শিশুদের জন্য ১০টি ইসলামিক নৈতিক শিক্ষার গল্প (পর্ব ১)

শিশুর জীবনের শুরুতেই নৈতিক শিক্ষা দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকে শেখা ভালো-মন্দের জ্ঞানই তার চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে। ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আদর্শ নীতি ও শিক্ষা দিয়েছে। সেই শিক্ষাগুলো সহজভাবে শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে গল্প। তাই এখানে দেওয়া হলো ১০টি সুন্দর ইসলামিক নৈতিক শিক্ষার গল্প, যা শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় ও উপভোগ্য হবে।

ইসলামিক নৈতিক শিক্ষার গল্প

১.📌 স্রষ্টার অস্তিত্ব!

এক আস্তিক আলেমের সঙ্গে এক নাস্তিক পণ্ডিতের তর্ক সভা হওয়ার কথা। সেখানে আস্তিক প্রমাণ করবেন, স্রষ্টা আছেন, আর নাস্তিক প্রমাণ করবে, তা নেই।

সভায় প্রচুর লোকের সমাগম ছিল। আস্তিক আলেম সভায় উপস্থিত হতে দেরি করছেন দেখে অনেকে ধারণা করে বসল যে, তিনি হয়তো স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবেন না।

তাঁর বাসা ছিল নদীর ওপাড়ে। এদিকে সভায় বড় উৎকণ্ঠার সাথে প্রতীক্ষা চলতে চলতে লোকেদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যেতে লাগল। ইতিমধ্যে তিনি এসে উপস্থিত হলেন। সকলে তাঁকে ভর্ৎসনা করতে লাগল। নাস্তিক বলল, ‘আসলে উনি স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবেন না বিধায় দেরি করে সভায় উপস্থিত হয়েছেন!’

আস্তিক বললেন, ‘ভাই সকল! আপনারা হয়তো জানেন। আমার বাড়ি নদীর ওপাড়ে। এ পাড়ে আসার জন্য যথাসময়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম। কিন্তু নদীর ঘাটে এসে দেখি, কোন নৌকাওয়ালা নেই। তাই অপেক্ষা করতে করতে দেরি হয়ে গেল। অবশেষে কোন নৌকাওয়ালা পেলাম না। বহু অপেক্ষার পর দেখলাম, ঘাটের কাছে একটি বড় গাছ আপনা-আপনি পড়ে গেল। তারপর আপনা-আপনি পাটা তৈরি হল। আপনা-আপনি পাটাগুলি আপোসে জোড়ালেগে নৌকা তৈরি হয়ে গেল। তারপর ধীরে ধীরে পানিতে নেমে গেল। আমি তাতে চড়ে বসলাম। সেই নৌকা মাঝি-মাল্লা ছাড়া এপাড়ে পার করে দিল। আর তারপরই আমি আপনাদের সম্মুখে উপস্থিত হতে পেরেছি।’

সভাস্থ প্রায় সকল জনতাই ‘হো-হো করে হেসে উঠল। নাস্তিক বলে উঠল, ‘উপস্থিত ভদ্রমণ্ডলী! আপনাদের কী মনে হয়? উনি কি একজন পাগল নন? কোন নৌকা কি নিজে নিজে তৈরি হয়ে বিনা মাঝি-মাল্লাতে নদী পার করে দিতে পারে? আসলে উনি স্রষ্টাতে বিশ্বাসী হয়ে পাগল হয়ে গেছেন। আপনারা কেউ তাঁর কথায় বিশ্বাস করবেন না।’

আস্তিক আলেম বললেন, ‘ভাই সকল! আপনারা ইনসাফের সাথে বিচার করে বলুন, পাগল আমি, না উনি? আমি তো কেবল বলেছি, নদীর ধারে একটি নৌকা আপনা-আপনি তৈরি হয়ে নদীতে চলাচলের কথা। আর উনি যে বলেন, এ সারা বিশ্বজাহান, এ চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ- নক্ষত্র, এ আকাশ-বাতাস সব কিছু বিনা পরিচালক ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। তাহলে উনি কি আমার চাইতে বেশি বড় পাগল নন?’ সভায় উপস্থিত জনতা এমন যুক্তিযুক্ত জবাব শুনে আস্তিক আলেমকে সমর্থন করল।

📖 গল্পের সারাংশ: এক আলেম যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে বিশ্বজগতের স্রষ্টা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়।

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: বিশ্বজগতের সুশৃঙ্খলতা আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • নৌকা কীভাবে তৈরি হয়েছিল গল্পে?
  • আলেম কী যুক্তি দিয়েছিলেন?

✍️ উত্তর লিখুন

২.🎯 এক ঢিলে তিন শিকার!

