শিশুদের নৈতিকতা গঠনের জন্য ইসলামিক গল্প অত্যন্ত কার্যকর। এই দ্বিতীয় পর্বে আরও কিছু অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা শিশুদের মধ্যে সততা, আত্মত্যাগ, আল্লাহভীতি ও ঈমান গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
১১. দুই বন্ধুর ধন-জন
দুই বন্ধু ছিল। মহান আল্লাহ তাদের একজনকে দান করেছিলেন দু’টি আঙ্গুর বাগান এবং সে দু’টিকে তিনি খেজুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছিলেন। আর এই দুয়ের মধ্যবর্তী স্থানকে করেছিলেন শস্যক্ষেত্র।
উভয় বাগানই ফল দান করত এবং এতে কোন ত্রুটি করত না। আর উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রবাহিত ছিল নদী। যাতে বাগানের সেচের ব্যাপারে
যেন কোন বাধা সৃষ্টি না হয় অথবা বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল অঞ্চলের মত যেন বৃষ্টির মুখাপেক্ষী না হয়।
সেই বাগানের ফল-ফসলের দরুন তার প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল। অতঃপর একদিন কথা প্রসঙ্গে সে তার বন্ধুকে গর্বের সাথে বলল, ‘ধন-সম্পদে তোমার তুলনায় আমি শ্রেষ্ঠ এবং জনবলে তোমার তুলনায় আমি বেশী শক্তিশালী। আমার অনেক মাল-সম্পদ। আমার অনেক সন্তান-সন্তুতি ও ভৃত্য-চাকর।’
সে ব্যক্তি কেবল অহংকার ও দাম্ভিকতাতেই পতিত ছিল না, বরং তার উন্মত্ততা ও ভবিষ্যতের সৌন্দর্যময় ও সুদীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা তাকে আল্লাহর পাকড়াও এবং কুকর্মের প্রতিফল পাওয়ার ব্যাপারে একেবারে উদাসীন করে রেখেছিল। এমন কি সে কিয়ামতকেও অস্বীকার করল এবং বড়ই ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে বলল, ‘আমি মনে করি না যে, আমার এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি মনে করি না যে, কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যায়-ই, তাহলে আমি অবশ্যই এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব।’ তার মানে কিয়ামত যদি সংঘটিত হয়ও, তবে সেখানেও আমার ভাগ্যে জুটবে উত্তম পরিণাম।
আসলে যারা কুফরী ও অবাধ্যতার সীমা অতিক্রম করে, সে মাতালের মত এই ধরনের অহংকারমূলক দাবী করে থাকে।
যাই হোক, উত্তরে তাকে তার বন্ধু বলল, ‘তুমি কি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে ও পরে বীর্য হতে এবং তারপর পূর্ণাঙ্গ করেছেন মানুষ আকৃতিতে? সৃষ্টিকর্তার প্রতি এমন অবিশ্বাস ও অস্বীকার কোনমতেই সঠিক নয়। কিন্তু আমি বলি, তিনি আল্লাহই আমার প্রতিপালক এবং আমি কাউকেও আমার প্রতিপালকের সাথে শরীক করি না।’
অতঃপর আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে বলল যে, বাগানে প্রবেশ করার সময় অবাধ্যতা ও অহংকার প্রদর্শন না করে আল্লাহর ইচ্ছাশক্তির কথা স্মরণ করলে ভালো হত। সুতরাং সে বলল, ‘তুমি যখন ধনে ও সন্তানে তোমার তুলনায় আমাকে কম দেখলে, তখন তোমার বাগানে প্রবেশ করে তুমি কেন বললে না, “আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে; আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই। তুমি আমাকে তুচ্ছ করছ? সম্ভবতঃ আমার প্রতিপালক আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তোমার বাগানে আকাশ হতে আগুন বর্ষণ করবেন; যার ফলে তা মসৃণ ময়দানে পরিণত হবে। অথবা ওর পানি জমিনের অতল তলে চলে যাবে এবং তুমি কখনো ওকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। হলোও তাই। তার অবিশ্বাস, অস্বীকার ও অহংকারের প্রতিফল দুনিয়াতেই পেয়ে গেল।
