Site icon Amar Bangla Post

কিছু সমস্যার কোনো সমাধান নেই — সুখী জীবনের ৪৬তম সূত্র

কিছু সমস্যার কোনো সমাধান নেই — সুখী জীবনের ৪৬তম সূত্র

এমন কিছু সমস্যা আছে যার কোনো সমাধান নেই। এটি সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক বিষয়।

আপনার জীবন দক্ষতা বাড়াতে আমার বাংলা পোস্ট-এর ৪৬তম সূত্রটি পড়ুন।

জীবনের সব সমস্যার সমাধান আমাদের হাতে নেই। কিছু বিষয় মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আসুন, জেনে নিই কীভাবে প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবনকে উপভোগ করা যায়।

সব সমস্যার সমাধান আমাদের হাতে নেই!

অনেক সময় আমরা এমন সমস্যার সম্মুখীন হই, আমাদের কাছে যার কোনো সমাধান নেই। তখন তো মেনে নিতে পারাটাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা তা পারি না; বরং সমাধানের ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকি৷

যানজটে ঘুসি মেরে কি জ্যাম কমবে? মেনে নিন — এটাই বুদ্ধিমানের কাজ। Photo by wal_ 172619 from Pexels

যেমন অনেককে দেখবেন, ড্রাইভিং করতে গিয়ে যানজটের মুখোমুখি হলে রাগে স্টিয়ারিং হুইল-এ ঘুসি মেরে বলে, ‘উ-ফ! সারাদিন কেবল জ্যাম আর জ্যাম!’

গ্রীষ্মের গরমে অনেককে দেখবেন, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আর বিরক্তি প্রকাশ করে বারবার বলছে, ‘ধ্যা-ত! এততো গ-র-ম!’। আর ভাবখানা এমন যে, তার সাথে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।

কর্মক্ষেত্রে আপনি এমন কারো সহকর্মী হতে পারেন । ব্যাপারটা যদি এমন হয়, তাহলে তো তার সঙ্গে আপনার প্রতিদিন দেখা হওয়াটাও একটা বিরক্তিকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। সে অফিসে এসে বসতে না বসতেই নানাভাবে আপনাকে বিরক্ত করে তুলবে । ‘দেখছেন! কতো কাজ! একা কি এতো কিছু করা যায়! কতদিন ধরে বলে আসছি বেতন বাড়ানোর জন্য, কিন্তু বেতন বাড়ানোর কোনো খবর নেই । বেতন না বাড়িয়ে শুধু কাজের চাপ বাড়াচ্ছে।

প্রতিদিন সকালে সে অফিসে আসে বিষণ্ন চেহারা নিয়ে আর বিকেলে ফিরে যায় একরাশ বিরক্তি নিয়ে । মাঝে মধ্যেই সে আপনাকে বলবে, ‘আমার শরীরটা খুব খারাপ! ছেলেটা অসুস্থ!’

এককথায়, আমরা প্রত্যেকেই জীবনে এমন অনেক সমস্যার সম্মুখীন হই, যার কোনো সমাধান নেই। তাই সে বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়ে জীবনকে স্বাভাবিক গতিতে পরিচালনা করতে হবে।

আরও পড়ুন: নিজেকে কষ্ট দেবেন না — সুখী জীবনের ৪৫তম সূত্র

যা হারিয়ে গেছে, তার কষ্টে জীবন থামিয়ে রাখবেন না!

হাসো, মন খুলে হাসো — দুঃখ বয়ে বেড়ালে কি কোনো লাভ হবে?

জনৈক আরব কবি তার কবিতায় এ বিষয়টি দুইজনের সংলাপের মধ্য দিয়ে খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন । কবিতার মর্মার্থ হলো-

: আকাশটা কেমন মলিন হয়ে আছে । এমন হলে কি আর ভালো লাগে?

: আকাশ মলিন হয়ে আছে তাতে তোমার কী? তুমি হাসো। তোমার হাসিতে আকাশও হেসে ওঠবে ।

: দখিনা হাওয়া বন্ধ হয়ে আছে। গরমে জীবন যেন বেরিয়ে যাচ্ছে।

: হাসো, মন খুলে হাসো। আক্ষেপ করলে কি আর বাতাস ফিরে আসবে ?

: ভালোবেসে যাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম হৃদয়ের মণিকোঠায়, যার ভালোবাসা আমার হৃদয়ের আকাশটাকে ছুঁয়েছিল । সে আজ আমায় ছেড়ে চলে গেছে দূরে, বহুদূরে। তাকে সবকিছু দিয়ে বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু সে আমার সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করে আমার হৃদয়টাকে খান খান করে ফেলেছে । তারপরও কি তুমি আমাকে হাসতে বলবে?

: হ্যাঁ, তারপরও তুমি হাসবে। যা হয়েছিল তা ভুলে গিয়ে সব ব্যথা বেদনা কবর দিয়ে সে কবরের ওপর দাঁড়িয়েই তুমি হাসবে। মন খুলে হাসবে । কেননা, তুমি যদি হাসতে না পারো বা তার সঙ্গ চাও তাহলে দুঃখ আর বেদনারা তোমাকে গ্রাস করে আজীবন তোমাকে কষ্ট দেবে । তাই কষ্ট ভুলে যেতে প্রাণ খুলে হাসবে। চারদিকে আমার শুধু শত্রু আর শত্রু। তাদের শোরগোল আর হাঙ্গামায় আমার জীবন অতিষ্ঠ । তাদের কুটচাল আর ষড়যন্ত্রে আমার সব পর্যুদস্ত। তারপরও বলো আমার মুখে কিভাবে হাসি ফুটবে?