এক বস্তুবাদী নাস্তিক এক ইমাম সাহেবের নিকট নিজের সন্দেহ পেশ করল। সে বলল,

(ক) যা দেখা যায় না, তা বিশ্বাস করি কীভাবে? সুতরাং আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি না।

(খ) আপনারা বলেন, “শয়তান জাহান্নামে যাবে।’ আবার বলেন, ‘শয়তান আগুন থেকে সৃষ্টি।’ তাহলে আগুনে আগুন শাস্তি বা কষ্ট পাবে কীভাবে?

(গ) আপনারা বলেন, ‘দুনিয়ার যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর লিখিত তাকদীর অনুযায়ী ঘটে। সুতরাং পাপ করলে মানুষ দায়ী বা দোষী হবে কেন?

বিচক্ষণ ইমাম সাহেব মুখে কিছু উত্তর না দিয়ে মাটির একটা ঢিল তুলে নিয়ে তার কপালে ছুড়ে মারলেন। লোকটি রাগে উত্তেজিত হয়ে উঠে বলল, “আমি আপনার কাছে প্রশ্নের জবাব চাইলাম। আর আপনি জবাব না পেয়ে আমাকে ঢিল ছুড়ে মারলেন? আমি আপনার বিরুদ্ধে কাযীর কাছে নালিশ করব!” ইমাম সাহেব গম্ভীরভাবে বললেন, ‘ঢিল মেরেই তো আমি তোমার জবাব দিয়ে দিয়েছি। তুমি রাগলে কেন? তুমি কি ব্যথা পেয়েছ?’ —অবশ্যই।

—আমি বিশ্বাস করি না যে, তুমি ব্যথা পেয়েছ। কারণ, যা দেখা যায় না, তা অবিশ্বাস্য।—এ কথা তোমারই। তাই না?

তাছাড়া তোমার ব্যথা পাওয়ারও তো কথা নয়। কারণ, তুমি মাটির সৃষ্টি। আর তোমাকে মাটি ছুড়ে মেরেছি। সুতরাং মাটির আঘাতে মাটির তো কষ্ট পাওয়ার কথা নয়। যেমন তুমি বলেছ, ‘আগুনের সৃষ্টি শয়তান আগুন দ্বারা কষ্ট পাবে না।’

আর আমি তোমাকে মেরেছি বলে কাযীর কাছে নালিশ করবে কেন? আমার তো কোন দোষ নেই। যেহেতু যেটা ঘটেছে, সেটা তো আল্লাহর লিখিত তাকদীর অনুযায়ীই ঘটেছে।

নাস্তিকটি ইমাম সাহেবের নিকট থেকে উচিত জবাব পেয়ে কপালে হাত রেখে বিদায় নিল।

📖 গল্পের সারাংশ: ইমাম সাহেব একটি ঢিল ছুঁড়ে দিয়ে নাস্তিকের তিনটি প্রশ্নের জবাব দেন।

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: যুক্তি দিয়ে দ্বীনের সত্যতা তুলে ধরা যায়।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • নাস্তিকের তিনটি প্রশ্ন কী ছিল?
  • ইমাম কীভাবে উত্তর দিলেন?

✍️ উত্তর লিখুন

৩.🌟 আল্লাহ রক্ষা করবেন!

একদা এক মরুভূমিতে মরু-বাবলা গাছের উপর নিজের তরবারি লটকে রেখে তার ছায়ার নিচে বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন আমাদের মহানবী। ইতিমধ্যে এক বেদুঈন দুশমন এসে তাঁর ঐ তরবারিটি হাতে নিয়ে তাঁর উপর তুলে ধরে বলল, ‘ওহে মুহাম্মাদ! তুমি কি আমাকে ভয় পাও না?’
: মহানবী (সাঃ) নির্ভয়ে বললেন, ‘না।’

: বেদুঈন বলল, ‘তোমাকে আমার হাত হতে কে রক্ষা করবে?

: তিনি বললেন, ‘আল্লাহ।’

: বেদুঈন আবার বলল, ‘তোমাকে আমার হাত হতে কে রক্ষা করবে?’

: তিনি পূর্বেকার মতই বললেন, ‘আল্লাহ।’

: বেদুঈন পুনরায় বলল, ‘তোমাকে আমার হাত হতে কে রক্ষা করবে?’

: তিনি পুনরায় বললেন, ‘আল্লাহ।’

এরপর বেদুঈনের দেহ-মন কেঁপে উঠল। সহসা তার হাত থেকে তলোয়ারটি পড়ে গেল। মহানবী (সা:) তা তুলে নিয়ে তার প্রতি তুলে
ধরে বললেন, ‘এবার তোমাকে আমার হাত হতে কে রক্ষা করবে?’

: বেদুঈন বলল, ‘কেউ নয়।

: কিন্তু মহানবী (সা:) তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

📖 গল্পের সারাংশ: মহানবী (সা.) তরবারির সামনে নির্ভয়ে বলেন, “আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবেন।”

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও নির্ভরতা।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • বেদুঈন কী বলেছিল?
  • নবী (সা.) কী উত্তর দিয়েছিলেন?