সুতরাং তার বাগানের ফল-সম্পদ বিপর্যয় দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল; যখন তা মাচান সহ পড়ে গেল। সে বলতে লাগল, ‘হায়! আমি যদি কাউকেও আমার প্রতিপালকের শরীক না করতাম।’
তখন আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোকজন ছিল না এবং সে নিজেও প্রতিকারে সমর্থ হল না।
আর এই ক্ষেত্রে সাহায্য করবার অধিকার সত্য আল্লাহরই। পুরস্কারদানে ও পরিণাম নির্ধারণে তিনিই শ্রেষ্ঠ।
🤝 দুই বন্ধুর ধন-জন
📖 সারাংশ: এক বন্ধু আল্লাহর দেওয়া বাগান ও সম্পদে গর্ব করে, কিয়ামত অস্বীকার করে। অপর বন্ধু তাকে আল্লাহর স্মরণ ও কৃতজ্ঞতা শেখায়। শেষে অহংকারী বন্ধুর বাগান ধ্বংস হয়ে যায়।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: অহংকার ও কুফর আল্লাহর গজব ডেকে আনে, কৃতজ্ঞতা ও ঈমানই রক্ষা করে।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- অহংকারী ব্যক্তি কীভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করেছিল?
- তার বন্ধুটি তাকে কী উপদেশ দিয়েছিল?
১২. অকৃতজ্ঞতার প্রতিফল
বানী ইসরাঈলের মধ্যে তিন ব্যক্তি; একজন ধবলকুষ্ঠ রোগী, একজন মাথায় টাক পড়া ব্যক্তি এবং অপর আর একজন অন্ধ ব্যক্তি; এদেরকে আল্লাহ পরীক্ষা করতে ইচ্ছা করলেন এবং এক ফিরিশতাকে তাদের নিকট পাঠালেন। ফিরিশতা প্রথমে কুষ্ঠ রোগীর নিকট এসে বললেন,
: ‘তোমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু কী?’
: সে বলল, “উত্তম রং ও উত্তম চর্ম এবং লোকে আমাকে যার কারণে ঘৃণা করে, আমার নিকট হতে তা দূর হয়ে যাওয়া।’
: ফিরিশতা তার গায়ে হাত বুলালেন, ফলে তার ঘৃণার জিনিস দূর হয়ে গেল এবং তাকে ভাল রং ও ভাল চর্ম দেওয়া হল। অতঃপর ফিরিশ্তা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কোন মাল তোমার নিকট অধিক প্রিয়?’
: সে বলল, ‘উট।’
সুতরাং তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবর্তী উটনী দেওয়া হল এবং ফিরিশতা দু’আ করে বললেন, ‘আল্লাহ যেন তোমার এতে বরকত দান করেন।’
অতঃপর ফিরিশতা টাকওয়ালার নিকট এসে বললেন,
: ‘তোমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু কী? ‘
: সে বলল, “উত্তম চুল এবং যার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে, তা আমার নিকট হতে দূর হয়ে যাওয়া।’
: ফিরিশ্তা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, যাতে তার টাক দূর হয়ে গেল এবং তাতে চুল দান করা হল। অতঃপর ফিরিশতা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার নিকট কোন্ মাল অধিক প্রিয়?’
: সে বলল, ‘গরু’ সুতরাং তাকে একটা গর্ভবতী গাভী দান করা হল এবং ফিরিশতা দু’আ করে বললেন, ‘আল্লাহ যেন তোমার মালে বরকত দান করেন।’
অতঃপর ফিরিশতা অন্ধ ব্যক্তির নিকট এসে বললেন, ‘তোমার নিকট অধিক প্রিয় বস্তু কী?’
: সে উত্তরে বলল, ‘আল্লাহ যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি লোকদেরকে দেখতে পাই।’
: ফিরিশতা তার চোখের উপর হাত ফিরায়ে দিলেন, আর আল্লাহ তা’আলা তার জ্যোতি ফিরায়ে দিলেন। অতঃপর ফিরিশতা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার নিকট কোন্ মাল অধিক প্রিয়?’