: হ্যাঁ, তবুও তুমি হাসবে । তারা যখন নিন্দা করবে তখন তুমি ভাববে এটা হয়তো অন্য কাউকে করছে, তোমাকে করছে না। তাছাড়া তুমি যদি তাদের চেয়ে বড় ও সম্মানী না হতে তাহলে তারা তোমার পেছনে লাগতো না । তুমি বড় বলেই তারা তোমার নাগাল পেতে চায়। এটা ভেবে তুমি আত্মতৃপ্তি পেতে পারো। দিনরাত সব বিস্বাদ হয়ে আছে। শান্তির টিকিটুকুও নেই । এখন কী করি বলো?

: হাসো, মন খুলে হাসো। তোমার চেহারায় যেন না থাকে অশান্তির কোনো ছাপ । দুঃখ বেদনা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে সুখের গান গাও৷ কষ্ট যাতনা ভুলে গিয়ে শান্তির আবহ ছড়াও। বলো, দুঃখ বয়ে বেড়ালে কি তোমার কোনো লাভ হবে? তাহলে কেন অযথা দুঃখের বোঝা বয়ে জীবনকে হারাবে? জীবন তো উপভোগের বিষয় । একে সুখের অনুভূতি দিয়ে উপভোগ করো । দুঃখের অন্ধকার রাত পেছনে ঠেলে দিয়ে সুখময় আলোকজ্জ্বল দিবসকে বরণ করে নাও ।’

হ্যাঁ, জীবনকে এভাবেই উপভোগ করতে হয়।

আপনার আচরণে কেউ যেন কষ্ট না পায়

প্রতিকূল পরিবেশেও আপনার ব্যবহারে কেউ যেন কষ্ট না পায়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকুন । ঘরে স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গেও আচরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। তাদেরকে অযথা কেন কষ্ট দেবেন? মনে রাখবেন, আপনাকে দেখলে বা আপনার কথা মনে হলে তাদের মনে যেন বিষণ্ণতা এসে চেপে না বসে । আপনাকে তারা যেন বোঝা মনে না করে।

এ কারণেই রাসূল (সাঃ) মৃত ব্যক্তির জন্য আওয়াজ করে কাঁদা, চিৎকার করা, জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, মাথার চুল কামানো— ইত্যাদি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। [১] মৃতের জন্য তো আমাদের করণীয় হলো— গোসল দেয়া, কাফন পড়ানো, জানাযা পড়া, দাফন করা এবং দোয়া করা। মাতম কিংবা চিৎকারে তো মৃতের কোনো লাভ হয় না। কেবল জীবিতদের আনন্দময় জীবনে বেদনার কালো ছায়া নেমে আসে ৷

অভিযোগ করে নয়, কৃতজ্ঞতায় কাটুক জীবন

অযথা অভিযোগ করার চেয়ে একবার সুবহানাল্লাহ বললেও লাভ বেশি।

মাআফি বিন সুলাইমান একবার জনৈক সঙ্গীকে নিয়ে হাঁটছিলেন। সঙ্গীটি হঠাৎ ভ্রু কুচকে মাআফি বিন সুলাইমানের দিকে তাকিয়ে বললো, “ইস! আজ কী ঠাণ্ডা!’

মাআফি বললেন, ‘তুমি কি চাইলেই এখন পরিবেশটাকে গরম করে ফেলতে পারবে?’

‘না’। তার সঙ্গীটি জবাব দিল।

‘তাহলে অযথা অভিযোগ করে লাভ কী?’ মাআফি বললেন, এর চেয়ে বরং একবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললেও তো তোমার লাভ হতো।’

দেখুন মাআফির অন্তর্দৃষ্টির গভীরতা। যা পরিবর্তন করতে পারবেন না তা নিয়ে অভিযোগ করে শুধু নিজেকেই কষ্ট দিচ্ছেন। জীবনকে উপভোগ করতে শিখুন।

আরও পড়ুন: দুশ্চিন্তা ও ঝামেলা এড়িয়ে চলুন — সুখী জীবনের ৪১তম সূত্র

উপসংহার: কিছু সমস্যা মেনে নিতে শিখুন

খুঁজে খুঁজে সমস্যা বের করবেন না। ছোট বিষয়কে বড় করে তুলবেন না। আনন্দময় জীবন গড়ুন, জীবনকে উপভোগ করুন। কারণ, সবকিছু বদলানো আপনার হাতে নেই, কিন্তু প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসিমুখে বাঁচার সিদ্ধান্ত আপনার হাতে আছে। অযথা অভিযোগ নয়, বরং ধৈর্য ও ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলুন।

আপনার পরিচিত কেউ কি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত অভিযোগ করেন? লেখাটি তাঁর সঙ্গে শেয়ার করুন।

আপনি কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরের পরিস্থিতি সামলান? নিচে কমেন্টে জানান।

এরপর পড়ুন: দুশ্চিন্তা করে নিজেকে নিঃশেষ করবেন না — সুখী জীবনের ৪৭তম সূত্র

আপনি পড়ছেন: জীবনকে উপভোগ করুন বই থেকে। সম্পাদনা ও সংযোজন: সৈয়দ রুবেল উদ্দিন — আমার বাংলা পোস্ট.কম।

অতএব, জীবনকে উপভোগ করার ৪৬তম সূত্র হলো — যা বদলাতে পারবেন না, তা মেনে নিয়ে হাসতে শিখুন। 


উৎস

[১] সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৯৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৪বি। বিপদের সময় উচ্চস্বরে বিলাপ করা, মাথা কামানো এবং কাপড় ছিঁড়ে শোক প্রকাশ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার বর্ণনা। সহিহ বুখারি পড়ুন | সহিহ মুসলিম পড়ুন ↑

Exit mobile version