✍️ উত্তর লিখুন

৪. 🐘 হস্তিবাহিনীর কাহিনী

হাবশার বাদশাহর তরফ থেকে ইয়ামান দেশে আবরাহা গভর্নর ছিল। সে ‘সানআ’তে একটি খুব বড় গির্জা নির্মাণ করাল। আর চেষ্টা করল, যাতে লোকেরা মক্কার কা’বাগৃহ ত্যাগ করে ইবাদত ও হজ্জ-উমরাহর জন্য এখানে আসে। এ কাজ মক্কাবাসী তথা অন্যান্য আরব গোত্রের জন্য অপছন্দনীয় ছিল। অতএব বানী কিনানার একজন লোক আবরাহার নির্মাণকৃত উপাসনালয়ে পায়খানা করে নোংরা করে দিল। আবরাহার নিকট খবর পৌঁছল যে, গির্জাকে কেউ নোংরা ও অপবিত্র করে দিয়েছে। যার প্রতিক্রিয়ায় সে কা’বা ঘরকে ধ্বংস করার দৃঢ়সংকল্প করে নিল। সে বহু সংখ্যক সৈন্যসহ মক্কার উপর হামলা করার উদ্দেশ্যে রওনা হল। কিছু হাতীও তাদের সাথে ছিল।

মক্কার নিকট পৌঁছে সৈন্যরা ( মক্কার সর্দার) নবী (সা:) এর দাদার উটগুলি দখল করে নিল।

: এ ব্যাপারে আব্দুল মুত্তালিব আবরাহাকে বললেনঃ ‘আমার উটসমূহকে ফিরিয়ে দিন; যা আপনার সৈন্যরা ধরে রেখেছে।’

: আবরাহা বললঃ ‘এখন আমরা তোমাদের কা’বা ধ্বংস করতে এসেছি, আর তুমি কেবল উট ছেড়ে দেওয়ার দাবী করছ?’

: তিনি বললেনঃ ‘উটগুলি আমার। তাই আমি সেগুলির হিফাযত চাই। বাকী থাকল কা’বা ঘরের ব্যাপার যাকে আপনি ধ্বংস করতে এসেছেন, তো সেটা হল আপনার ব্যাপার আল্লাহর সাথে। কা’বা হল আল্লাহর ঘর। তিনিই হলেন তার হিফাযতকারী। আপনি জানেন আর বায়তুল্লাহর মালিক আল্লাহ জানেন।

অতঃপর যখন এই সৈন্যদল (মিনার কাছে) ‘মুহাসার’ উপত্যকার নিকট পৌঁছল, তখন আল্লাহ তা’আলা একটি পাখীর দলকে প্রেরণ করলেন, যাদের ঠোঁটে এবং পায়ে পোড়া মাটির কাঁকর ছিল, যা ছোলা অথবা মসুরীর দানা সমপরিমাণ ছিল। পাখীরা উপর থেকে সেই কাঁকর বর্ষণ করতে লাগল। যে সৈন্যকে এই কাঁকর লাগল, সে গলে গেল, তার শরীর হতে মাংস খসে পড়ল এবং পরিশেষে সে মারা গেল। ‘সানআ’ পৌঁছতে পৌঁছতে খোদ আবরাহারও একই পরিণাম হল। এইভাবে আল্লাহ তা’আলা নিজ ঘরের হিফাযত করলেন।

📖 গল্পের সারাংশ: আবরাহা কা’বা ধ্বংস করতে এলে আল্লাহ পাখীদের মাধ্যমে তাঁর ঘর রক্ষা করেন।

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: আল্লাহ নিজ ঘরের হেফাজত নিজেই করেন।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • আবরাহা কেন কা’বা ধ্বংস করতে চেয়েছিল?
  • আল্লাহ কীভাবে কা’বা রক্ষা করেন?

✍️ উত্তর লিখুন

৫. 🔥 কিশোরের পাকা ঈমান!

অতীতকালে এক বাদশার একটি যাদুকর ও গণক ছিল। যখন সে গণক বৃদ্ধ অবস্থায় উপনীত হল, তখন সে বাদশাহকে বলল, ‘আমাকে একটি বুদ্ধিমান বালক দিন, যাকে আমি এই বিদ্যা শিক্ষা দেব।’