: সে বলল, ‘ছাগল-ভেড়া।
সুতরাং তাকে একটি আসন্ন প্রসবা ছাগল দেওয়া হল। অতঃপর (সে দুই ব্যক্তির) উট ও গরু বাচ্চা জন্ম দিল এবং এর ছাগল ছানা প্রসব করল।
ধীরে ধীরে কুষ্ঠরোগীর এক উপত্যকা ভর্তি উট, টাকওয়ালার এক উপত্যকা ভর্তি গরু এবং অন্ধের এক উপত্যকা ভর্তি ছাগল-ভেড়া হয়ে গেল। অতঃপর (পরীক্ষার জন্য) সেই ফিরিশতা আপন পূর্ব অবয়ব ও পূর্ব বেশ ধরে সেই ধবল কুষ্ঠ রোগীর নিকট এসে বললেন, ‘আমি একজন দরিদ্র মিসকীন ব্যক্তি। সফরে আমার সমস্ত সামর্থ্য (অর্থ) নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন আল্লাহর মেহেরবানী অতঃপর আপনার সাহায্য ছাড়া ঘরে পৌঁছবার আমার কোন উপায় নেই। আমি আপনার নিকট সেই আল্লাহর নামে একটি উট ভিক্ষা চাচ্ছি, যিনি আপনাকে এই সুন্দর রং, সুন্দর চর্ম এবং এত সকল উট দান করেছেন। যার দ্বারা আমি আমার সফর হতে ঘরে পৌঁছতে পারি। (অথবা যাকে আমি আমার সফরে পাথেয় করতে পারি।)’
সে উত্তর করল, ‘আমার অনেক দেয় রয়েছে ( দেওয়ার মত আমার অনেক লোক আছে)।’
ফিরিশতা বললেন, ‘মনে হয় যেন আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি দরিদ্র কুষ্ঠরোগী ছিলে না, যাতে লোকে তোমাকে ঘৃণা করত? অতঃপর আল্লাহ তোমাকে ধন-সম্পদ দান করেছেন?’
তখন সে বলল, ‘(বল কী?) এ সকল মাল তো আমি বংশানুক্রমে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি।’
তখন ফিরিশতা বললেন, ‘যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দেন, যে অবস্থায় তুমি পূর্বে ছিলে।’
অতঃপর ফিরিশ্তা আপন পূর্ব আকৃতিতে টাকওয়ালার নিকট এলেন এবং তার নিকট জ্ঞাপন করলেন, যা কুষ্ঠরোগীর নিকট জ্ঞাপন করলেন। সে তার অনুরুপই উত্তর করল। ফিরিশতা বললেন, ‘যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তোমার সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দেন, যে অবস্থায় তুমি পূর্বে ছিলে!’
অবশেষে ফিরিশ্তা আপন পূর্ব বেশে অন্ধ ব্যক্তির নিকট এসে বললেন, ‘আমি একজন দরিদ্র ও মুসাফির। সফরে আমার সম্বল ফুরিয়ে গেছে, এখন আল্লাহ অতঃপর আপনার সাহায্য ব্যতীত ঘরে পৌঁছবার আমার কোন উপায় নেই। আমি সেই আল্লাহর নামে যিনি আপনাকে আপনার চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দিয়েছেন আপনার একটি ছাগল ভিক্ষা চাচ্ছি, যার দ্বারা আমি আমার সফর হতে ঘরে পৌঁছতে পারি (অথবা সফরে পাথেয় করতে পারি।)’
সে বলল, ‘সত্যই আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমাকে চক্ষু দান করেছেন। (এবং এই সকল মালও তাঁরই দান।) সুতরাং তুমি যা ইচ্ছা গ্রহণ কর, আর যা ইচ্ছা রেখে যাও! আল্লাহর কসম! আজ আমি তোমার (বর্জনে) প্রশংসা করব না অথবা (ফেরত নিয়ে) তোমাকে কষ্টে নিক্ষেপ করব না।’
তখন ফিরিশতা বললেন, ‘তুমি তোমার মাল রেখে নাও! (আল্লাহর পক্ষ হতে) তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হল এবং তিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, আর তোমার সাথীদ্বয়ের প্রতি অসন্তুষ্ট।’ (আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, সহীহুল বুখারী, তাও হা/৩৪৬৪)
🙅♂️ অকৃতজ্ঞতার প্রতিফল
📖 সারাংশ: তিন ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে রোগমুক্তি ও সম্পদ পায়। পরে তাদের পরীক্ষা করা হলে দুইজন অকৃতজ্ঞতা দেখায়, একজন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত, না করলে তা হারিয়ে যেতে পারে।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ ছিল?
