরাইব এবং আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুযুর্গ মহিলা সাহাবী। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে তিনি ৭টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে ইমাম বুখারী একটি ও মুসলিম ২টি হাদীস নিজ নিজ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
তাঁর থেকে বর্ণিত হাদীসের কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
০১. জুয়াইরিয়া (রাঃ)–এর ঘরে সাদকার গল্প:
বাংলা সারাংশ: উবাইদা ইবনে সাৰবাক (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল-এর স্ত্রী জুয়াইরিয়া (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদা তাঁর কাছে এসে বললেন : তোমার কাছে কোন খাবার আছে কি? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার দাসীকে দেয়া সাদকার বকরীর কিছু গোশত ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই নেই। নবী বললেন : তাই নিয়ে এসো, কারণ সাদকা তার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে গিয়েছে। (মুসলিম)[১]
০২. ইবাদতের ওজনদার দোয়া:
বাংলা সারাংশ : ইবনে আব্বাস (রা) জুয়াইরিয়া (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন : নবী করীম একদা খুব ভোরে ফজরের সালাত পড়ে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। আর তিনি তখন তাঁর সিজদার স্থানেই ছিলেন। অত:পর নবী করীম (সাঃ) দুপুর বেলায় ফিরে এসে দেখেন তিনি সিজদার স্থানেই বসা। নবী করীম বললেন : তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছি সে অবস্থায় আছ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী করীম বলেছেন: নিম্নের এ চার শব্দের দোয়া টি যদি তুমি তিনবার করে বলতে তা হলে এ যাবৎ তুমি যা বলেছ তার সাথে এটা ওজন করা যেত। [২]
দোয়া:
০৩. যে পোশাক আগুনে রূপ নেয়:
বাংলা সারাংশ: জুয়াইরিয়া (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রেশমী কাপড় পরবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের পোশাক পরাবেন। (মুসলিম)
ওফাত : আমীর মু’আবিয়ার শাসনামলে ৬৫ বছর বয়সে জুয়াইরিয়া (রা) ইন্তেকাল করেন। সময়টা ছিল হিজরী ৫০ সালের রবিউল আউয়াল মাস। মদীনার তৎকালীন গভর্নর মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাঁর জানাযার সালাত পড়ান। তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত করা হয়।
পাঠকদের জিজ্ঞাসা
১. কে ছিলেন জুয়াইরিয়া (রাঃ)?
জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রাঃ) ছিলেন নবী মুহাম্মদ (সাঃ)–এর স্ত্রী এবং উম্মুল মু’মিনীনদের একজন। তিনি বনু মুস্তালিক গোত্রের সরদারের কন্যা ছিলেন এবং হিজরী ৫ সনে রাসূল (সাঃ)–এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
২. জুয়াইরিয়া শব্দের অর্থ কী?
‘জুয়াইরিয়া’ শব্দটি আরবি ‘جويرية’ থেকে এসেছে, যার অর্থ “অল্প বয়সী নারী” বা “আদুরে নারী”। এটি তারুণ্য, নম্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক।
৩. জুয়াইরিয়া নাম রাখা যায় কি?
হ্যাঁ, ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘জুয়াইরিয়া’ একটি গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত নাম। এটি নবীজির (সাঃ)–এর স্ত্রীদের একজনের নাম হওয়ায় তা মুসলিমদের মাঝে শ্রদ্ধার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। তবে নাম রাখার সময় নিয়ত ও অর্থের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা উচিত।
📚 উম্মুল মু’মিনীন সিরিজে আরও পড়ুন
নবীজির (সাঃ) স্ত্রীদের জীবনী সিরিজে আরও অনুপ্রেরণামূলক গল্প ও হাদীস জানতে আমাদের ইসলামিক সিরিজ অনুসরণ করুন।
রেফারেন্স ও আউটসোর্স লিংক
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৭৩a। Sunnah.com-এ হাদিসটি দেখুন ↑
[২] সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭২৬a। Sunnah.com-এ হাদিসটি দেখুন ↑
[৩] সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৮৬। Sunnah.com-এ হাদিসটি দেখুন ↑
প্রিয় পাঠক পাঠিকা, উম্মুল মু’মিনীন জুয়াইরিয়া (রা)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়ে ভালো লাগলে এটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।