সুতরাং বাদশাহ সেই রকম বুদ্ধিমান বালক খোঁজ করে তাকে তার কাছে সমর্পণ করলেন। ঐ বালকের পথে এক পাদ্রীরও ঘর ছিল। বালকটি পথে আসা-যাওয়ার সময় সেই পাদরির নিকট গিয়ে বসত এবং তার কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করত, যা তাকে ভালও লাগত। এ ভাবেই তার আসা যাওয়া অব্যাহত থাকল। একদা এই বালকটির যাওয়ার পথে এক বৃহদাকার জন্তু (বাঘ অথবা সাপ) বসেছিল; যে মানুষের আসা-যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল। বালকটি চিন্তা করল, আজকে আমি পরীক্ষা করব যে, যাদুকর সত্য, না পাদ্রী। সে একটি পাথরের টুকরা কুড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহ! যদি পাদরির আমল তোমার নিকট যাদুকরের আমল থেকে উত্তম এবং পছন্দনীয় হয়, তাহলে এই জন্তুকে মেরে ফেলো; যাতে মানুষের আসা-যাওয়ার পথ চালু হয়ে যায়।’

এই বলে বালকটি পাথর ছুড়লে জন্তুটি মারা গেল। এবার বালকটি পাদরির নিকট গিয়ে সব কথা বিস্তারিত বলল। পাদ্রী বললেন, ‘হে বৎস! এবার দেখছি তুমি পূর্ণ দক্ষতায় পৌঁছে গেছ। এবার তোমার পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। কিন্তু এই পরীক্ষা অবস্থায় আমার নাম তুমি প্রকাশ করবে না।’

এই বালকটি জন্মান্ধত্ব, ধবল প্রভৃতি রোগের চিকিৎসাও করত; তবে তা আল্লাহর উপর বিশ্বাসের শর্ত রেখেই করত। এই শর্তানুযায়ী বাদশার এক সহচরের অন্ধ চক্ষুকে আল্লাহর কাছে দু’আ করে ভাল করে দিল। বালকটি বলত যে, ‘যদি আপনি আল্লাহর উপর ঈমান আনেন, তাহলে আমি তাঁর নিকট দু’আ করব; তিনি আরোগ্য দান করবেন।

সুতরাং সে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানালে তিনি রোগীকে আরোগ্য দান করতেন। এই খবর বাদশাহর নিকট পৌঁছলে, তিনি বড় উদ্বিগ্ন হলেন। কিছু সংখ্যক ঈমানদারকে তিনি হত্যা করে ফেললেন। আর এই বালকটির ব্যাপারে তিনি কয়েকটি লোককে ডেকে বললেন যে, এই বালকটিকে উঁচু পাহাড়ের উপর নিয়ে গিয়ে নিচে ফেলে দাও।’

বালকটি আল্লাহর কাছে দু’আ করলে পাহাড় কাঁপতে লাগল; যার কারণে সে ছাড়া সকলেই পড়ে মারা গেল। বাদশাহ তখন বালকটিকে অন্য কিছু লোকের কাছে সমর্পণ করে বললেন, ‘একে একটি নৌকায় চড়িয়ে সমুদ্রের মধ্যস্থলে নিয়ে গিয়ে তাতে নিক্ষেপ কর।’ সেখানেও বালকটির দুআর কারণে নৌকাটি উল্টে গেল। যার ফলে সকলে পানিতে ডুবে মারা গেল। কিন্তু বালকটি বেঁচে গেল। এবার বালকটি বাদশাকে বলল, ‘যদি আপনি আমাকে হত্যাই করতে চান, তাহলে এর সঠিক পদ্ধতি হল এই যে, একটি খোলা ময়দানে লোকদেরকে জমায়েত করুন, আর “বিসমিল্লাহি রাব্বিল গোলাম” (অর্থাৎ, বালকের প্রভুর নামে আরম্ভ করছি) বলে আমার প্রতি তীর নিক্ষেপ করুন; দেখবেন আমি মৃত্যু বরণ করব।’

বাদশাহ তাই করলেন। যার কারণে বালকটি মৃত্যু বরণ করল। সেই ঘটনাস্থলেই লোকেরা সোচ্চার হয়ে বলে উঠল যে, ‘আমরা এই বালকটির রবের (প্রভুর) উপর ঈমান আনলাম।’

বাদশাহ আরো অধিক উদ্বিগ্ন হলেন। অতএব তিনি তাদের জন্য একটি গর্ত খনন করিয়ে তাতে আগুন জ্বালাতে আদেশ করলেন। অতঃপর হুকুম দিলেন যে, ‘যে ব্যক্তি ঈমান হতে ফিরে না আসবে, তাকে এই অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ কর।’ এইভাবে ঈমানদার ব্যক্তিরা আসতে থাকল এবং আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে থাকল। পরিশেষে একটি মহিলার পালা এল, যার সঙ্গে তার বাচ্চাও ছিল। সে একটু পশ্চাৎপদ হল। কিন্তু বাচ্চাটি বলে উঠল, ‘আম্মাজান! ধৈর্য ধরুন। আপনি সত্যের উপরে আছেন।’ (সুতরাং সেও আগুনে শহীদ হয়ে গেল।)

📖 গল্পের সারাংশ: এক বালক আল্লাহর উপর ঈমান এনে বহু বিপদ থেকে রক্ষা পায় এবং শহীদ হয়।

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: ঈমান ও ত্যাগের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা হয়।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • বালকটি কীভাবে পরীক্ষা দিয়েছিল?
  • তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?