- অন্য দুইজন কীভাবে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল?
১৩. হারানো উট ফিরে পাওয়ার খুশি
এক মুসাফির তার উট সহ সফরে এক মারাত্মক মরুভূমিতে গিয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্য এক গাছের নীচে ছায়ায় মাথা রেখে শোয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়ল। এরই মধ্যে তার উটটি গায়েব হয়ে গেল। উটের উপর ছিল তার খাবার ও পানীয় সব কিছু। কিছুক্ষণ পরে জেগে উঠে দেখল তার উট গায়েব। সে এদিক-সেদিক খোঁজাখুজি শুরু করল; কিন্তু বৃথায় হয়রান হল। ক্ষুধা ও পিপাসায় যখন খুব বেশী কাতর হয়ে পড়ল, তখন ফিরে সেই গাছের নিকটে এসে আবার শোওয়া মাত্র তার চোখ লেগে গেল। কিছুক্ষণ পরে চোখ খুলতেই দেখতে পেল, তার সেই উট তার খাদ্য ও পানীয় সহ দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে সে এত খুশী হল যে, উটের লাগাম ধরে খুশীর উচ্ছাসে ভুল বকে বলে উঠল, ‘আল্লাহ! তুই আমার বান্দা। আর আমি তোর রব!
হারিয়ে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়া বান্দা ফিরে এলে অর্থাৎ, তওবা করলে আল্লাহ ঐ হারিয়ে যাওয়া উট-ওয়ালা অপেক্ষা অধিক খুশী হন!
হারিয়ে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়া দাস যদি ফিরে আসে, তাহলে খুশীর কথাই বটে। মহান আল্লাহর তাতে যদিও কোন লাভ বা উপকার নেই, তবুও তিনি তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যে খুশী হন। তওবার ফলে তিনি এত খুশী হন যে, তার উদাহরণ এটাই।
🐪 হারানো উট ফিরে পাওয়ার খুশি
📖 সারাংশ: এক মুসাফির মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে ফেলে, পরে ফিরে পেয়ে এত খুশি হয় যে ভুল করে আল্লাহকে বান্দা বলে বসে।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: আল্লাহ ﷻ তাঁর বান্দার তওবায় এত খুশি হন, যা মানুষের সীমাহীন আনন্দের চেয়েও বেশি।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- মুসাফির কী হারিয়েছিল এবং কীভাবে তা ফিরে পেল?
- এই গল্পে আল্লাহর খুশির উদাহরণ কীভাবে দেওয়া হয়েছে?
১৪. সৎকাজে প্রতিযোগিতা (১)
একদা মুহাজেরীনদের একটি গরীবের দল আল্লাহর নবী (সা:) এর কাছে নিবেদন করে বলল, ‘ধনীরা (বেহেশতের) সমস্ত উঁচু উঁচু মর্যাদা ও স্থায়ী সম্পদের মালিক হয়ে গেল। কারণ, তারা সলাত (নামায) পড়ে যেমন আমরা পড়ি, সিয়াম (রোযা) রাখে যেমন আমরা রাখি, কিন্তু তারা দান করে আমরা করতে পারি না, দাস মুক্ত করে আমরা করতে পারি না । (এখন তাদের সমান সওয়াব লাভের কৌশল আমাদেরকে বলে দিন।)
আল্লাহর রসূল (সা:) বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলে দেব না, যাতে তোমরা প্রতিযোগিতায় অগ্রণী লোকদের সমান হতে পার, তোমাদের পশ্চাদ্বর্তী লোকদের আগে থাকতে পার এবং অনুরুপ আমল যে করে সে ছাড়া তোমাদের থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ হতে পারে না?