✍️ উত্তর লিখুন

৬. 🍎 আমানতদারীর পুরষ্কার!

মুবারক আবু আব্দুল্লাহ তাঁর প্রভু (মনীব) এর বাগানে কাজ করতেন। তাঁর প্রভু বাগান-মালিক হামাযানের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। একদিন বাগানে এসে দাসকে বললেন, ‘মুবারক! একটি মিষ্টি বেদানা আনো তো।’

মুবারক গাছ হতে খুজে খুজে একটি বেদানা প্রভুর হাতে দিলেন। প্রভু তো ভেঙ্গে খেতেই চটে উঠলেন। বললেন, ‘তোমাকে মিষ্টি বেদানা আনতে বললাম, অথচ টক বেদানা নিয়ে এলে? মিষ্টি বেদানা নিয়ে এসো।’

মুবারক অন্য একটি গাছ থেকে আর একটি বেদানা এনে দিলে তিনি খেয়ে দেখলেন সেটাও টক। রেগে তৃতীয়বার পাঠালে একই অবস্থা। প্রভু বললেন, ‘আরে তুমি টক আর মিষ্টি বেদানা কাকে বলে চেন না?’ বললেন, ‘জী না। (আমি তো আর কোন গাছের বেদানা খেয়ে দেখিনি।) আপনার বিনা অনুমতিতে খাই কী করে?”

দাসের এই আমানতদারী ও সততা দেখে প্রভু অবাক হলেন। তাঁর চোখে তাঁর কদর ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেল। তিনি তাকে পুরস্কৃত করতে চাইলেন। মালিকের ছিল এক সুন্দরী কন্যা। বহু বড় বড় পরিবার থেকেই তার বিয়ের সম্বন্ধে আসছিল। একদা প্রভু মুবারককে ডেকে বললেন, ‘আমার মেয়ের সাথে কেমন লোকের বিয়ে হওয়া উচিত বল তো?’ মুবারক বললেন, ‘জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা বংশ ও কুলমান দেখে বিয়ে দিত, ইয়াহুদীরা দেয় ধন-সম্পদ দেখে, খ্রিস্টানরা দেয় রুপ-সৌন্দর্য দেখে। কিন্তু এই উম্মত কেবল দ্বীন দেখেই বিয়ে দিয়ে থাকে।’

এ ধরনের জ্ঞানগর্ভ কথা প্রভুর বড় পছন্দ হল। মুবারকের কথা প্ৰভু তাঁর স্ত্রীর নিকট উল্লেখ করে বললেন, ‘আমি তো মেয়ের জন্য মুবারকের চেয়ে অধিক উপযুক্ত পাত্র আর কাউকে মনে করি না।’

হয়েও গেল বিবাহ। পিতা উভয়কে প্রচুর অর্থ দিয়ে তাঁদের দাম্পত্যে সাহায্য করলেন। এই সেই দম্পতি যাঁদের ঔরসে জন্ম নিয়েছিলেন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস, যাহেদ, বীর মুজাহিদ আব্দুল্লাহ বিন মুবারক (রহ.) ।

📖 গল্পের সারাংশ: এক দাস মালিকের অনুমতি ছাড়া ফল না খেয়ে সততার পরিচয় দেয়, যার ফলে সে মালিকের মেয়েকে বিয়ে করে।

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: সততা জীবনে সফলতা এনে দেয়।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • মুবারক কী কারণে ফলের স্বাদ জানতেন না?
  • তার সততার পুরষ্কার কী ছিল?

✍️ উত্তর লিখুন

৭.🐐 আমানতদার রাখাল

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা:) মদীনার কোন এক প্রান্তের দিকে বের হয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর কয়েকজন সঙ্গীও ছিলেন। সঙ্গীগণ তাঁর খাবারের জন্য দস্তরখান বিছালেন। সেই সময়ে একজন রাখাল পেরিয়ে যাচ্ছিল। ইবনে উমার (রা:) তাকে ডাকলেন,

: ‘ওহে রাখাল! এসো এসো, তুমি কিছু আমাদের সঙ্গে পানাহার করে নাও।”

: রাখাল বলল, ‘আমি রোযা অবস্থায় আছি।’

: ইবনে উমার (রা:) বললেন, ‘এই প্রচণ্ড গরমের দিনে রোযা অবস্থায় আছ? এখন তো প্রখর লু-হাওয়া বইছে। আর তুমি পাহাড়ে ছাগল চরাচ্ছ। (এই অবস্থায় রোযা রাখা তো নিজেকে কষ্টে নিক্ষেপ করা।)’

: রাখাল বলল, ‘জী-হ্যাঁ, আমি ঐ দিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, যেদিন কোন নেক আমল করার সুযোগ থাকবে না। এই জন্য পার্থিব জীবনে কিছু আমল করে নিচ্ছি।’

: ইবনে উমার রাখালকে তার তাক্বওয়া ও আল্লাহ-ভীতির উপর পরীক্ষা নেওয়ার জন্যে বললেন, ‘তুমি কি ছাগলের পাল থেকে একটি ছাগল বিক্রয় করতে পারবে? আমরা তোমাকে ওর নগদ মূল্য প্রদান করে দেব। উপরন্তু তোমার ইফতারের জন্য গোশতও দেব।’

: রাখাল উত্তরে বলল, ‘ছাগলগুলি তো আমার নয় যে, বিক্রয় করব; বরং এগুলি আমার মালিকের (আর আমি একজন ক্রীতদাস)। এই জন্য এতে আমি কোন রকম হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’

: ইবনে উমার বললেন, ‘তোমার মালিক যদি একটা ছাগল কম পায়, আর তুমি যদি বলো, একটা ছাগল হারিয়ে গেছে (অথবা বাঘে খেয়ে ফেলেছে), তাহলে সে কিছু বলবে না। কারণ, পাল থেকে তো দু- একটা ছাগল পাহাড়ে হারিয়েই থাকে।’

: রাখাল এই কথাগুলি শুনে ইবনে উমার এর নিকট থেকে চলে গেল । যেতে যেতে সে তার আঙ্গুল আসমানের দিকে তুলে বলল, ‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’ (অর্থাৎ, মালিক তো দেখবে ও জানবে না, কিন্তু আল্লাহ তো দেখছেন ও জানছেন।)

রাখাল যখন চলে গেল, তখন ইবনে উমার ওর কথাটা বারংবার উচ্চারণ করতে লাগলেন। ‘আল্লাহ কোথায় আছেন? আল্লাহ কোথায় আছেন?’
অতঃপর তিনি যখন মদীনায় ফিরে এলেন, তখন ঐ রাখালের মালিকের কাছে নিজের একটা লোক পাঠালেন। তার কাছ থেকে ওর ছাগলগুলি এবং রাখালকে খরীদ করে নিলেন। আর ঐ রাখালকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে দিলেন। সেই সঙ্গে ছাগলগুলিকে তাকে হেবা করে দিলেন।

📖 সারাংশ: এক রাখাল রোযা রেখে পাহাড়ে ছাগল চরায় এবং প্রলোভনেও মালিকের ছাগল বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানায়।

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: আল্লাহভীতি ও সততা সর্বোচ্চ গুণ।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • রাখাল ছাগল বিক্রি করতে রাজি হয়নি কেন?
  • ইবনে উমার (রা.) কী করলেন?

✍️ উত্তর লিখুন

৮. 🧕 আমানতদার মেয়ে!

একদা উমার রাত্রিবেলায় ছদ্মবেশে শহরে ঘুরছিলেন। এক দুধ- ব্যবসায়ীর ঘর থেকে মা-বেটির কণ্ঠের আওয়াজ তাঁর কানে এল;

: মা মেয়েকে বলছে, ‘দুধে পানি দিয়ে দে, বেশী হবে।’

: মেয়ে বলছে, ‘আমীরুল মু’মিনীন এক ঘোষক দ্বারা ঘোষণা করিয়েছেন যে, দুধে পানি মিশানো যাবে না।’

: মা বলছে, “এখানে না তোকে উমার দেখতে পাবে, আর না তাঁর ঘোষক।’

: মেয়ে বলছে, ‘না মা! লোকালয়ে যার বাধ্য, নির্জনে তার অবাধ্যতা করতে পারি না! তাঁরা দেখেননি, তাঁদের রব তো দেখছেন!’

এমন আমানতদারীর কথোপকথন শুনে খলীফা উমার ঐ মেয়েকে নিজের পুত্রবধূ করে নিলেন। আর সেই মহিলার বংশসূত্রে জন্ম নিয়েছিলেন পঞ্চম খলীফা উমার বিন আব্দুল আযীয (রহ.)

📖 গল্পের সারাংশ: এক মেয়ে দুধে পানি না মিশিয়ে আল্লাহর উপস্থিতি স্মরণ করে সততা বজায় রাখে।

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: আল্লাহ সবসময় আমাদের দেখছেন—এই বিশ্বাসই প্রকৃত আমানতদারী।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • মা কী বলেছিল?
  • মেয়ে কী উত্তর দিয়েছিল?

✍️ উত্তর লিখুন

৯.👀 আল্লাহ তো দেখছেন

একদিন শিক্ষক সকল ছাত্রদের মাঝে আপেল বিতরণ করে বললেন, ‘তোমরা স্কুল থেকে ফিরে গিয়ে আপেলটি এমন জায়গায় খাবে, যেখানে খাওয়া কেউ দেখতে পাবে না।

: পরদিন বাচ্ছারা স্কুলে এলে শিক্ষক তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কোথায় কীভাবে আপেল খেয়েছ?’