সকলে বলল, ‘অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, “তোমরা প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার করে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে। (মুহাজেরীনরা খোশ হয়ে ফিরে গেলেন।
ওদিকে ধনীরা এ খবর জানতে পেরে তারাও এ আমল শুরু করে দিল।) মুহাজেরীনরা ফিরে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ধনী
ভায়েরা এ খবর শুনে তারাও আমাদের মত আমল করতে শুরু করে দিয়েছে। (অতএব আমরা আবার পিছে থেকে যাব।)
মহানবী (সা:) বললেন, “এ হল আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করে থাকেন। (এতে তোমাদের করার কিছু নেই।)
🕌 সৎকাজে প্রতিযোগিতা (১)
📖 সারাংশ: গরীব সাহাবীরা ধনীদের মতো দান করতে না পারায় নবী (সা.) তাদেরকে যিকিরের মাধ্যমে সওয়াব অর্জনের পথ দেখান।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: সৎকাজে প্রতিযোগিতা ধন নয়, নিয়ত ও আমলের মাধ্যমে হয়।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- গরীব সাহাবীরা কী নিয়ে চিন্তিত ছিলেন?
- নবী (সা.) তাদের কী আমল শিখিয়েছিলেন?
১৫. বদান্যতায় প্রতিযাগিতা (২)
একদিন রসূলুল্লাহ (সা:) সাহাবাদেরকে সাদকাহ করার জন্য নির্দেশ দিলেন। উমার বিন খাত্তাব বলেন, ‘আমার কাছে সে সময় মাল ধন ভালই মওজুদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম, আজ আমি আবু বকর (রা:) থেকে দানে অগ্রসর হব। আমি কোন দিন তাঁর থেকে অগ্রসর হতে পারি না। (আজ সুযোগ পেয়েছি ওঁকে দানে হারিয়ে দেব। কারণ, আজ আমার মাল-ধন তাঁর থেকে বেশী আছে)।’
সুতরাং তিনি ঐ উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁর বাড়ীর অর্ধেক মাল মহানবী (সা:) এর খিদমতে এনে হাযির করলেন। তা দেখে রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, “বাড়ীতে তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখে এসেছে?
উত্তরে উমার (রা:) বললেন, ‘বাড়ীর জন্য যতটা দেখছেন, অতটাই রেখে এসেছি।’
আর সেদিন আবু বকর সিদ্দীক (রা:) বাড়ীতে যা কিছু মাল-ধন ছিল, যথাসর্বস্ব নবী (সা:) এর খিদমতে এনে হাযির করলেন। নবী (সা:) দেখে বললেন, “তোমার পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছে? উত্তরে তিনি বললেন,
‘আমার পরিবারের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি!”
তিনি উত্তরে বললেন না যে, আমি বাড়ীর সমস্ত কিছু এনে হাযির করেছি। এটা বললে হয়তো অহংকার বা লোক দেখানো ঘটনা হয়ে যাবার আশংকা থাকত। তাই বিনয়ের সঙ্গে বলতে চেয়েছেন, আমার বাড়ীর জন্য আর কিছুই নেই। আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের সন্তুষ্টি রেখে এসেছি।
হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা:) এর উত্তর শুনে হযরত উমার (রা:) বললেন, ‘আজ থেকে আমি মনে মনে স্বীকার করলাম যে, আর কোন দিন তাঁর কাছে আমার জিতবার কখনই সুযোগ হবে না। কারণ (আজই শেষ চেষ্টা ছিল তাঁর কাছে জেতার ! কিন্তু আজও আমি তাঁর কাছে পরাজিত হলাম)।’
🫱 বদান্যতায় প্রতিযোগিতা (২)
📖 সারাংশ: উমার (রা.) অর্ধেক সম্পদ দান করেন, আবু বকর (রা.) সবকিছু দান করে বলেন, “আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি।”
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: নিঃস্বার্থ দান ও বিনয় আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- উমার (রা.) ও আবু বকর (রা.) কীভাবে দান করেছিলেন?
- আবু বকর (রা.) কী উত্তর দিয়েছিলেন নবী (সা.)–এর প্রশ্নে?
১৬. রসূল (সা:) কে গালি দেওয়ার প্রতিবাদে প্রতিযোগিতা ( ৩ )
আব্দুর রহমান বিন আওফ বলেন, বদর যুদ্ধের সারিতে আমি দাঁড়িয়েছিলাম, এমন সময় দুই আনসারী তরুণকে আমার ডানে-বামে লক্ষ্য করলাম। ওদের একজন ইঙ্গিতে আমাকে বলল, ‘চাচা! আপনি কি আবূ জাহলকে চেনেন?’
আমি বললাম, ‘হ্যাঁ। কিন্তু তার সাথে তোমার কী দরকার?’
সে বলল, ‘আমি শুনেছি যে, সে আল্লাহর রসূল (সা:) কে গালি দেয়! সেই সত্তার কসম! আমি যদি তাকে দেখতে পাই, তাহলে তার পিছন ছাড়বো না; যতক্ষণ না আমাদের দুজনের মধ্যে একজন সত্বর মরণ বরণ করবে।’
এ কথা শুনে আমি অবাক হলাম। একটু পরে দ্বিতীয়জন একই পদ্ধতিতে ঐ একই কথা বলল। অকস্মাৎ আবূ জাহলকে লোকেদের মাঝে চলতে দেখলাম। আমি বললাম, ‘তোমরা দেখছ? ঐ হচ্ছে সেই লোক যার ব্যাপারে তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করছিলে।’
শোনামাত্র উভয়ে তরবারি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে হত্যা করে ফেলল। তারপর আল্লাহর রসূল (সা:) এর কাছে এসে উভয়েই একবাক্যে বলল, ‘আবূ জাহলকে হত্যা করা হয়েছে।’
নবী (সা:) বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে?’ উভয়েই বলল, ‘আমি হত্যা করেছি।’
তিনি বললেন, “তোমরা কি তোমাদের তরবারি মুছে ফেলেছ?’ তারা বলল, ‘জী না।’
আল্লাহর নবী (সা:) তা দেখে বললেন, “তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ।’
⚔️ রসূল (সা:) কে গালি দেওয়ার প্রতিবাদে প্রতিযোগিতা (৩)
📖 সারাংশ: বদর যুদ্ধে দুই তরুণ সাহাবী আবু জাহলকে হত্যা করেন, কারণ তিনি রসূল (সা:) কে গালি দিয়েছিলেন।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: নবী (সা:)–এর সম্মান রক্ষা করা ঈমানের বড় নিদর্শন। সাহস ও ঈমান একসাথে থাকলে বড় কাজ সম্ভব।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- তরুণ সাহাবীরা কেন আবু জাহলকে খুঁজছিলেন?
- নবী (সা:) কীভাবে তাদের কাজের মূল্যায়ন করেছিলেন?
১৭. শহীদ হতে প্রতিযোগিতা (৪)
বদর যুদ্ধে যখন মক্কার মুশরিকরা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে তরবারি দিয়ে শেষ করে দিবার ইচ্ছায় অগ্রসর হয়েছিল, তখন রসূলে আকরাম
নিজের সাহাবীদেরকে বলেছিলেন, “তোমরা সেই জান্নাতের দিকে উঠে দাঁড়াও, যার প্রস্থ আসমান ও যমীন সমতুল্য।
এ কথা শোনামাত্র সাহাবী উমাইর বিন হুমাম আনসারী (রাঃ) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! শহীদ হওয়ার বিনিময়ে আসমান ও যমীনের প্রস্থ সমতুল্য কি জান্নাত পাব? রসূলে আকরাম (সা:) বললেন, ‘হ্যাঁ’।
উমাইর বিন হুমাম বললেন, ‘বাহ্ বাহ্!’
রসূলে আকরাম (সা:) বললেন, বাহ বাহ! বলার জন্য তোমাকে কোন জিনিস উৎসাহিত করছে?
উমাইর বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল (সা:)! আল্লাহর কসম! আমি এ কথা জান্নাতের আশায় বলেছি।’
রসূল (সা:) বললেন, “নিশ্চয় তুমি জান্নাতবাসীদের মধ্যে গণ্য।
উমাইর বিন হুমাম তীরদান থেকে কয়েকটি খেজুর বের করে খেতে লাগলেন। অতঃপর শহীদ হওয়ার অদম্য ইচ্ছায় বলতে লাগলেন, ‘আমি যদি এই খেজুরগুলি খাওয়া পর্যন্ত জীবিত থাকি, তাহলে তো জীবন লম্বা হয়ে যাবে।’
সুতরাং তিনি সমস্ত খেজুর ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং ময়দানে অগ্রসর হলেন। পালোয়ানের মত বীর-বিক্রমে লড়াই করে শহীদ হয়ে গেলেন।
🏹 শহীদ হতে প্রতিযোগিতা (৪)
📖 সারাংশ: উমাইর বিন হুমাম (রা:) জান্নাতের আশায় খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং শহীদ হন।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: জান্নাতের আশায় ত্যাগ ও সাহসিকতা দেখানো ঈমানের শক্তি।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- উমাইর (রা:) খেজুর কেন ফেলে দিয়েছিলেন?
- নবী (সা:) তাঁর জন্য কী বলেছিলেন?
১৮. শহীদ হতে প্রতিযোগিতা (৫)
বদর যুদ্ধের পূর্বে নবী (সা:) যখন যোদ্ধা নির্বাচন করছিলেন, তখন উমাইর বিন আবী ওয়াক্কাস (রা:) লুকিয়ে লুকিয়ে থাকছিলেন। তাঁর ভাই
সা’দ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি ব্যাপার তোমার?’ তিনি বললেন, ‘আমার ভয় হচ্ছে যে, আমি ছোট বলে রসূলুল্লাহ (সা:) আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। অথচ আমি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে শহীদ হতে চাই।
অতঃপর যখন রসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর দৈর্ঘ্য দেখলেন, তখন তিনি পায়ের গোড়ালি তুলে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে লম্বা প্রমাণ করতে চাইলেন। অবশেষে তিনি যখন ফিরে যেতে বললেন, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর নবী (সা:) তাঁর কাঁদা দেখে তাঁকে বদর যেতে অনুমতি দিলেন। আর সেখানে গিয়ে যুদ্ধে তিনি শহীদ হয়ে গেলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ষোল বছর।
🧒 শহীদ হতে প্রতিযোগিতা (৫)
📖 সারাংশ: উমাইর বিন আবী ওয়াক্কাস (রা:) ছোট বয়সে যুদ্ধের অনুমতি চেয়ে কাঁদেন, নবী (সা:) অনুমতি দেন, এবং তিনি শহীদ হন।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: বয়স নয়, নিয়ত ও সাহসই আল্লাহর পথে বড় কাজের যোগ্যতা।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- উমাইর (রা:) কী কারণে কাঁদছিলেন?
- নবী (সা:) কী দেখে তাঁকে অনুমতি দেন?
১৯. জিহাদে যেতে প্রতিযোগিতা (৬)
উহুদ যুদ্ধের দিন ঐভাবে সৈন্য নির্বাচনের সময় ছোট-বড় দেখা হচ্ছিল। অনেককেই ছোট বলে ফিরিয়ে দেওয়া হল। তাঁদের মধ্যে রাফে’ বিন খাদীজ (রা:) ও সামুরাহ বিন জুন্দুব (রা:) ছিলেন। পরবর্তীতে রাফে’কে অনুমতি দেওয়া হল; কারণ তিনি তীরন্দাজ ছিলেন। তা দেখে সামুরাহ কাঁদতে লাগলেন। (হ্যাঁ, মরণের জন্য কাঁদতে লাগলেন!) অতঃপর তিনি তাঁর সৎবাপের কাছে অভিযোগ করে বললেন, ‘আল্লাহর রসূল (সা:) রাফে’কে অনুমতি দিলেন, আর আমাকে দিলেন না। অথচ আমি ওকে কুস্তি লড়াইয়ে হারিয়ে দিতে পারব।’
এ খবর রসূলুল্লাহ (সা:) এর কাছে পৌঁছলে তিনি উভয়কে কুস্তি লড়তে আদেশ দিলেন। অতঃপর সত্যি সত্যিই সামুরাহ তাতে বিজয়ী হলেন এবং তিনি তাঁকেও যুদ্ধে অনুমতি দিয়ে দিলেন।
🥋 জিহাদে যেতে প্রতিযোগিতা (৬)
📖 সারাংশ: সামুরাহ (রা:) কুস্তিতে রাফে’কে হারিয়ে যুদ্ধের অনুমতি পান, কারণ তিনি মরণের জন্যও প্রস্তুত ছিলেন।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: আল্লাহর পথে অংশ নিতে প্রতিযোগিতা করা প্রশংসনীয়, এমনকি ছোটরাও সাহস দেখাতে পারে।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- সামুরাহ (রা:) কী কারণে কাঁদছিলেন?
- তিনি কীভাবে যুদ্ধের অনুমতি পেলেন?
২০. যে কাজে আল্লাহ বিস্মিত
একদা এক ব্যক্তি মহানবী (সা:) এর নিকট এসে বলল, ‘আমি ক্ষুধায় কাতর হয়ে গেছি।’ (আমার খাবারের ব্যবস্থা করুন।) সুতরাং আল্লাহর রসূল (সা:) তাঁর কোন স্ত্রীর নিকট এক মেহমানের মেহমানির সংবাদ পাঠালেন। তিনি বললেন, ‘সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যের সঙ্গে পাঠিয়েছেন! আমার কাছে পানি ছাড়া অন্য কিছুই নেই।’
অতঃপর অন্য স্ত্রীর নিকট পাঠালেন। তিনিও অনুরুপ কথা বললেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত সকল (স্ত্রী)-ই ঐ একই কথা বললেন, ‘সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যের সাথে পাঠিয়েছেন! আমার কাছে পানি ছাড়া কোন কিছুই নেই।
সুতরাং নবী (সা:) সাহাবাগণকে বললেন, “আজকের রাতে কে একে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করবে?
সাহাবী আবু তালহা আনসারী (রাঃ)) বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি একে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করব।’
সুতরাং তিনি তাকে সাথে করে নিজ গৃহে নিয়ে গেলেন এবং তাঁর স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মেহমানের খাতির কর। তোমার নিকট কোন খাবার আছে কি?’
স্ত্রী বললেন, ‘না, কেবলমাত্র বাচ্চাদের খাবার আছে।’
তিনি বললেন, ‘কোন জিনিস দ্বারা তাদেরকে ভুলিয়ে রাখবে এবং তারা যখন রাত্রে খাবার চাইবে, তখন তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে। অতঃপর যখন আমাদের মেহমান (ঘরে) প্রবেশ করবে, তখন বাতি নিভিয়ে দেবে এবং তাকে বুঝাবে যে, আমরাও খাচ্ছি!’
সুতরাং তাঁরা পরিকল্পনা মোতাবেক সকলেই খাওয়ার জন্য বসে গেলেন; মেহমান খাবার খেল এবং তাঁরা দু’জনে উপবাসে রাত কাটিয়ে দিলেন। অতঃপর যখন তিনি সকালে নবী (সাঃ) এর নিকট গেলেন, তখন তিনি বললেন, “ তোমাদের দু’জনের আজকের রাতে নিজ মেহমানের সাথে তোমাদের ব্যবহারে আল্লাহ বিস্মিত হয়েছেন!
🍽️ যে কাজে আল্লাহ বিস্মিত
📖 সারাংশ: সাহাবী আবু তালহা (রা:) ও তাঁর স্ত্রী মেহমানকে খাবার খাওয়াতে নিজে না খেয়ে অভিনয় করেন, এতে আল্লাহ বিস্মিত হন।
🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: নিঃস্বার্থ আতিথেয়তা ও ইখলাস আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
❓ প্রশ্নোত্তর:
- আবু তালহা (রা:) কীভাবে মেহমানকে খাওয়ালেন?
- নবী (সা:) পরদিন কী বলেছিলেন?
اللهم اجعل أولادنا من الصالحين، ووفقهم لطاعتك، وبارك فيهم يا رب العالمين
হে আল্লাহ ﷻ, আমাদের সন্তানদের সৎ বানাও, তোমার আনুগত্যে সফল করো, এবং তাদের মধ্যে বরকত দাও—আমিন।