: বাচ্ছাদের মধ্যে থেকে কেউ বলল, ‘আমি নির্জন বনের ভিতরে খেয়েছি।’

: আবার কেউ বলল, ‘আমি জন-প্ৰাণীহীন ময়দানে খেয়েছি।’

 : অন্য একজন বলল, ‘আমি নির্জন কক্ষে দরজা বন্ধ করে খেয়েছি।

: অন্য কেউ বলল, ‘আমি রাতের অন্ধকারে বাড়ির ছাদে গিয়ে একাকী খেয়েছি।’

: কিন্তু তাদের মধ্যে একজন বলল, ‘স্যার! আমি আপেল খেতে পারিনি।’

: তখন স্যার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তা কেন?’

: তখন সে বাচ্ছাটি বলল, স্যার! “যেখানে গেলাম, যে জায়গাতেই ভাবলাম, সেখানে কেউ আমার আপেল খাওয়া দেখতে পাবে না। কিন্তু সেখানে ভাবলাম, কেউ না দেখুক, আল্লাহ তো দেখছেন। তাই আপনার নির্দেশ পালন করে তা আর খেতে পারলাম না।’

: অতঃপর শিক্ষক ঐ জ্ঞানী ছাত্রকে অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন এবং অনুরুপ সর্বদা সর্বস্থানে আল্লাহ-ভীতি রাখার ব্যাপারে তাকে উৎসাহিত করলেন।

📖 গল্পের সারাংশ: এক ছাত্র নির্জনে আপেল না খেয়ে বলে, “আল্লাহ তো দেখছেন।”

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: আল্লাহভীতি শিশুদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • শিক্ষক কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
  • ছাত্রটি কেন আপেল খায়নি?

✍️ উত্তর লিখুন

১০.💰 কৃপণদের পরিণতি!

মহান আল্লাহ দুনিয়াতে কোন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে পরীক্ষা করে থাকেন। যেমন তিনি পূর্ব যুগের একই পরিবারের বাগানের মালিক কয়েক ভাইকে পরীক্ষা করেছেন। তাদের ছিল সুন্দর বাগান, ফলে শস্যে পরিপূর্ণ বাগান। এই বাগানটি (ইয়ামানের) সান’আ থেকে ৬ মাইল দূরত্বে অবস্থিত ছিল। তাদের পিতা সেই বাগানের উৎপন্ন ফল-মূল থেকে গরীব মিসকীনদেরকে দান করত। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যখন তার সন্তানরা তার উত্তরাধিকারী হল, তখন তারা বলল যে, এ থেকে আমাদের সংসারের খরচই তো কোন রকম বের হয়। তাই আমরা বাগানের উপার্জিত ফসল হতে গরীব ও অভাবীদেরকে কিরুপে দান করব? সুতরাং তারা বাগানের ফল দেখে ভুলে গেল তাদের সৃষ্টিকর্তাকে। বাগানের ফল আনতে যাওয়ার সময় ভুলে গেল আল্লাহর স্মরণ। ভুলে গেল সেই বাগানের ফসলের হকদারদের হকের কথা। ফল-ফসল কাটার সময় মিসকীনরা এসে চেয়ে- বিরক্ত করে। তাই ভাবল, তাদেরকে ফাঁকি দেবে। সুতরাং তারা শপথ করল যে, তারা ভোর-সকালে তুলে আনবে বাগানের ফল। আর তারা “ইনশাআল্লাহ’ও বলল না! যদিও তাদের মধ্যম অথবা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণ নিতে বলল ।

আল্লাহর ইচ্ছায় ফল-ফসল হয়, সব কিছু ঘটে। তিনি না চাইলে ফল- ফসল হয় না, হলেও নষ্ট হয়ে যায়। পাকা ফসল ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি না চাইলে অনেকে বাড়া ভাতও খেতে পায় না।

তাদের এই আচরণ দেখে তিনি অসন্তুষ্ট হলেন। ফলে তাঁর নিকট হতে তাদের বাগানে রাত্রিকালে এক বিপর্যয় হানা দিল, যখন তারা ঘুমিয়ে ছিল। সুতরাং তাদের বাগান ফসল-কাটা ক্ষেতের মত হয়ে গেল।

এদিকে ওরা ভোর-সকালে একে অপরকে ডাকাডাকি করে বলল, ‘তোমরা যদি ফল তুলতে চাও, তাহলে ভোর ভোর বাগানে চল।’ অতঃপর তারা চুপিসারে কথা বলতে বলতে (পথ) চলতে শুরু করল, ‘আজ যেন সেখানে তোমাদের নিকটে কোন অভাবগ্রস্থ ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। বাগানে এসে কেউ যেন কিছু চাইতে না পারে। যেমন, আমাদের বাপের যামানায় লোকেরা এসে নিজেদের অংশ নিয়ে যেত।’

সুতরাং তারা (অভাবীদেরকে) নিবৃত্ত করতে সক্ষম –এই বিশ্বাস নিয়ে প্রভাতকালে বাগানে গেল। কিন্তু তারা যখন বাগানের অবস্থা প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা ভাবল, এটা তাদের বাগান নয়। তারা বলল, ‘আমরা তো পথ হারিয়ে ফেলেছি।’ অবশ্য পরক্ষণে যখন তারা চিন্তা-ভাবনা করল, তখন জানতে পারল যে, বিপদগ্রস্থ এবং বিনাশিত এই বাগানই হল আমাদের বাগান। যাকে মহান আল্লাহ আমাদের কর্মদোষে এ রকম করে দিয়েছেন। তখন তারা বলল, ‘বরং আমরা তো বঞ্চিত!’

সেখানে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের মধ্যম বা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছ না কেন?’ অথবা ‘ইনশা-আল্লাহ’ বলছ না কেন?

সুতরাং তারা বলল, ‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, নিশ্চয় আমরা আমাদের আচরণে সীমালংঘনকারী ছিলাম।’ তবুও এ দুর্ঘটনার জন্য তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল। তারা আফসোস করে বলল, ‘হায় দুর্ভোগ আমাদের! নিশ্চয় আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম। আমরা আশা রাখি যে, আমাদের প্রতিপালক এর পরিবর্তে আমাদেরকে উৎকৃষ্ট বাগান দেবেন; আমরা আমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হলাম।’

সবশেষে তারা আপোসে অঙ্গীকারবদ্ধ হল যে, আল্লাহ যদি পুনরায় আমাদেরকে মাল-ধন দান করেন, তাহলে আমরা পিতার মতোই তা হতে গরীবদের অধিকার আদায় করব। আর এই জন্যই তারা লজ্জিত হয়ে তওবা করে প্রতিপালকের নিকট আশার কথাও ব্যক্ত করল।

কেউ আল্লাহর ধন পেয়ে কার্পণ্য করলে শাস্তি এরুপই হয়ে থাকে। আর পরকালের শাস্তি অবশ্যই কঠিনতর।

শিক্ষণীয় বিষয়: (১) যে কোন কাজের পূর্বে ইনশাআল্লাহ না পড়লে আল্লাহর পক্ষ হতে গযব বা শাস্তি আসে।

📖 গল্পের সারাংশ: কিছু ভাই দান বন্ধ করে দিলে আল্লাহ তাদের বাগান ধ্বংস করে দেন।

🌟 শিক্ষণীয় বার্তা: দান না করলে আল্লাহর গজব আসে।

❓ প্রশ্নোত্তর:

  • ভাইরা কী ভুল করেছিল?
  • আল্লাহ কী শাস্তি দিয়েছিলেন?

✍️ উত্তর লিখুন

এই ইসলামিক নৈতিক শিক্ষার গল্প গুলো শুধু শিশুদের বিনোদনই দেবে না, বরং তাদের মনে সত্যবাদিতা, দয়া, দায়িত্বশীলতা আর আল্লাহভীতি জাগিয়ে তুলবে। অভিভাবক হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো সন্তানকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করা। নিয়মিত ইসলামিক নৈতিক শিক্ষার গল্প শোনালে তারা যেমন ভালো মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে, তেমনি দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।

اللهم اجعل أولادنا من الصالحين، ووفقهم لطاعتك، وبارك فيهم يا رب العالمين

হে আল্লাহ ﷻ, আমাদের সন্তানদের সৎ বানাও, তোমার আনুগত্যে সফল করো, এবং তাদের মধ্যে বরকত দাও—আমিন।

📚 আপনার শিশুর জন্য আরও ইসলামিক গল্প

নৈতিকতা, ঈমান, সততা ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দিতে আরও অনুপ্রেরণামূলক গল্প পড়ুন। শিশুদের জন্য উপযোগীভাবে সাজানো গল্পগুলো এখনই দেখুন!

✨ আরও শিশুদের গল্প পড়ুন

আপনার শিশু কী উত্তর দিল? নিচে মন্তব্য করে জানাতে পারেন।

💬 মন্তব্য করুন

1 thought on “শিশুদের জন্য ১০টি ইসলামিক নৈতিক শিক্ষার গল্প (পর্ব ১)”

  1. খুব সুন্দর ও উপকারী গল্পগুলো। শিশুদের নৈতিক শিক্ষা শেখাতে দারুণ হয়েছে। এমন আরও পর্ব চাই ইনশাআল্লাহ।

    Reply

Leave a Comment

Discover more from Amar Bangla Post

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading